আসছে গবেষণাগারে তৈরি মাংস!

আহমেদ শরীফ : ভাবুন তো আপনি বাজারে গিয়ে কসাইয়ের দোকান থেকে গরুর মাংস কিনছেন না আর। বরং গবেষণাগারে তৈরি মাংস কিনছেন বড় দোকানে গিয়ে বা সেই মাংস খাচ্ছেন বড় রেস্টেুরেন্ট।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আসতে যাচ্ছে গবেষণাগারে তৈরি তেমন মাংস। বৃটেনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, পুরো বিশ্বে মাংসের যোগান দিতে গরু সহ গবাদিপশু পালন ও হত্যায় যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা ব্যাপক হারে রোধ করা যাবে গবেষণাগারে প্রস্তুত মাংসের যোগান দিয়ে।
বৃটেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডাম স্মিথ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন ৯৬ শতাংশ কমাতে ও গবাদিপশু পালন থেকে ৯৯ শতাংশ ভূমি উদ্ধার করতে মাংস উৎপাদন শিল্প থেকে দূরে সরে আসতে হবে। গবাদিপশুর খাবার হিসেবে বন উজাড় করায় পরিবেশের যে বিপর্যয় হচ্ছে তা ঠেকানো যাবে বলছেন গবেষকরা।
এই লক্ষে গবেষকরা এরই মাঝে গবেষণাগারে উৎপাদন করছেন মাংস। যদিও তা এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রসার লাভ করেনি। তবে আমেরিকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুব শিগগিরই গবেষণাগারে তৈরি মাংস বাজারে নিয়ে আসতে যাচ্ছে।
গরু বা অন্য গবাদিপশুর কোষ নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষণাগারে সেই কোষকে বড় করে তা খাওয়ার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে। গবেষণাগারে তৈরি মাংস পরিবেশবান্ধব হবে বলেও দাবি করছেন গবেষকরা।
ল্যাবরেটরির ক্লিন মিট প্রকৃত মাংস, এটা পশু হত্যা না করে পশুর কোষ নিয়ে গবেষণা করেই পাওয়া যাবে, বলছেন গবেষকরা। নেদারল্যান্ডে এরই মাঝে গত ৫ বছর ধরে ‘মোসা মিট’ বা ল্যাবরেটরিতে তৈরি মাংস উৎপাদনে গবেষণা চলছে। ২০১৩ সালে মার্ক পোস্ট ও পিটার ভারস্টেট নামের দুই গবেষক বিশ্বের প্রথম গবেষণাগারে তৈরি মাংস দিয়ে হ্যামবার্গার তৈরি করেছেন। এখন এ গবেষণায় ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো ফান্ড গড়ে উঠেছে।
আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গবেষণাগারে তৈরি মাংস বাজারে আসবে বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। আর বড় সব রেস্টুরেন্টে সেই মাংসের তৈরি হ্যামবার্গার অন্তত ১১ ডলার করে বিক্রি হবে বলেছেন তারা।
http://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/273903
![]() |
আহমেদ শরীফ : ভাবুন তো আপনি বাজারে গিয়ে কসাইয়ের দোকান থেকে গরুর মাংস কিনছেন না আর। বরং গবেষণাগারে তৈরি মাংস কিনছেন বড় দোকানে গিয়ে বা সেই মাংস খাচ্ছেন বড় রেস্টেুরেন্ট।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আসতে যাচ্ছে গবেষণাগারে তৈরি তেমন মাংস। বৃটেনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, পুরো বিশ্বে মাংসের যোগান দিতে গরু সহ গবাদিপশু পালন ও হত্যায় যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা ব্যাপক হারে রোধ করা যাবে গবেষণাগারে প্রস্তুত মাংসের যোগান দিয়ে।
বৃটেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডাম স্মিথ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন ৯৬ শতাংশ কমাতে ও গবাদিপশু পালন থেকে ৯৯ শতাংশ ভূমি উদ্ধার করতে মাংস উৎপাদন শিল্প থেকে দূরে সরে আসতে হবে। গবাদিপশুর খাবার হিসেবে বন উজাড় করায় পরিবেশের যে বিপর্যয় হচ্ছে তা ঠেকানো যাবে বলছেন গবেষকরা।
