Monday, July 30, 2018

life best photo n news info motivate for all

still young and working may god bless him for long life.

রিকশায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী

নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম

  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-৩০ ১২:৪৪:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-৩০ ৩:০৬:৩৫ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিসি) নির্বাচনে ভোট দিতে রিকশায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে গেলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সোমবার ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে নগরের বন্দরবাজারস্থ দুর্গাকুমার পাঠশালায় কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সরকারের বয়োজ্যেষ্ঠ এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এভাবেই সারাদিন চলতে থাকুক।’

অর্থমন্ত্রী মেয়র পদে নৌকায় ভোট দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নৌকা মার্কায়ই (কামরানের প্রতীক) ভোট দিয়েছি। তবে কামরান-আরিফ দুইজনই নগরের উন্নয়ন করেছে, দুইজনই ভালো প্রার্থী।’

ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, ‘যোগ্য এজেন্ট তো তারা দিতেই পারেনি, তাহলে বের করে দেওয়ার কথা আসে কোথা থেকে?’

এর আগে সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে সিলেট পৌঁছান অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত।

নির্বাচনী বিধিমালার কারণে তিনি রিকশাতে চড়েই ভোট দিতে কেন্দ্রে যান। ভোট দিয়ে ফের রিকশা চড়ে নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়স্থ তার বাসভবনে ফেরেন। মন্ত্রী আজই হেলিকপ্টারযাগে সিলেট ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।



রাইজিংবিডি/সিলেট/৩০ জুলাই ২০১৯/নোমান/সাইফুল

IFL tower

১২৮ বছরে ১৮ তথ্য

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-৩০ ১২:৩১:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-৩০ ৩:৫৪:১৪ পিএম
শাহিদুল ইসলাম : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসকে যদি বলা হয় বিশ্বের সুন্দর ও আধুনিক নগরীগুলোর প্রতীক তবে আইফেল টাওয়ারকে বলা হয় প্যারিসের প্রতীক।

ফরাসী স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন আইফেল টাওয়ার সম্প্রতি পদার্পন করেছে ১২৮ বছরে। আইফেল টাওয়ারের এই ১২৮তম জন্মদিন উপলক্ষে বিখ্যাত আমেরিকান সাময়িকী রিডার্স ডাইজেস্ট প্রকাশ করেছে আইফেল টাওয়ারের কিছু অজানা তথ্য।

১. গুস্তাভ আইফেল টাওয়ারের মূল নকশাকারী নন 
আইফেল টাওয়ারের নকশা কে করেছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই হয়তো বলবেন স্থপতি গুস্তাভ আইফেল। তবে গুস্তাভ আইফেলের নামে টাওয়ারটির নামকরণ করা হলেও মূল নকশা ছিল মরিস কেচলিন এবং এমিলি নুগেয়ার নামক দুই স্থপতির।

২. স্পেনের প্রত্যাখান
গুস্তাভ আইফেল তার টাওয়ারটি স্পেনের বার্সেলোনায় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টাওয়ারটি শহরের সৌন্দর্যের জন্য দৃষ্টিকটু হবে ভেবে স্পেন টাওয়ারের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে।

৩. প্রস্তাব লুফে নেয় ফ্রান্স
১৯৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের ১০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য আন্তজার্তিক প্রদর্শনী স্মরণীয় করে রাখতে প্যারিস খুঁজছিল বিস্ময়কর কোনো স্মারক নির্মাণের নকশা। এর জন্য ১০০টিরও বেশি জমা পড়া নকশা থেকে আইফেল অ্যান্ড কোং এর নকশা নির্বাচন করা হয়। ১৮৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

৪. স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আইফেলের অবদান থাকায় নকশা নির্বাচন সহায়ক হয়
১৮৭৯ সালে স্ট্যাচু অব লিবার্টির নকশাকারীর মৃত্যু হলে, স্থাপনাটির নকশার দায়িত্বে পান গুস্তাব আইফেল। আইফেলের নেতৃত্বে দুই বছর ধরে ফরাসি ও মার্কিন ভাস্কররা স্ট্যাচু অব লিবার্টি তৈরি করেন।

