Monday, April 30, 2018

Both korea mick issue info

সীমান্তের মাইক খুলে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া

শাহেদ হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ১:১৫:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ২:১১:৪৯ পিএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে যে মাইকগুলো দিয়ে বিষেদাগার ছড়ানো হতো সেগুলো সরিয়ে নেবে উত্তর কোরিয়া। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায় ইনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর উনই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা রাখেন। বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছেন কিম জং উন।

দুই কোরিয়ার মধ্যে যখন সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করত, তখন সীমান্তে থাকা মাইকগুলো দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক সংবাদ পরিবেশন করা হতো। দক্ষিণ কোরিয়াও একই রকম মাইক ব্যবহার করত, যা তারা গত শনিবার বন্ধ করে দেয়। শুক্রবারের শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে দুই কোরিয়ার মাইকগুলো বন্ধ রাখা হয়। সম্মেলনের পর মাইকগুলো খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর হবে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চোই হাইউন সু বলেছেন, ‘সামরিক আস্থার ক্ষেত্রে আমরা এটাকে সবচেয়ে সহজ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি। আমরা আশা করছি উত্তর কোরিয়া এটা বাস্তবায়ন করবে।’

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৮/শাহেদ/সাইফুল

photo competition

উইকিপিডিয়ার উদ্যোগে ছবি প্রতিযোগিতা

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ৩:০৮:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ৪:০০:১০ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : শুরু হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সংরক্ষিত অঞ্চলসমূহের ছবির তোলার প্রতিযোগিতা ‘উইকি লাভস আর্থ ২০১৮’।

উন্মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার উদ্যোগে প্রতি বছর একটি স্থায়ী সংগ্রহশালা তৈরি করার উদ্দেশ্যে ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপনের জন্য এ আন্তর্জাতিক ছবি তোলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার তত্ত্বাবধানকারী স্থানীয় সংস্থাগুলো। বাৎসরিক এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশে এ প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করছে ‘উইকিমিডিয়া বাংলাদেশ’।

এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। প্রতিযোগিতা পাতায় দেয়া বাংলাদেশের সংরক্ষিত অঞ্চলের তালিকা থেকে যে কোনো সময় তোলা, যেকোনো স্থানের ছবি যত খুশি আপলোড করা যাবে পুরো মে মাস জুড়ে। প্রতিযোগিতাটি ১ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ থেকে প্রাপ্ত সেরা ১০টি করে ছবি থেকে আন্তর্জাতিক বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিকভাবে সেরা দশটি ছবিকে পুরস্কৃত করা হবে। প্রথম পুরস্কার বিজয়ী ২০১৯ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠেয় উইকিপিডিয়ার বার্ষিক সম্মেলন ‘উইকিম্যানিয়ায়’ যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ও স্বতন্ত্রভাবে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক নাহিদ সুলতান জানান, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলোর নিবন্ধ উইকিপিডিয়াতে থাকলেও অধিকাংশেরই কোনো ছবি নেই। এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলোর ছবি উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন ও সংশ্লিষ্ট ছবিসমূহের একটি স্থায়ী সংগ্রহশালা তৈরি করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।’

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সহ-সমন্বয়ক ও বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক নুরুন্নবী চৌধুরী (হাছিব) বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় বারের মতো এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছি। গত বছরই প্রথমবারের মতো এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ এবং আমাদের একটি ছবি ১১তম স্থান দখল করেছিল। আশা করছি ধারাবাহিক ভাবে এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংরক্ষিত এলাকাগুলোর দারুন সব ছবি আমরা উন্মুক্ত ভাবে তুলে ধরতে পারবো।’

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের জন্য http://wikiloves.org/earth ঠিকানায় গিয়ে ছবি আপলোড করতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের একটি ছবি ৩৬টি দেশের ১ লাখ ৩১ হাজার ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ১১তম স্থান দখল করেছিল।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

prize bond draw april 2018

১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ৬:০২:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ৬:০৪:১৪ পিএম
সচিবালয় প্রতিবেদক : ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ৯১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ী নম্বর ০৭৬১০১১ এবং ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী নম্বর ০১৭৪০০৯। ১ লাখ টাকা করে দুটি তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী নম্বর ০৫৭৬২২৫ ও ০৬১৩৪৪৮। প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা করে দুটি চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী নম্বর ০২৪৪২৮৩ ও ০৩৭৯২৫৫।

সোমবার ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ড্র হয়।

একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) এই ‘ড্র’ পরিচালিত হয়। বর্তমানে প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের ৫১টি সিরিজ যথা-কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ এবং খস এই ড্র এর আওতাভুক্ত।

এসব সিরিজের অন্তর্ভুক্ত ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য বলে ঘোষিত হয়। নিম্ন বর্ণিত সংখ্যার বন্ডগুলো সাধারণভাবে প্রতিটি সিরিজের ক্ষেত্রে পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

