Tuesday, March 26, 2019

bd cricket team wheelchair

ভারত সফরে বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৭ ১০:৫৫:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৭ ১২:১৫:৪১ পিএম
বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল (ফাইল ছবি)
ক্রীড়া ডেস্ক : আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল আজ ভারত যাচ্ছে।

এই সফরে বাংলাদেশ দল মুম্বাইয়ে ভারতের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। যার শুরুটা হবে ২৮ মার্চ। ২৯ মার্চ দ্বিতীয় এবং ৩১ মার্চ হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।

ভারত সফরে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ মহসিন। তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন নূর নাহিয়ান।

এর আগে ২০১৮ সালেও ভারত হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের সেই সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে।

ভারত সফরের বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দল: মোহাম্মদ মহসিন (অধিনায়ক)নূর নাহিয়ান (সহ-অধিনায়ক),মোহাম্মদ মিঠুমোহাম্মদ লিটন মৃধাসাজ্জাদ হোসেনআহাদুল ইসলামমোহাম্মদ রিপন উদ্দিনমোহাম্মদ রাজন হোসেনমোহাম্মদ মহিদুল ইসলামমোহাম্মদ মোর্শেদ আলমউজ্জ্বল বৈরাগীস্বপন দেওয়ান এবং রনি গাইন।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ মার্চ ২০১৯/পরাগ

2 hands expert human

সব্যসাচী লোক সম্পর্কে ১০ চমকপ্রদ তথ্য

উদয় হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৪ ৬:৫৯:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৪ ৬:৫৯:২৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
উদয় হাসান : আমাদের জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ তাদের উভয় হাত সমান দক্ষতায় ব্যবহার করতে পারে। এসব লোককে বলা হয় অ্যাম্বিস বা সব্যসাচী। তবে সকল সব্যসাচীর দুহাতই যে সকল কাজে সমান তালে চলে তা নয়। উদাহরণসস্বরূপ, কারো বামহাত কিছু কাজ ভালোভাবে করতে পারে, আবার কারো ডানহাত কিছু কাজ ভালোভাবে করতে পারে। এখানে সব্যসাচী লোকদের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য দেওয়া হলো যা আপনাকে বিস্মিত করবে।

* সব্যসাচী লোকের সংখ্যা খুবই কম
মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ হলো সব্যসাচী লোক। যেসব লোকের ডমিন্যান্ট হ্যান্ড বা প্রধান হাত নেই তাদের সংখ্যা প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১ জন। যদিও বামহাতি অনেক লোক তাদের নন-ডমিন্যান্ট হ্যান্ড বা অপ্রধান হাতকে প্রায় ডমিন্যান্ট হ্যান্ডের মতো ভালোভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম।

* সব্যসাচী লোকদের মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে
সব্যসাচী লোকের মধ্যে প্রকারভেদ রয়েছে। কিছু লোক সবসময় উভয় হাতেই সমান দক্ষতায় সব কাজ করতে পারে এবং তাদের সংখ্যা খুব বিরল। একজন লোক বামহাতি অথবা ডানহাতি হিসেবে যেসব কাজ স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারে এরা উভয় হাতের যেকোনোটা দিয়েই তা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। এদেরকে বলে অ্যাম্বিডেক্সট্রাল। কিছু সব্যসাচী লোক রয়েছে যাদের উভয় হাতে সমান দক্ষতা নেই, এরা কিছু কাজ বামহাতে এবং কিছু কাজ ডানহাতে ভালোভাবে করতে পারে। আবার কিছু সব্যসাচী লোকের কোনো ডমিন্যান্ট হাত থাকে না এবং তারা উভয় হাতই ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তাদের কোনো হাতই খুব শক্তিশালী নয়। এসব লোককে বলা হয় অ্যাম্বিসিনিস্ট্রাল। কোনো হাত দিয়ে এদের কাজ করার দক্ষতা তেমনই যেমনটা করে একজন ডানহাতি লোক তার বাম হাত দিয়ে। মেন্টাল ফ্লসের মতে, অ্যাম্বিসিনিস্ট্রাল লোকদের উভয় হাতে ডানহাতি লোকের বামহাতের সমান কর্মদক্ষতা থাকে।

* সব্যসাচিত্বের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগসূত্র রয়েছে
সব্যসাচিত্ব নির্দেশ করে যে কোনো সব্যসাচী লোকের মস্তিষ্কের বাম পাশ ও ডানপাশের মধ্যে খুব সাদৃশ্যতা রয়েছে, অর্থাৎ তাদের মস্তিষ্কের উভয় পাশ সিমেট্রিক্যাল। বামহাতি লোকদের ক্ষেত্রেও একথা সত্য। অন্যদিকে ডানহাতি লোকদের মস্তিষ্কের বামপাশ ডমিন্যান্ট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

* সব্যসাচী লোকদের অনেকেই বামহাতি হিসেবে শুরু করে
যেহেতু সব্যসাচী ও বামহাতি লোকদের মস্তিষ্কের মধ্যে খুব মিল রয়েছে, তাই একজন সব্যসাচী লোকের জীবন শুরু হতে পারে বামহাতি হিসেবে অথবা বামহাতি লোকের জীবন শুরু হতে পারে সব্যসাচী হিসেবে এবং তা স্বাভাবিক। ‘সিনিস্টার’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘সিনিস্ট্রা’ থেকে, যার মৌলিক অর্থ ছিল ‘বাম’। শত শত বছর ধরে বামহাতকে কেন্দ্র করে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। মনে করা হতো যে, বামহাতের সঙ্গে অশুভ কিছুর সম্পর্কে রয়েছে, যেমন- জাদুবিদ্যা ও ভূত-প্রেত। তাই মধ্যযুগ থেকে ২১ শতক পর্যন্ত অনেক বামহাতি লোককে চাপ প্রয়োগ করা হতো যে তারা যেন ডানহাতে কাজ করে। এভাবে বামহাতিরা সব্যসাচিত্ব লাভ করে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে ইনজুরির কারণেও অনেক ডমিন্যান্ট হ্যান্ডের লোক সব্যসাচী হতে পারে।

* সব্যসাচী লোকদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি তেমন একটা ঝোঁক থাকে না
আশ্চর্যের কথা হলো- সব্যসাচিত্বের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগসূত্র থাকলেও সব্যসাচী লোকেরা মানসিকের চেয়ে শারীরিক কাজের প্রতি বেশি ঝোঁক দেখিয়ে থাকে। একারণে হয়তো তারা বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় একহাতি লোকদের তুলনায় কম স্কোর অর্জন করে। একটি ফিনিশ গবেষণায় সাত থেকে আট বছরের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৮০০০ জনের মধ্যে ৮৭ জন উভয় হাত ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছিল। ডানহাতি ছাত্রদের তুলনায় সব্যসাচী ছাত্রদের ৯০ শতাংশ বেশি গাণিতিক সমস্যা ছিল এবং এসব সব্যসাচীদের ভাষাগত সমস্যাও বেশি ছিল।

* সব্যসাচিত্বের সঙ্গে এডিএইচডি’র যোগসূত্র রয়েছে
ফিনল্যান্ডের গবেষণাটিতে সব্যসাচী ও বামহাতি ছাত্রদের মধ্যে এডিএইচডির (অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার বা অমনোযোগী ও অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ব্যাধি) লক্ষণ ডানহাতি ছাত্রদের তুলনায় দ্বিগুণ লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মধ্যে যাদের ইতোমধ্যে এডিএইচডি নির্ণীত হয়েছে, তাদের মধ্যে সব্যসাচীদের উপসর্গ বেশি তীব্র ছিল।

* সব্যসাচিত্বের সঙ্গে সিজোফ্রেনিয়ার যোগসূত্র রয়েছে
কাউকে বামহাতি করতে যে জিনটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে তা হলো এলআরআরটিএম১। এ জিনটি স্কিজোফ্রেনিয়া বা সিজোফ্রেনিয়ার (একটি মানসিক ব্যাধি, যেখানে রোগীর মধ্যে কাল্পনিক জগৎ তৈরি হয়, যার সঙ্গে বাস্তবতার সাদৃশ্যতা নেই) ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। যেহেতু বামহাতি এবং সব্যসাচী লোকদের মস্তিষ্ক অনুরূপ, তাই সব্যসাচী লোকেরাও সিজোফ্রেনিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। অন্যান্য লোকের তুলনায় সব্যসাচী ও বামহাতি লোকদের মধ্যে এ অবস্থাটি বেশি ধরা পড়ে।

* সব্যসাচী লোকেরা কিছু কাজে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে
সব্যসাচিত্ব কোনো ব্যক্তিকে সংগীত, চিত্রকর্ম অথবা খেলাধুলায় অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে। ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত অ্যাম্বিস বা সব্যসাচী লোকের মধ্যে রয়েছেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, বেন ফ্রাঙ্কলিন ও আলবার্ট আইনস্টাইন। ফ্রাঙ্কলিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেছিলেন বামহাত দিয়ে! মেরুন ৫ এর ফ্রন্টরানার অ্যাডাম লেভিন বামহাত দিয়ে লিখেন, কিন্তু অন্যান্য কাজ করেন ডানহাত দিয়ে, যদিও তিনি সম্পূর্ণরূপে সব্যসাচী নন। ফিগার স্কেটার মাইকেল কোয়ান এবং লিব্রন জেমসের উভয় হাত ব্যবহারে সমান দক্ষতা রয়েছে।