এই লক্ষে গবেষকরা এরই মাঝে গবেষণাগারে উৎপাদন করছেন মাংস। যদিও তা এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রসার লাভ করেনি। তবে আমেরিকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুব শিগগিরই গবেষণাগারে তৈরি মাংস বাজারে নিয়ে আসতে যাচ্ছে।
গরু বা অন্য গবাদিপশুর কোষ নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষণাগারে সেই কোষকে বড় করে তা খাওয়ার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে। গবেষণাগারে তৈরি মাংস পরিবেশবান্ধব হবে বলেও দাবি করছেন গবেষকরা।
ল্যাবরেটরির ক্লিন মিট প্রকৃত মাংস, এটা পশু হত্যা না করে পশুর কোষ নিয়ে গবেষণা করেই পাওয়া যাবে, বলছেন গবেষকরা। নেদারল্যান্ডে এরই মাঝে গত ৫ বছর ধরে ‘মোসা মিট’ বা ল্যাবরেটরিতে তৈরি মাংস উৎপাদনে গবেষণা চলছে। ২০১৩ সালে মার্ক পোস্ট ও পিটার ভারস্টেট নামের দুই গবেষক বিশ্বের প্রথম গবেষণাগারে তৈরি মাংস দিয়ে হ্যামবার্গার তৈরি করেছেন। এখন এ গবেষণায় ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো ফান্ড গড়ে উঠেছে।
আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গবেষণাগারে তৈরি মাংস বাজারে আসবে বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। আর বড় সব রেস্টুরেন্টে সেই মাংসের তৈরি হ্যামবার্গার অন্তত ১১ ডলার করে বিক্রি হবে বলেছেন তারা।
http://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/273903
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আসতে যাচ্ছে গবেষণাগারে তৈরি তেমন মাংস। বৃটেনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, পুরো বিশ্বে মাংসের যোগান দিতে গরু সহ গবাদিপশু পালন ও হত্যায় যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা ব্যাপক হারে রোধ করা যাবে গবেষণাগারে প্রস্তুত মাংসের যোগান দিয়ে।
বৃটেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডাম স্মিথ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন ৯৬ শতাংশ কমাতে ও গবাদিপশু পালন থেকে ৯৯ শতাংশ ভূমি উদ্ধার করতে মাংস উৎপাদন শিল্প থেকে দূরে সরে আসতে হবে। গবাদিপশুর খাবার হিসেবে বন উজাড় করায় পরিবেশের যে বিপর্যয় হচ্ছে তা ঠেকানো যাবে বলছেন গবেষকরা।
এই লক্ষে গবেষকরা এরই মাঝে গবেষণাগারে উৎপাদন করছেন মাংস। যদিও তা এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রসার লাভ করেনি। তবে আমেরিকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুব শিগগিরই গবেষণাগারে তৈরি মাংস বাজারে নিয়ে আসতে যাচ্ছে।
গরু বা অন্য গবাদিপশুর কোষ নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষণাগারে সেই কোষকে বড় করে তা খাওয়ার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে। গবেষণাগারে তৈরি মাংস পরিবেশবান্ধব হবে বলেও দাবি করছেন গবেষকরা।
ল্যাবরেটরির ক্লিন মিট প্রকৃত মাংস, এটা পশু হত্যা না করে পশুর কোষ নিয়ে গবেষণা করেই পাওয়া যাবে, বলছেন গবেষকরা। নেদারল্যান্ডে এরই মাঝে গত ৫ বছর ধরে ‘মোসা মিট’ বা ল্যাবরেটরিতে তৈরি মাংস উৎপাদনে গবেষণা চলছে। ২০১৩ সালে মার্ক পোস্ট ও পিটার ভারস্টেট নামের দুই গবেষক বিশ্বের প্রথম গবেষণাগারে তৈরি মাংস দিয়ে হ্যামবার্গার তৈরি করেছেন। এখন এ গবেষণায় ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো ফান্ড গড়ে উঠেছে।
আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গবেষণাগারে তৈরি মাংস বাজারে আসবে বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। আর বড় সব রেস্টুরেন্টে সেই মাংসের তৈরি হ্যামবার্গার অন্তত ১১ ডলার করে বিক্রি হবে বলেছেন তারা।