প্রতিটি ১০ হাজার টাকা করে ৪০টি পঞ্চম পুরস্কারের নম্বর হলো ০০৪৩০৯১, ০২৮৩৫৮৪, ০৪৫৮৩৬৫, ০৬৪২৬৭৬, ০৭৭৯২৩৯, ০১০০৪০৪, ০৩০৪১৭১, ০৪৮২৪৭৮, ০৬৬৯১৬৫, ০৮০১২৮৬, ০১২৯২৮৪, ০৩৩৫১১৯, ০৪৯১১০৩, ০৬৭৮৯৮৬, ০৮৫৩৮১৫, ০১৫৯২৮৭, ০৩৭২৬৬৬, ০৪৯১৫৭৭, ০৬৮৬৭১৯, ০৮৭১৪৭২, ০১৯৫৮৮৬, ০৩৯৯০০৬, ০৫০৬৩৯০, ০৭০৪২৪৯, ০৮৮০১৮৬, ০২০৭০৬১, ০৪০০৫৯১, ০৫৪৭৮১৭, ০৭০৮২৯১, ০৯১৫২৩৫, ০২২৭৯২৪, ০৪২৫৪৪০, ০৫৬৯৬৫৪, ০৭১০৬২২, ০৯৬৫০১০, ০২৩৭০১৪, ০৪৩২৮১৫, ০৬৩৫৬২২, ০৭২৭৩৭৮, ০৯৭৭৪৫৭।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৮/হাসান/রফিক

hotel in under water info

পানির নিচে নতুন হোটেল

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৪ ১:৫৮:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৪ ২:৩০:৩৯ পিএম
শাহিদুল ইসলাম : চারদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি। তাতে বিচরণ করছে হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণী। এরই মাঝে আপনি বিলাস বহুল হোটেলের নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে শুয়ে আছেন। যারা ভাবছেন এটা নিছক কল্পনা, তাদের কল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে কনরাড মালদ্বীপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

মালদ্বীপের রাংগালি দ্বীপে সমুদ্রের নিচে তারা চালু করতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম আন্ডার সি হোটেল। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আরো কয়েকটি আন্ডার সি হোটেলের কথা শোনা গেলেও সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে এটাই প্রথম পরিপূর্ণ হোটেল। প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই হোটেলটি। দ্বিতল এই হোটেলের একটি তলা সমুদ্রের ওপরে এবং একটি পানির নিচে। নিচের তলায় থাকবে ১৬ ফুট আয়তনের বেডরুম সঙ্গে বাথরুম। এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যেন অতিথিরা অনুভব করতে পারেন রাতে তারা মাছের সঙ্গেই ঘুমাচ্ছেন। এছাড়াও ওপরের তলা বরাদ্দ থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য। হোটেল কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শেষের দিকে হোটেলটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

Sunday, April 29, 2018

popular pc language info

সবচেয়ে জনপ্রিয় ১৪ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ১০:৩৮:২১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ১২:৪০:৩৮ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : কোডিং শেখার জন্য এখনকার সময়টা খুব উপযোগী। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রোগ্রামারদের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রোগ্রামার হতে হলে আপনার কমপক্ষে একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা প্রয়োজন।

৮০০’র বেশি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ রয়েছে। সহজে চাকরির বাজার ধরতে কোনটা শেখা দরকার? এটা জানার সহজ উপায় হতে পারে- বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোনগুলো সেটা জানা।

প্রোগ্রামিংয়ের প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট ‘স্ট্যাক ওভারফ্লো’ সম্প্রতি ১ লাখের বেশি প্রোগ্রামারের সঙ্গে কথা বলে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ২৫টি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের একটি তালিকা তৈরি করেছে।প্রোগ্রামিং ও প্রোগ্রামারদের ক্যারিয়ার সংক্রান্ত ‘২০১৮ সালের ডেভেলপার জরিপ’ প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের এই তালিকা তুলে ধরেছে স্ট্যাক ওভারফ্লো।এ প্রতিবেদনে জনপ্রিয় ১৪টি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ তুলে ধরা হলো।

১. জাভাস্ক্রিপ্ট : নামের মিল থাকলেও, জাভাস্ক্রিপ্ট আসলে জাভার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ১৯৯৫ সালে নেটস্কেপের প্রকৌশলী ব্রেন্ডন আইক জাভাস্ক্রিপ্ট তৈরি করেন, যেটা মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের শুরুর দিকে নেটস্কেপ ২ (ব্রাউজার) এর সঙ্গে। এর নাম দেয়া হয়েছিল লাইভস্ক্রিপ্ট।

কিন্তু মার্কেটিং কৌশলের গ্যাড়াকলে পড়ে এর নাম জাভাস্ক্রিপ্ট হয়ে যায়, সান মাইক্রোসিস্টেমের জাভা ল্যাংগুয়েজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করার জন্য।জাভাস্ক্রিপ্ট একটি অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড, ডায়নামিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করতে এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়। এটি ওয়েবের জন্য ব্যাপক ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোর একটি এবং বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

