Tuesday, June 26, 2018

space station tiangong 1,2 china


চীনের আরেকটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে?

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৬ ৭:৩০:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-২৬ ৭:৫৮:০৭ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : চীনের আরো একটি মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।

মাত্র তিন মাসে আগেই চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। এবার চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশনটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় ‘তিয়ানগং-২’ স্টেশনটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে।

‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটিকে পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মাইল ওপরে ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এটি কক্ষপথের স্বাভাবিক উচ্চতায় ফিরে গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনটি নামিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।

গত এপ্রিলে, চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশন নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার মতো বিব্রতকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর আশা করছে চীনা মহাকাশ সংস্থা।

চীনের ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির কারণে জনসমক্ষে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে চীনের জন্য। ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্ডেনবার্গ এয়ারফোর্স বেইসে অবস্থিত যৌথ পরিচালনা সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, জুনের ১৩ তারিখে ‘তিয়ানগং-২’ মহাকাশ স্টেশনটি নির্ধারিত ২৩৬ মাইল থেকে ২৪০ মাইলের উচ্চতা থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ মাইলে নেমে এসেছিল। মূল উচ্চতায় ফিরে যাওয়ার আগে এটি দশ দিন পর্যন্ত এই নিম্ন উচ্চতায় ছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চীন ‘তিয়ানগং-১’ এর তুলনায় আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত ভাবে ‘তিয়ানগং-২’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। ‘তিয়ানগং-১’ বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, ফলে ৯ টন জন ওজনের মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল।

‘তিয়ানগং-২’ এর ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, মহাকাশ স্টেশনটিকে নিচে নামানো এবং উপরে উঠানোর ঘটনাটি চীনের নিজেদের পছন্দনীয় স্থানে এবং পছন্দনীয় সময়ে নামিয়ে আনার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে, এই স্টেশন মডিউলটি পৃথিবীর কোন স্থানে এবং কখন আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে চীন। এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের জন্য মার্কিন এবং রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থাগুলো সাধারণত দক্ষিণ মহাসাগরীয় অঞ্চল ব্যবহার করে থাকে।

স্পেসনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী জোনাথান ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘তিয়ানগং-২ স্টেশনকে কক্ষপথের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভবত এটিকে নিরাপদ ভাবে পৃথিবীতে নামিয়ে আনার প্রথম ধাপ হতে পারে।’

‘তিয়ানগং-২’ চীনের দ্বিতীয় মহাকাশ স্টেশন। ২০১৬ সালে ‘তিয়ানগং-১’ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে ‘লং মার্চ ২এফ’ রকেটে করে নতুন স্পেস স্টেশন ‘তিয়ানগং-২’ কক্ষপথে পাঠায়। নতুন মডিউলটি ‘সিস্টেম পরীক্ষা এবং মধ্য মেয়াদে মহাকাশে অবস্থান করার প্রক্রিয়া ও জ্বালানী সরবরাহের জন্য পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের চীনের নভোচারীরা নিজেদের মহাকাশ স্টেশনে ৩০ দিন কাটিয়েছিলেন, যা মহাকাশে চীনা নভোচারীদের সবচেয়ে দীর্ঘ অবস্থান।


               পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় আগুন ধরে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল তিয়ানগং-১। 

মহাকাশে ২০২২ সালের মধ্যে নিজেদের নভোচারীদের বসবাসের উপযোগী বিশাল মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন প্রথমবারের মতো নিজেদের উচ্চাভিলাষী মহাকাশ কর্মসূচি হিসেবে স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ প্রেরণ করেছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিব্রতকর ও বিপজ্জনক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রবেশের সময় এটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিতে পারেননি যে, কবে এবং কখন ‘তিয়ানগং-১’ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়বে।

মহাকাশ স্টেশনের যেকোনো ধ্বংসাবশেষ মানুষের স্পর্শ কিংবা শ্বাস নেওয়ার জন্য ক্ষতিকর। কেননা এতে রকেটের মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত জ্বালানি থাকে। জনবসতিপূর্ণ স্থানে পতিত হওয়া ঠেকাতে কিংবা পতিত হওয়ার সময় পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়ানোর নিশ্চয়তায় কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।  

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

পড়ুন : পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাচ্ছে চীনের মহাকাশ স্টেশন



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জুন ২০১৮/ফিরোজ

পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাচ্ছে চিনের মহাকাশ স্টেশন

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৭-১০-১৪ ৬:৪১:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৪ ৬:৫৪:১৬ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ২০১১ সালে চীন যখন প্রথমবারের মতো একাই মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ চালু করে, তখন এটিকে বিশাল একটি মহাকাশ কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল।

কিন্তু ২০১৬ সালে তিয়ানগং-১ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এখন ধারণা করছেন, ৮ টন জন ওজনের এই মহাকাশ স্টেশনটি কয়েক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে।

উদ্বেগজনক ব্যাপার হচ্ছে, মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হবে সে ব্যাপারে অনিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।

চীনের কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নেন যে, তারা ‘তিয়ানগং-১’ মহাকাশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এটি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে পৃথিবীতে পতিত হবে।

পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্টেশনটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এর দ্রুত পতন শুরু হয়েছে।



যুক্তরাজ্যের পত্রিকা গার্ডিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. জনাথন ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘এখন এটি ৩০০ কিলোমিটারের কম নিচে রয়েছে এবং পৃথিবীর ওপরের এই স্তরটি ঘন, তাই ক্ষয়ের হার আরো বেশি বেড়ে চলেছে। আমি মনে করি, এটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে- ২০১৭ সালের শেষের দিকে বা ২০১৮ সালের প্রথম দিকে।’

তিয়ানগং-১-এর গতিবিধি সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছে চীনের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এবং সতর্কতা জারি করার অঙ্গীকার করেছে, যদি আসন্ন কোনো সম্ভাব্য সংঘর্ষ হয়।

কিন্তু এই বক্তব্য সকলে আস্থা রাখতে পারছেন না। স্পেস ডটকমকে থমাস ডরমেন নামের একজন শৌখিন স্পেস ট্রাকার বলেন, ‘আমি বলবো, বিশ্বকে জানাতে চীন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রকৃত খারাপ দিন হতে পারে যদি টুকরো টুকরো হওয়া স্টেশনটি কোনো জনবহুল অঞ্চলে পতিত হয়, কিন্তু যদি প্রত্যন্ত অঞ্চল বা সাগরে পতিত হয় তাহলে ঝুঁকির কিছু নেই।’

বায়ুমণ্ডলে ‍পুণরায় প্রবেশে মহাকাশ স্টেশনটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ড. ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘মহাকাশ স্টেশনটি কোথায় পতিত হতে যাচ্ছে সেই সতর্কতা জানাতে আমরা হয়তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পাব। এটিকে তখন নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি বায়ুমণ্ডলে পুণরায় প্রবেশের কয়েক দিন আগেও সম্ভবত আমরা ভালোমতো আন্দাজ করতে পারবো না, পতিত হওয়ার সর্বোচ্চ ৬-৭ ঘণ্টা আগে বোঝা যাবে যে, কোথায় এটি পতিত হতে যাচ্ছে।’