http://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/273903
প্রাণি বাঁচাতে কৃত্রিম মাংস! (ভিডিও)
প্রকাশ: ২০১৬-১১-২৪ ১:৪৮:৪১ পিএম || আপডেট: ২০১৬-১১-২৪ ১:৪৮:৪১ পিএম

মো. রায়হান কবির : আমেরিকাতে আজ পালন করা হচ্ছে থ্যাংকস গিভিং ডে। আর থ্যাংকস গিভিং ডে’র প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে টার্কির রোষ্ট। টার্কি হচ্ছে, এক ধরনের পাখি। আমেরিকানরা এই পাখির রোষ্ট খুব পছন্দ করে।
তাই থ্যাংকস গিভিং ডে’তে এর প্রচুর চাহিদা থাকে। ধারণা করা হয় প্রতি থ্যাংকস গিভিং ডে’তে প্রায় ৫ কোটি টার্কি খাওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতি থ্যাংকস গিভিং ডে’তে ৫ কোটি পাখি হত্যা করা হয়।
তাছাড়া আমেরিকানদের আরেকটি প্রিয় খাবার হচ্ছে বার্গার। বিশেষ করে হ্যাম বার্গার। আর এই হ্যাম বার্গারের প্রধান উপাদান হচ্ছে গরুর মাংস। ফলে আমেরিকানরা অতি মাত্রায় মাংসভোজী। এতে করে চাপ পরছে পশু ও পাখি কূলে। তাছাড়া বিশ্বজুড়ে অনেক দেশেই মাংসের চাহিদা আছে। আমেরিকার মতো এশিয়া কিংবা ইউরোপেও কিন্তু ভালো মাংস খাওয়া হয়। এক কথায় বলা যায় পুরো বিশ্বজুড়েই মাংসের চাহিদা মেটাতে হত্যা করা হয় অনেক পশু ও পাখি।
আর এর প্রভাব পড়ছে প্রকৃতিতে। প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাচ্ছে এসব প্রাণীর অভাবে। এসব অনেক দিক বিবেচনা করেই কৃত্রিম মাংসের প্রতি অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তারা চাইছেন পশু-পাখি বাঁচাতে হলে মাংসের জন্যে বিকল্প খুঁজতে হবে। কিন্তু বিকল্প খাবারে মানুষের রুচি নেই! মাংসের স্বাদ একবার যে পায় তাকে সবজিতে সহজে অভ্যস্ত করা যায় না। তাই এবার ভরসা, ল্যাবে উৎপাদিত কৃত্রিম মাংসের ওপর।
‘মেম্ফিস মিট’ নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠান তহবিল গঠন করছে কৃত্রিম মাংসের উৎপাদন ও বিপণনের জন্যে। একই সঙ্গে তারা চাইছে এই সমন্ধীয় গণসচেতনতা বাড়াতে। তাই তারা বিভিন্নভাবে এর প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ল্যাবে গরুর মাংস উৎপাদনে সফল হয়েছে। এবং তার স্বাদ, গন্ধ এবং রঙ অবিকল গরুর মাংস বা বিফের মতোই। এমনকি ল্যাবে উৎপাদিত এই মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মিট বল। যার স্বাদও নাকি প্রাকৃতিক মাংস দিয়ে উৎপাদিত মিট বলের মতোই।
মেম্ফিস মিট তাদের প্রচারণায় এবার থ্যাংকস গিভিং ডে’কে প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা বলছে, যদি সুযোগ ও তহবিল পাওয়া যায় তবে তারা আগামীতে ‘টার্কি’র মাংসও উৎপাদন করবে, ল্যাবেই! ফলে বেঁচে যাবে লাখ লাখ টার্কি। প্রকৃতি ফিরে পাবে ভারসাম্য। এই মহৎ উদ্দেশ্যে তারা ৩ ডলার থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত দান নিচ্ছে। যা তাদের গবেষণা এবং প্রচারণায় ব্যবহার করা হবে। এর বদলে দাতাদের পানির বোতল, হুডি কিংবা স্টিকার দান ভেদে দেয়া হবে।
মেম্ফিস মিট তাদের প্রচারণায় আরেকটি দিক উল্লেখ করছে, সেটা হল, ‘ক্লিন মিট’। কেননা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে প্রাকৃতিক মাংসে প্রচুর পরিমানে ব্যাকটেরিয়া থাকে। এবং এর থেকে নানা রোগ সংক্রমিত হয়। কিন্তু ল্যাবে উৎপাদিত মাংস প্রায় ব্যাকটেরিয়া মুক্ত। তাই এর থেকে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। তাই একে ক্লিন মিট হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে এই মাংসের উৎপাদন খরচ কত, বা কেমন হতে পারে এর বাজার মূল্য সে সম্পর্কে কোনো ধারনা দেয়া হয়নি। প্রাণী কোষ থেকে মাংস উৎপাদন হবে বলে এটি প্রকৃতিকে আরো বিভিন্ন উপায়ে উপকৃত করবে। কারণ, ল্যাবে উৎপাদিত মাংস শুধু পশু-পাখিই বাঁচাবে না আরো বাঁচাবে গো-খাদ্য। ফলে ঘাস বা অন্যান্য উদ্ভিদের ওপর চাপ কমে আসবে। এখন দেখার বিষয় এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ কতটা সাড়া দেয় এবং এর বাণিজ্যিক উৎপাদন কতটা সফল এবং সাশ্রয়ী হয়।