২. এইচটিএমএল :  প্রকৃত অর্থে এটি কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নয় বরং একটি মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ যা একসারি মার্কআপ ট্যাগ এর সমন্বয় গঠিত। প্রতিটি ওয়েবসাইট গঠনের ভিত্তি এটি।

৩. ক্যাসকাডিং স্টাইল শিট বা সিএসএস : এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটি ওয়েবসাইট এবং ব্রাউজারভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইনের জন্য ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৪. এসকিউএল : এসকিউএল বা স্ট্রাকচার্ড কুয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজ হলো ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত একটি কুয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজ। এসকিউএল ব্যবহার করে ডাটাবেজ তৈরি, ডাটাবেজের তথ্য হালনাগাদ, নতুন তথ্য সংযোজন, তথ্য বিয়োজন ইত্যাদি করা যায়। বেশিভাগ ক্ষেত্রে অন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়, যেমন: পিএইচপি।

৫. জাভা : সান মাইক্রোসিস্টেম ১৯৯১ সালে জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ উদ্ভাবনের করেছিল মূলত টেলিভিশন সিস্টেমের জন্য। পরবর্তীতে ওরাকল সান মাইক্রোসিস্টেমকে কিনে নেওয়ার পর জাভাকে অতি দ্রুত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের একটিতে পরিণত করে। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস তৈরির সবচেয়ে কমন উপায় হিসেবে জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৬. ব্যাশ/শেল :  শেল প্রকৃত অর্থে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নয়। বরং একটি শেল স্ক্রিপ্ট অপারেটিং সিস্টেমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পূর্বনির্ধারিত কমান্ডের তালিকা চালানোর নির্দেশ দেয়। উদাহরণস্বরূপ: একটি শেল স্ক্রিপ্ট ‘.bmp’ ফাইলকে ‘.jpg’ ফাইলে কনভার্ট করতে পারে অপারেটিং সিস্টেমের মতো।

৭. পাইথন :  ১৯৮৯ সালে পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ উদ্ভাবন করেন নেদারল্যান্ডের সিডব্লিউআই’র গবেষক গুইডো ভ্যান রস্যিউম। এটি তৈরির সময় প্রোগ্রামের পঠনযোগ্যতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রোগ্রামার যাতে সহজে ও কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনেক প্রোগ্রামার বিশ্বাস করেন যে, প্রোগ্রামিং শুরু করার জন্য এটিই সবচেয়ে সহজ ল্যাঙ্গুয়েজ।

৮. সি# : সি শার্প একটি অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। মাইক্রোসফট তাদের আগের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ উদ্ভাবন করে। সি শার্প ব্যাপক জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জাভার প্রতিদ্বন্দ্বী। এটি প্রায় জাভার মতো একটি ল্যাঙ্গুয়েজ হলেও পুরোপুরি একরকম নয়। ব্যবসায়িক সফটওয়্যার তৈরিতে সি শার্প প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বেশি ব্যবহৃত হয়।

৯. পিএইচপি : প্রচুর ডেটা সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট এবং অ্যাপসে এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার হয়ে থাকে। এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং-এর জন্য ব্যবহৃত হয়। ফেসবুকের একটা বিরাট অংশ ডেভেলপ করা পিএইচপিতে। ফেসবুক পিএইচপির ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে তারা নিজেরাই পিএইচপির উন্নয়নের জন্য নতুন পিএইচপি ইনজিন রিলিজ করেছে। ওয়ার্ডপ্রেস, উইকিপিডিয়াও ডেভেলপ করা পিএইচপিতে। তবে অনেক প্রোগ্রামারের আবার পিএইচপি নিয়ে বিরক্তিও রয়েছে।

১০. সি++ :  সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের একটি শাখা হচ্ছে সি প্লাস প্লাস। এটি অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। ১৯৮৩ সালে বিয়ারনে স্ট্রোভস্ট্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরেটরিতে এটি ডেভেলপ করেন। এটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং সফটওয়্যার শিল্পে বহুল ব্যবহৃত। যেমন- সিস্টেম সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, ডিভাইস ড্রাইভার, এম্বেডেড সফটওয়্যার, উচ্চ মানের সার্ভার ও ক্লায়েন্ট অ্যাপ্লিকেশন, বিনোদন সফটওয়্যার যেমন- ভিডিও গেম ইত্যাদি ক্ষেত্রে সি প্লাস প্লাস ব্যবহৃত হচ্ছে। সি প্লাস প্লাস পরবর্তী বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজকে প্রভাবিত করেছে যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাভা।