এটি কবে পৃথিবীতে প্রবেশ করবে সেটা জানা না যাওয়া মানে, এটি কখন পতিত হবে সেটাও জানা না যাওয়া।

মহাকাশে বিশাল স্টেশন নির্মাণের আশা নিয়ে ২০১১ সালে চীন ‘লং মার্চ’ রকেটের সাহায্যে মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ পাঠিয়েছিল এবং ২০২০ সালের মধ্যে বিশাল মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ শেষ করার করার প্রত্যাশায় ছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়।

চায়না ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএমএসই) কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তিয়ংগং-১ এর মাধ্যমে চমকপ্রদ অ্যাপ্লিকেশন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া গেছে, যা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, সমুদ্র এবং অরন্য অ্যাপ্লিকেশন, জলজ এবং বাস্তুসংস্থানসংক্রান্ত পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহার, শহুরে তাপীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ

Thursday, June 21, 2018

Fruits festival in dhaka

জাতীয় ফল প্রদর্শনী শুরু শুক্রবার

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২১ ১:২৮:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-২১ ২:১৯:২৫ পিএম
সচিবালয় প্রতিবেদক : রাজধানীতে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী। প্রতিবারের মতো কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা।

সংশ্লিষ্টদের ফল সংরক্ষণ ও রপ্তানি বাড়াতে প্রতিবছর ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে সরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে এসে র‌্যালিটি শেষ হবে। র‌্যালিতে প্রধান অতিথি থাকবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সকাল ১০টায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জাতীয় ফল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। তিনি জানান, দেশের প্রায় সব জাতের ফল এ প্রদর্শনীতে স্থান পাবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশের ফল শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

জনগণের মাঝে দেশীয় ফলবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক পোস্টার, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক ‘কৃষিকথা’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বেতার ও টেলিভিশনে ফলদ বৃক্ষ রোপণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৮ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ফলের চারা/কলম বিতরণ, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ জুন ২০১৮/হাসান/ইভা

Jacfruits vs meat info

মাংসের বিকল্প কাঁঠাল

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২১ ২:১৬:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-২১ ২:১৯:০৮ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল : এ সময় বিভিন্ন মজার ফলে বাজার ভরপুর থাকলেও, কাঁঠাল উপেক্ষা করা কঠিন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারতের বিভিন্ন অংশ, জ্যামাইকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় মানুষের মধ্যে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মাংসের বিকল্প হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে চলছে।

যারা আমিষভোজী কিংবা নিরামিষভোজী, উভয়েরই খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত কাঁঠাল। কেননা কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে। এটি প্রোটিনে সমৃদ্ধ (বিচিবিহীন এক কাপ কাঁঠালে ২.৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ৫ শতাংশ)। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, থায়ামিন, ভিটামিন এ ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এটি শক্তি ও ডায়েটারি ফাইবারেও সমৃদ্ধ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থেকে মুক্ত। এমনকি কিছু অঞ্চলে কাঁঠাল উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, জ্বর ও লিভার সিরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

যেহেতু এই ফল উৎপাদন সহজ এবং একটি কাঁঠালগাছ থেকে বছরে ২০০টি পর্যন্ত কাঁঠাল পাওয়া যেতে পারে, তাই খাদ্য ঘাটতি পূরণে কাঁঠাল চাষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে।

বাজারে আপনি আপাতদৃষ্টিতে দুই ধরনের কাঁঠাল দেখতে পাবেন, একটি হচ্ছে পাকা ও অন্যটি কাঁচা। কাঁচা কাঁঠাল মিষ্টি ও মচমচে এবং পাকা কাঁঠাল সাধারণত নরম ও কম মিষ্টি হয়। বিশ্বের অনেক দেশে ক্যানে করেও কাঁঠাল বিক্রয় করতে দেখা যায়। ভিগান শেফ ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ফ্লোরিডায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্যাফের মালিক ম্যান্ডি কেয়েসের মতে, ‘যদি আপনি কাঁঠালকে মসলাদার খাবার হিসেবে খাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে কাঁচা কাঁঠাল বেছে নিন। আমরা গবেষণা করে পেয়েছি যে এক্ষেত্রে ক্যানের কাঁচা কাঁঠাল সহজেই পরিবেশনযোগ্য।’

কিছু ফলের মতো কাঁঠালের সবকিছুই খাওয়া যায় না। কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ করে, রোস্ট করে অথবা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়- এটি নির্ভর করছে আপনি কোন ধরনের খাবার তৈরি করবেন তার ওপর। এই ফলের কমলা-হলুদ বর্ণের রসালো কোয়াই একে নানাভাবে খাওয়ার উপযোগী করে তুলেছে। কাঁঠালের কোয়া দিয়ে আইসক্রিম, চিপস, জ্যাম, স্যূপ, ক্যান্ডি ও আরো অনেক কিছু বানানো যায়। আপনি ফলের সালাদে এটি ব্যবহার করতে পারবেন, অথবা জ্যাম, জেলি বা চাটনিতে।

কেয়েস গত গ্রীষ্মে তার রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ স্টাইলের কাঁঠালের ডিশ (কাঁঠালের স্যান্ডুইচ) করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁঠাল তেলে ভাজার পরে বারবিকিউ সস ও মসলায় ধীরে ধীরে শেকি এবং তারপর একটি স্লো কুকারে অল্প আঁচে রাখি।’ কেয়েস এই সিজনে এই রেসিপিকে ট্যাকোতে রূপান্তর করেন, ‘কাঁঠাল সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিট ধরে তেলে ভাজা হয়, তারপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শেঁকা হয় এবং এরপর ক্রকপটে যত বেশি সময় রাখা হবে তত বেশি স্বাদ হবে।’

যদি আপনি ভেজিটেরিয়ান অথবা ভেগান হন, তাহলে আপনি জানেন যে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং। আপনার ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন প্রোটিনের কোটা পূরণ করতে কাঁঠাল কেনার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ জুন ২০১৮/ফিরোজ/তারা

Tuesday, June 12, 2018

Special visa in Rohinga location

‘সরকার রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ কর্মীদের বিশেষ ভিসা ইস্যু করছে’

সাইফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১২ ১:৩৫:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-১২ ১:৩৬:৫৯ পিএম
রাইজিংবিডি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডার মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে কর্মরত বিদেশি ত্রাণ কর্মীদের ভিসা সমস্যা সমাধান করা হবে।