* সব্যসাচী লোকদের আবেগ পরিবর্তনশীল
মন্টক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুসারে, সব্যসাচী লোকদের আবেগ তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে অধিক পরিবর্তনশীল। গবেষকরা এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের আবেগকে কিছু আবেগীয় প্ররোচক দিয়ে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিল। দেখা গেছে যে বামহাতি ও সব্যসাচী লোকদের দ্রুত আবেগীয় পরিবর্তনে তাল মিলানোর ক্ষমতা ডানহাতি লোকদের তুলনায় বেশি ছিল।

* সব্যসাচী লোকদের সিনেস্থেসিয়ার প্রবণতা বেশি
সব্যসাচী ও বামহাতি লোকদের মধ্যে সিনেস্থেসিয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সিনেস্থেসিয়া হলো এমন এক অবস্থা যেখানে কারো মধ্যে একই সময়ে একাধিক সেন্স উদ্দীপ্ত বা সক্রিয় হয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা রঙের ছবি দেখেই তার ঘ্রাণ পেতে শুরু করে অথবা রঙকে শুনতে পারে, যেখানে অন্যান্য লোকেরা মানসিক অনুভূতি পেয়ে থাকে সেখানে তারা (সিনেস্থেসিয়া প্রবণ লোক) শারীরিক অনুভূতি পেয়ে থাকে অথবা তারা সংখ্যার সঙ্গে ব্যক্তিত্বের যোগসূত্র ঘটাতে পারে কিংবা তারা প্রতিটি অক্ষরের পৃথক গন্ধ অনুভব করতে পারে। অর্থাৎ মিশ্র সেন্সের অনুভূতিই হলো সিনেস্থিয়া। গ্রীক সিন (একত্রে) এবং অ্যাস্থে (অনুভব করা) থেকে সিনেস্থেসিয়া শব্দের উৎপত্তি। পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখার একটি উপায় হলো সিনেস্থেসিয়া, কিন্তু এটি রোগ নয়।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মার্চ ২০১৯/ফিরোজ

4 star and 5 star difference

ফোর স্টার ও ফাইভ স্টার হোটেলের মধ্যে পার্থক্য কি?

উদয় হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৫ ১২:১৭:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৫ ২:১৫:৪৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
উদয় হাসান : কোথাও ছুটি কাটাতে অথবা আনন্দ ভ্রমণ করতে গিয়ে সেখানে কোনো পারফেক্ট হোটেল হোটেল বুকিং করাটা ভ্রমণ প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি আপনি টু স্টার এবং ফোর স্টার হোটেলের মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে যান, তাহলে পার্থক্যগুলো খুব স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে। কিন্তু যদি আপনি ফোর স্টার এবং ফাইভ স্টার হোটেলের পার্থক্য নিয়ে তর্ক করতে চান, তাহলে দেখবেন যে উভয় হোটেলের পার্থক্যগুলো একটু বেশি সূক্ষ্ম।

দুঃখজনক সত্য এই যে, হোটেলের জন্য কোনো স্ট্যান্ডার্ড রেটিং নেই। প্রত্যেক কোম্পানিই বিভিন্ন হোটেল রেটিং করতে তাদের নিজস্ব ক্রাইটেরিয়া বা মানদণ্ড ব্যবহার করে। তাই এক দেশের থ্রি স্টার হোটেল অন্য দেশে ফাইভ স্টার বলে গণ্য হতে পারে। তাহলে ফোর স্টার ও ফাইভ স্টার হোটেলের মধ্যে পার্থক্য কিভাবে জানা যাবে?

চিন্তা নেই! আপনি এক্সপেডিয়া ডটকম থেকে এ বিষয়ে ধারণা পেতে পারেন। হোটেল বুকিংয়ের এই ওয়েবসাইটটি তাদের তালিকায় থাকা হোটেলগুলোর রেটিংয়ের জন্য কাস্টমারদের ফিডব্যাক নিয়ে থাকে, তাই আপনি সৎ রিভিউর জন্য এটির ওপর নির্ভর করতে পারেন।

সাইটটি বিশ্বব্যাপী ১,০০০ এরও বেশি শহরে তাদের ১০০,০০০ এর বেশি হোটেলের প্রত্যেকটির জন্য স্টার রেটিং সিস্টেমের ফিচার প্রকাশ করেছে। স্থানীয় হোটেলগুলোর ক্ষেত্রে তারা সেকেন্ডহ্যান্ড ডাটা ব্যবহার করে নিজেরাই রেটিং করেছে। যদি কোনো হোটেলের রেটিংয়ের ব্যাপারে তাদের সন্দেহ থাকে, তারা রেটিংটি নির্ভুল কিনা তা নিশ্চিৎ করতে তাদের পরিদর্শক পাঠান। ফরেন বা বিদেশি হোটেলগুলোর ক্ষেত্রে তারা কোনো দেশে কোনো হোটলের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেম ব্যবহার করেন।

এক্সপেডিয়া উল্লেখ করেছে যে, তাদের ফোর স্টার হোটেলে প্রায়ক্ষেত্রে নিবেদিত তত্ত্বাবধায়ক, ভ্যালেট পার্কিং বা গাড়ি পার্ক করার জায়গা, অনুরোধে টার্নডাউন সার্ভিস (যেমন- কক্ষকে পরিষ্কার ও ঘুমোপযোগী করা) এবং ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস অন্তর্ভুক্ত থাকে। কক্ষগুলোতে সাধারণত বড় বেড, অতিরিক্ত আসন, মিনিবার, সেফস বা ফায়ারপ্রুফ কেবিনেট, পিলোটপ ম্যাট্রেস, রোব বা গাউন এবং উচ্চমানের বাথরুম সামগ্রী থাকে। ফোর স্টার হোটেলের কক্ষ বা লবিতে স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শনও লক্ষ্য করতে পারেন, যেমন- ক্রাউন মোল্ডিং বা মুকুট ঢালাই, আর্টওয়ার্ক বা চিত্রকর্ম এবং মার্বেল বা গ্রানাইট বা পাথরের কারুকার্য। ফুল-সার্ভিস স্পা, টেনিস অ্যাকসেস, টেনিস কোর্ট, চাইল্ড-কেয়ার এবং পুলসাইড ফুড সার্ভার সম্বলিত পুল আছে এমন যেকোনো রিসোর্টকে ফোর স্টার রেটিং দেওয়া হয়ে থাকে।

কিন্তু ফাইভ স্টার হোটেলের ক্ষেত্রে আপনি আরো একটু বেশি সুবিধা পেয়ে থাকবেন। এক্সপেডিয়া উল্লেখ করেছে যে, তাদের ফাইভ স্টার হোটেলের সুবিধার মধ্যে গুরমেট বা ব্যয়বহুল ডাইনিং, লাক্সারি বা বিলাসবহুল স্পা, ফুল-সার্ভিস হেলথ ক্লাব এবং বিলাসবহুল লকার রুম অন্তর্ভুক্ত। হোটেলের কর্মকর্তারা মার্জিত, তাদেরকে সবসময় পাওয়া যায় এবং তারা অথিতিদেরকে নাম ধরে ডাকেন। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে আপগ্রেডেড চেক-ইন, ওয়েলকাম অ্যামিনিটি এবং বাটলার সার্ভিস বা খানসামার সেবা। কক্ষগুলোর সাজসজ্জা রাজকীয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সুবিধা থাকে, যেমন- পর্দা সরানো বা টেনে দেওয়ার জন্য বেডসাইড কন্ট্রোল। কক্ষগুলোতে কারুকার্য সজ্জিত বড় বড় বাথরুম থাকে এবং বাথরুমে ডুয়াল সিনক ও আবদ্ধ টয়লেট থাকে। আপনি বাথরুমগুলোতে প্রিমিয়াম স্পা-ব্র্যান্ড প্রসাধন সামগ্রী এবং তাজা ফুল বা জীবন্ত উদ্ভিদও আশা করতে পারেন। ফাইভ স্টার রিসোর্টে গলফ কোর্স, টেনিস সেন্টার, হেলথ ক্লাব, পার্সোনাল ট্রেনার, লাক্সারিয়াস স্পা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিশুদের জন্য ডে ক্যাম্প থাকে।

উভয় হোটেলের পার্থক্যগুলো ছোট হলেও আপনার অবসর উদযাপনকে অন্যমাত্রায় নিতে ফোর স্টার হোটেল থেকে ফাইভ স্টার হোটেলে আপগ্রেড হওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো অর্থব্যয়ের ক্ষমতা বা ইচ্ছা এবং হোটেলে কতক্ষণ সময় কাটানো হবে। যদি আপনি অবসর উদযাপনে হোটেলের বাইরে বেশি সময় কাটাতে চান, তাহলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করে ফোর স্টার অথবা থ্রি স্টার হোটেল বুকিং করতে পারেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ মার্চ ২০১৯/ফিরোজ

body color can change

যে ৯ প্রাণী শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে

উদয় হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৭ ১২:৩২:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৭ ১২:৩২:৪৭ পিএম
গোল্ডেন টরটয়েজ বিটল
উদয় হাসান : রঙ পরিবর্তনকারী প্রাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে আপনি সম্ভবত ক্যামেলিয়নের কথাই ভাববেন। কিন্তু অন্যান্য কিছু বিস্ময়কর প্রাণীও তাদের শরীরের রঙ পরিবর্তন করে থাকে। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্যে হলো শত্রু থেকে আত্মরক্ষা। শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে এমন ৯টি প্রাণী সম্পর্কে এ প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো।