৫. প্যারিস টাওয়ারটিকে প্রথমে গ্রহণ করেননি
বিশাল টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনাটিকে প্যারিসের সকল অধিবাসীরা প্রথমে ভালোভাবে নেয়নি। অনেকেই এটিকে শহরের জন্য বেহুদা এবং বিকট, দৃষ্টিকটু, উদ্ভট হবে বলে মনে করেছিলেন। এমনকি প্যারিসের ৩০০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি টাওয়ারটি নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের জন্য প্রকাশ্যে বিরোধীতা করেছিলেন।

৬. বিশ্বের সবচেয়ে উচুঁ স্থাপনা
নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে আইফেল টাওয়ার বিশ্বের সবচেয়ে উচুঁ স্থাপনার রেকর্ড গড়ে। ১৮৮৯ সালের ১৫ মার্চ নির্মাণ শেষ হওয়ার পর টাওয়ারের উচ্চতা দাঁড়ায় ৯৮৪ ফুট। সে সময় থেকে পরবর্তী ৪১ বছর পর্যন্ত আইফেল টাওয়ার ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপনা। ১৯৩০ সালে নিউ ইয়র্কের ক্রিসলার বিল্ডিং তৈরি হলে তার উচ্চতা দাঁড়ায় ১,০৪৬ ফুট, যা আইফেল টাওয়ারের উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যায়।

৭. উচ্চতা আরো বৃদ্ধি
১৯৫৭ সালে আইফেল টাওয়ারে ৬৭ ফুট অ্যান্টেনা স্থাপন করা হয়, যা এর উচ্চতাকে আরো বাড়িয়েছে।

৮. ঋতুর ভিত্তিতে এর উচ্চতা পরিবর্তিত হয়
থার্মাল রড দিয়ে তৈরি করার কারণে গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়লে আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা বেড়ে যায় প্রায় ৬ ইঞ্চি।

৯. টাওয়ারের রঙ পরিবর্তন
আইফেল টাওয়ার বর্তমানের নিখুঁত তামাটে রঙ নিয়ে তৈরি হয়নি। বরঞ্চ নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত আইফেল টাওয়ারের রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে ১৮ বার। সাধারণত ৭ বছর পর পর টাওয়ারটি রঙ করা হয় যাতে অক্সিডাইজিং থেকে ধাতব টাওয়ারটি সুরক্ষিত থাকে। রঙ করতে প্রায় ৬০ টন রঙ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

১০ টাওয়ারের রঙ কখনো সবুজ করা হবে না
আইফেল টাওয়ারের রঙ ১৮ বার পরিবর্তন করা হলেও টাওয়ারটির রঙ কখনোই সবুজ করা হবে না। কেননা স্ট্যাচু অব লির্বাটির রঙ সবুজ।

১১. টাওয়ারে আইফেলের নিজের একটি গোপন কক্ষ রাখা হয়েছিল
১০০০ ফুট ওপরে টাওয়ারের তৃতীয় লেভেলে আইফেল তার নিজের জন্য একটি রুম নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে এটি স্মৃতিকক্ষ হিসেবে পরিদর্শন করা যায়।

১২.  মাত্র ২০ বছরের জন্য নির্মিত হয়েছিল 
যেহেতু একটি আন্তর্জাতিক মেলার স্মারক উপলক্ষ্যে প্যারিস কর্তৃপক্ষ টাওয়ারটি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সুতরাং নির্মাণকালীন পরিকল্পনায় টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছিল ২০ বছরের জন্য। কিন্তু প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় ফরাসি সামরিক বাহিনীর রেডিও যোগাযোগের জন্য সুউচ্চ টাওয়ারটি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এটিকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৩.  মিত্র বাহিনীর জয়ে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আইফেল টাওয়ার মিত্র বাহিনীর জয়ে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছিল। এ টাওয়ারটি বেতার তরঙ্গ সম্প্রচার করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। এছাড়া নাৎসি বাহিনীর বেতার সিগন্যাল প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টি, ভুয়া খবর ছড়িয়ে নাৎসি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা ইত্যাদি কাজে আইফেল টাওয়ার থেকে প্রেরিত সিগন্যাল ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।

১৪. আইফেল টাওয়ার জয়ে ব্যর্থ হিটলার 
১৯৪০ সালে জার্মানরা যখন প্যারিস দখলে নেয়, তখন ফরাসিরা আইফেল টাওয়ারের লিফটের তার কেটে দিয়েছিল, যাতে জার্মান সৈন্যরা টাওয়ারের চূড়ায় পৌঁছে নাৎসি বাহিনীর পতাকা লাগাতে না পারে। জার্মান সৈন্যরা অবশ্য পদব্রজে ১,৭১০টি ধাপ পার করে পতাকা লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা বাতাসে উড়ে যায়।