বিশেষ দূত বব রে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে দেখা করতে এলে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি দেখাশোনা করছে। কারণ ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে অনেক বিদেশি  নাগরিক রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ত্রাণ কর্মীর বেশে বহু বিদেশি  নাগরিকের অনুপ্রবেশে ব্যাপারে সরকার শঙ্কিত, যা নারী ও শিশু পাচার, যৌন অপব্যবহার, সন্ত্রাস এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার এ সমস্যা সমাধানে ত্রাণ কর্মীদের জন্য বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা ইস্যু করছে। এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সরকারকে জানানোর জন্য তিনি বিশেষ দূতকে অনুরোধ করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বব রে প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন।

বব রে বলেন, পরিদর্শনকালে তিনি সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখেছেন। তিনি বলেন, ১০ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

প্রেস সেক্রেটারি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং বব রে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য ভোগান্তির বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ওই এলাকায় ভূমিধস, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান, প্রশিক্ষিত লোকজনের একটি দল যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুত রয়েছে। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বর্ডার গার্ড, সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও রয়েছে।

পরে সাসকাটচেওয়ান প্রদেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য ও রফতানি উন্নয়নমন্ত্রী গর্ডন ওয়েন্ট কিউসি এবং অভিবাসন ও ক্যারিয়ার ট্রেনিং মন্ত্রী জেরেমি হ্যারিসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বহু বছর ধরে কানাডার বিশেষ বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। তারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষা ও নার্সিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদারের অনেক সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কমার্শিয়াল করপোরেশন অব কানাডার প্রেসিডেন্ট ও সিইও নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ীরাও ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মিজানুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র : বাসস



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জুন ২০১৮/সাইফ

Sunday, June 10, 2018

onegala garo festival info

ওয়ানগালা : গারোদের উৎসব

সঞ্জয় সরকার : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৯ ৩:৫২:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-২৯ ৩:৫২:৫৬ পিএম
সঞ্জয় সরকার: গারো নৃ-গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ওয়ানগালা। এটি তাদের কৃষিভিত্তিক সামাজিক উৎসব হিসেবেও স্বীকৃত। গারো বা মান্দি ভাষায় ‘ওয়ানা’ শব্দের অর্থ নৈবেদ্য বা দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার সামগ্রী। আর ‘গালা’ শব্দের অর্থ কোনো কিছু উৎসর্গ করা। প্রাচীন গারোরা ছিলেন সাংসারেক ধর্মাবলম্বী। তারা নতুন ফসল ঘরে তোলার সময় শস্যের কিছু পরিমাণ সূর্য দেবতা মিসি সালজং বা সালজং মিদ্দিকে উৎসর্গ করতেন। শস্য উৎসর্গ করার এ উৎসবটির নাম ওয়ানগালা। তবে গারোদের সাংসারেক ধর্মচর্চা এখন বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমান সময়ে গারোদের প্রায় সবাই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। কিন্তু তারপরও তারা ঐতিহ্যবাহী আদি উৎসবের প্রথাটি ধরে রেখেছেন। ওয়ানগালা মূলত নবান্ন উৎসব। এ উৎসবের আগে তারা নতুন উৎপাদিত ফসল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন না। তবে এখন তারা ওয়ানগালা পালন করেন যিশুখ্রিস্টের উদ্দেশ্যে শস্য উৎসর্গ করে।

ওয়ানগালা উৎসবের আয়োজন করা হয় জুম ফসলকে কেন্দ্র করে। মান্দিরা সাধারণত বর্ষার শেষে এবং শীতকাল শুরু হওয়ার মাঝামাঝি সময় অর্থাৎ ভাদ্র-আশ্বিনে জুম ফসল ঘরে তোলেন। সে সময় হয় এই আয়োজন। এর আগে গারো সমাজে কিছু আচার পালন করা হয়। যেমন জুম ক্ষেতের মাঝখানের কিছু অংশের ধান সবার শেষে কাটা হয়। মান্দি ভাষায় ওই স্থানটিকে বলা হয় আ’সিরকার স্থান। ধান কাটা হয় দেবতার উদ্দেশ্যে ধূপ উৎসর্গ করে। গাছের গোড়া থেকে কেটে আঁটি বেধে ধান বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় অনেকে মিলে একসঙ্গে আনন্দ ধ্বনি করেন। গারোদের বিশ্বাস, নতুন ফসলের সঙ্গে তারা শস্যের দেব-দেবীদেরও বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর ওই নতুন ধানের চাল দিয়ে উৎসবের জন্য চু (বিশেষ পানীয় বা মদ) তৈরি করেন। এভাবে প্রস্তুতি পর্ব শেষ হলে গারো সমাজের নেতা নকমা (মোড়ল) এবং খামাল (পুরোহিত) আখিংভূক্ত সকলের সঙ্গে আলোচনা করে উৎসবের দিন নির্ধারণ করেন। উৎসবের সাতদিন আগে খামাল একটি দড়িতে সাতটি গিট দেন। এরপর প্রতিদিন একটি করে গিট খুলে ফেলেন। এভাবে যে দিন শেষ গিট খোলা হয় সেদিনই উদ্যাপিত হয় ওয়ানগালা উৎসব। সাংসারেক গারো সমাজে ওয়ানগালা নানা পর্বে বিভক্ত ছিল। যেমন চু-রুগালা, থক্কা, সাসাৎসআ, জলওয়াত্তা প্রভৃতি।



চু-রুগালা মূলত উৎসর্গের পর্ব। এ পর্বে শস্যের দেব-দেবীদের উদ্দেশ্যে নতুন ধানের ভাত, ফলমূল, শাকসবজি, পশুপাখি প্রভৃতি উৎসর্গ করা হয়। পর্বটি শুরু হয় নকমার বাড়িতে। নকমার ঘরে কলাপাতা বিছিয়ে তার ওপর চালকুমড়া, আদা, পিঁয়াজ, আলু প্রভৃতি শস্য বা ফলমূল কেটে কিছু ভাত, চিড়া এবং অন্যান্য বস্তুসহ সাজিয়ে রাখা হয়। পাশেই রাখা হয় দা, কোদাল, নিড়ানি প্রভৃতি কৃষি যন্ত্রপাতি। খামাল সূর্য দেবতা মিসি সালজংয়ের প্রতি উৎসর্গকৃত নৈবেদ্যর ওপর কিছু পরিমাণ চু ঢেলে দেন। এ সময় গারো পুরুষরা দামা, দাদিক, রাং, খ্রাং, আদুরু, নাগড়া প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে থাকেন। সমাজের প্রধান ব্যক্তিরা তখন ঢাল তলোয়ার নিয়ে নাচতে শুরু করেন। নারীরাও নেচে গেয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এক পর্যায়ে নকমা বা খামাল ঘরের বিভিন্ন স্থানে এবং নৃত্যরত নারীদের ওপর নতুন ধানের চাল ও ভাত ছিটিয়ে দেন। খামাল এ সময় সালজংকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে মন্ত্র পাঠ করেন। এ দিন সন্ধ্যায় পর্যায়ক্রমে সবার বাড়িতে আমোয়া (পূজা) হয়। কেউ সেদিন পাগড়িতে মোরগের পালক যুক্ত করেন না। নতুন অলঙ্কার ও নতুন কাপড় পরেন না।