* গোল্ডেন টরটয়েজ বিটল
এই সুন্দর, উজ্জ্বল পতঙ্গটি বৈজ্ঞানিকভাবে ক্যারিডোটেলা সেক্সপাঙ্কটাটা নামে পরিচিত। শরীরের রঙ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি যেন জাদুকর। এটি তার নিজের সোনালি রঙ পরিবর্তন করে কালো দাগযুক্ত (ব্ল্যাক স্পটেড অথবা ডার্কার স্পটেড) কমলা রঙ ধারণ করতে পারে। সায়েন্টিফিক আমেরিকা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার এই পতঙ্গটি দুটি কারণে রঙ পরিবর্তন করে: প্রজনন করতে এবং শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতে।

* কাটলফিশ
এই সেফালোপড বা বড় মাথাযুক্ত ও খোলসাবৃত কোমল অঙ্গের প্রাণীটি ক্যামোফ্লেজের মাস্টার, অর্থাৎ এটি ছদ্মবেশ ধারণ করতে ওস্তাদ। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি শত্রুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় রঙ বা প্যাটার্ন ধারণ করতে পারে, তাই এটি ডলফিনের মতো ক্ষুধার্ত শিকারির চোখে অদৃশ্য হয়ে থাকতে পারে। এটির ত্বকের রঙ এতই বৈচিত্র্যপূর্ণ যে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এটিকে হাই ডেফিনিশন টিভির সঙ্গে তুলনা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাণীটি তার আকৃতিও পরিবর্তন করে।
ঘড়ির কাটার দিকে- কাটলফিশ, পিকক ফ্লাউন্ডার, সি-হর্স এবং প্যাসিফিক ট্রি ফ্রগ
* পিকক ফ্লাউন্ডার
গভীর মহাসাগরে বসবাসকারী এই প্রাণীটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। এটি ছদ্মবেশে সেসব মাছের কাছে যায় যেগুলোকে এটি ডিনারের আইটেম বানাতে চায়! বিজ্ঞানীদের মতে, যখন এটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে, এটির চোখ এটির মস্তিষ্কে একটি বার্তা পাঠায়- এই বার্তা অনুসারে হরমোন নিঃসরণ শুরু হয় যা এটির ত্বকের পৃষ্ঠে প্রয়োজনীয় রঙের যোগান দেয়।

* সি-হর্স
ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোট আকারের এই প্রাণীটির রঙ পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো শিকারিকে এড়িয়ে চলা, কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়। শিকার ধরতে, অন্য সি-হর্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং সঙ্গীকে আকর্ষণ করতেও এটি রঙ পরিবর্তন করে থাকে। বিপজ্জনক পরিস্থিতে একটি সি-হর্স কয়েক সেকেন্ডেই রঙের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু সঙ্গীকে আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে রঙ পরিবর্তনে দীর্ঘসময় লাগে।

* প্যাসিফিক ট্রি ফ্রগ
আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের এই প্রাণীটি রঙ পরিবর্তনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জীবনের অধিকাংশ সময় গাছের ওপর কাটায়। ব্যাকগ্রাউন্ড, তাপমাত্রা ও মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে এটির রঙ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এসবকিছু এই উভচর প্রাণীকে র‍্যাকুন, বড় শিকারী পাখি ও সাপ থেকে নিরাপদ রাখে।

* হোয়াইটব্যান্ডেড ক্র্যাব স্পাইডার
এই প্রাণীটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পাওয়া যায়। নারী ক্র্যাব স্পাইডার দ্রুত সাদা থেকে হলুদ রঙ ধারণ করতে পারে, কিন্তু হলুদ থেকে সাদা রঙে ফিরে অধিক ধীরে। ইন্ডিয়ানার মুনসিয়েতে অবস্থিত বল স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, এটি মৌমাছির মতো পলিনেটর শিকার করতে ফুলের পাপড়ির সঙ্গে মিল রেখে রঙ ধারণ করে। নারী ক্র্যাব স্পাইডারের তুলনায় পুরুষ ক্র্যাব স্পাইডার ছোট এবং রঙ পরিবর্তন করতে পারে না। হলুদ থেকে সাদা রঙে আসতে অধিক শক্তির প্রয়োজন হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বিজ্ঞানীরা, একারণে এ পরিবর্তনে দীর্ঘসময় লাগে।

ঘড়ির কাটার দিকে- হোয়াইটব্যান্ডেড ক্র্যাব স্পাইডার, আর্কটিক ফক্স, মিমিক অক্টোপাস এবং গ্রীন অ্যানোল
* আর্কটিক ফক্স
এটি রঙ পরিবর্তনকারী স্পাইডারের মতো দ্রুত রঙ পরিবর্তন করতে পারে না, কিন্তু আর্কটিক ফক্স হলো অন্যতম স্তন্যপায়ী প্রাণী যার লোমের রঙ শীতকালে পরিবর্তিত হয়। এই প্রাণীর রঙ পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণ হলো: শিকারির চোখকে ফাঁকি দেওয়া এবং ঠান্ডা তাপমাত্রায় তুলনামূলক বেশি তাপ ধরে রাখা। স্নোশো হেয়ার, শর্ট-টেইলড উইজেল এবং পিয়ারি ক্যারিবোর মতো আর্কটিক ফক্সও বরফাচ্ছন্ন মৌসুমে সাদা রঙ ধারণ করতে পারে।

* মিমিক অক্টোপাস
এটির বৈজ্ঞানিক ল্যাটিন নাম হলো থাউমোক্টোপাস মিমিকাস। এই সেফালোপডটি ভালো কারণে তার নাম পেয়েছে। এটি শরীরের রঙ ও আকৃতি পরিবর্তন করে জলদেশের গভীরে বসবাসকারী অন্যান্য প্রাণীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে, যেমন- লায়নফিশ, জেলিফিশ, স্টিনগ্রে এবং সি স্নেক। কেন তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে তা সম্ভবত আপনি অনুমান করতে পেরেছেন: এই অবিশ্বাস্য স্মার্ট প্রাণীটি শিকারির চোখকে ফাঁকি দিতে এমনটা করে থাকে।

* গ্রীন অ্যানোল
কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না যে কেন এই গিরগিটিটি সবুজ থেকে বাদামী রঙ ধারণ করে আবার সবুজ রঙে ফিরে আসে। এটি বাদামী পাতায় বসে নিজের রঙকে সবুজই রেখে দেয় এবং সবুজ পাতায় বসে শরীরের রঙকে বাদামীই রেখে দেয়! তাহলে লাভটা কি হলো? এই প্রাণীর এমন আচরণের কোনো উপকারিতা আছে কিনা তা নিয়ে এখনো অনেক বিতর্ক রয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ মার্চ ২০১৯/ফিরোজ

Saturday, March 23, 2019

water info

Alkaline water is the best water but ro water need mineral and others 

ক্ষারীয় পানি শরীরের জন্য উপকারী নাকি অপকারী?

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৭ ৫:০৪:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-১৭ ৫:০৪:০৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় পানির বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে, কিন্তু তার মানে অবধারিতভাবে এটা বোঝায় না যে এটি প্রয়োজনীয় বা উপকারী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নেসোচি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘ক্ষারীয় পানিতে অ্যাডেড মিনারেল বা সংযোজিত খনিজ থাকে যা পানির পিএইচ মাত্রা বৃদ্ধি করে। এসব অ্যাডেড মিনারেল ও কম্পাউন্ড পানিকে সচরাচরের তুলনায় অনেক কম অম্লীয় করে।’ ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিল ফাউন্ডেশনের নিউট্রিশন কমিউনিকেশন্সের সিনিয়র পরিচালক ক্রিস সলিড বলেন, ‘ক্ষারীয় পানির বাণিজ্যিক প্রসারে বিজ্ঞাপনের ভাষা হলো, এটি শরীরকে কম অম্লীয় করে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।’

পিএইচ স্কেল কোনো তরল বা দ্রবণের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব শূন্য থেকে ১৪ পর্যন্ত পরিমাপ করে। সাতের নিচে হলে অ্যাসিডিক বা অম্লীয় এবং সাতের উপরে হলে অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয়, বলেন বাকযন্ত্র বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক জেমি কুফম্যান। মানব শরীর, বিশেষ করে ফুসফুস-লিভার-কিডনি, রক্তে স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ পিএইচ ৭.৪ নিয়ন্ত্রণ ও বজায় রাখে, বলেন টুরো কলেজ অব মেডিসিনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর নিকেত সোনপাল।