http://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/201553
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ
প্রকাশ: ২০১৬-১১-২৪ ১:৪৮:৪১ পিএম || আপডেট: ২০১৬-১১-২৪ ১:৪৮:৪১ পিএম
![]() |
মো. রায়হান কবির : আমেরিকাতে আজ পালন করা হচ্ছে থ্যাংকস গিভিং ডে। আর থ্যাংকস গিভিং ডে’র প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে টার্কির রোষ্ট। টার্কি হচ্ছে, এক ধরনের পাখি। আমেরিকানরা এই পাখির রোষ্ট খুব পছন্দ করে।
তাই থ্যাংকস গিভিং ডে’তে এর প্রচুর চাহিদা থাকে। ধারণা করা হয় প্রতি থ্যাংকস গিভিং ডে’তে প্রায় ৫ কোটি টার্কি খাওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতি থ্যাংকস গিভিং ডে’তে ৫ কোটি পাখি হত্যা করা হয়।
তাছাড়া আমেরিকানদের আরেকটি প্রিয় খাবার হচ্ছে বার্গার। বিশেষ করে হ্যাম বার্গার। আর এই হ্যাম বার্গারের প্রধান উপাদান হচ্ছে গরুর মাংস। ফলে আমেরিকানরা অতি মাত্রায় মাংসভোজী। এতে করে চাপ পরছে পশু ও পাখি কূলে। তাছাড়া বিশ্বজুড়ে অনেক দেশেই মাংসের চাহিদা আছে। আমেরিকার মতো এশিয়া কিংবা ইউরোপেও কিন্তু ভালো মাংস খাওয়া হয়। এক কথায় বলা যায় পুরো বিশ্বজুড়েই মাংসের চাহিদা মেটাতে হত্যা করা হয় অনেক পশু ও পাখি।
আর এর প্রভাব পড়ছে প্রকৃতিতে। প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাচ্ছে এসব প্রাণীর অভাবে। এসব অনেক দিক বিবেচনা করেই কৃত্রিম মাংসের প্রতি অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তারা চাইছেন পশু-পাখি বাঁচাতে হলে মাংসের জন্যে বিকল্প খুঁজতে হবে। কিন্তু বিকল্প খাবারে মানুষের রুচি নেই! মাংসের স্বাদ একবার যে পায় তাকে সবজিতে সহজে অভ্যস্ত করা যায় না। তাই এবার ভরসা, ল্যাবে উৎপাদিত কৃত্রিম মাংসের ওপর।
‘মেম্ফিস মিট’ নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠান তহবিল গঠন করছে কৃত্রিম মাংসের উৎপাদন ও বিপণনের জন্যে। একই সঙ্গে তারা চাইছে এই সমন্ধীয় গণসচেতনতা বাড়াতে। তাই তারা বিভিন্নভাবে এর প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ল্যাবে গরুর মাংস উৎপাদনে সফল হয়েছে। এবং তার স্বাদ, গন্ধ এবং রঙ অবিকল গরুর মাংস বা বিফের মতোই। এমনকি ল্যাবে উৎপাদিত এই মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মিট বল। যার স্বাদও নাকি প্রাকৃতিক মাংস দিয়ে উৎপাদিত মিট বলের মতোই।
মেম্ফিস মিট তাদের প্রচারণায় এবার থ্যাংকস গিভিং ডে’কে প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা বলছে, যদি সুযোগ ও তহবিল পাওয়া যায় তবে তারা আগামীতে ‘টার্কি’র মাংসও উৎপাদন করবে, ল্যাবেই! ফলে বেঁচে যাবে লাখ লাখ টার্কি। প্রকৃতি ফিরে পাবে ভারসাম্য। এই মহৎ উদ্দেশ্যে তারা ৩ ডলার থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত দান নিচ্ছে। যা তাদের গবেষণা এবং প্রচারণায় ব্যবহার করা হবে। এর বদলে দাতাদের পানির বোতল, হুডি কিংবা স্টিকার দান ভেদে দেয়া হবে।