থক্কা মানে চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে তা দিয়ে কোনো কিছু রাঙিয়ে দেয়া বা চিহ্নিত করা। রুগালার পর ওয়ানগালা উৎসবের চিহ্ন হিসেবে ঘরবাড়ি রাঙিয়ে দেয়ার জন্য নারীরা ঘরে ঘরে চালের গুঁড়া তৈরি করেন। এরপর সেই গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে প্রথমে নকমার বাড়ির ঘরের খুঁটি ও কড়ি কাঠের ওপর টিপ দেয়। এরপর হাতের তালুর সাহায্যে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছাপ দেয়। এভাবে প্রত্যেকের বাড়িঘর রাঙানো হয়। নববর্ষের আগে, চৈত্রসংক্রান্তিতে হিন্দুদের বাড়িঘরেও এ কাজটি করা হয়ে থাকে। মান্দি ভাষায় ‘সাসাৎসআ’ হচ্ছে ধূপ। থক্কা পর্বে বাড়ি ঘর রাঙানোর পর সাসাৎসআ পর্ব শুরু হয়। এ পর্বে সূর্য দেবতা মিসি সালজংয়ের উদ্দেশ্যে ধূপ জ্বালিয়ে এবং বাদ্য-বাজিয়ে বিশেষ ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। পুরোহিত ধূপ পোড়ানোর সময় বাদক দল তালে তালে বাদ্য বাজাতে থাকেন। সাসাৎসআ’র সময় পানাহারের ব্যাপক আয়োজন থাকে। ওয়ানগালা উৎসবের সমাপনী পর্ব হলো জলওয়াত্তা। এই পর্বে মিসি সালজংকে বিদায় দেয়া হয়। আর এ বিদায় অনুষ্ঠান উদযাপিত হয় নকমার বাড়িতে। আয়োজকরা সবাই শোভাযাত্রা করে একস্থানে জড়ো হয়ে সালজংকে বিদায় জানান। এ সময় সবাই দুই সারিতে বসেন। সারির সামনের দিকে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে খামাল চু’র হাড়ি ও ফং (লাউয়ের খোলস দিয়ে তৈরি পাত্র) নিয়ে বসেন এবং মিসি সালজংয়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্র পাঠ করেন। এক পর্যায়ে কলাপাতার ওপর চালের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। এরপর ফং থেকে চালের গুঁড়ার ওপর চু ঢেলে দেন। অন্যরা এ সময় খামালের কাছে থাকা খ্রাং (বিশেষ ধরনের ঢোলক) বাজাতে বাজাতে নাচতে শুরু করেন।



ওয়ানগালা উৎসবে খ্রিস্টিয় রীতির প্রচলনের কারণে সাংসারেক রীতির অনেক কিছুই এখন আর দেখা যায় না। রুগালা, থক্কা, সাসাৎসআ, জলওয়াত্তা প্রভৃতি পর্বগুলো দেখলেই তা ধরা পড়ে। বিশেষ করে এ সময়ের ওয়ানগালা উৎসব অনেকটাই নাচ, গান আর সামান্য কিছু আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে গারোদের সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে তাদের মিথগুলো আজও জীবন্ত হয়ে আছে। উল্লেখ্য যে, গারোরা বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের গোত্রভিত্তিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। যেমন দুয়াল গোত্রভূক্ত গারোরা ওয়ানগালা উদযাপন করেন না। তাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব ‘চুগান’। অন্যদিকে ‘ব্রাক’ গোত্রভূক্তরা ওয়ানগালা করেন ‘হানছি থাক্কা’র মধ্য দিয়ে। এতে তারা সালজং মিদ্দির উদ্দেশ্যে মোরগের রক্ত উৎসর্গ করেন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতি, জামালপুরের শ্রীবর্দী, বকশিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা প্রভৃতি সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের মধুপুরের গারো অধ্যূষিত এলাকায় প্রতিবছর ঘটা করে ওয়ানগালা অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসী ও বাঙালির চমৎকার এক মেলবন্ধন সূচিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মধ্য দিয়ে। আর এ কারণেই আশা করা যায় ওয়ানগালা হারিয়ে যাবে না। বরং এটি একদিন ‘আমাদের উৎসব’ হয়ে টিকে থাকবে যুগ-যুগান্তর।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ মে ২০১৮/তারা

Thai travel info

থাইল্যান্ড ভ্রমণে প্যাকেজ বিড়ম্বনা

ফেরদৌস জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৯ ২:৪০:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-০৯ ২:৪০:৪৬ পিএম
(ভিয়েতনামের পথে : ২৭তম পর্ব)
ফেরদৌস জামান: সকাল সাতটা বাজতেই গাড়ি ছেড়ে দিল। দেখতে দেখতে পথের কয়েক মোচড়েই পাহাড়ের আড়ালে চলে গেল প্রিয় পাই। ষাট বাথের লোকাল পরিবহণের পেছনে লম্বালম্বি বেঞ্চ। যাত্রী মাত্র ছয় জন, আমরাসহ স্থানীয় এক মা ও তার শিশু সন্তান এবং ইংলিশপ্রেমী যুগল। পাহাড়ের গহীনে প্রবেশ করতে সামান্য কিছু সময় লাগল। শীতে গা শিনশিন করছে। উঠে এসেছি সমতল থেকে অনেক উঁচুতে। কিছু দূর পরপরই মোচড়, দুর্দান্ত গতির গাড়ি যেন এখনি ঝাপ দেবে খাঁদের গহীন জঙ্গলে। শীত বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে এলো রীতিমত কাঁপুনি ধরে বসল। মেঘ এসে প্রবেশ করছে গাড়ির ভেতর। হাফপ্যান্টে আর ভরসা রাখা সম্ভব হলো না। ব্যাগ থেকে অতিরিক্ত কাপড় বের করে শরীরে না জড়ালে আর চলছে না!