লিফটের তার কেটে দেওয়ার একই কারণে হিটলার প্যারিস ভ্রমণের সময় আইফেল টাওয়ারে উঠার সৌভাগ্য তার হয়নি। বরং তাকে ভূমি থেকেই টাওয়ারটি দেখতে হয়। এজন্য ফরাসিরা মজা করে বলে- হিটলার ফ্রান্স দখল করলেও আইফেল টাওয়ার দখল করতে পারেনি।

১৫. আইফেল টাওয়ার ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছিলেন হিটলার
১৯৪৪ সালে হিটালার প্যারিসে পৌঁছে তার এক জেনারেলকে টাওয়ারটি ধংস করে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু জেনারেল হিটলারের কথা অমান্য করে টাওয়ারটি বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।

১৬. বিবাহিত আইফেল টাওয়ার 
একবার বিয়ে হয়েছে আইফেল টাওয়ারের। ২০০৭ সালে আমেরিকান নারী এরিকা ল্যাব্রি আইফেল টাওয়ারকে বিয়ে করেন এবং নিজের নাম পাল্টে এরিকা আইফেল রাখেন।

১৭. ৩০টির বেশি রেপ্লিকা রয়েছে আইফেল টাওয়ারের
সারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আইফেল টাওয়ারের ৩০টির বেশি রেপ্লিকা রয়েছে। অন্য কোনো স্থাপনার এত বেশি রেপ্লিকা (আসল স্থাপনার আদলে তৈরি) আছে বলে জানা যায়নি।

১৮. দুইবার আইফেল টাওয়ার বিক্রি করেছিলেন এক ব্যক্তি
ভিক্টর লাস্টিগ নামের এক ব্যক্তির অপরিচিত মানুষদের কথার জালে ফেলে ধোকা দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। তিনি দুইজন ব্যক্তির কাছে আইফেল টাওয়ার বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। প্রথম ক্রেতা প্রতারিত হয়ে লজ্জায় পুলিশের কাছে যাননি। তবে দ্বিতীয় ক্রেতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিক্টর গ্রেপ্তার ও সাজার মুখোমুখি হন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ মার্চ ২০১৭/ফিরোজ

white house info

হোয়াইট হাউসের বিস্ময়কর তথ্য

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম

  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৯ ৫:২৩:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-২৯ ৫:২৯:২০ পিএম
মাহমুদুল হাসান আসিফ : বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্টের বাসভবন হিসেবে ‘হোয়াইট হাউস’ সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই অন্যরকম আগ্রহের বিষয়। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় হোয়াইট হাউস বিভিন্ন সময়ে ‘প্রেসিডেন্ট প্যালেস’, ‘এক্সিকিউটিভ ম্যানসন’, ‘প্রেসিডেন্ট হাউস’ এবং অন্যান্য বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল।

আজ থেকে প্রায় ২২০ বছরেরও বেশ আগে হোয়াইট হাউস নির্মাণ করা হয়েছিল এবং তার আগে পর্যন্ত ‘১৬০০ পেনসিলভেনিয়া এভিনিউ’ ছিল বিশ্বের অন্যতম চিত্তাকর্ষক স্থাপনা। হোয়াইট হাউস সম্পর্কিত বিভিন্ন বিস্ময়কর তথ্য নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* হোয়াইট হাউসে থাকা হয়নি জর্জ ওয়াশিংটনের
১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার জাতির পিতা এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন হোয়াইট হাউস নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করেন এবং হোয়াইট হাউস তৈরির চূড়ান্ত নকশার অনুমোদন দেন। ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং হোয়াইট হাউসের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের মেয়াদ ১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয় এবং তিনি ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। ‘প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস’ নামে খ্যাত হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের থাকার সৌভাগ্য হয়নি কখনো। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস তার স্ত্রী অ্যাবিগ্যালিকে নিয়ে অসম্পূর্ণ হোয়াইট হাউসে চলে আসেন এবং তাঁরাই আমেরিকান জাতির প্রথম দম্পতি যারা হোয়াইট হাউসে বসবাস করেছেন।