মেম্ফিস মিট তাদের প্রচারণায় আরেকটি দিক উল্লেখ করছে, সেটা হল, ‘ক্লিন মিট’। কেননা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে প্রাকৃতিক মাংসে প্রচুর পরিমানে ব্যাকটেরিয়া থাকে। এবং এর থেকে নানা রোগ সংক্রমিত হয়। কিন্তু ল্যাবে উৎপাদিত মাংস প্রায় ব্যাকটেরিয়া মুক্ত। তাই এর থেকে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। তাই একে ক্লিন মিট হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে এই মাংসের উৎপাদন খরচ কত, বা কেমন হতে পারে এর বাজার মূল্য সে সম্পর্কে কোনো ধারনা দেয়া হয়নি। প্রাণী কোষ থেকে মাংস উৎপাদন হবে বলে এটি প্রকৃতিকে আরো বিভিন্ন উপায়ে উপকৃত করবে। কারণ, ল্যাবে উৎপাদিত মাংস শুধু পশু-পাখিই বাঁচাবে না আরো বাঁচাবে গো-খাদ্য। ফলে ঘাস বা অন্যান্য উদ্ভিদের ওপর চাপ কমে আসবে। এখন দেখার বিষয় এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ কতটা সাড়া দেয় এবং এর বাণিজ্যিক উৎপাদন কতটা সফল এবং সাশ্রয়ী হয়।
http://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/201553
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ নভেম্বর ২০১৬/ফিরোজ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ
ল্যাবে তৈরি মানুষের মাংস খাবেন?
মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২২ ২:৪৩:১৭ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৩-২২ ২:৪৪:০৫ পিএম
![]() |
মাহমুদুল হাসান আসিফ : বিতর্কিত বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স এর মতে, স্বজাতির মাংস ভক্ষণের বিরুদ্ধে যে ট্যাবু রয়েছে তা ভাঙতে সাহায্য করতে পারে গবেষণাগারে তৈরি মানুষের মাংস। তিনি আশাবাদী যে, পৃথিবীর কোনো প্রাণী হত্যা ব্যতীত স্টেম কোষ ব্যবহার করে মানুষের মাংস তৈরি করা সম্ভব। যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী, এমন কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটিশ এই জীববিজ্ঞানী বলেন, ‘তৈরিকৃত মানুষের মাংস খাওয়া স্বৈরশাসননীতি বনাম আত্মগরিমাপূর্ণ নৈতিকতার জন্য একটি আকর্ষণীয় পরীক্ষা ক্ষেত্র হতে পারে।’
বর্তমান সময়ে আলোচিত কৃত্রিম মাংসের উৎপাদন নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘কৃত্রিম মাংসের বার্গার অর্থাৎ সিন্থেটিক বার্গার আমাদের চিন্তার চেয়েও দ্রুত বিক্রয় সম্ভব। এই বার্গার এবং অন্যান্য কৃত্রিম অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন মাংস গবেষণাগারে তৈরি করা যায় জীবিত প্রাণীর পেশী টিস্যু থেকে স্টেম কোষ ব্যবহার করে। এই কোষটির চিনি ও খনিজের মিশ্রণে পুনঃউৎপাদনের ক্ষমতা আছে। তাই এই কোষ কংকাল পেশীর মধ্যে বায়োরিঅ্যাক্টর ট্যাংকের ভিতরে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা যেতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক কৃত্রিম মাংস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাস্ট এর প্রধান নির্বাহী জোশ টেট্রিকের মতে, ২০১৮ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ার বাজারে গবেষণাগারে তৈরি সসেস, চিকেট নাগেট এবং ফো গ্রেস বাজারজাত করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞানী ডকিন্সের বক্তব্য, অন্যান্য প্রাণীর কৃত্রিম মাংসের পাশাপাশি গবেষণাগারে মানুষের মাংস উৎপাদন করা হলে তা বহু পুরোনো ট্যাবু ভাঙতে ভূমিকা রাখবে। তবে ডকিন্সের এই ধারণাটির সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করেননি। অনেকে মন্তব্য করেন, ট্যাবু সাধারণত সেসব জিনিসকে বিবেচনা করা হয় যা নৈতিক এবং নৈতিকতার কারণগুলোর জন্য আমরা ভাঙতে রাজি না।
