চীনের আরেকটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে?
মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৬ ৭:৩০:০৯ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৬ ৭:৫৮:০৭ পিএম

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : চীনের আরো একটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।
মাত্র তিন মাসে আগেই চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। এবার চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশনটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় ‘তিয়ানগং-২’ স্টেশনটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।
‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মাইল ওপরে ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এটি কক্ষপথের স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনটি নামিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
গত এপ্রিলে, চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার মতো বিব্রতকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর আশা করছে চীনা মহাকাশ সংস্থা।
চীনের ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির কারণে জনসমক্ষে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে চীনের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্ডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেইসে অবস্থিত যৌথ পরিচালনা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জুনের ১৩ তারিখে ‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটি নির্ধারিত ২৩৬ মাইল থেকে ২৪০ মাইলের উচ্চতা থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ মাইলে নেমে এসেছিল। মূল উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার আগে এটি দশ দিন পর্যন্ত এই নিম্ন উচ্চতায় ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীন ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ‘তিয়ানগং-২’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ‘তিয়ানগং-১’ বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, ফলে ৯ টন জন ওজনের মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল।
‘তিয়ানগং-২’ এর ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, মহাকাশ স্টেশনটিকে নিচে নামানো এবং উপরে উঠানোর ঘটনাটি চীনের নিজেদের পছন্দনীয় স্থানে এবং পছন্দনীয় সময়ে নামিয়ে আনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, এই স্টেশন মডিউলটি পৃথিবীর কোন স্থানে এবং কখন আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে চীন। এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের জন্য মার্কিন এবং রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থাগুলো সাধারণত দক্ষিণ মহাসাগরীয় অঞ্চল ব্যবহার করে থাকে।
স্পেসনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘তিয়ানগং-২ স্টেশনকে কক্ষপথের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভবত এটিকে নিরাপদ ভাবে পৃথিবীতে নামিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে।’
‘তিয়ানগং-২’ চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন। ২০১৬ সালে ‘তিয়ানগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘লং মার্চ ২এফ’ রকেটে করে নতুন স্পেস স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ কক্ষপথে পাঠায়। নতুন মডিউলটি ‘সিস্টেম পরীক্ষা এবং মধ্য মেয়াদে মহাকাশে অবস্থান করার প্রক্রিয়া ও জ্বালানী সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের চীনের নভোচারীরা নিজেদের মহাকাশ স্টেশনে ৩০ দিন কাটিয়েছিলেন, যা মহাকাশে চীনা নভোচারীদের সবচেয়ে দীর্ঘ অবস্থান।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় আগুন ধরে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল তিয়ানগং-১।
মহাকাশে ২০২২ সালের মধ্যে নিজেদের নভোচারীদের বসবাসের উপযোগী বিশাল মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন প্রথমবারের মতো নিজেদের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ প্রেরণ করেছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিব্রতকর ও বিপজ্জনক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রবেশের সময় এটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিতে পারেননি যে, কবে এবং কখন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে।
মহাকাশ স্টেশনের যেকোনো ধ্বংসাবশেষ মানুষের স্পর্শ কিংবা শ্বাস নেওয়ার জন্য ক্ষতিকর। কেননা এতে রকেটের মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত জ্বালানি থাকে। জনবসতিপূর্ণ স্থানে পতিত হওয়া ঠেকাতে কিংবা পতিত হওয়ার সময় পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানোর নিশ্চয়তায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
পড়ুন : পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাচ্ছে চীনের মহাকাশ স্টেশন
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জুন ২০১৮/ফিরোজ
মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৬ ৭:৩০:০৯ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৬ ৭:৫৮:০৭ পিএম
![]() |
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : চীনের আরো একটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।
মাত্র তিন মাসে আগেই চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। এবার চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশনটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় ‘তিয়ানগং-২’ স্টেশনটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।
‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মাইল ওপরে ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এটি কক্ষপথের স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনটি নামিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
গত এপ্রিলে, চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার মতো বিব্রতকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর আশা করছে চীনা মহাকাশ সংস্থা।