* আপনার ধারণার চেয়ে বড় হোয়াইট হাউস
বর্তমানের বিশাল সব ভবনের তুলনায় হোয়াটস হাউস ছোট হলেও, আমেরিকান গৃহযুদ্ধের আগ পর্যন্ত এটিই ছিল আমেরিকার সবচেয়ে বড় ভবন। ছয় স্তরে সাজানো হোয়াইট হাউসে রয়েছে ১৩২টি রুম, ৩৫টি বাথরুম। আরো রয়েছে ৪১২টি দরজা, ১৪৭টি জানালা, ২৮টি ফায়ারপ্লেস, ৮টি বৃহদাকার সিঁড়ি এবং ৩টি লিফট। ভবনটির দৈর্ঘ্য ১৬৮ ফুট এবং প্রস্থ ৮৫ ফুট (প্রবেশ দ্বারের বারান্দা ছাড়াই)। ভবনটি দক্ষিণ দিকে লম্বায় ৭০ ফুট এবং উত্তরদিকে ৬০ ফুট ৪ ইঞ্চি। হোয়াইট হাউস এবং এর সংশ্লিষ্ট অংশ মোট ১৮ একর জমির উপর অবস্থিত।

* ব্রিটিশ সৈন্যদের আক্রমণের শিকার হয়েছিল হোয়াইট হাউস
১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকা-ব্রিটেন যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং আমেরিকান সৈন্যরা ব্রিটেনের ইয়র্ক প্রদেশের ওন্টারিওর বিভিন্ন দালান-কোঠায় অগ্নিসংযোগ করে। এর প্রতিশোধস্বরূপ ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সৈন্যরা হোয়াইট হাউস আক্রমণ করে এবং তাতে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে হোয়াইট হাউসের ভেতরের অংশ এবং ছাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস মেডিসন হোয়াইট হাউসের প্রধান নকশাকারক জেমস হোবানকে জরুরিভিত্তিতে ভবন পুননির্মাণের নির্দেশ দেন। তবে মেডিসন এবং তার স্ত্রী হোয়াইট হাউসে আর ফিরতে পারেননি। পুননির্মাণের যখন শেষ হয় তখন নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেমস মনরো ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে হোয়াইস হাউসে আসেন।

* ১৯০১ সালের আগে ভবনটির আনুষ্ঠানিক কোনো নাম ছিল না
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বিখ্যাত এই ভবনটি আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপ্রতি থিওডোর রুজভেল্ট সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর মূলত ভবনটি সরকারিভাবে ‘হোয়াইট হাউস’ নামকরণ করা হয়। এর আগে ভবনটি ‘প্রেসিডেন্ট হাউস’ বা ‘দ্য প্রেসিডেন্ট ম্যানসন’ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিছু তত্ত্ববিদদের মতে, ১৮১৪ সালে ভবনটিতে আগুন লাগার পর সেটি সাদা রঙ করা হয় এবং সেখান থেকেই ‘হোয়াইট হাউস’ নামের উৎপত্তি। তবে এই কাহিনি ভিত্তিহীন বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

* হোয়াইট হাউসের সামনে টানা ২ বছর আন্দোলন চলেছিল
প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯১৭ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে একদল নারী হোয়াইট হাউসের সামনে আন্দোলন শুরু করেন। নারীদের ওই দলটি ‘দ্য সাইলেন্ট সেন্টিনেল’ নামে পরিচিত ছিল। দলটি জাতীয় নারীবাদী দলের সমর্থক ছিল এবং নারীদের ভোটাধিকার না দেওয়া পর্যন্ত তারা হোয়াইট হাউসের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যান। তাঁরা টানা আড়াই বছর, সপ্তাহে ছয় দিন হোয়াইট হাউসের সামনে ক্যাম্প স্থাপন করে আন্দোলন বহাল রাখেন। আন্দোলন চলাকালীন তাঁরা বিভিন্ন প্রকার হয়রানি, এমনকি মারধোরের শিকার হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যান। অবশেষে ১৯১৯ সালের ৪ জুন আমেরিকান সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীতে নারীদের ভোটাধিকারের কথা উল্লেখ করা হলে সেই আন্দোলন সমাপ্ত হয়।