১১. সি : এখনো বহুল ব্যবহৃত প্রাচীন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সি। ৭০ দশকের প্রথম দিকে বেল ল্যাবে কাজ করার সময় সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করেন ডেনিস রিচি। ১৯৭৮ সালে এই ভাষার কিংবদন্তির ম্যানুয়াল ‘দ্য সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ’ প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়।

১২. টাইপস্ক্রিপ্ট : মাইক্রোসফটের তৈরি এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটি তুলনামূলক ভাবে নতুন বলা যেতে পারে। ২০১২ সালে উদ্ভাবনকৃত টাইপস্ক্রিপ্ট প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যাপক জনপ্রিয় জাভাস্ক্রিপ্টের মতোই। বড় অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য টাইপস্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়েছে।

১৩. রুবি : এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে কোড লেখা এবং পড়া- দুটোই সহজ হওয়ায় এটি ব্যাপক প্রশংসিত। রেইলস নামে এর একটা ফ্রেমওয়ার্ক আছে যার কারণে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানানো সহজতর। রুবির অফিসিয়াল স্লোগান হলো ‘এ প্রোগ্রামার’স বেস্ট ফ্রেন্ড’। মানে, একজন প্রোগ্রামারের সেরা বন্ধু।

১৪. সুইফট : সহজ ও উন্নত উপায়ে সফটওয়্যার তৈরির জন্য ২০১৪ সালে এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করে অ্যাপল। আইফোনের অ্যাপস বানানোর জন্য এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জনপ্রিয়।

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

Follow the japan APO tech info

জাপানের টিপিএম কৌশল গ্রহণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৯ ১২:৫৪:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৯ ১২:৫৪:৩৮ পিএম
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : শিল্প বিপ্লবের সুফল পেতে শিল্পোন্নত জাপানের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ (টিপিএম) কৌশল অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, এ কৌশল বাংলাদেশসহ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সবচেয়ে ফলপ্রসূ হতে পারে। এর যথাযথ প্রয়োগ শিল্প কারখানায় ‘স্মার্ট প্রোডাক্টিভিটি’ বাড়াতে সক্ষম।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ কৌশলের যথাযথ প্রয়োগ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তাগিদ দেন।

জাপানভিত্তিক এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক। এ ছাড়া ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের পরিচালক এস. এম. আশরাফুজ্জামানসহ জাপান ও মালয়েশিয়ার উৎপাদনশীলতা বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ (টিপিএম) কৌশল প্রয়োগ শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসার গুণগত উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখে। এ পদ্ধতি ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে জ্ঞানের দিগন্ত প্রসারে সহায়তা করে। জ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়নের ধারা জোরদারের মাধ্যমে এ পদ্ধতি বাংলাদেশসহ এপিও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. এনামুল হক বলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতে প্রযুক্তি দক্ষ জনবল তৈরি ও লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রয়াস উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়াবে। জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সবুজ শিল্পায়ন ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতার নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশিয় শিল্প উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী বাংলাদেশসহ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি দেশ থেকে আগত ১৯ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং ২জন আন্তর্জাতিক উৎপাদনশীলতা বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছে এতে। কর্মশালায় ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। এর ফলে এশীয় অঞ্চলের গুণগত শিল্পায়নের অভিযাত্রা বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ এপ্রিল ২০১৮/নাসির/ইভা

Zabbar boli play ctg, Bangladesh

ঐতিহ্যের বলীখেলা

আশরাফ উল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৭ ৪:৩৪:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৮ ১১:৪৯:৫২ এএম
আশরাফ উল্লাহ : ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সবে দানা বাঁধছিল। মাস্টারদা সূর্য সেন তখনো সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেননি। তখনই সাহস ও শক্তির প্রকাশ ঘটানোর জন্য অভিনব এক পরিকল্পনা করেন চট্টগ্রাম শহরের বদরপাতির ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর। আয়োজন করেন বলী খেলার। দৃশ্যত ক্রীড়াশৈলী, আদতে তরুণদের সংগঠিত করা। সময়টা ১৯০৯ সাল, বাংলায় ১৩১৫। সেই শুরু। পেরিয়েছে ১০৮ বছর। এই খেলা এখন চট্টগ্রামের ঐতিহ্য।