অবশ্য নৈতিকতার বিষয়টি ছাড়াও মানুষের মাংস খাওয়াতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে। মেডিক্যাল ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের মাংস কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য জটিলতা বা রক্তবাহিত রোগের কারণ হতে পারে। যেমন, হেপাটাইসিস বা ইবোলা। আমাদের দেহ সাধারণত একধরনের ‘প্রিয়নস’ প্রোটিন ধারণ করে, যার কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে সংক্রামক রোগের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যদি এই প্রোটিন মস্তিষ্কের চেইন বিক্রিয়া ঘটায় তবে তা মৃত্যুতে রুপ নিতে পারে। মানুষের মাংস খাওয়া শরীরের জন্য সবসময় মন্দ হবে না বিশেষ করে যদি তা ‘প্রিয়নস’ মুক্ত হয়। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মতো ‘প্রিয়নস’ তাপ দ্বারা ধ্বংস করা যায় না। তাই উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
ব্রিটিশ এই জীববিজ্ঞানী বলেন, ‘তৈরিকৃত মানুষের মাংস খাওয়া স্বৈরশাসননীতি বনাম আত্মগরিমাপূর্ণ নৈতিকতার জন্য একটি আকর্ষণীয় পরীক্ষা ক্ষেত্র হতে পারে।’
বর্তমান সময়ে আলোচিত কৃত্রিম মাংসের উৎপাদন নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘কৃত্রিম মাংসের বার্গার অর্থাৎ সিন্থেটিক বার্গার আমাদের চিন্তার চেয়েও দ্রুত বিক্রয় সম্ভব। এই বার্গার এবং অন্যান্য কৃত্রিম অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন মাংস গবেষণাগারে তৈরি করা যায় জীবিত প্রাণীর পেশী টিস্যু থেকে স্টেম কোষ ব্যবহার করে। এই কোষটির চিনি ও খনিজের মিশ্রণে পুনঃউৎপাদনের ক্ষমতা আছে। তাই এই কোষ কংকাল পেশীর মধ্যে বায়োরিঅ্যাক্টর ট্যাংকের ভিতরে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা যেতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক কৃত্রিম মাংস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাস্ট এর প্রধান নির্বাহী জোশ টেট্রিকের মতে, ২০১৮ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ার বাজারে গবেষণাগারে তৈরি সসেস, চিকেট নাগেট এবং ফো গ্রেস বাজারজাত করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞানী ডকিন্সের বক্তব্য, অন্যান্য প্রাণীর কৃত্রিম মাংসের পাশাপাশি গবেষণাগারে মানুষের মাংস উৎপাদন করা হলে তা বহু পুরোনো ট্যাবু ভাঙতে ভূমিকা রাখবে। তবে ডকিন্সের এই ধারণাটির সঙ্গে অনেকেই একমত পোষণ করেননি। অনেকে মন্তব্য করেন, ট্যাবু সাধারণত সেসব জিনিসকে বিবেচনা করা হয় যা নৈতিক এবং নৈতিকতার কারণগুলোর জন্য আমরা ভাঙতে রাজি না।
অবশ্য নৈতিকতার বিষয়টি ছাড়াও মানুষের মাংস খাওয়াতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে। মেডিক্যাল ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের মাংস কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য জটিলতা বা রক্তবাহিত রোগের কারণ হতে পারে। যেমন, হেপাটাইসিস বা ইবোলা। আমাদের দেহ সাধারণত একধরনের ‘প্রিয়নস’ প্রোটিন ধারণ করে, যার কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে সংক্রামক রোগের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যদি এই প্রোটিন মস্তিষ্কের চেইন বিক্রিয়া ঘটায় তবে তা মৃত্যুতে রুপ নিতে পারে। মানুষের মাংস খাওয়া শরীরের জন্য সবসময় মন্দ হবে না বিশেষ করে যদি তা ‘প্রিয়নস’ মুক্ত হয়। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মতো ‘প্রিয়নস’ তাপ দ্বারা ধ্বংস করা যায় না। তাই উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
http://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/201553
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ

No comments:
Post a Comment