ডা. কুফম্যান বলেন, বিজ্ঞান এ দাবিকে সমর্থন করছে না যে ক্ষারীয় পানি পানে শরীরের পুরো পিএইচ ভারসাম্য পরিবর্তন হয়। পাকস্থলির হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষারীয় পানিকে রক্ত শোষণের পূর্বেই অকার্যকর করে দেয়, বলেন ডা. সলিড। প্রোটিন হজম করতে এবং খাদ্যবাহিত প্যাথোজেন বা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব ধ্বংস করতে পাকস্থলির এই অম্ল ও নিম্ন পিএইচ প্রয়োজন, বলেন ডা. সোনপাল। তাই সুস্থ ও সম্পূর্ণ কর্মক্ষম শরীরের পিএইচ বাড়ানোর জন্য ক্ষারীয় পানি পানের প্রয়োজনীয়তা নেই। এছাড়া ডা. কুফম্যান উল্লেখ করেন যে, শরীর অতিরিক্ত অম্ল ও অতিরিক্ত ক্ষার গ্রহণ করে থাকলে তা মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। আপনি বরং লেবু পানি পান করতে পারেন, এতে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা।

কিন্তু কুফম্যানের মতে, ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষারীয় পানি উপকারী হতে পারে।’ তার প্রকাশিত গবেষণায় পাওয়া যায়, পিএইচ ৮ এ পাকস্থলির এনজাইম পেপসিন ধ্বংস হয়। কান, নাক ও গলার প্রদাহের জন্য পেপসিন দায়ী, কিন্তু ক্ষারীয় পানি গলা ও খাদ্যনালির টিস্যু স্পর্শ করলে পেপসিন দূর হয়ে যায়। ডা. কুফম্যান বলেন, ‘ক্ষারীয় পানি পাকস্থলি ও খাদ্যনালীর এই এনজাইম দূরীকরণে সাহায্য করে এবং এটি রিফ্লাক্সের উপসর্গ উপশম করে।’

কিন্তু ডা. সোনপাল তার রিফ্লাক্স রোগীদের সাধারণ পানি পান করতে পরামর্শ দেন- কারণ, ক্ষারীয় পানি যে উপকার করে এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত উপাত্ত নেই। তিনি যোগ করেন, ‘অন্যদিকে এ পানির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগারও সম্ভাবনা রয়েছে। গড় ব্যক্তির জন্য এটি খারাপ নয়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তও নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, ক্ষারীয় পানি কিছু স্বাস্থ্য দুর্দশার লোকদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, যেমন- কিডনি রোগ ও নানাপ্রকার বংশগত রেনাল টিউবুলার অ্যাসিডোসিস। কিছু ক্ষেত্রে অত্যধিক ক্ষারীয় পানি অ্যালক্যালোসিস (শারীরিক তরল ও টিস্যুতে অতিরিক্ত ক্ষার) সৃষ্টি করতে পারে- ফলে বমিবমি ভাব, বমি, মাংসপেশিতে খিঁচুনি বা সংকোচন এবং কনফিউশন হতে পারে।’

কৃত্রিম ক্ষারীয় পানি এবং প্রাকৃতিক ক্ষারীয় পানি পানের মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। কিছু কৃত্রিম ক্ষারীয় পানি তৈরিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সময় শরীরের জন্য দরকারি এমন মিনারেল বা খনিজ দূর হয়ে যেতে পারে এবং এতে কন্টামিন্যান্ট বা বিষাক্ত পদার্থও থাকতে পারে। ডা. কুফম্যান শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ক্ষারীয় পানি পানের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।

ডা. ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘ক্ষারীয় পানি নিয়ে এখনো পর্যন্ত সম্পন্ন গবেষণাগুলোতে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ নেই যে ক্ষারীয় পানির উপকারিতাকে সমর্থন করবে।’ একটি সুস্থ, সচল শরীর রক্তে পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখতে যা করা প্রয়োজন তা করে। ডা. সলিড পুনর্ব্যক্ত করেন যে ক্ষারীয় পানি শরীরের অম্লীয় মাত্রাকে প্রভাবিত করে না- যা একটি ভালো দিক, কারণ শরীরে পিএইচের ভারসাম্য অর্জিত হয়। তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের শরীরের পিএইচ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে, যা এমনকি সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোতলের পানিও বিঘ্নিত করতে পারে না।’ ডা. সলিডের মতে সারকথা হলো, ‘নিয়মিত পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান আপনাকে হাইড্রেটেড ও সুস্থ রাখবে- জনপ্রিয় ক্ষারীয় পানির বোতলের পেছনে অর্থব্যয় করার প্রয়োজন নেই।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ মার্চ ২০১৯/ফিরোজ

Human skin info

এসব রোগ ত্বক বিশেষজ্ঞরা শনাক্ত করতে পারে

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৩ ৫:৩৪:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৩ ৫:৪০:১৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : ত্বকের ডাক্তারের কাজ শুধুমাত্র এটা নয় যে ব্রণ বা বলিরেখার জন্য ক্রিম প্রেসক্রাইব করা কিংবা তিল বা আঁচিল চেক করা। তারা এর চেয়েও বেশি কিছু করতে পারে। ডার্মাটোলজিস্ট বা ত্বক বিশেষজ্ঞের কাছে ভিজিট করলে আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন।

ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের ডার্মাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লিসা গ্র্যান্ডিনেটি বলেন, ‘ডার্মাটোলজিস্টরা ত্বক পরীক্ষা করে যেসব সমস্যা নির্ণয় করেন তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই অন্তর্নিহিত ক্রনিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।’ ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ডিপার্টমেন্ট অব ডার্মাটোলজির সিনিয়র ডার্মাটোলজিস্ট উইলমা বার্জফেল্ড বলেন, ‘ত্বক হলো আপনার স্বাস্থ্যের জানালা।’ মেডিক্যাল ডার্মাটোলজিস্টরা ইমিউন সিস্টেম সমস্যার (যেমন- লুপাস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও প্রদাহমূলক আন্ত্রিক রোগ) সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ত্বকের সমস্যা বেশি হারে দেখে থাকেন। এখানে ত্বকের ডাক্তাররা ধরতে পারেন এমন ৯টি রোগ বা স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* ডায়াবেটিস
ডা. গ্র্যান্ডিনেটি বলেন, প্রায় অর্ধেক ডায়াবেটিস রোগীর ত্বকের সমস্যা থাকতে পারে। প্রধান একটি সমস্যা হলো অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস, যেখানে ঘাড় ও বগলের ত্বক পুরু হয়ে যায়, যা মসৃণ ও কালচে রঙের। ডা. বার্জফেল্ড বলেন, ‘সাধারণত রোগীরা জানেন না যে এসব ডার্ক প্যাচ হলো ডায়াবেটিসের উপসর্গ। আমরা এ উপসর্গ দেখে প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে পারি।’ ডায়াবেটিসের আরেকটি লক্ষণ হলো স্কিন ট্যাগ বা আঁচিল, কিন্তু এটি সবসময় ডায়াবেটিস নির্দেশ করে না। ডা. গ্র্যান্ডিনেটি বলেন, ‘ঘষাঘষি থেকে যে কারো বগল বা কুঁচকি এলাকায় স্কিন ট্যাগ হতে পারে। যদি কারো ডায়াবেটিসের রিস্ক ফ্যাক্টর না থাকে, বেশি ওজন না হয়, ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস না থাকে এবং শুধুমাত্র একটি-দুটি স্কিন ট্যাগ থাকে, তাহলে তাকে ডায়াবেটিস নির্ণয় সম্পর্কিত টেস্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি কারো ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে অনেকগুলো স্কিন ট্যাগ থাকে এবং অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানও থাকে, তাহলে আমি সাধারণত তার রক্ত শর্করার মাত্রা অথবা এ১সি লেভেল টেস্ট করি।

* সেলিয়াক রোগ
ডার্মাটাইটিস হার্পেটিফরমিস নামক অতি চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ির গুচ্ছ হলো সেলিয়াক রোগের অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ। এসব ফুসকুড়ি সাধারণত কনুই, হাঁটু, নিতম্ব ও মাথার ত্বকে কমন। ডা. গ্র্যান্ডিনেটি বলেন, ‘যদি আপনার এ অবস্থা থাকে, তাহলে আপনার সেলিয়াক আছে, যদিও প্রত্যেক সেলিয়াক রোগীর ডার্মাটাইটিস হার্পেটিফরমিস থাকে না।’ যাদের ত্বকের এই দশা আছে, কিন্তু কোনো ধরনের পাকস্থলি বা অন্ত্রের সমস্যা অনুভব করে না প্রাসময় তারা তাদের সেলিয়াক আছে জেনে বিস্মিত হন। যখন তারা গ্লুটেনমুক্ত ডায়েট খেতে শুরু করেন, তাদের ত্বক ভালো হতে শুরু করে। গম, রাই ও বার্লিতে গ্লুটেন নামক প্রোটিনটি পাওয়া যায়, যা সেলিয়াক রোগীদের মধ্যে ইমিউন সিস্টেম প্রতিক্রিয়া প্ররোচিত করে।

* রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস
এই প্রদাহজনিত রোগের লক্ষণ কখনো কখনো ত্বকে প্রকাশ পেতে পারে। এ রোগে হাত ও পায়ের ছোট জয়েন্ট ফুলে যায় ও ব্যথা হয়। ২০ থেকে ৩০ শতাংশ আর্থ্রাইটিস রোগীর আক্রান্ত জয়েন্টের কাছাকাছি ত্বকের নিচে পিণ্ড (সাবকিউটেনিয়াস লাম্প) হতে পারে, জনস হপকিন্স আর্থ্রাইটিস সেন্টার অনুসারে। ত্বক পাতলা হওয়া, হাতের পিঠের ত্বক স্বচ্ছ (আলো চলাচল করতে পারে এমন) হওয়া এবং নখ ভাঙার প্রবণতাও হতে পারে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কমন লক্ষণ, বলেন টিইউএলএ স্কিন কেয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং এনওয়াইইউ স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রোশিনি রাজ।

* লুপাস
গালের উপরিভাগে রোদেপোড়ার মতো র‍্যাশ প্রায়ক্ষেত্রে লুপাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতবাহক হয়ে থাকে। লুপাস হলো একটি প্রদাহজনিত রোগ, যেখানে আপনার ইমিউন সিস্টেম আপনার শরীরের টিস্যু ও অর্গানকে আক্রমণ করে। লুপাস রোগীদের মাথার ত্বকেও র‍্যাশ হতে পারে এবং শরীরের সেসব স্থানেও র‍্যাশ হতে পারে যা খুব বেশি সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসে, যেমন- ঘাড়, বাহুর পিঠ ও পিঠের উপরিভাগ। ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ লুপাস রোগীর ক্ষেত্রে সূর্যালোকের সংস্পর্শ তাদের রোগকে আরো খারাপ করতে পারে, লুপাস ডট অর্গ অনুসারে।

* থাইরয়েড রোগ
ক্রনিক হাইভস বা দীর্ঘস্থায়ী আমবাত (যা ছয় সপ্তাহের বেশি থাকে) হতে পারে গ্রেভ’স রোগ বা হাশিমোটো’স থাইরয়েডাইটিসের মতো থাইরয়েড দশার একটি লক্ষণ, বলেন ডা. গ্র্যান্ডিনেটি। ডাক্তাররা নিশ্চিত নন যে কেন এসব দশা আমবাতে প্ররোচিত করে, কিন্তু তারা ধারণা করছেন যে ইমিউন সিস্টেমের কিছু অংশের বিরুদ্ধে শরীর অ্যান্টিবডি (আইজিই রিসেপ্টর বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন ই রিসেপ্টর) ডেভেলপ করে, যা অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনকে প্ররোচিত করে।

* প্রদাহজনিত আন্ত্রিক রোগ (ক্রন’স ও কোলাইটিস)
এক-তৃতীয়াংশ আলসারেটিভ কোলাইটিস এবং অর্ধেক ক্রন’স রোগীদের ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়, মাউন্ট সিনাই স্কুল অব মেডিসিন এবং কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের গবেষকদের গবেষণাপত্র অনুসারে। কিউটেনিয়াস ক্রন’স রোগের ক্ষেত্রে রোগীর ত্বকের ওপর ফিশার বা ফাটল ও নডিউল বা পিণ্ড বা অস্বাভাবিক টিস্যুর বিকাশ হবে। যখন আমরা তাদেরকে বায়োপসি করি, তখন দেখি যে তারা দেখতে আসলেই অন্ত্রের ক্রন’স রোগের মতো, বলেন ডা. গ্র্যান্ডিনেটি। কোলাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আরেকটি কমন লক্ষণ হলো পায়োডার্মা গ্যানগ্রিনোসাম- হাঁটু থেকে গোড়ালি, গোড়ালি ও বাহুর ওপর আলসারের মতো লেশন। সাধারণত ছোট ফুসকুড়ি হিসেবে পায়োডার্মা গ্যানগ্রিনোসামের যাত্রা শুরু হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে গভীর আলসারে রূপ নেয়, ক্রন’স অ্যান্ড কোলাইটিস ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার মতে। প্রদাহজনিত আন্ত্রিক রোগের তীব্রতা বাড়লে এসব ত্বকের দশা আরো খারাপ হতে পারে।

* হেপাটাইটিস সি
এই লিভার রোগে আক্রান্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীর উপসর্গ ত্বকে প্রকাশ পেয়ে থাকে, রুটজার্স নিউ জার্সি মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা অনুসারে। এসব র‍্যাশের মধ্যে ভাস্কুলাইটিস বা রক্তনালির প্রদাহজনিত র‍্যাশ ও লিচেন প্লানাস বা চুলকানির উদ্রেককারী গোলাপী স্ফীত র‍্যাশ অন্তর্ভুক্ত- উভয় র‍্যাশেরই রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বা প্যাটার্ন। ডা. গ্র্যান্ডিনেটি বলেন, ‘অনেক রোগী জানেন না যে তাদের হেপাটাইটিস সি আছে। কেউ লিচেন প্লানাস নিয়ে আমার কাছে আসলে আমি তার মধ্যে হেপাটাইটিস সি আছে কিনা চেক করি।’

* অ্যাড্রিনাল অপর্যাপ্ততা
কিডনির ওপরে অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি করটিসোল নামক গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদন করে। এ হরমোনটি স্ট্রেসের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতে শরীরকে সাহায্য করে। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি পর্যাপ্ত করটিসল উৎপাদন করতে না পারলে অ্যাডিসন রোগের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পায়, যেমন- মাংসপেশির দুর্বলতা ও ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, ক্ষুধা কমে যাওয়া, নিম্ন রক্তচাপ ও রক্ত শর্করা এবং আরো অনেক। যেহেতু অ্যাডিসন রোগের উপসর্গ ধীরে ধীরে আসে, তাই প্রায়ক্ষেত্রে এটি তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যায় না। ডার্মাটোলজিস্টরা অ্যাডিসন’স রোগের যে উপসর্গটা দেখতে পান তা হলো কালো হয়ে যাওয়া ত্বক। ত্বকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আরেকটি লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক স্ট্রেচ মার্ক বা ফাটা দাগ।

* পুষ্টি ঘাটতি
ডা. বার্জফেল্ড বলেন, ‘নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়ার সবচেয়ে কমন প্ররোচক হলো পুষ্টি ও হরমোন সম্পর্কিত। যারা খুব সীমিত ডায়েটের ওপর থাকেন তারা কার্বস ও মাংস খান না বললেই চলে, ফলে তাদের প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন ডি ও আয়রনের ঘাটতি হতে পারে।’ চুল পড়ার অন্য একটি প্ররোচক হলো হরমোনগত সমস্যা, যেমন- অ্যান্ড্রোজেনের আধিক্য, যেখানে পুরুষ হরমোনের প্রাচুর্যতা কিছু পার্শপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে (যেমন- মাথার চুল পড়ে যাওয়া এবং শরীরে লোম ও ব্রণ বেড়ে যাওয়া)।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : * ত্বকের রোগ যখন অন্য রোগেরও লক্ষণ
* ত্বকের ক্যানসারের ৫ নীরব লক্ষণ
* শরীরের এসব স্থানেও স্কিন ক্যানসার হতে পারে
* সুস্থ ত্বকের ১১ গোপন রহস্য
* স্ট্রেস যেভাবে ত্বক অধিকতর খারাপ করে
* চাকরি যেভাবে ত্বকের বয়স বৃদ্ধির কারণ




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ মার্চ ২০১৯/ফিরোজ

চাকরি যেভাবে ত্বকের বয়স বৃদ্ধির কারণ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-১২-৩১ ৭:৫৫:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-০১ ৮:০২:২৭ এএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : আপনি শুনে অবাক হবেন যে, কিছু কাজের অভ্যাস আপনার মধ্যে বয়স্কতার ছাপ ফেলতে পারে। আপনি কাজের যে অভ্যাসটাকে নিরীহ মনে করছেন সেটিই হতে পারে আপনাকে অল্পবয়সে বয়স্ক দেখানোর কারণ। এ প্রতিবেদনে কর্মক্ষেত্রে ত্বকের বয়স দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ৭টি কারণ আলোচনা করা হলো।

* ডেস্কে সারাদিন বসে থাকা
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া গেছে, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন আক্ষরিক অর্থে বয়স্ক করতে পারে। বিজ্ঞানীরা প্রায় ১,৫০০ পোস্ট-মেনোপজাল নারীর টেলোমিয়ারস (প্রত্যেক কোষে প্রাপ্ত দৃঢ়ভাবে পেঁচানো প্রান্ত) পর্যবেক্ষণ করেন। যেহেতু আমাদের কোষ বিভাজিত ও বয়স্ক হয়, ফলে টেলোমিয়ারসের বিটস হারাতে থাকে- এর মানে হচ্ছে, বয়স্ক কোষের খাটো টেলোমিয়ারস রয়েছে। শারীরিক সক্রিয়তা পরিমাপ করতে প্রত্যেক নারীকে অ্যাকসেলারোমিটার পরানো হয়েছিল, কারণ গবেষকরা দেখতে চেয়েছিল যে এক্সারসাইজ কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে কিনা। নিষ্ক্রিয় নারীদের (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী যেসব নারী সুপারিশকৃত ৩০ মিনিটের এক্সারসাইজ করেনি) মধ্যে যারা দৈনিক দশ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বসেছিল তাদের টেলোমিয়ারস যারা এর চেয়ে কম সময় বসেছিল তাদের তুলনায় খাটো ছিল। যেসব নিষ্ক্রিয় নারী বেশি সময় বসেছিল তাদের কোষের বয়স যারা অল্প সময় বসেছিল তাদের তুলনায় ৮ বছর বেড়ে গিয়েছিল। কতটুকু বসা নিরাপদ এবং বসার সম্ভাব্য বয়স্কতার প্রতিক্রিয়া কমাতে কতটুকু এক্সারসাইজ প্রয়োজন তা জানতে আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে।

* বেশি ঘণ্টা কাজ করা
যেসব লোক সপ্তাহে ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করে তারা নিজেদেরকে বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্য দশার ঝুঁকিতে রাখে। ২০১২ সালের একটি রিভিউ পেপার অনুসারে, পর্যবেক্ষণ গবেষণায় পাওয়া গেছে যে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক লোক সপ্তাহে ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করেছিল তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্য একটি গবেষণায় (এ গবেষণায় ৩২ বছরের কাজের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করা হয়) পাওয়া গেছে, যে যেসব নারী সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা বা এর বেশি সময় কাজ করেছিল তাদের হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও নন-স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। রাতে দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে- এর ফলে আপনার ব্রেইন পাওয়ার বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্মৃতিশক্তি কমে যাবে ও মনোযোগ হ্রাস পাবে। এনওয়াইইউ ল্যানগোনের সহকারী অধ্যাপক আজিজি সেইক্সাস সিএনএনকে বলেন, ‘যে দুইটি বিষয় অ্যালঝেইমার’স রোগ ও ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সেলুলার ডেব্রিস ও প্রোটিন দূর করার প্রক্রিয়াকে কার্যকর রাখে তার একটি হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে শারীরিক সক্রিয়তা, কিন্তু প্রধান বিষয়টি হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুম।’

* অফিস চেয়ারে বসে ঝুঁকে কাজ করা
যদি আপনি ৮০ বছরের বয়স্ক মানুষের মতো ব্যথায় ভুগতে না চান, তাহলে আপনার বসার ভঙ্গি ঠিক করুন। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত সিডারস-সিনাই কেরলান-জোব ইনস্টিটিউটের ফ্যামিলি মেডিসিন ফিজিশিয়ান কেন্টন ফিবেল ইউ.এস নিউজকে বলেন, ‘বসার ভুল ভঙ্গি আপনার স্বাস্থ্যের ওপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অসঠিক ভঙ্গি কিছু মাংসপেশি ও জয়েন্টের ওপর অধিক চাপ ফেলে তাদেরকে অতিকাজে ব্যস্ত রেখে ক্লান্ত করে তোলে। ক্রনিক ব্যথায় ভুগছে এমন অনেক লোক বসার ভঙ্গি সঠিক করে ব্যথা হ্রাস করতে পারে।’ সারাদিন অসঠিক ভঙ্গিতে বসে থাকলে আপনার শরীর তার ফাংশনের জন্য পর্যাপ্ত রক্ত সংবহন পাবে না, যার ফলে অল্পবয়সে ভেরিকোস ভেইন দেখা দিতে পারে- ভেরিকোস ভেইন হচ্ছে বর্ধিত শিরা যা সাধারণত বয়স্ক লোকদের ত্বকের নিচে দেখা যায়।

* দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা
প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক দৈনিক ২ ঘন্টারও বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে, ভিশন কাউন্সিলের (ভিশন কেয়ার প্রোডাক্টস অ্যান্ড সার্ভিসেসের একটি ট্রেড গ্রুপ) প্রতিবেদন অনুসারে। প্রকৃতপক্ষে, প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান লোক রিপোর্ট করেছে যে তাদের ডিজিটাল আই স্ট্রেইনের উপসর্গ (যেমন- শুষ্ক চোখ, চোখে চাপ পড়া, মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি এবং ঘাড় ও কাঁধ ব্যথা) রয়েছে। শুষ্ক চোখ বা ড্রাই আই হচ্ছে পঞ্চাশোর্ধ্ব লোকদের একটি কমন সমস্যা, কারণ বয়স্ক হতে থাকলে চোখের পানি উৎপাদন কমতে থাকে। দীর্ঘসময় কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখে চাপ না বাড়ানোর জন্য উপায়ও রয়েছে। আপনি ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন, এটি একটি ভালো পদক্ষেপ: প্রতি ২০ মিনিটে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কেনোকিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন।

* যানবাহনে দীর্ঘ ভ্রমণ
আপনি হয়তো অনুধাবন করছেন না যে, যানবাহনে দৈনিক দুই ঘণ্টা ভ্রমণ সময় পরিক্রমায় আপনার শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নরওয়ের রেলরোড দিয়ে যাতায়াতকারী চাকরিজীবীদের ওপর চালানো সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া গেছে, যেসব লোকের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতে (কর্মস্থলে আসতে এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় এবং কর্মস্থল থেকে যেতে এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময়) দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লেগেছে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা যারা কম ভ্রমণ করেছে তাদের তুলনায় বেশি ছিল। যেসব চাকরিজীবী ১০ বছর ধরে দীর্ঘ ভ্রমণ করেছে তাদের মধ্যে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ও মাস্কুলেস্কেলেটাল সমস্যা (যেমন- পাকস্থলি ব্যথা ও নিম্নস্থ পিঠ ব্যথা) যারা কম ভ্রমণ করেছে তাদের তুলনায় বেশি ছিল। অন্যান্য গবেষণায়ও পাওয়া গেছে যে, চাকরিতে আসা-যাওয়া করতে দীর্ঘ ভ্রমণের সঙ্গে ঘুমের বিঘ্নতা, প্রতিদিনকার স্ট্রেস, ক্লান্তি এবং স্বাস্থ্যের নিম্ন রেটিংয়ের সংযোগ রয়েছে। অন্য একটি গবেষণার লেখকদের মতে, ‘গণপরিবহনে চড়ে চাকরিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে, যা চাকরিজীবী মানুষদের মধ্যে যানবাহন-সম্পর্কিত স্ট্রেস সৃষ্টি করে।’

* বেশি সময় রোদে থাকা
আপনি মনে করতে পারেন যে, ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিসের ইনডোরে থাকার ফলে আপনি স্কিন ক্যানসার ও বলিরেখা থেকে সুরক্ষিত। কিন্তু ইনডোরেও আপনার কাছে সূর্যরশ্মি পৌঁছানোর উপায় রয়েছে, যেমন- জানালা। গাড়ির জানালা ইউভিবি রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে, কিন্তু বার্ধক্য ও স্কিন ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইউভিএ রশ্মির অধিকাংশ ধরনই জানালার মধ্য দিয়ে আপনার সংস্পর্শে আসতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, গাড়ি চালানোর সঙ্গে স্কিন ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, এর কারণ হচ্ছে জানালার মাধ্যমে সূর্য এক্সপোজ করা। এটি ট্রাক চালকদের জন্য দুঃসংবাদ। একটি গবেষণায় স্কিন ক্যানসারের ৮৫,০০০ কেইস বিশ্লেষণ করা হয় এবং এতে দেখা গেছে যে অধিকাংশ ট্রাক চালকদের বাম বাহু ও মুখের বামপাশে স্কিন ক্যানসার হয়েছে। জেএএমএ ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, এমনকি পাইলট ও কেবিন ক্রু মেম্বারদের মেলানোমা (স্কিন ক্যানসারের সর্বাধিক বিপজ্জনক ধরন) হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ লোকদের তুলনায় দ্বিগুণ। এর কারণ হতে পারে- এয়ারপ্লেন উইন্ডশিল্ড ও কেবিন উইন্ডো গাড়ির জানালার মতোই ইউভিএ রেডিয়েশন তেমন একটা ব্লক করতে পারে না। এছাড়া ইউভি রেডিয়েশনের তীব্রতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ৯০০ মিটার উচ্চতায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

* কর্মস্থলে কলহ
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার অন্তর্গত পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের সাইকিয়াট্রি বিভাগের ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জোডি ফোস্টার বলেন, ‘কর্মস্থলে কারো সঙ্গে কলহ হলে তা অমীমাংসিত থেকে যায় এবং এটি আপনার ভেতরটাকে নাড়া দিয়ে আপনার দিন, আপনার কর্মস্থলের বাইরের জীবন ও ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব বিষয় একজন মানুষকে অসুস্থ করতে পারে।’ সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় গবেষকরা এর সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন- গবেষণায় পাওয়া গেছে যে যেসব কর্মীরা সহকর্মীদের কাছে বাজে ব্যবহার পেয়েছিল তারা শারীরিক উপসর্গে (যেমন- মাথাব্যথা ও ঘুমহীনতা) ভুগেছিল। এর ফলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা হারাতে পারে এবং সময় পরিক্রমায় বলিরেখা ওঠতে পারে, কারণ আপনার শরীর কোষের মেরামত ও আরোগ্যলাভের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ ডিসেম্বর ২০১৮/ফিরোজস্ট্রেস যেভাবে ত্বক অধিকতর খারাপ করে