* ভুতুড়ে বলে গুজব রয়েছে হোয়াইট হাউসের
ঐতিহাসিক এই ভবনটির মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি, কর্মকর্তা এবং অতিথিরা ভূতের দেখা পেয়েছেন বলে প্রচলিত রয়েছে। পূর্বদিকের কক্ষে মৃত ফার্স্ট লেডি অ্যাবিগ্যালি অ্যাডামসকে যেতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি তাঁর কাপড়চোপড় রাখতেন। তাছাড়া ফার্স্ট লেডি ম্যারি টোড লিংকন তাঁর বন্ধুদের কাছে গল্প করতেন যে, তিনি মৃত অ্যান্ড্রু জ্যাকসনকে প্রচন্ড শব্দে দাপাদাপি এবং চিৎকার করতে শুনেছেন। অবশ্য এসব কাহিনির মধ্যে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের আত্মা হোয়াইট হাউসের ভেতর ঘুরে বেড়ানোর কথা বেশি শোনা যায়। প্রেসিডেন্ট কুলিজ, জনসন এবং রুজভেল্টের সময়কালের ফার্স্ট লেডিরা একাধিকবার লিংকনের আত্মাকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন। এমনকি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন হোয়াইট হাউসে ছিলেন, তিনি তখন আব্রাহাম লিংকনের আত্মাকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ

হোয়াইট হাউসের বিস্ময়কর তথ্য (শেষ পর্ব)

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-৩০ ১১:৫১:৪৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-৩০ ১১:৫৩:২৭ এএম

প্রতীকী ছবি
মাহমুদুল হাসান আসিফ : বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্টের বাসভবন হিসেবে ‘হোয়াইট হাউস’ সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই অন্যরকম আগ্রহের বিষয়। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় হোয়াইট হাউস বিভিন্ন সময়ে ‘প্রেসিডেন্ট প্যালেস’, ‘এক্সিকিউটিভ ম্যানসন’, ‘প্রেসিডেন্ট হাউস’ এবং অন্যান্য বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল।

আজ থেকে প্রায় ২২০ বছরেরও বেশ আগে হোয়াইট হাউস নির্মাণ করা হয়েছিল এবং তার আগে পর্যন্ত ‘১৬০০ পেনসিলভেনিয়া এভিনিউ’ ছিল বিশ্বের অন্যতম চিত্তাকর্ষক স্থাপনা। হোয়াইট হাউস সম্পর্কিত বিভিন্ন বিস্ময়কর তথ্য নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* হোয়াইট হাউসে বন্যপ্রাণী
হোয়াইট হাউসে বসবাসকারী মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোষা প্রাণীও সেখানে থাকে। এক্ষেত্রে কুকুর এবং বিড়ালের মতো আদর্শ পোষা প্রাণী কমন হলেও, কোনো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট খামার কিংবা বন্যপ্রাণীও হোয়াইট হাউসে এনেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি পাখি, খরগোশ, কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে ঘোড়া পর্যন্ত পুষে রেখেছিলেন হোয়াইট হাউসের মধ্যে। প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন পুষেছিলেন দুটি ভালুকের শাবক। প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভ্যান বুরেন দুটি বাঘের শাবক পুষেছিলেন যা তিনি উপহার পেয়েছিলেন ওমানের সুলতানের কাছ থেকে। পরে অবশ্য কংগ্রেসের জোরজবরদস্তির কারণে সেগুলো চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন একটি ছাগল এবং গরু পালন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানান একজোড়া টেকো ঈগল রাখার পাশাপাশি কুকুরছানা, টাট্টুঘোড়া এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পুষে রেখেছিলেন। প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড হোয়াইট হাউজের আঙিনায় মুরগি পালন করেছিলেন।

* ভবন রঙ করতে লাগে টনের পর টন রঙ  
অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার মতো হোয়াইট হাউসের চাকচিক্য ধরে রাখতে বেশ পরিচর্যার দরকার পড়ে। হোয়াইট হাউসের বাইরের অংশ রঙ করতে লাগে ৫৭০ গ্যালন সাদা রঙ (প্রায় ৩ টন), যার ৩০০ গ্যালন মূল ভবন রঙ করতেই খরচ হয়ে যায়। ১৯৯২ সালে হোয়াইট হাউস সংস্কার করার সময় বাইরের দেয়াল থেকে প্রায় ৩০ স্তরের সাদা রঙ ওঠাতে হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিবছর হোয়াইট হাউস রঙ করা হয় এবং সারা বছরই এটির নানা সংস্কার কার্যক্রম চলতেই থাকে।

* হোয়াইট হাউসের পশ্চিমাংশের নিচে গোপনে নির্দেশ দেয়ার সেন্টার রয়েছে?
২০১০ সালে নির্মাণকর্মীরা হোয়াইট হাউসের পশ্চিমাংশের সামনে বিশালাকৃতির একটি গর্ত খোঁড়া শুরু করেন। কাজটি খুবই গোপনে করা হয় এবং কাজ চলাকালীন সময়ে সবুজ রঙের একটি উঁচু ঘেরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। দুই বছর পর সেই ঘের খুলে দেওয়া হয় এবং নির্মাণাধীন জায়গাটি দেখে মনে হয় যে, এখানে কিছুই হয়নি। হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষের মতে, পশ্চিম পার্শ্বের কিছু অংশ পুরাতন হয়ে যাওয়ায় সেটা পুননির্মাণের কাজ চলছিল সেখানে। কিন্তু ট্রাকের পর ট্রাক উন্নতমানের কংক্রিট নিয়ে যাওয়া দেখে অনেকের মনে সন্দেহ জাগে যে, এর অভ্যন্তরে গোপনে নির্দেশনা দেওয়ার সেন্টার বানানো হচ্ছে, যা ৫০ বছর আগে স্থাপনের কথা ছিল।

* রাজনৈতিক বিদ্বেষের শিকার হোয়াইট হাউস
শুরুর দিকে আমেরিকায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার হাতবদল বেশ মর্যাদাপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ ছিল। পরবর্তীতে কিছু প্রেসিডেন্ট নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানান। ১৯৩২ সালে প্রেসিডেন্ট হুভারের পর রুজভেল্ট ক্ষমতায় আসলে হুভার এমন আচরণ করেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রশাসন নানান প্রহসনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা ছাড়া শুরু করেন। ২০০১ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ ক্ষমতায় আসলে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের কর্মচারীরা হোয়াইট হাউসে প্রায় ২০ হাজার ডলার মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি করে রেখে যান। তারা হোয়াইট হাউসের ৬০টি কম্পিউটার থেকে ডব্লিউ বাটন উঠিয়ে টেপ দিয়ে ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে লাগিয়ে রেখে যান। এছাড়াও তারা দরজার হাতল চুরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসবাবের ড্রয়ারের নিচের অংশে আঠা লাগিয়ে রেখে যান এবং প্রায় ১০০টি টেলিফোনের নম্বর পরিবর্তন করে ভুলভাল নম্বর সেইভ করে রেখে যান।

* হোয়াইট হাউসে ফুল টাইম স্টাফের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি
সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট যখন হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন, তিনি সাধারণত সেখানকার সকল কর্মীদের সঙ্গে নিয়েই ত্যাগ করেন। নতুন প্রেসিডেন্টকে তার নিজস্ব স্টাফ দিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে হয় যার সংখ্যা প্রায় ৩,৩০০ জন এবং এটা কোনো সহজ কাজ নয়। তাছাড়া সেখানে অনেক প্রকারের পার্টটাইম স্টাফ রয়েছেন যাদের সংখ্যা উল্লেখ করা মুশকিল এবং নির্বাহীবিভাগ কর্তৃক নিয়োগকৃত বেশ কিছু স্টাফ রয়েছেন যারা অফিস হোয়াইট হাউসের বাইরে কাজ করেন। তাছাড়া হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ ৫০০ স্টাফ নিয়োগ করে, ভাইস প্রেসিডেন্ট অফিস নিয়োগ করে ১০০ স্টাফ, সামরিক অফিস নিয়োগ করে ১৩০০ স্টাফ। অফিস ব্যবস্থাপনা এবং বাজেট কাজে স্টাফের সংখ্যা প্রায় ৫০০। এছাড়াও হোয়াইট হাউসে ৫০০-র বেশি গোয়েন্দাকর্মীসহ ২০০ স্টাফ নিয়োগ করা হয় প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য।

হোয়াইট হাউসের মূল ভিত্তিপ্রস্তর উধাও
হোয়াইট হাউস নিয়ে যত রহস্য আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভবনের মূল ভিত্তিপ্রস্তর গায়েব হয়ে যাওয়া। ১৭৯২ সালে স্থাপনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোয়াইট হাউসের মূল ভিত্তিপ্রস্তর উধাও হয়ে যায়। কোথায় গেল কেউ জানে না। নির্মাণকর্মীদের মধ্যে এ ব্যাপারে কেউ কিছু স্বীকার করেনি। বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট যেমন: রুজভেল্ট এবং ট্র্যুম্যান সেটি খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। শোনা যায়, ভিত্তিপ্রস্তরটি হোয়াইট হাউসের আঙিনায় অবস্থিত একটি গোলাপ বাগানে দুটি পাথুরে দেয়ালের ভেতর লুকানো আছে, কিন্তু তা কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ

Saturday, July 28, 2018

Diabetics - hope and cure info

এই আবিষ্কার ডায়াবেটিসের অবসান ঘটাবে!