যাত্রাকালে যৎসামান্য কথাবার্তা না হলে কেমন হয়! ভিন্ন প্রজাতির মানুষের মধ্যে তিনি এবং তার শিশু সন্তান খুব একটা স্বস্তিতে নেই। দু’চার কথা বলে পরিবেশটা যে একটু সহজ করে নেয়ার ব্যবস্থা করব সে ইচ্ছা আশাতীত। কারণ ভাষা এখানে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তবে বাচ্চার নাক, গাল টিপে আদর করতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। ইংলিশ সহযাত্রীর সাথে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা চলমান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রেমিকাকে সামনে বসিয়ে দিয়েছে। থাইল্যান্ড সুন্দর দেশ। তার চেয়েও বড় কথা এখানে ঘুরতে বেশি অর্থের প্রয়োজন পরে না। তাই সুদূর ইয়োরোপ থেকে উড়ে এসেছে। স্নাতকসম্পন্ন করে চাকরিতে ঢুকেছে। শিক্ষকতার চাকরি। বাচ্চাদের পড়ানো এবং আনন্দ বিনোদন দেয়ার কাজ। তাদের নিয়ে সাধারণত কি কি করে থাকে তার উপর কিছু ভিডিও চিত্র দেখাতে চাইলে হ্যাঁ-সূচক সম্মতিতে অনেক খুশি হলো। তার গানের গলা বেশ। এবার চলন্ত গাড়িতেই  ধরে বসলাম, একটা গান তাহলে শোনাতে হবে! একটু সংকোচ করলেও বোঝা গেল মনে মনে আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল।
 

পর্বতের শীর্ষদেশ থেকে অনেকটাই নিচে নেমে এসেছি। এখানেই একটা বিরতি। মধ্য বিরতির রেস্টুরেন্ট, উঠানে পাতা চেয়ারে বসেছি, হাতে দুই দিন আগের পাকা কলার চিপস। আপাতত কটমট শব্দে তারই স্বাদ আস্বাদন করছি। ওদিকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে হাতে পলিথিন ব্যাগ দোলাতে দোলাতে এগিয়ে আসছে সুজিত। ব্যাগের মধ্যে আমাদের সঙ্গের সাথী পাউরুটি আর মাখনের ডিব্বা। দুই চাকা করে খেয়ে নিতে পারলে বাকি পথ ভালোভাবেই পাড়ি দেয়া যাবে। দশ মিনিটও হয়নি, কথা নেই বার্তা নেই গাড়ি যেন হুড়মুড় করে নড়ে উঠল। ভোৎ ভোৎ শব্দে সাইলেন্সার পাইপ দিয়ে বেড়িয়ে আসছে সাদা ধোঁয়া। ছেড়ে দেবে নাকি? হ্যাঁ, ঠিক তাই। যাত্রীরা দ্রুত উঠে বসে পরল। চালককে সকালে দেখেই কেমন যেন ঠেকেছিল। ওর পক্ষে দু’এক জনকে ফেলে যাওয়া কোন ব্যাপার নয়। সত্যিই যদি তেমনটি ঘটে তো এই পাহাড়ে ব্যাগ বোচকা ও কাপড়হীন পরে থাকতে হবে। তরিঘরি আমরাও গিয়ে উঠে পরলাম। আধাঘণ্টা পর অনুভূত হলো হাতে কি যেন ছিল কিন্তু এখন তা নেই। ভেবেই পাচ্ছি না কি হতে পারে! আদৌ কি কিছু ছিল? সুজিত খানিকটা অসুস্থ বোধ করছে। দু দু’বার বমিও করেছে। একটু পর মনে হলো চলন্ত গাড়িতেই সকলে মিলে পাউরুটি-মাখন খাওয়া যেতে পারে। অমনি মনে পড়ে গেল হাতে যে জিনিস থাকার কথা তা ফেলে এসেছি মধ্য বিরতির টেবিলে। গতকাল বাস কাউন্টারে ওই বস্তু ফেলে এসেছিলাম। পরে ফিরে পেয়েছি কিন্তু এবার আর সে সম্ভাবনা নেই। একবার হারিয়ে যাওয়ার পরও ফিরে পাওয়া এবং পুনরায় ফেলে আসা পাউরুটি-মাখন যেন শুধুই একটি ঘটনা হয়ে থাকল, পেট আর দেখল না।

ক্রমেই প্রবেশ করছি জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। পাহাড়ের সারি অনেক দূর দূরান্তে সরে গেল।  শুরু হলো শহুরে রাস্তা। চওড়া সড়কের পাশ দিয়ে দালানকোঠা, দোকান ইত্যাদি। বিশাল উপত্যকার মাঝে গড়ে উঠেছে চিয়াং মাই শহর। আধুনিক শহরের আভাস পাবার পর থেকে মনের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হলো। গন্তব্যে পৌঁছার আগেই তা বিরক্তিতে রূপ নিল। এই শহর-বন্দর আর ভালো লাগে না! চিয়াং মাই কোন ঘিঞ্জি শহর নয়, বেশ নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার অধীন। তবুও মন থেকে এই সমস্ত দালানকোঠা বরণ করতে পারছি না। অবধি মনে হচ্ছে, কোথায় ছিলাম আর কোথায় এলাম! মে হং সন এবং পাই দেখার পর মনের মধ্যে চিয়াং মাই-এর ব্যাপারে একটি কল্পনার চিত্র দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। কল্পিত চিত্রের সাথে বাস্তাবের মিল খুঁজে না পেলেও আগামী তিন দিন এখানেই থাকতে হবে! টার্মিনালে পৌঁছে সর্বপ্রথম যে কাজটি করলাম তা হলো, এখান থেকে ব্যাংকক যাওয়ার বাসের টিকিট সংগ্রহ। পাশেই তথ্যকেন্দ্র। আগে দরকার মানচিত্র। ওই বস্তুটি হাতে থাকলে ঘোরাঘুরিতে বহু উপকার। তাদের নিকট মানচিত্রের পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকায় প্রথমে অপারগতা জানানো হলো। পরে আরও কিছু তথ্য অর্থাৎ ঠিক করে রাখা হোস্টেল পর্যন্ত কীভাবে যেতে হবে তা জনতে চাইলে সাদা পোশাক পরা কর্মকর্তা আন্তরিকতার সাথে বুঝিয়ে দিলেন। কাঁচের ওপার থেকে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি বোধহয় তৃপ্ত হতে পারলেন না। বেরিয়ে এসে আঙ্গুলের নির্দেশনায় দেখিয়ে দিলেন কোন বাসে থাপায়া গেট যেতে হবে। এই প্রথম কোন একটি সেবা নিতে গিয়ে ইংরেজি জানা একজন মানুষ পেয়ে অনেক ভালো লাগল। এতেও তার তৃপ্তি বা সন্তুষ্টি অপূর্ণ থেকে গেল। তা না হলে ঘরের ভেতর গিয়ে আবারও কেন মানচিত্রের একটি সংখ্যা হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসবেন?
 