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৫ ৯:৪৫:৪৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৫ ৭:৫৩:৫৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : যখন আপনি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে ভুগবেন, আপনার ত্বকের অবস্থা আরো খারাপ হবে। এর মানে হলো, পূর্ব থেকে বিদ্যমান ত্বকের কোন খারাপ দশা বা ব্রণ অধিকতর খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে।এটি আপনার ত্বকের জন্য দুঃসংবাদ।কিন্তু আপনার ত্বকের ক্ষতিসাধনের জন্য স্ট্রেস ঠিক কি করে?আমরা কিছু বিশেষজ্ঞের মতামত পেয়েছি, যা থেকে আপনি ধারণা করতে পারেন যে আপনার ত্বকের পৃষ্ঠের উপরে ও নীচে কি ঘটে।

* সোরিয়াসিস
সোরিয়াসিস ত্বকের একটি জটিল রোগ, যা স্ট্রেসের কারণে আরো খারাপ হতে পারে এবং আপনি লাল, চুলকানিমূলক ও আঁশযুক্ত ত্বকের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। ইন্টারনাল মেডিসিন, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ নেসোচি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘মানসিক চাপপূর্ণ বিষয় ও জীবন-ঘটনা সেসব লোকের সোরিয়াসিস তীব্র করতে পারে যাদের ত্বকের এ দশা দীর্ঘস্থায়ী।’ এটি অন্য চর্মরোগ যেমন- রোসেশা থেকে ভিন্ন। ডা. নেসোচি বলেন, ‘সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ করতে স্ট্রেস দমনের কার্যকরী কৌশল খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।’ শান্ত কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হলো মেডিটেশন, যা স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ডা. নেসোচি বলেন, ‘গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের সঙ্গে মানসিক চাপ হ্রাস ও সোরিয়াসিসের উপসর্গ দ্রুত উপশমের সম্পর্ক আছে।’

* অতিভোজন
এটি ত্বকের দশা নয়। যদি আপনি স্ট্রেসে ভুগেন, আপনার ডায়েটের জন্য আপনি ভুল খাবার নির্বাচন করতে পারেন এবং সারাদিন জাঙ্ক ফুড ভোজন আপনার ত্বকের অবস্থা খারাপ করতে পারে। রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান জুলি আপটন বলেন, ‘গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, স্ট্রেস লোকজনকে নিম্নমান ও উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার দিকে চালিত করে। এসব খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাদুর্ভাব ও অন্যান্য চর্ম সমস্যার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে।’

* ব্রণ
যদি আপনি ব্রণ প্রবণ হন, স্ট্রেস এটিকে আরো খারাপ করে তুলবে এবং আপনার এসব ব্রণ খোঁচানো উচিত নয়, কারণ এতে ইনফেকশন বা ক্ষত হতে পারে। সেলিব্রেটি ডার্মাটোলজিস্ট অ্যাভা শাম্বানের মতে, ‘ব্রণের ক্ষেত্রে করটিসল অ্যান্ড্রোজেনের মতো কাজ করে এবং আপনার ব্রণের প্রাদুর্ভাব বা তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে, যেমনটা হয়ে থাকে বয়ঃসন্ধিতে থাকা বালকের।’ একে বাধা দেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত এক্সারসাইজ, রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম এবং বিছানায় যাওয়ার আগে ভালো ফেসিয়াল ক্লিনসিং রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া মেডিটেশন বা ইয়োগার মাধ্যমেও মানসিক চাপ কমান।

* একজিমা
যদি আপনার এটি থাকে, আপনি লাল র‍্যাশ ও চুলকানিযুক্ত ত্বক লক্ষ্য করে থাকতে পারেন। ডা. শাম্বান বলেন, ‘সোরিয়াসিস থেকে একজিমা বা অ্যাটপিক ডার্মাইটিস ভিন্ন এবং এটি প্রধানত স্বাভাবিক ইমিউনিটির ব্যাঘাত বা বাধাগ্রস্ততার কারণে হয়ে থাকে, এটি মানসিক চাপের দ্বারা বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়। যখন আপনি মানসিক চাপে থাকেন, আপনার অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড করটিসল নিঃসরণ করে। এই হরমোল ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ ত্বকে জ্বালাতন ও প্রদাহ হবে এবং ত্বকে তরল ক্ষরণ হয় এমন ফোস্কা বা ফুসকুড়ি অথবা একজিমা প্লেক হতে পারে।

* ত্বকের বয়স্কতা
আপনি এটি দূর করতে পারবেন না, কিন্তু এটি ধীর করতে পারেন। কিউরোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড লর্টশার বলেন, ‘দ্রুত বলিরেখা হওয়ার জন্য স্ট্রেস মুখ্য বিষয় হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কিভাবে স্ট্রেস ত্বকে বয়স্কতার ছাপ ফেলে তার মেকানিজম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য কিছু কারণ উদঘাটিত হয়েছে যা ত্বকের বয়স্কতায় প্রভাব রাখতে পারে। গবেষণায় পাওয়া যায়, স্ট্রেসের সময় নিঃসরণ হওয়া এপিনেফ্রাইন, নোরেপিনেফ্রাইন ও করটিসল ডিএনএ ড্যামেজ করে এবং ডিএনএ সংস্কারে বাধাপ্রদান করে।’

* ফেসিয়াল ড্যানড্রাফ
ডা. লার্টশার বলেন, ‘স্ট্রেস হচ্ছে সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের অবনতিকর বিষয়সমূহের একটি, যদিও সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের কারণ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট নয়, এটি পিটিরসপোরামের প্রতি প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, পিটিরসপোরাম মেলাসিজিয়া নামেও পরিচিত- এটি এক প্রকার ফাঙ্গাস যা ত্বকের পৃষ্ঠের ওপর স্বাভাবিকভাবে থাকে। প্রায় সকল মানুষের ত্বকের ওপর পিটিরসপোরাম থাকলেও শুধুমাত্র এক-অর্ধাংশ থেকে তিন-চতুর্থাংশ লোকের মধ্যে ড্যানড্রাফ বা সেবোরেইক ডার্মাটাইটিস ডেভেলপ হয়- যেখানে কিছু মানুষের মধ্যে এটি বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জানুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ

শরীরের এসব স্থানেও স্কিন ক্যানসার হতে পারে

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৬ ১১:০২:২২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৩ ৫:১৬:৫২ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : স্কিন ক্যানসার তাড়াতাড়ি নির্ণয় করতে পারলে তা নিরাময়যোগ্য। আমাদের শরীরে এমন অনেক স্থানে স্কিন হতে পারে, যা আমাদের নজর এড়িয়ে যেতে পারে।

স্কিন ক্যানসার হতে পারে শরীরে এমন ১০টি গোপন স্থান নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। এসব স্থানে স্কিন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

* চোখের আইরিসে
আপনার চোখেও ছুলি হতে পারে! এটি আসলেই সত্য! আপনার চোখের আইরিসে অন্যান্য ধরনের সান ড্যামেজ বা সূর্যক্ষতিও হতে পারে, যেমন- স্কিন ক্যানসারের প্রাণঘাতী রূপ মেলানোমা। কিন্তু স্কিনের বাইরে কি স্কিন ক্যানসার হয়? সত্য এই যে, সূর্যের কাছে শরীরের প্রকাশমান যেকোনো অংশ অসুরক্ষিত এবং চোখ হচ্ছে শরীরের সর্বাধিক প্রকাশমান অংশের একটি। মাল্টিভিটামিন ইউভিও’র সিইও এবং ডার্মাটোলজিস্ট ববি আওয়াডালা বলেন, ‘সান ড্যামেজের কারণে সকল স্কিন ক্যানসারের ৯০ শতাংশ হয়ে থাকে। শরীরের একটি অংশে যতবেশি সান ড্যামেজ হয়, আপনার ওই স্থানে ততবেশি স্কিন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ এ কারণে আপনার চোখের সুরক্ষায় আপনার সাবধান থাকা উচিত। যেহেতু আপনি চোখে সানস্ক্রিন দিতে পারেন না, সেহেতু আপনি ইউভি ব্লকিং সানগ্লাস বা আল্ট্রাভায়োলেট রোধক সানগ্লাস পরিধান নিশ্চিত করুন এবং চক্ষু ডাক্তার দিয়ে নিয়মিত চোখের চেকআপ করুন। যদি আপনার চোখের আইরিসের রঙয়ে কোনো নতুন দাগ বা কোনো পরিবর্তন দেখতে পান, তাহলে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

* আঙুলের নখের নিচে
জেল ম্যানিকিউরের জনপ্রিয়তায় বর্তমানে হাতের আঙুল ও পায়ের আঙুল সমস্যার হট সিটে পরিণত হচ্ছে- আক্ষরিক অর্থে, জেল কোট সিল করতে আল্ট্রাভায়োলেট লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। টেক্সাসের দ্য ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েটসের ডাক্তার স্টিফেন স্টাহর বলেন, ‘আশা করি আপনি ইতোমধ্যে জেনেছেন যে, ট্যানিং বেড আপনার ত্বক বা চর্মের কতটা ক্ষতি করতে পারে এবং দ্রুত নেইল পলিশ শুকানোর ডিভাইসগুলো মূলত আপনার নখের জন্য মিনি ট্যানিং বেড।’ আপনার নখে ক্যানসার হতে না পারলে এই ক্ষতি আপনার নখ থেকে ত্বক বা চর্মের নিচে চলে আসতে পারে। নিজেকে নিরাপদ রাখতে হাত ও পায়ের আঙুলের ডগাসহ অন্যান্য স্থানে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন ডা. স্টাহর। এছাড়া পলিশ ছাড়া আপনার নেইল বেড নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখুন।