১৩১৫ বঙ্গাব্দের ১২ বৈশাখ প্রথমবারের মতো এ আয়োজন হয়েছিল চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে। সেই থেকে প্রতিবছর একই দিনে অব্যাহতভাবে বসছে বলীখেলার আসর। উদ্যোক্তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে এর নাম আবদুল জব্বারের বলীখেলা। সেই প্রথমবার যেমন সারা দেশ থেকে এমনকি পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে দলে দলে বলীরা এসে ভিড় জমিয়েছিলেন, এখনো বজায় রয়েছে সে রেওয়াজ। তবে শুরুর দিকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে চট্টগ্রাম শহরে এসে ভিড় জমাতেন বলীরা। অনুশীলন শুরু হতো আগেভাগেই। আমানত শাহর মাজারের পাশের বোর্ডিংয়ে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা, খাওয়া ও আপ্যায়নের যাবতীয় আয়োজনই করতেন আবদুল জব্বার সওদাগর। এখন সেই ব্যবস্থা নেই, তবুও দূর-দুরান্ত থেকে এখনো বলীরা এসে উপস্থিত হন প্রতিযোগিতার দিন বা একদিন আগে। সুদীর্ঘ কাল ধরে বলীখেলার আয়োজনটি বংশ পরম্পরায় টিকিয়ে রেখেছে আবদুল জব্বারের পরিবার। চট্টগ্রাম শহরের বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা চালিয়ে আসছেন তাঁরা। জব্বার সওদাগরের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে শুক্কুর আনোয়ার নিয়েছিলেন দায়িত্ব। ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু হলে ১৯৮৬ সাল থেকে হাল ধরেন তাঁর ছেলে শওকত আনোয়ার বাদল। তিনিই এখন বলীখেলা ও মেলা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।

দেশাত্মবোধের চেতনা থেকে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা ও মেলার প্রচলন। ব্রিটিশ সরকার আবদুল জব্বার সওদাগরকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধি দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধেই ছিল তাঁর অবস্থান, তাই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তাদের দেওয়া এই সম্মান। তিনি যুবসমাজকে দেশের প্রয়োজনে নিজের শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধি ও লড়বার প্রেরণা যুগিয়েছেন।
 

বলীখেলার আভিধানিক নাম ‘মল্লযুদ্ধ’ বা কুস্তি প্রতিযোগিতা। চট্টগ্রামে এই খেলা চলে আসছে প্রাচীন কাল থেকে। ‘মল্ল’ নামে খ্যাত বহু প্রাচীন পরিবার এখনো আছে। এ অঞ্চলের অন্তত ২২টি মল্ল পরিবার ইতিহাস প্রসিদ্ধ, যা উল্লেখ আছে গবেষক আবদুল হক চৌধুরী রচিত ‘বন্দর শহর চট্টগ্রাম’ গ্রন্থে। দুই বলী মুখোমুখী হবেন শক্তি ও কসরতের লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে কয়েক মুহূর্ত তাঁর পিঠ মাটিতে ঠেকিয়ে রাখতে পারলে জয় নিশ্চিত হয় এ খেলায়। প্রাচীন এই খেলাটি নতুন মাত্রা পেল আবদুল জব্বারের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। সাহস ও শৌর্যের সঙ্গে যুক্ত হলো দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের জন্য লড়াই করার প্রেরণা।

জব্বারের বলীখেলার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে যেমন কক্সবাজারে ডিসি সাহেবের বলীখেলা, সাতকানিয়ায় মক্কার বলীখেলা, আনোয়ারায় সরকারের বলীখেলা, রাউজানে দোস্ত মোহাম্মদের বলীখেলা, হাটহাজারীতে চুরখাঁর বলীখেলা, চান্দগাঁওতে মৌলভীর বলীখেলা এখনও কোনোরকমে বিদ্যমান। এই খেলার শুরু থেকেই বেজে চলে রণবাদ্য। কাঁপন ধরানো ঢাক-ঢোলের আওয়াজ। চারদিকে হর্ষধ্বনি। একেবারে ময়দানি লড়াইয়ের পূর্ণ-আমেজ। উঁচু বলীমঞ্চে উদোম গায়ে লড়েন সুঠামদেহী বলীরা।
 

এই আয়োজন উপলক্ষে বসে মেলা। তিন দিনের আনুষ্ঠানিক মেলা বসার কথা থাকলেও কার্যত পাঁচ-ছয় দিনের মেলা বসে লালদীঘির ময়দানের চারপাশের এলাকা ঘিরে। মেলা বসে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে লালদীঘির চারদিক, হজরত আমানত শাহ (রা.) মাজার পেরিয়ে জেল সড়ক, দক্ষিণে বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর পেরিয়ে কোতোয়ালি থানার মোড়, পশ্চিমে কে সি দে সড়ক, সিনেমা প্যালেস হয়ে টিঅ্যান্ডটি অফিস পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে। চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে তো বটেই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সাভার, নরসিংদী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, সিলেট, ময়মনসিংহ থেকে বিক্রেতারা আসেন পণ্যসামগ্রী নিয়ে। মেলায় পাওয়া যায় সব ধরনের জিনিস। বিশেষ করে গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। হাতপাখা, মাটির টব, পাটি, ছোটদের খেলনা, কাঠের আসবাবপত্র, প্রসাধনসামগ্রী, ঘর সাজানোর নানা উপকরণ-বড় ফুলদানি, প্লাস্টিকের ফুল, ফ্লোর ম্যাট প্রভৃতি, হস্তশিল্পের মধ্যে রয়েছে পাটের শিকা, দোলনা ও থলে, মৃৎশিল্পের সামগ্রী-সানকি, চাড়ি, বড় পাত্র মোটকা, ঢাকনা ও ভুঁই।

এ ছাড়া ফলের বীজ, গাছের চারা, চাঁই, ডালা, কুলা, আঁড়ি, তামা ও কাসার তৈজসপত্র, দা-বঁটি, খুন্তি, ঝাড়ু, বেলুনি, পিঁড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই রয়েছে। এমনকি খরগোশ বা বিচিত্র পাখিও বিক্রি হয় এখানে। এত সব কিছু আছে আর মেলায় মুড়ি-মুড়কির দোকান থাকবে না, তা কী করে হয়। ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। এসব দোকানে বিক্রি রয়েছে গজা, খই, মুড়ি-খইয়ের মোয়া, তিলের মোয়া, চিনিমাখা ছোলাবুট, মুড়ি, বাতাসা, নাড়ু, ভুট্টা, জিলাপি, মিষ্টি, দই, চানাচুর, আচারসহ মৌসুমী ফল।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ এপ্রিল ২০১৮/তারা

hot water in water fall

গুহা ছেড়ে গরম পানির ঝরনায়

ফেরদৌস জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৮ ১২:৪৯:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৮ ১২:৫১:৫৭ পিএম
(ভিয়েতনামের পথে : ২৪তম পর্ব)

ফেরদৌস জামান :
 গুহা ভ্রমণ শেষ হতে হতে বেলা গড়িয়ে দুপুরের কাছাকাছি। আবারও গাড়ি ছেড়ে দিল। প্যাকেজে দুপুরের খাবার এবং ফলাহার অন্তর্ভূক্ত। তাই আজ আমাদের ব্যাগ খাবার শূন্য। এখানে আসার পর থেকে দৈনিক যে পরিমাণ পরিশ্রম হয়েছে, সে তুলনায় আজ অনেক আরামে আছি। কিন্তু বুঝতে পারলাম না এত তাড়াতাড়ি ক্ষুধা পেয়েছে কেন? খাবার কখন দেবে তার তো কিছুই জানি না। পথে কোন কিছু পেলে কিনে নেব কি না তা নিয়ে দুজনের মাঝে ভাবনাচিন্তা চলছে। কিছুদূর পথ অতিক্রম করার পর গাড়ি থামল রাস্তার পাশের এক উঠানে।

হঠাৎ এক গাড়ির অনুপ্রবেশে মুহূর্তেই পাখিরা আরামের বিচরণ ছেড়ে পালালো। এখানেই রেস্টুরেন্ট। সকলের উদ্দেশ্যে বলা হলো, ভেতরে গিয়ে বসতে। কিন্তু কোন বেলার খাবার খেতে বসতে বলা হলো তা কারও কাছেই পরিষ্কার নয়। একে একে সকলেই এক টেবিলে বসলাম। পুরো টেবিলে এক ধরণের নীরবতা, কেউ কাউকে চেনে না। কোনো কথাবার্তা নেই। দুই দুইটা জায়গা ঘুরে দেখা শেষ। অথচ, পরস্পরের মাঝে আলাপ পারিচয়টা পর্যন্ত হয়নি। আমি তো ভেবেছিলাম আমরা গাড়িতে আলাদা বসলেও তারা চারজন এক জায়গায়, সুতরাং আলাপ পরিচয়ের মতো প্রাথমিক বিষয়টা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। কিন্তু না, লক্ষ করি খাবার টেবিল ঘিরে ছয়জন মানুষ কিন্তু কেউ কারও সাথে কথা বলা দূরে থাক পরস্পরের দিকে স্বাভাবিকভাবে তাকাতেও পারছে না। ব্যাপারটা প্রত্যক্ষ করার পর যারপর নেই অস্বস্তিকর ঠেকল। টেবিলে পাশাপাশি আমরা দুজন আর আমার ঠিক বাম পাশে সুদূর ব্রাজিল থেকে আগত এক তরুণী। টেবিলে অপর পাশে তিনজনের একজন অস্ট্রেলিয়ান তরুণী এবং বাকি দুজন ইসরাঈল থেকে উড়ে আসা পিতা-পুত্র।

পরিবেশিত হলো টুকরো করে কাটা আনারস এবং তরমুজ। নিজেদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত চোখাচোখি হচ্ছে কিন্তু কেউ শুরু করছে না। এমনটা তো মেনে নেয়া যায় না! পৃথিবী দেখতে বেরিয়ে এমন পরিবেশ কি কারও কাম্য হতে পারে? টেবিলে এইমাত্র প্রাণের সঞ্চার ঘটানো কর্তব্য হয়ে দেখা দিল। বাঁশের সরু কাঠির খোঁচায় তরমুজ টুকরো তুলে নিতে নিতেই কথা শুরু পাশের তরুণীর সাথে। তারপর একে একে অন্যদের সাথে। টেবিলের উপর দিয়ে এবার যেন হাওয়া বইতে শুরু করল। এতক্ষণ এই হাওয়া টেবিলটাকে ঘিরে এক অস্বস্তির বলয় তৈরি করে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সব কিছু ভেঙে হাওয়ার পাখা গজাল সাথে আমাদের কথারও। স্বাভাবিকতা ফিরে এলো সকলের চেহারায়।
 