সকাল থেকে না খাওয়া। অতএব, সর্বপ্রথম খেয়ে নেয়া দরকার। টার্মিনালের আশপাশেই কিছু দোকান, তার মধ্যে একটিকে সুবিধাজনক মনে করায় সেখানেই খেয়ে নিলাম। বাস ছেড়ে দেবে। বাসের চালক এবং কন্ডাক্টর উভয়েই নারী। চিয়াংমাই এসে এত চমৎকার একটি বিষয়ের সাক্ষী হব ভাবতেই পারিনি। জায়গা মতো নামিয়ে দিতে বললে আশ্বস্ত করলেন কোন চিন্তা নেই। দশ বাথে আমাদের ঠিকানা থাপায়া গেট। ভাড়ার সাথে মিলিয়ে অনুমান করে নিলাম দূরত্ব খুব বেশি হবে না। হালকা যানজটের পর কয়েক মিনিটেই থাপায়া গেট। বাস থেকে নেমেই দেখি মানি এক্সচেঞ্জের দোকান। ভদ্রতাসুলভ কাপন খাপ বলে হাসি মুখে সামনে দাঁড়ালেন দুইজন। স্বয়ংক্রীয় যন্ত্রে মূদ্রার মান উঠে আছে। তারপরও দুজনের একজন কম্পিউটারর কিবোর্ড চেপে আরও সহজ করে দেখিয়ে দিলেন। মূদ্রা পরিবর্তন করে হোস্টেলের ঠিকানা খুঁজতে উদ্যত হলাম। ঠিকানা এতটা সহজে মিলে যাবে তা ধারণার অতীত। মানি এক্সেচেঞ্জ দোকানের একেবারে পাশ দিয়ে গলি। দুই মিনিট এগিয়ে গেলেই জ্যামস হোস্টেল। থাইল্যান্ডের মাটিতে পা রাখার পর এই প্রথম আগে থেকেই ঠিক করে রাখা কোন থাকার জায়গা খুঁজে পেলাম। এত বড় বিজয়ের পর স্বার্থকতা খুঁজতে নিজেদেরকে কমপক্ষে কলম্বাস বা ভাস্কো ডা গামা ভাবতে ইচ্ছা হলো।

যত্রতত্র পথর বিছানো ছোট এক চত্বরের পর অভ্যর্থনা কক্ষ। বসে আছে ব্যবস্থাপক নুন। সে জানাল ঝেড়ে-পুঁছে ঘর প্রস্তুত করতে এক ঘণ্টা লাগবে। এই লম্বা সময় ধরে তার সামনে শুধু শুধু বসে তাকতে ভালো লাগছে না। সে ইতিমধ্যেই আমাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে দু’চার কথা জেনে নিয়ে নানান ধরণের ভ্রমণ প্যাকেজ মেলে ধরল। দামি দামি প্যাকেজ, বন্য হাতি দেখা, হাতির সাথে খেলা করা এবং হাতির পিঠে চড়ে বনের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অভিযানসুলভ ক্রিয়াকলাপ, পাহাড় ট্রেকিং করে থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ ইত্যাদি। পাকেজের বিস্তারিত সংবলিত ভাঁজপত্র এবং স্থানীয় মানচিত্র পাশাপাশি মেলে ধরে প্রায় বিশ মিনিট ধরে বুঝিয়ে দিল। উল্লেখিত সমস্ত কিছুই আকর্ষণীয় কিন্তু প্যাকেজ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা আছে কি না? এমন পশ্নে এই প্রথম নুনের মুখে বিষাদের চিত্র ফুটে উঠল। নিজেকে সংবরণ করে পেশাদারিত্বের সাথে আবারও ফিরে গেল প্যাকেজ বর্ণনায়। খানিক পর তার কাছে আমার অতি সরল জিজ্ঞাসা-  দেখ, পাই থেকে পাঁচ কি ছয় দিনে এখানে আসার এক ট্রেইল আছে, আমাদের পরিকল্পনাতে সেটাও ছিল কিন্তু সময় স্বল্পতা ও অন্যান্য সমস্যার কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে। এখন তুমি আমাদের একটা উপকার করতে পার, প্যাকেজ না কিনে নিজেদের উদ্যোগে ঐ চূড়ায় আরোহণের বিকল্প কোন ব্যবস্থা আছে কি? এমন অনুচিত জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে তার চেহারা দ্বিতীয়বারের মতো বিষাদে বিষময় হয়ে উঠল। ভ্যাবাচেকায় পরে গেলম! কি করি, ওর মুখোমণ্ডলে মিষ্টি ভাব ফিরে আনতে ঠুমরি, টপ্পা কিছু একটা ধরব নাকি ভরতনাট্যম। তার চেহারায় বিষাদ এবং স্বাভাবিকতা দুই চিত্রের লড়াই প্রত্যক্ষ করে মনে হলো এর অতিরিক্ত আর একটি জিজ্ঞাসাও যদি করা হয় নির্ঘাত সে চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে আমাদের উপর বজ্রপাত ছুড়ে মারবে।
 

যেই হোক, নুনের দেয়া তথ্যের মাঝ থেকে আমরা আপাতত একটি মাত্র গন্তব্য তুলে নিলাম- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। এ পর্যায়ে আর কথা না বাড়িয়ে ঘর প্রস্তুত হওয়ার আপেক্ষায় আছি। সেও বুঝে গেছে আমরা সহজে প্যাকেজ কেনার পর্যটক নই। দুই তলায় ডরমেটরিতে থাকার ব্যবস্থা। বেশ বড় ঘর, দুই কোণায় দুইটি আলাদা দুইতলা বিছানা। ছাদ গরম হয়ে তার সমস্ত তাপ নিচে নেমে এসেছে। সামনে একটি মাত্র দেয়ালে ফ্যান লটকানো। তাতেই চার বিছানায় ঠান্ডা বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা।   (চলবে)




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জুন ২০১৮/তারা   

Mango info take care all

খাদ্যে ভেজাল, ফলে রাসায়নিক- পরিত্রাণের উপায় কী?

মাছুম বিল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৯ ৩:৪০:২৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-০৯ ৭:৫১:৩৮ পিএম
মাছুম বিল্লাহ : সেদিন ফেসবুকে দেখলাম কাঁঠালের ওপরের অংশ কৌশলে কেটে তার মধ্যে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে কোয়া চমৎকার হলুদ দেখানোর জন্য। আবার কাটা অংশ বসিয়ে দেয়ার পর কাঁঠালের কশ দিয়ে সুন্দরভাবে আটকে রাখা হচ্ছে জায়গাটি। দেখে বোঝার উপায় নেই। অবাক হলাম বাঙালির সৃজনশীলতা ও অভিনবত্ব দেখে। এই সৃজনশীলতা যদি ভালো কাজে লাগানো যেত তাহলে কতোই না উপকার হতো দেশের, নিজের, মানবতার। এটি যে একটি বিরাট বদভ্যাস তা খেয়ালই করছেন না সংশ্লিষ্টরা। কাঁঠাল সহজে নষ্ট হয় না, কাঁঠালের ভেতর দেখে কেউ ক্রয় করে না যে তা হলুদ দেখিয়ে বিক্রি  করতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে যে কোনো ধরনের খাদ্যে বিশেষ করে ফল, সবজিতে অবৈধ কিছু আমাদের মেশাতেই হবে একটু বাড়তি লাভের আশায়। এটি যেন জাতীয় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।  এ কোন ধরনের ব্যবসা আর কোন ধরনের নৈতিকতা! এতো গেল জাতীয় ফল কাঁঠালের কথা। এই ঋতুর সুমিষ্ট ফল আম, লিচু, জাম, তরমুজ, আনারস  ও বারো মাসের কলা- কোনো ফলই মুক্তি পাচ্ছে না অসাধু কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অপপ্রয়োগের হাত থেকে!

