Wednesday, April 4, 2018

Facebook and youtube tax info

ফেসবুক ও ইউটিউবকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৪ ১০:০২:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-০৫ ৮:৫৭:০৪ এএম
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ফেসবুক ও ইউটিউবকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান, টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ প্রস্তাব দেন।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তারা এ প্রস্তাব দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাটকোর সহ-সভাপতি আরিফ হাসান, পরিচালক ফারজানা মুন্নি, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ উভয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিদেশী চ্যানেল প্রচারে ল্যান্ডিং ফি নির্ধারণ, বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ ও সংবাদপত্রের কাগজ আমদানি থেকে সব পর্যায়ে কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠন দুটি।

বাজেট আলোচনায় মতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে টেলিভিশন ও অনলাইন শক্তিশালী হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা সংবাদপত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বত্রই পত্রিকার পাঠক কমেছে। এ কারণে বিজ্ঞাপন কমে গেছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিকভাবে নিউজ প্রিন্টের দাম বেড়েছে। ফলে আমরা বিপদে পড়েছি। সব মিলিয়ে পত্রিকা এখন রুগ্ন শিল্পের কাতারে। এমতাবস্থায় নিউজ প্রিন্ট আমদানি শতভাগ শুল্কমুক্ত করা, সংবাদপত্রে করপোরেট কর প্রত্যাহারসহ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে হবে।

মতিউর রহমান বলেন, মানুষ ইউটিউব ও ফেসবুকের দিকে ঝুঁকছে। ইউটিউব ও ফেসবুক এখন বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে প্রচুর আয় করছে। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনগুলো তাদের বিজ্ঞাপনে সরকারকে রাজস্ব দিলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে এ মাধ্যমগুলো। ফলে সংবাদপত্র ও টিভিতে বিজ্ঞাপন না এসে ফেসবুক ও ইউটিউবে চলে যাচ্ছে। তাই দেশীয় আইনের মধ্যে এদের এনে নিয়ন্ত্রণ করলে সরকারের রাজস্ব অনেক বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় গণমাধ্যম বেঁচে থাকবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবের কারণে দেশের গণমাধ্যম সংকটে পড়েছে। এগুলোকে আইনের মধ্যে নিয়ে আসলে সবাই উপকৃত হবে। সংবাদপত্র শিল্প বেঁচে থাকবে। আগামী বাজেটে এ বিষয়গুলোর পাশাপশি রপ্তানিবান্ধব নীতি করতে হবে।

ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পান চাকরিজীবীরা, যা করমুক্ত। তবে সংবাদপত্রে এটি ৬৫ শতাংশ হওয়ায় ২৫ শতাংশের ওপর কর দিতে হয় সংবাদপত্র মালিকদের। এটি তুলে দেওয়া জরুরি।

মোজ্জামেল বাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি, আমাদের দেশে বিদেশী চ্যানেল প্রচারে কোনো ধরনের ফি দিতে হয় না। আমাদের দেশের চ্যানেল অন্য কোনো দেশে প্রচার করলেই সংশ্লিষ্ট দেশকে ল্যান্ডিং ফি দিতে হয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এসব চ্যালেনের বিজ্ঞাপন আয় থেকে রেভিনিউ বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংকটে পড়ছে দেশীয় টিভি চ্যালেনগুলো। প্রাথমিকভাবে খেলা ও খবরের চ্যানেলগুলো বাদ দিয়ে বাকি সব চ্যানেলের ওপর ল্যান্ডিং চার্জ আরোপ করা উচিত।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন,  সরকার যেহেতু সেবা খাত হিসেবে ব্যাংককে আলাদা সুবিধা দিচ্ছে, গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করে তাকেও সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। এটিকে টিকিয়ে রাখতে এনবিআরও কর-ভ্যাটে ছাড় দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ এপ্রিল ২০১৮/এম এ রহমান/রফিক

No comments:

Post a Comment