* নিতম্বের ফাঁকে
ডা. স্টাহর একজন নারী রোগীর গ্লুটিয়াল ক্লেফট বা বাট ক্র্যাক বা নিতম্বের ফাঁকে স্কিন ক্যানসার দেখেছেন। এটি ছিল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা যা সাধারণত প্রাণনাশক নয়, কিন্তু এটি সবসময় সূর্য দ্বারা হয়ে থাকে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন যে, তিনি নগ্ন হয়ে ট্যানিং করতেন এবং সবসময় তার উভয় গাল সমানভাবে বাদামী করার চেষ্টা করতেন। দ্রুত সার্জারির মাধ্যমে রোগীটি আরোগ্যলাভ করেন। ডা. স্টাহর বলেন যে, এ রোগীর গল্পটির শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ট্যানিং পরিহার করা এবং নিতম্বের ফাঁক চেক করা।

* জননসংক্রান্ত অংশে
ডা. আওয়াডালা এবং ডা. স্টাহর উভয়ে বলেন, তাদের কাছে জেনিটাল বা জননসংক্রান্ত স্থানের মেলানোমার রোগী ছিল এবং দুঃখের বিষয় হচ্ছে এটি আনকমন নয়। ডা. স্টাহর বলেন, ‘মেলানোমা চর্ম ক্যানসার যা সাধারণত শরীরের কোনো অংশে দীর্ঘক্ষণ সূর্য কিরণ পড়লে ডেভেলপ হয়ে থাকে তা এটির উৎপত্তিস্থল হতে দূরে শরীরের অন্য অংশেও স্থানান্তর হতে পারে বা ছড়াতে পারে।’ এ কারণে আপনার শরীরের এমন স্থানেও স্কিন ক্যানসার দেখতে পারেন যা কখনো সূর্যালোক দেখেনি। স্টাহর বলেন, ‘আমার এক রোগী খুব দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, সে ডাক্তারকে তার গোপন জায়গায় ক্রমবর্ধমান বর্ণিল ক্ষত দেখাতে লজ্জা পাচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছিলেন বলে তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মারাত্মক ক্ষতি হয়।’ তাই লজ্জা বা সংকোচ ছেড়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

* কানের ভেতরে
ডা. আওয়াডালা বলেন, ‘আপনার কানের ভেতর বা বাইরে সামান্য শক্ত আবরণ অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু এটি ভালো করে স্ক্রাবিং বা ঘষার পরও দূর না হলে এটি স্কিন ক্যানসার হতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমার বিধান হচ্ছে, যদি আপনার কোনো চর্ম ক্ষত বা ঘা হয়ে থাকে এবং এটি একমাস পরও দূর না হলে আপনার এটিকে মূল্যায়ন করা উচিত।’ আপনি যে শুধু অদ্ভূত আঁচিল বা তিল অনুসন্ধান করবেন তা নয়। ডা. আওয়াডালা বলেন, ‘লাল, মুক্তাবৎ, আঁশযুক্ত, রক্তপাতময় কিংবা শক্ত ঘা বা ক্ষত স্কিন ক্যানসার হতে পারে।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : শরীরের এসব স্থানেও স্কিন ক্যানসার (শেষ পর্ব)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

ত্বকের রোগ যখন অন্য রোগেরও লক্ষণ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০১ ১২:০৯:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৫ ৭:৫৩:২৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : ত্বকের রোগ ত্বকে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্য রোগেরও কারণ হতে পারে অথবা অন্য রোগের লক্ষণও প্রকাশ করতে পারে। তাই ত্বকের রোগকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এ প্রতিবেদনে আপনার ত্বক প্রকাশ করতে পারে এমন ছয়টি লক্ষণ উল্লেখ করা হলো।
 

* একজিমা: বিষণ্নতা ও উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
ত্বকের এ অবস্থায় আপনার গলা বা কনুইতে শুষ্কতা, চুলকানি অথবা লাল দাগ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি শিশুদের হলেও বড়দের মধ্যেও এটি বিকশিত হতে পারে। ত্বক বিশেষজ্ঞ এবং শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের ডার্মাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোনাথন সিলভারবার্গ বলেন, ‘একজিমা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক রোগীর মেজাজ খারাপ হতে পারে অথবা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার হতে পারে। তারা বুঝতেই পারে না ত্বকের রোগ থেকে এটি হচ্ছে।’ চিকিৎসা করে একজিমার বিরক্তিকর উপসর্গ (যেমন- চুলকানি) উপশম করা যায়।

 

* সোরিয়াসিস: হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোরিয়াসিস ফাউন্ডেশন অনুসারে, ‘এই অটোইমিউন সিস্টেমটি আপনার ত্বকে বর্ধিত, রুক্ষ ও আঁশযুক্ত প্যাচের সৃষ্টি করে। এটি কিছু মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। ন্যাশনাল সোরিয়াসিস ফাউন্ডেশন অনুসারে, এ রোগের তীব্রতায় ভোগা লোকদের মেজর কার্ডিয়াক ইভেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা ৫৮ শতাংশেরও বেশি এবং স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৪৩ শতাংশেরও অধিক। ডা. সিলভারবার্গ বলেন, ‘সোরিয়াসিস এবং আর্টারির মধ্যে প্লেকের বিকাশ উভয়ের সঙ্গে কিছু ইনফ্ল্যামেটরি মার্কারের সম্পর্ক থাকতে পারে।’ সান ফ্রান্সিসকোর ত্বক বিশেষজ্ঞ ম্যারি জিন বলেন, ‘কিছু শক্তিশালী ওষুধের কারণেও এমনটা হতে পারে, যেমন- সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।’

 

* রোসেশা: অ্যালজেইমারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রোসেশা সোসাইটি অনুসারে, ‘এটি এমন এক দশা যার ফলে ত্বকে লালতা হতে পারে অথবা ত্বক রক্তিম হতে পারে। অধিকাংশ মানুষ রোসেশার চিকিৎসা করে না, কারণ তাদের এ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই।’ অ্যানালস অব নিউরোলজিতে প্রকাশিত ২০১৬ সালের গবেষণা অনুসারে, নারীদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ২৮ শতাংশ বর্ধিত ঝুঁকির সঙ্গে রোসেশা সম্পর্কযুক্ত। আপনার রোসেশা থাকলে এবং আপনার বয়স ৬০ এর উপরে হলে যেকোনো জ্ঞানীয় সমস্যার জন্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

 

* শ্বেতী রোগ: থাইরয়েড রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
ইউনিভার্সিটি অব লুইসভিলের ডার্মাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুর্টনি শাডট বলেন, ‘ভিটিলিগো বা শ্বেতী রোগে ত্বক তার বর্ণ হারিয়ে ফেলে। ইমিউন সিস্টেম ত্বকের বর্ণ সৃষ্টিকারী কোষ মেলানিনকে আক্রমণ করলে এটি হয়ে থাকে।’ অন্যান্য অটোইমিউন দশার মতো শ্বেতী রোগও একই কারণ নির্দেশ করতে পারে এবং এটি বিকাশের সর্বাধিক কমন কারণ হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যা। ডা. শাডট বলেন, আমি শ্বেতী রোগীদের মধ্যে অন্যান্য অটোইমিউন দশার উপসর্গ আছে কিনা জানতে স্ক্রিনিং করি এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষাও করি।

 

* স্কিন ক্যানসার: অন্যান্য ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, মেলানোমা সারভাইভারদের অন্যান্য স্কিন ক্যানসার এবং ত্বকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন ক্যানসার যেমন- ব্রেস্ট ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার এবং কিডনি ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকি থাকে। আমেরিকান জার্নাল অব এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, মেলানোমায় আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব নারীদের ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বর্ধিত ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি। দ্বিতীয় কোনো ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ সাজেস্ট করছে: অতিবেগুনি রশ্মিতে বেশিক্ষণ না থাকা, সক্রিয় থাকা, উদ্ভিদভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং অ্যালকোহল সীমিত করা।

 


* শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত ত্বক: অ্যাটেশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত
চুলকানির উপদ্রব মনোযোগ বিনাশের কারণ হতে পারে। অনবরত চুলকানি আপনার ঘুমও ব্যাহত করতে পারে। এসব কারণে গবেষকরা ধারণা করছেন যে, অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস (একজিমার সর্বাধিক কমন ধরন) শিশু ও বয়স্ক উভয়ের মধ্যে অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার (এডিডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভি ডিসঅর্ডারের (এডিএইচডি) কারণ হতে পারে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক নতুন গবেষণা থেকে জানা যায়, বয়স্ক রোগীদের মধ্যে এডিডি এবং এডিএইচডির বর্ধিত ঝুঁকি ছিল ৬১ শতাংশ এবং সেই সঙ্গে যেসব রোগীদের মাথাব্যথা ও অনিদ্রা রোগ ছিল তাদের বর্ধিত ঝুঁকি আরো বেশি ছিল। আপনার অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস অথবা একজিমা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

তথ্যসূত্র : ‍রিডার্স ডাইজেস্ট

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