কাঁচা লিচুকে টকটকে লাল করতে, পচন রোধ করতে এবং পোকা ধরা বন্ধ করতে পানির সাথে ক্যামোমেথ্রিন ও টিডো নামের দুই ধরনের কীটনাশক ও ম্যাগনল নামের একপ্রকার হরমোন মিশিয়ে লিচুগাছে ছিটানো হয়। রঙ ধরার পর লিচু দ্রুত বড় করতে আবারও টিডো ও ম্যাগনল ছিটানো হয় গাছে। এই ওষুধযুক্ত লিচু  খেলে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতি হয়। আমে নাকি ব্যবহার করা হয় সায়ানাইড  ফরমালিন, কারবাইড ও ইথোফেন। কলা দ্রুত পাকানোর জন্য ভাইরাস তাড়ানোর নাম করে কলাচাষিরা স্প্রের মাধ্যমে মার্শাল, হিলডন, রাইজার, বাসুডিনসহ আরো বহু ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে। এতে পাকস্থলীতে অ্যসিডের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। পাকস্থলিতে ক্ষত থাকলে তা আরও বেড়ে যায়। আনারস প্রাকৃতিকভাবে খাবার উপযোগী হতে সময় লাগে তিন থেকে চারমাস। অথচ কিছু লোভী চাষি বিভিন্ন রাসায়নিক ছিটিয়ে দুই মাসের মধ্যে আনারস বড় করে তোলে। ইথাইনিল বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রয়োগের কারণে দুই থেকে চারদিনের মধ্যেই ফল হলুদ রঙ ধারণ করে। তারপর পাকানেরা জন্য আবার ব্যবহার করা হয় কার্বাইড। তরমুজ পাকা ও লাল দেখানোর জন্য মেশানো হয় বিপজ্জনক লাল রং এবং মিষ্টি স্যাকারিন। ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে তরমুজের বোটা দিয়ে এসব দ্রব্য পুশ করে তরমুজ পাকা ও লাল টকটকে করা হয়। বাজার থেকে তরমুজ কিনলে কাটার পর দেখা যায় অসম্ভব রকমের লাল ও বেজায় মিষ্টি। এ সবই বিষ সমতুল্য! খেজুরেও মেশানো হয় ফরমালিন ও তেল জাতীয় পদার্থ যাতে খেজুর চকচকে দেখায়। তাছাড়া  খেজুর বস্তাবন্দি করে রাখা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।শু ধু ফল নয়, বাজার থেকে যে কোন ধরনের সবজি কিনবেন তাতে মেশানো আছে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। কোথায় এর সমাধান? অসহায় ক্রেতারা কোথায় যাবে? ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কোনোভাবেই যেন ব্যবসায়ীদের নিবৃত্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না নকল-ভেজালের দুষ্কর্ম থেকে। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে রাজধানীর আনাচে কানাচে গড়ে উঠছে তথাকথিত ফরমালিনমুক্ত বাজার। ভুয়া! এগুলো সবই ভুয়া। এখন ক্ষমতা থাকলে সবই করা যায়। তারাও জানে। তাই যা ইচ্ছে তাই করছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ তাদেরও রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। অতএব এই সুযোগে টু-পাইস কামিয়ে নেবে না কেন? শুধু কি তাই, ফরমালিনমুক্ত বাজার ঘোষণা দিয়ে আবার অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। দ্বিগুণ প্রতারণা। প্রশ্ন হচ্ছে এর শেষ কোথায়, সমাধান কি? এই অবস্থা  কি চলতেই থাকবে? দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। উৎপাদনে এসেছে আধুনিকতা। মাঠে উৎপাদন বেড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে চাষাবাদ লাভজনক হয়ে উঠেছে। কৃষিবাজার ব্যবস্থাপনায়ও এসেছে ভিন্নতা ও নতুনত্ব। কৃষকগণ নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন আর তাই বাজারে আসছে নতুন নতুন ফসল। নতুন নতুন গবেষণা থেকে দেশের কৃষি উৎপাদনে অনেক ধনাত্মক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু  সাথে সাথে বাড়ছে আমাদের  বিষ খাওয়ার পরিমাণ আর অঙ্গহানি ও ক্ষতির দিকটিও।

আসলে খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারপরেও আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী খাদ্যদ্রব্যে  কেন সেসব মেশানো হচ্ছে? আমাদের জাতীয় সুস্বাদু ফল, তাজা সবজিতে কেন মেশানো হয় এসব? অবস্থাদৃষ্টে নিম্নলিখিত কারণগুলোকে এজন দায়ী করা যেতে পারে। এক. নৈতিকতার চরম অধঃপতন যখন একটি সমাজে নেমে আসে তখন এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংগঠন করার জন্য দলে দলে মানুষ এসব কাজে সামিল হয়। আমাদের শিক্ষা, সমাজ ব্যবস্থা কোনটিতে নৈতিকতার কোন বিষয় সেভাবে নেই। দুই. রাজনৈতিক আচরণ, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। রাজনীতিতে ভাল খারাপ দু ধরনের লোকই আছে এবং থাকে। কিন্তু খারাপ লোকের প্রভাব এত বেশি থাকে যে, ভালোরা কোণঠাসা অবস্থায় থাকে। ফলে রাজনীতির দৃর্বৃত্তায়ন হয়। আর তখন হেন কোন অপরাধ নেই যা জনজীবেন  ও সমাজে সংগঠিত হয় না। তিন. বিচারহীনতা। সঠিক বিচার না পাওয়া, অবহেলিতদের বিচার বঞ্চিত রাখা এবং দুর্বলদেরই বিচার হওয়া। চার. আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাপট, সীমাহীন দুর্নীতি যখন সমাজে জেঁকে বসে তখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত  হবেই। পাঁচ. পথে পথে চাঁদাবাজি, অনিশ্চিত যাত্রা ও ভয়াবহ যানজটের কারণে নির্দিষ্ট গন্তেব্যে পৌঁছাতে অধিকতর বিলম্ব। দেশের সমস্ত এলাকা থেকে ফল, সবজি, মাছ, তরকারি সবই আসে ঢাকায়। বাংলাদেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ঢাকায় আসতে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু সেই আসা দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত গড়ায়। কোন কারণ ছাড়াই রাস্তায় জ্যাম। ছয়. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অবহেলিত, ক্রেতাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকা।