কথায় কাথায় পরিবেশিত সমস্ত ফল শেষ। সকলের চেহারায় এক গভীর প্রতীক্ষা এবং প্রশ্ন- ফল কি আবারও দেয়া হবে? ভেবেছিলাম ফলাহারে স্থানীয় আরও কিছু পদ থাকবে। প্যাজের ফলমূলের কথা সেভাবেই উল্লেখ ছিল। কিছুক্ষণ পর বোঝা গেল পুনর্বার ফল পরিবেশনের সম্ভাবনা নেই। যাহোক, আপাতত এতেই খুশি। একটু পরেই শুরু হলো দুপুরের খাবার পরিবেশনের আয়োজন, যা ঠিক এখনই প্রত্যাশিত ছিল না। ফলাহার আর দুপুরের খাবার; এই অন্তর্বর্তী সময়ে জানা হলো একেকজনের ভ্রমণ পরিকল্পনার কথা। আরও জানা হলো ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রাথমিক কিছু বিষয়। পাশের পর্যটককে অনেকটাই  প্রাণবন্ত মনে হলো। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং ইংরেজি ভাষার উপর উচ্চতর পড়াশোনারত। তিনি ব্রাজিলের নাগরিক। সুতরাং, কথায় কথায় যে প্রসঙ্গটি সর্বপ্রথম চলে আসার কথা তা হলো- ফুটবল। তার নিশ্চয়ই জানার কথা নয় যে, বাংলাদেশে তার দেশের ফুটবল দলের কি পরিমাণ সমর্থক আছে। বিশ্বকাপ ফুটবল বলতে বাংলাদেশের ভক্ত অনুরাগীরা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। তার এক ভাগ যে ব্রাজিলের পক্ষে সে খবরও তার অজানা। শুধু কি তাই? অতি উৎসাহী সমর্থকরা যে, তার দেশের বৃহৎ আকারের একেকটি পতাকা উড়িয়ে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে, এই বিশেষ খবরটিও নিশ্চই তার জানা নেই? বিস্তারিত জানার পর খুশি হলো সে। তবে চেহারার দিকে তাকিয়ে মনে হলো না তিনি এই বাড়াবাড়িকে সমর্থন করলেন। ইসরাইলি পিতা-পুত্র তুলনামূলক কম মিশুক প্রকৃতির। রক্ষণশীল বলা চলে। ছেলেটার মুখ থেকে দু’একটা কথা যা-ও বেরোলো তা যেন জোর চালিয়ে বের করে আনা। সর্বশেষ সদস্য সম্বন্ধে বলার একটি বাক্যও খুঁজে পাচ্ছি না। তবে ক্যাঙ্গারু বিষয়ক গুনে গুনে তিন কি চারটি কথার অধিক আর কিছু কি হয়েছে? তা মনে পড়ছে না। তিনি প্রকৃতপক্ষেই স্বল্পবাক, অল্প কথার মানুষ তবে অহংকারের লেশ মাত্রটি নেই। নির্লিপ্ত স্বভাব আর দীর্ঘ শরীরের ভারে সোজা হয়ে যেন দাঁড়াতেও পারছে না। এ বয়সেই শরীর ন্যুয়ে পড়ার উপক্রম।

এখানকার প্রায় সকল প্যাকেজ টুরের শেষ গন্তব্য হয়ে থাকে পাই গিরিখাত। সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার মধ্য দিয়ে ভ্রমণের ইতি টানা হয়। আমাদের দলের ক্ষেত্রেও ঠিক একই জিনিস ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের তাতে কোনো আগ্রহ নেই। যেহেতু জায়গাটা আমাদের দেখা এবং তা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। তার চেয়ে বরং আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে চাইনিজ বসতি। এটা আবার প্যাকেজের মধ্যে নেই। চাইনিজ বসতি দেখতে পারলে পাই ঘুরে দেখার ব্যাপারে আমাদের আর কোনো আক্ষেপ থাকবে না। বিস্তারিত শোনার পর গাড়ির চালক বললো, গিরিখাত যাওয়ার পথে চাইনিজ বসতির পাশ দিয়ে যেতে হবে। চাইলে আমাদের কাছাকাছি নামিয়ে দিয়ে যাবে। তবে তা অবশ্যই পরবর্তী গন্তব্য হট স্প্রিং বা উষ্ণ পানির প্রস্রবণ হয়ে মোরা পাং ঝরনা দেখার পর। চীন দেশে যাওয়ার সুযোগ এখনও হয়ে ওঠেনি। এখানকার বসতিতে যেতে পারলে তাদের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতির কিছুটা স্বাদ পাওয়া যেত! দিনগুলো ফুরে আসার সাথে সাথে মনের মধ্যে আক্ষেপ জমা হচ্ছিল, নিশ্চিতভাবেই চাইনিজ বসতি দেখার সুযোগ পাচ্ছি না।
 

এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি চালকের এরূপ অশ্বাস আমাদেরকে অনেক আশাবাদী করে তুললো। গুহা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা জীবনে অর্জিত বহু অভিজ্ঞতার মাঝে অন্যতম একটি, যার উদ্দেশ্যে আজ আমাদের এমন প্রক্রীয়ায় বের হওয়া। মজার ব্যাপার হলো এক সফলতার পর পরই আমরা এখন অন্য আর এক অভিজ্ঞতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। এবং তা একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। গাড়ি ছুটছে উষ্ণ পানির প্রস্রবণ অভিমুখে। ভ্রমণ আরও বেশি আনন্দময় হয়ে উঠল কিন্তু কোন কিছুই আর ভালো লাগছে না। মনের সমস্ত মনোযোগ গিয়ে পরে আছে অচেনা অদেখা চাইনিজ বসতিতে। ঘন অরণ্য ঘেরা পথের শেষে গিয়ে নামিয়ে দেয়া হলো উষ্ণ পানির প্রস্র্রবনের নিকটে। ঝুরি নাম বৃক্ষের নিচে এক জলাশয়। উজানের অন্ধকার জঙ্গল থেকে ধীর গতির পানির ধারা এসে জমা হয়েছে। লতাপাতার রং সবুজ হয়ে যাওয়া গরম পানিতে শরীর ডুবিয়ে বসে আছে পর্যটকের দল। জায়গায় জায়গায় পানি থেকে বাষ্পের ধোঁয়া উঠে আসছে। এমন সময সামনে দিয়ে থপথপ করে হেঁটে গেল প্রায় পোনে দুইশ কেজি দেহের বিকিনি পরা এক রমণী। জলাশয়ের পক্ষে এমন একটি দেহের ভার সহ্য করা দুস্কর হতে পারে। অন্যান্যদের তাকিয়ে থাকা দেখে মনে হচ্ছে,  প্রত্যেকের দুশ্চিন্তার কারণ স্বয়ং ওই রমণীটি- পানিতে নামার সাথে সাথে পাড় উপচে নির্ঘাৎ অর্ধেক পানি বেরিয়ে যাবে।
 

প্রশান্তির গরম স্নান শেষে কেউবা উঠে পড়ছে। এখানে গোসল করা আমাদের পরিকল্পনার বাইরে। অতএব, খানিকক্ষণ বসে আশপাশটা দেখে নেয়া যায়। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে পারিপার্শ্বিকতা কেমন যেন অস্বস্তিকর হয়ে উঠল- সম্মুখে এত মানুষ গোসলরত অথচ, আমরা কিনা বসে আছি! বিষয়টাকে শোভন মনে হলো না। যদিও অনেকেই তার সঙ্গী-সাথীকে পানিতে নামিয়ে দিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অথবা ছবি তুলছে। বেরিয়ে এসে দোকানের বেঞ্চে বসে থাকলাম। অপেক্ষা করছি কথন আমার ভ্রমণ সঙ্গীদের উষ্ণ স্নান শেষ হয়! কিছুক্ষণের মধ্যে এখানে বসে থাকাটাও বিরক্তিকর হয়ে উঠল। পেরিয়ে গেল আরও কিছু সময়। ভাবলাম একবার ভেতরে গিয়ে সহযাত্রীদের খোঁজখবর নিয়ে আসি- সাবান, শ্যাম্পু কিছু যদি লাগে। তার আগেই ভেজা শরীরেই রমণীদ্বয় গাড়িতে এসে বসে পড়লেন। এখন প্রতীক্ষা পিতাপুত্রের। কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা যেমন ঢুকেছিলেন তেমনই বেরিয়ে এলেন। কেবল পিতার হাঁটু পর্যন্ত ভেজা। বোধহয় পাড়ে বসে ঠ্যাং দুটো গরম পানিতে চুবিয়ে রেখেছিলেন। অথচ, আনন্দের মাত্রা দেখে মনে হচ্ছে একশ মাইল সাঁতার কেটে এলেন। এতক্ষণ তো তার শুধু পা জোড়াই দেখছিলাম। পা থেকে দৃষ্টি যখন ক্রমেই মাথায় পৌঁছল তখন আবার সংশয়ে পরে গেলাম। পুত্রের মাথার চুল দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় সে পানিতে নামেনি কিন্তু পিতার মাথা কেশশূন্য, একটা চকচকে বস্তু! অতএব, পিতা শরীরের কোন পর্যন্ত পানিতে চুবিয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলতে নতুন করে নিরিক্ষণের দরকার আছে। (চলবে)


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ এপ্রিল ২০১৮/তারা