চীনের ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির কারণে জনসমক্ষে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে চীনের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্ডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেইসে অবস্থিত যৌথ পরিচালনা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জুনের ১৩ তারিখে ‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটি নির্ধারিত ২৩৬ মাইল থেকে ২৪০ মাইলের উচ্চতা থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ মাইলে নেমে এসেছিল। মূল উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার আগে এটি দশ দিন পর্যন্ত এই নিম্ন উচ্চতায় ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীন ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ‘তিয়ানগং-২’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ‘তিয়ানগং-১’ বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, ফলে ৯ টন জন ওজনের মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল।
‘তিয়ানগং-২’ এর ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, মহাকাশ স্টেশনটিকে নিচে নামানো এবং উপরে উঠানোর ঘটনাটি চীনের নিজেদের পছন্দনীয় স্থানে এবং পছন্দনীয় সময়ে নামিয়ে আনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, এই স্টেশন মডিউলটি পৃথিবীর কোন স্থানে এবং কখন আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে চীন। এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের জন্য মার্কিন এবং রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থাগুলো সাধারণত দক্ষিণ মহাসাগরীয় অঞ্চল ব্যবহার করে থাকে।
স্পেসনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘তিয়ানগং-২ স্টেশনকে কক্ষপথের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভবত এটিকে নিরাপদ ভাবে পৃথিবীতে নামিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে।’
‘তিয়ানগং-২’ চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন। ২০১৬ সালে ‘তিয়ানগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘লং মার্চ ২এফ’ রকেটে করে নতুন স্পেস স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ কক্ষপথে পাঠায়। নতুন মডিউলটি ‘সিস্টেম পরীক্ষা এবং মধ্য মেয়াদে মহাকাশে অবস্থান করার প্রক্রিয়া ও জ্বালানী সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের চীনের নভোচারীরা নিজেদের মহাকাশ স্টেশনে ৩০ দিন কাটিয়েছিলেন, যা মহাকাশে চীনা নভোচারীদের সবচেয়ে দীর্ঘ অবস্থান।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় আগুন ধরে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল তিয়ানগং-১।
মহাকাশে ২০২২ সালের মধ্যে নিজেদের নভোচারীদের বসবাসের উপযোগী বিশাল মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন প্রথমবারের মতো নিজেদের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ প্রেরণ করেছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিব্রতকর ও বিপজ্জনক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রবেশের সময় এটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিতে পারেননি যে, কবে এবং কখন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে।
মহাকাশ স্টেশনের যেকোনো ধ্বংসাবশেষ মানুষের স্পর্শ কিংবা শ্বাস নেওয়ার জন্য ক্ষতিকর। কেননা এতে রকেটের মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত জ্বালানি থাকে। জনবসতিপূর্ণ স্থানে পতিত হওয়া ঠেকাতে কিংবা পতিত হওয়ার সময় পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানোর নিশ্চয়তায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
পড়ুন : পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাচ্ছে চীনের মহাকাশ স্টেশন
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জুন ২০১৮/ফিরোজ
মাত্র তিন মাসে আগেই চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। এবার চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশনটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় ‘তিয়ানগং-২’ স্টেশনটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।
‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মাইল ওপরে ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এটি কক্ষপথের স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনটি নামিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
গত এপ্রিলে, চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার মতো বিব্রতকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর আশা করছে চীনা মহাকাশ সংস্থা।
চীনের ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির কারণে জনসমক্ষে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে চীনের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্ডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেইসে অবস্থিত যৌথ পরিচালনা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জুনের ১৩ তারিখে ‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটি নির্ধারিত ২৩৬ মাইল থেকে ২৪০ মাইলের উচ্চতা থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ মাইলে নেমে এসেছিল। মূল উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার আগে এটি দশ দিন পর্যন্ত এই নিম্ন উচ্চতায় ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীন ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ‘তিয়ানগং-২’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ‘তিয়ানগং-১’ বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, ফলে ৯ টন জন ওজনের মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল।
‘তিয়ানগং-২’ এর ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, মহাকাশ স্টেশনটিকে নিচে নামানো এবং উপরে উঠানোর ঘটনাটি চীনের নিজেদের পছন্দনীয় স্থানে এবং পছন্দনীয় সময়ে নামিয়ে আনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, এই স্টেশন মডিউলটি পৃথিবীর কোন স্থানে এবং কখন আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে চীন। এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের জন্য মার্কিন এবং রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থাগুলো সাধারণত দক্ষিণ মহাসাগরীয় অঞ্চল ব্যবহার করে থাকে।
স্পেসনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘তিয়ানগং-২ স্টেশনকে কক্ষপথের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভবত এটিকে নিরাপদ ভাবে পৃথিবীতে নামিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে।’