শুধুমাত্র যখন তিন-চারদিন জ্যামে আটকে থাকে যানবাহন,  তখন পথেই অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই অনিশ্চিত জ্যাম, দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রয়কৃত ফল, সবজি, মাছ, তরকারিতে রাসায়নিক মিশিয়ে ঠিক রাখার চেষ্টা করেন, ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে চান। যদি এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতো যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব ধরনের খাবারের ট্রাক সঠিক সময়ে ঢাকা পৌঁছাবে, তাহলে সবাই কিন্তু ফ্রেশ খাবার খেতে পারতাম, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এতটা হতো না। ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন ধরনের হেনস্থা থেকে বেঁচে যেতেন। কিন্তু এই নিশ্চয়তা তো কোন ব্যক্তি বা সংস্থা দিতে পারে না। এটি পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা রাষ্ট্রের কাছে এটুকু আশা করতে পারি? পারি না। কেন পারি না তাও আমরা জানি। একটি ফলের গাড়ি উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা আসতে কত জায়গায় চাঁদা দিতে হয়, চাঁদা দিতে দেরি হলে তাকে কত ধরনের হেনস্থা ও বিলম্বের শিকার হতে হয় তা সচেতন মানুষ সবাই জানেন, কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে করার কিছুই নাই , শুধু ভোগান্তিতে পরা আর দুঃখপ্রকাশ করা ছাড়া।

দেশে যত গবেষণাই করা হোক না কেন তার মধ্যে সবচেয়ে উপকারি, জনবান্ধব ও সরাসরি দৃশ্যমান হচ্ছে কৃষিক্ষেত্রের গবেষণা। অমাদের মতো দেশে বাকি গবেষণার বিষয় ও ফলাফল সংশ্লিষ্ট জার্নালেই লিপিবন্ধ থাকে। আর কৃষি গবেষণা মানুষ ও দেশ সরাসরি প্রয়োগ করে লাভবান হচ্ছে। আমরা তা প্রত্যক্ষও করছি- খাদ্য উৎপাদন, ফল ও শাক-সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে। আমরা কৃষিবিজ্ঞানী ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুরোধ করছি  গবেষণা করে প্রাকৃতিক উপায়ে খাদ্যের পচনশীলতা কিভাবে বিলম্বে করানো যায় তা বের করে জনসাধারণের কাছে এবং দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তা না হলে জাতি এ রাসায়নিক বিষ আর কতদিন খাবে?

মর্গে মানুষের লাশ ও গবেষণাগারে প্রাণীর মৃতদেহ সংরক্ষণে যে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়, সে ফরমালিন এখন ব্যবহার করা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যের পচন রোধ করার কাজে। মাছ বিক্রেতারা মাছের পচন রোধ করার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করছেন। একইভাবে দুধ যাতে নষ্ট না হয় সে জন্যও ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ইদানিং মাংসেও ফরমালিন ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। জাতির জন্য এ আর এক অশনি সংকেত। ফরমালিন মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে, কিডনি, লিভার ও শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু এর আমদানি ও ব্যবহার চলছে অবাধে। আদালতের নির্দেশনা ছিল বন্দরগুলোতে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ফল আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা, বাজারের আড়তগুলোতে প্রতিদিন ফলের রাসায়নিক পরীক্ষা করা ও দোষীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা। এগুলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব- সেখান থেকে আমরা আর কতটা কি আশা করব? রাষ্ট্র এক্ষেত্রে যা করবে তাতো দেখতেই পাচ্ছি। অসাধু ব্যবসায়ী, লোভী কৃষক, ক্ষমতা ও দাপটের রাজনীতির কারণে ফল, মাছ-মাংস, সবজির কোনটিতেই বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ঠেকানো যাচ্ছে না। হঠাৎ হঠাৎ একজন নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়, সেখানেও যেন রাজনীতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ দেখা যায় কারুর কারি কারি ফল, মাছ হঠাৎ করে নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায় যে যন্ত্র দিয়ে রাসায়নিক দ্রব্য মাপা হয়েছে সে যন্ত্রটিই সঠিক নয়। আর সমস্যার গোড়ায় না গিয়ে হঠাৎ হঠাৎ এ ধরনের অভিযান কতটা কার্যকর হয় সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ঢাকার কারওয়ান বাজার এবং যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ধ্বংস করা হয় কয়েক হাজার মণ আম। অভিযোগ আমগুলো ছিল অপরিপক্ক এবং ইথোফেন ও কারবাইড দিয়ে পাকানো। কিছু  কৃষিবিজ্ঞানী বলছেন কারবাইড ও ইথোফেন বহুল ব্যবহৃত ফল পাকানোর বাসায়নিক, নির্দিষ্ট মাত্রার ফল পাকানোর ওষুধ, এগুলো নাকি অনেক দেশেই সহনীয় মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। কারবাইড ফলের মধ্যে প্রবেশ করে না, তাপ উৎপন্ন করে যা আম অথবা অন্য ফলকে পাকাতে সাহায্য করে। আমাদের দেশে কারবাইড নিষিদ্ধের কারণ হলো, কমার্শিয়াল কারবাইডে সামান্য পরিমাণ আর্সেনিক ও ফসফিন অপদ্রব্য হিসেবে মিশ্রিত থাকে, যা প্রয়োগকারী বা ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর ইথোফেন প্রয়োগ করা হলেও সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নির্ধারিত মাত্রার নিচে চলে আসে। ইথোফেন এবং কারবাইড তাৎক্ষণিকভাবে মাপার কোন যন্ত্র আমাদের দেশে নেই। বিশেষজ্ঞদের সাথে না নিয়ে, সঠিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ না করে হঠাৎ করে একজন ম্যাজিস্ট্রেট একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে কতটা সুফল আমরা আশা করতে পারি? কৃষিবিজ্ঞানীদের কেউ কেউ বলছেন কারবাইড ও ইথোফেন  দিয়ে পাকানো আমের স্বাদে তারতম্য হলেও পুষ্টিগুণ নাকি ঠিক থাকে। তারা আরও বলছেন, ফরমালিন ফল বা শাক-সবজিতে কাজ করে না , আমিষে করে। আমে প্রাকৃতিকভাবেই ফরমালিন থাকে, আমের পচনশীলতা রোধ করার জন্য নাকি ফরমালিন প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই আর প্রয়োগ তেমন একটা করাও হয় না। এ বিষয়গুলোও তর্কের উর্ধ্বে নয়।

আমরা সবশেষে আবারও দেশের কৃষিবিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রসায়নবিদদের অনুরোধ করছি প্রাকৃতিক উপায়ে ফল, শাক সবজি, মাছ তরকারি ও মাংসের পচনশীলতা দীর্ঘায়িত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে দেশময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। আর শিক্ষকসহ সমাজের সৎ ব্যক্তিদের অনুরোধ করছি নৈতিকতার শিক্ষা ও অভ্যাস যাতে সর্বত্র চালু হয় সে ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন  করার। কারণ দেশকে ভালো রাখার দায়িত্ব সকলের।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জুন ২০১৮/তারা