শ্রীলঙ্কাকে ‘লজ্জা’ দিল বাংলাদেশ
![]() |
ইয়াসিন হাসান : মরুর বুকে ক্রিকেট-উত্তাপ ছড়ানো বেশ কঠিন। ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ব্যাট-বলের ঠুকঠাক শব্দ খুব বেশি আনন্দ দেওয়া কথা নয়। কিন্তু দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
পুরো গ্যালারি যেন এক টুকরো ‘বাংলাদেশ’। ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ চিৎকার আর হৈহুল্লোড়ে মেতে ছিল পুরো দুবাই স্টেডিয়াম। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সমর্থন করতে এত বাংলাদেশি সমর্থক স্টেডিয়ামে হাজির হবেন, তা কি কেউ ভাবতে পেরেছিল? তবে সর্বনিম্ন ৩৫ ও সর্বোচ্চ ২৮০০ দিরহাম দিয়ে যারা টিকিট কিনে মাঠে ঢুকেছেন, তারা প্রায় সবাই দিন শেষে খুশি। নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতেও দোষ নেই।
কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমন জয় যে আর নেই বাংলাদেশের। ১৪তম এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ১৩৭ রানে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬১ রানের পুঁজি নিয়ে তাদের অলআউট করেছে ১২৪ রানে, যা আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে লঙ্কানদের সর্বনিম্ন দলীয় রান।
যেমন ব্যাটিং ঠিক তেমনই বোলিং বাংলাদেশের। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে সিংহের দলকে হারিয়েছে টাইগাররা। কোনো ছাড় না দিয়ে লঙ্কানদের বিরাট লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানে জয়। এ ছাড়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় এটি। আর এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি। এর আগে শতরানের ওপরে পরাজয়ের কোনো রেকর্ড নেই শ্রীলঙ্কার। এবার সেই লজ্জাটা শ্রীলঙ্কাকে দিল বাংলাদেশ।
পুরো গ্যালারি যেন এক টুকরো ‘বাংলাদেশ’। ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ চিৎকার আর হৈহুল্লোড়ে মেতে ছিল পুরো দুবাই স্টেডিয়াম। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সমর্থন করতে এত বাংলাদেশি সমর্থক স্টেডিয়ামে হাজির হবেন, তা কি কেউ ভাবতে পেরেছিল? তবে সর্বনিম্ন ৩৫ ও সর্বোচ্চ ২৮০০ দিরহাম দিয়ে যারা টিকিট কিনে মাঠে ঢুকেছেন, তারা প্রায় সবাই দিন শেষে খুশি। নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতেও দোষ নেই।
কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমন জয় যে আর নেই বাংলাদেশের। ১৪তম এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ১৩৭ রানে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬১ রানের পুঁজি নিয়ে তাদের অলআউট করেছে ১২৪ রানে, যা আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে লঙ্কানদের সর্বনিম্ন দলীয় রান।
যেমন ব্যাটিং ঠিক তেমনই বোলিং বাংলাদেশের। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে সিংহের দলকে হারিয়েছে টাইগাররা। কোনো ছাড় না দিয়ে লঙ্কানদের বিরাট লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানে জয়। এ ছাড়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় এটি। আর এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি। এর আগে শতরানের ওপরে পরাজয়ের কোনো রেকর্ড নেই শ্রীলঙ্কার। এবার সেই লজ্জাটা শ্রীলঙ্কাকে দিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জয়ের মধ্যমণি মুশফিকুর রহিম। তার ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ পেয়েছিল ২৬১ রানের লড়াকু পুঁজি। তবে ইনিংসের শুরুটা ছিল খুব বাজে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন ও সাকিবকে প্রথম ওভারে সাজঘরের পথ দেখান দেড় বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা লাসিথ মালিঙ্গা। লিটন ক্যাচ দেন স্লিপে, আর সাকিব কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোল্ড।
এরপর তামিম মাঠ ছাড়েন কবজিতে ব্যথা পেয়ে। সাকিব ফিরে যাবার পর ক্রিজে আসেন মুশফিক। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে যা করার করে দেন প্রাক্তন অধিনায়ক। তাকে তৃতীয় উইকেটে সঙ্গ দেন দলে ফেরা মোহাম্মদ মিথুন। দুজন তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে আসেন কক্ষপথে।
তবে তাদের শুরুটাও ছিল সাবধানী। ধীরগতিতে রান তোলেন দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অষ্টম ওভারে বাংলাদেশ পায় প্রথম বাউন্ডারির স্বাদ। প্রথম পাওয়ার প্লে’তে সংগ্রহ মাত্র ২৪! কিন্তু উইকেটে থিতু হয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাটিং করে যান দুজন। ইনিংস বড় করতে পাশে পেয়েছিলেন ভাগ্যদেবীকে। দুজনই জীবন পান দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। ‘দ্বিতীয়’ জীবনে দলকে ভালো সংগ্রহ এনে দেন তারা।
দলে ফিরে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে মিথুন ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মালিঙ্গাকে ফিরিয়ে এনে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন ম্যাথুস। ৬৮ বলে ৫ চার আর ২ ছক্কায় ৬৩ রান করে ফেরেন মিথুন। জুটি ভাঙার পর আবার শুরু হয় ব্যাটিং বিপর্যয়। মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক, মিরাজ ও মাশরাফি হতাশ করেন বাংলাদেশকে। মাশরাফি যখন আউট হন তখনও বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হতে ১১ ওভার বাকি। সেখান থেকে মুশফিক একা লড়াই শুরু করেন। ১২৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন। এরপর শুরু হয় তার আগ্রাসী ব্যাটিং। তার ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যায় লঙ্কানদের বোলিং আক্রমণ।

মুশফিক একপ্রান্তে খেলে গেলেও চোট পাওয়া তামিমের অবদান কম নয়। মুস্তাফিজ যখন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তখন বাংলাদেশের রান ২২৯। সবাইকে চমকে দিয়ে এক হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠে নামেন তামিম। খেলেন মাত্র এক বল। পরের ১৫ বলে মুশফিক নেন ৩২ রান। বাংলাদেশের স্কোর ২২৯ থেকে পৌঁছে যায় ২৬১ রানে।
তামিমের অসীম সাহসিকতায় মুশফিক পেয়ে যান আত্মবিশ্বাস। যে আত্মবিশ্বাসে মুশফিক পেয়ে যান লড়াই করার প্রেরণা। দুজনের ইচ্ছায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পেয়ে যায় লড়াকু পুঁজি। ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন মুশফিক। ১৫০ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় সাজান ম্যাচজয়ী ইনিংসটি। তামিম ফিরে আসাতেই মুশফিক ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে পেরেছিলেন। আর মুশফিকের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ। দলে ফিরে মালিঙ্গা এমন পারফরম্যান্স করবে, তা কেউ ভাবেননি। ১০ ওভারে ২৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তার ৬০ বলের ৪৪টিই ছিল ডট। হজম করেননি কোনো বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি।
ব্যাটিংয়ের পর বাংলাদেশের বোলিংয়েও তোপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ৩৮ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট। মুস্তাফিজ নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে আউট করেন কুশল মেন্ডিসকে। এরপর মাশরাফির জোড়া আঘাত। ১৬ বলে ২৭ রান করে বাংলাদেশকে ভয় দেখাচ্ছিলেন উপুল থারাঙ্গা। তাকে ফিরিয়ে দেন মাশরাফি তৃতীয় ওভারের শেষ বলে। ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হন থারাঙ্গা। পরের ওভারে মাশরাফির শিকার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। নড়াইল এক্সপ্রেসের কাটারে বধ ধনঞ্জয়া।
পঞ্চম উইকেটে শানাকাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক ম্যাথুস। কিন্তু বেশিদূর যায়নি তাদের যাত্রা। ৬০ রানে রান আউটে কাটা পড়েন শানাকা। সেখানেই শেষ শ্রীলঙ্কা। ১৮তম ওভারে রুবেল পান প্রথম ও একমাত্র সাফল্য। নিজের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউ করেন ম্যাথুসকে। এরপর আর পেরে ওঠেনি শ্রীলঙ্কা।

শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। দিলরুয়ান পেরেরার ২৯ ও লাকমালের ২০ রানে শতরান টপকায় শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট পান সাকিব, রুবেল ও মোসাদ্দেক।
জয় দিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করতে চেয়েছিলেন মাশরাফি। দলীয় পারফরম্যান্সে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এবার মাশরাফির দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৯.৩ ওভারে ২৬১
শ্রীলঙ্কা: ৩৫.২ ওভারে ১২৪
ফল: বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ইয়াসিন/পরাগ

No comments:
Post a Comment