‘তিয়ানগং-২’ চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন। ২০১৬ সালে ‘তিয়ানগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘লং মার্চ ২এফ’ রকেটে করে নতুন স্পেস স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ কক্ষপথে পাঠায়। নতুন মডিউলটি ‘সিস্টেম পরীক্ষা এবং মধ্য মেয়াদে মহাকাশে অবস্থান করার প্রক্রিয়া ও জ্বালানী সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের চীনের নভোচারীরা নিজেদের মহাকাশ স্টেশনে ৩০ দিন কাটিয়েছিলেন, যা মহাকাশে চীনা নভোচারীদের সবচেয়ে দীর্ঘ অবস্থান।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় আগুন ধরে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল তিয়ানগং-১।
মহাকাশে ২০২২ সালের মধ্যে নিজেদের নভোচারীদের বসবাসের উপযোগী বিশাল মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন প্রথমবারের মতো নিজেদের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ প্রেরণ করেছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিব্রতকর ও বিপজ্জনক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রবেশের সময় এটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিতে পারেননি যে, কবে এবং কখন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে।
মহাকাশ স্টেশনের যেকোনো ধ্বংসাবশেষ মানুষের স্পর্শ কিংবা শ্বাস নেওয়ার জন্য ক্ষতিকর। কেননা এতে রকেটের মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত জ্বালানি থাকে। জনবসতিপূর্ণ স্থানে পতিত হওয়া ঠেকাতে কিংবা পতিত হওয়ার সময় পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানোর নিশ্চয়তায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
পড়ুন : পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাচ্ছে চীনের মহাকাশ স্টেশন
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জুন ২০১৮/ফিরোজ
পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাচ্ছে চিনের মহাকাশ স্টেশন
মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৪ ৬:৪১:৪০ পিএম || আপডেট: ২০১৭-১০-১৪ ৬:৫৪:১৬ পিএম
![]() |
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন যখন প্রথমবারের মতো একাই মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ চালু করে, তখন এটিকে বিশাল একটি মহাকাশ কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল।
কিন্তু ২০১৬ সালে তিয়ানগং-১ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এখন ধারণা করছেন, ৮ টন জন ওজনের এই মহাকাশ স্টেশনটি কয়েক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে।
উদ্বেগজনক ব্যাপার হচ্ছে, মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হবে সে ব্যাপারে অনিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।
চীনের কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নেন যে, তারা ‘তিয়ানগং-১’ মহাকাশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এটি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে পৃথিবীতে পতিত হবে।
পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্টেশনটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এর দ্রুত পতন শুরু হয়েছে।
কিন্তু ২০১৬ সালে তিয়ানগং-১ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এখন ধারণা করছেন, ৮ টন জন ওজনের এই মহাকাশ স্টেশনটি কয়েক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে।
উদ্বেগজনক ব্যাপার হচ্ছে, মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হবে সে ব্যাপারে অনিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।
চীনের কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নেন যে, তারা ‘তিয়ানগং-১’ মহাকাশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এটি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে পৃথিবীতে পতিত হবে।
পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্টেশনটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এর দ্রুত পতন শুরু হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পত্রিকা গার্ডিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. জনাথন ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘এখন এটি ৩০০ কিলোমিটারের কম নিচে রয়েছে এবং পৃথিবীর ওপরের এই স্তরটি ঘন, তাই ক্ষয়ের হার আরো বেশি বেড়ে চলেছে। আমি মনে করি, এটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে- ২০১৭ সালের শেষের দিকে বা ২০১৮ সালের প্রথম দিকে।’
তিয়ানগং-১-এর গতিবিধি সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছে চীনের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এবং সতর্কতা জারি করার অঙ্গীকার করেছে, যদি আসন্ন কোনো সম্ভাব্য সংঘর্ষ হয়।
কিন্তু এই বক্তব্য সকলে আস্থা রাখতে পারছেন না। স্পেস ডটকমকে থমাস ডরমেন নামের একজন শৌখিন স্পেস ট্রাকার বলেন, ‘আমি বলবো, বিশ্বকে জানাতে চীন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রকৃত খারাপ দিন হতে পারে যদি টুকরো টুকরো হওয়া স্টেশনটি কোনো জনবহুল অঞ্চলে পতিত হয়, কিন্তু যদি প্রত্যন্ত অঞ্চল বা সাগরে পতিত হয় তাহলে ঝুঁকির কিছু নেই।’
বায়ুমণ্ডলে পুণরায় প্রবেশে মহাকাশ স্টেশনটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ড. ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘মহাকাশ স্টেশনটি কোথায় পতিত হতে যাচ্ছে সেই সতর্কতা জানাতে আমরা হয়তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পাব। এটিকে তখন নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি বায়ুমণ্ডলে পুণরায় প্রবেশের কয়েক দিন আগেও সম্ভবত আমরা ভালোমতো আন্দাজ করতে পারবো না, পতিত হওয়ার সর্বোচ্চ ৬-৭ ঘণ্টা আগে বোঝা যাবে যে, কোথায় এটি পতিত হতে যাচ্ছে।’

এটি কবে পৃথিবীতে প্রবেশ করবে সেটা জানা না যাওয়া মানে, এটি কখন পতিত হবে সেটাও জানা না যাওয়া।
মহাকাশে বিশাল স্টেশন নির্মাণের আশা নিয়ে ২০১১ সালে চীন ‘লং মার্চ’ রকেটের সাহায্যে মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ পাঠিয়েছিল এবং ২০২০ সালের মধ্যে বিশাল মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ শেষ করার করার প্রত্যাশায় ছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়।
চায়না ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএমএসই) কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তিয়ংগং-১ এর মাধ্যমে চমকপ্রদ অ্যাপ্লিকেশন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া গেছে, যা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, সমুদ্র এবং অরন্য অ্যাপ্লিকেশন, জলজ এবং বাস্তুসংস্থানসংক্রান্ত পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহার, শহুরে তাপীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ