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৭ ১২:২২:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-২৭ ৮:১০:৪০ পিএম
বর্তমানে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশন অথবা ইনসুলিন পাম্প গ্রহণ করা লাগে
এস এম গল্প ইকবাল : ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য নতুন আবিষ্কার হচ্ছে- ক্রেডিট কার্ড আকৃতির পাউচ, যা ত্বকের নিচে স্থাপন করা হয়। এই পাউচে ছোট ছোট টিউব থাকে যা কোষসহ ইনজেক্ট করা হয়- যা ইনসুলিন হরমোন উৎপাদন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চিকিৎসা ডায়াবেটিস সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করবে।

গবেষকরা দেখেছেন যে, পাউচে এবং এর আশেপাশে রক্তনালীর বিকাশ হয় এবং এটি কোষকে পরিণত হতে সাহায্য করে, এটি পূর্ণ কার্যক্রমের একটি অর্গান সৃষ্টি করে- যা ইনসুলিন উৎপাদন করে ও রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বর্তমানে টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ে পরীক্ষা করছেন।

টাইপ ১ ডায়াবেটিস তখন হয় যখন ইমিউন সিস্টেম অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন হরমোন উৎপাদনকারী আইসলেটকে (অগ্ন্যাশয়ের এক ধরনের কোষ) আক্রমণ করে, যার ফলে অগ্ন্যাশয়ে এই হরমোন সামান্য পরিমাণে উৎপাদন হয় কিংবা একেবারেই হয় না।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ইনসুলিন উৎপাদন হ্রাস পায় অথবা এই কোষ এটির প্রতিক্রিয়ার প্রতি রেজিস্ট্যান্ট হয়ে পড়ে, তাই রক্ত শর্করার মাত্রা উচ্চে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ক্যাপিলারিতে (যা প্রধান প্রধান অর্গানকে খাবারের যোগায় দেয় ও রক্তপ্রবাহ প্রতিরোধ করে) অপরিবর্তনীয় ড্যামেজ হয়।

অনেক বছর ধরে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে, নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশন (প্রায়ক্ষেত্রে দিনে কয়েকবার) অথবা ইনসুলিন পাম্প। প্রায় ৩০ শতাংশ টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীরও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে ইনসুলিন ইনজেকশন প্রয়োজন হয়। কিন্তু ইনসুলিন ইনজেক্টিং অসুবিধাজনক হতে পারে এবং এটি কোনো নিরাময় নয়।

নতুন সারনোভা সেল পাউচকে ডিজাইন করা হয়েছে এই রোগের উপসর্গের পরিবর্তে কারণকে ট্যাকল দেওয়ার লক্ষ্যে, যেখানে নতুন আইসলেট কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইসলেট কোষ প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যা সাধারণত সদ্য মৃত ডোনার থেকে নিয়ে যকৃতের শিরায় প্রতিস্থাপনের সঙ্গে জড়িত, কিন্তু গবেষকরা সাজেস্ট করছে যে, সকল প্রতিস্থাপনকৃত আইসলেট কোষ বেঁচে থাকে না এবং এ কারণে অধিকাংশ রোগীর একাধিক প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। এরপর রোগীকে অবশ্যই বাকি জীবনে অ্যান্টি-রিজেকশন ড্রাগ গ্রহণ করতে হয়। পাউচ স্থাপনে এসব সমস্যা নেই, কারণ এটি নিজে নিজে কার্যকরভাবে ইনসুলিন উৎপাদনকারী অর্গান হয়ে যায় এবং এটির কোষ ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত, তাই রোগীদের অ্যান্টি-রিজেকশন ড্রাগের প্রয়োজন পড়বে না।

বিশেষ পলিমার ম্যাটারিয়াল দিয়ে পাউচ তৈরি করা হয়, যা শরীরে ব্যবহার করা নিরাপদ এবং এটি বিকল হয় না। এটির সারফেসের ছিদ্র এটিতে রক্তনালী বিকশিত হতে সাহায্য করে এবং এতে ক্ষুদ্র টিউব থাকে যেখানে প্রতিস্থাপনকৃত কোষ রাখা হয়। একটি বিশেষ আবরণ এটিকে ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করে।

এই চিকিৎসার দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম পদ্ধতি সাধারণ অ্যানেসথেশিয়া অবলম্বনে করা হয়, যেখানে পেটের ত্বকের নিচে পাউচ স্থাপন করা হয় এবং পাউচের ভেতর রক্তনালী ও টিস্যু বিকাশের জন্য প্রায় তিন সপ্তাহ রেখে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসকরা পাউচের ছোট টিউবে ডোনারের হাজার হাজার আইসলেট কোষ ইনজেক্ট করেন। ইতোমধ্যে রক্তপ্রবাহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে আইসলেট কোষ ভালো সহায়তা পেয়ে থাকে এবং আশা করা হচ্ছে, তারা স্বাভাবিক অগ্ন্যাশয়ে থাকার মতোই কাজ করবে।

২০১১ সালে কানাডায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার এক গবেষণায় পাওয়া যায় যে, ডায়াবেটিক ইঁদুরের মধ্যে পাউচ ফিট করে ১০০ দিন রাখার পর তাদের আর ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়নি।

এই চিকিৎসা মানুষের জন্যও নিরাপদ বলে প্রমাণ হয়েছে। আইসলেট কোষগুলো ইনসুলিন উৎপাদন করতে সমর্থ হয়েছিল এবং সংবহনতন্ত্রের সঙ্গে সংযোগ করতে পেরেছিল। বর্তমানে এটি টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

গবেষকরা ধারণা করছেন যে, ভবিষ্যতে এই টেকনিক অন্যান্য ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন- হেমোফিলিয়া ও পারকিনসন’স রোগ, যা কিছু কম্পাউন্ডের অভাবে হয়ে থাকে।

হেমোফিলিয়ার ক্ষেত্রে কোষসহ পাউচ ইনজেক্ট করা যেতে পারে, যা রক্ত জমাটবদ্ধতার অ্যাজেন্ট ফ্যাক্টর ৮ এর ধ্রুব মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার অভাবে রোগীরা ভুগে।

মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণকারী ডোপামিনের ঘাটতির কারণে পারকিনসন’স হয়ে থাকে। রোগীদের পাউচে ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ইনজেক্টিংয়ে এ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর নতুন পরীক্ষায় টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের সারনোভা সেল পাউচ দেওয়া হবে এবং এক বছর ধরে তাদের রক্ত শর্করা, ইনসুলিনের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনিটর করা হবে।

ডায়াবেটিস ইউকে’র এমিলি বার্নস বলেন, ‘বিজ্ঞানীরা ইনসুলিন-উৎপাদনকারী কোষ প্রতিস্থাপনের জন্য উপায় খুঁজছেন এবং স্থাপনযোগ্য ডিভাইস তৈরি হচ্ছে এমন একটি পন্থা।’ তিনি যোগ করেন, ‘কোষ প্রতিস্থাপন ও পুনরুৎপাদন হচ্ছে গবেষণার একটি উত্তেজনাপূর্ণ ক্ষেত্র, কিন্তু এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। এটি অবলম্বনে রোগের নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন ট্রায়াল প্রয়োজন হবে। ট্রায়াল সফল হলে এটি ভবিষ্যতে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বিস্ময়কর পরিবর্তন আনবে।’

এছাড়া, গবেষণায় আবিষ্কার হয়েছে যে নিয়মিত মাছ ভোজন ডায়াবেটিস থাকা হৃদরোগীদের গুরুতর ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। ডায়াবেটিস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং জর্জিয়া সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা প্রায় ১৮ বছর ধরে ১,১০০ এরও বেশি ডায়াবেটিক প্রাপ্তবয়স্ককে মনিটর করে পেয়েছেন যে, যারা সপ্তাহে দুবারের বেশি মাছ খেয়েছেন তারা যারা সপ্তাহে কোনো মাছ খায়নি তাদের তুলনায় দুবছর বেশি বেঁচেছিল। মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানো ইনফ্ল্যামেটরি কম্পাউন্ড উৎপাদন হ্রাস করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ

unique car model

অদ্ভুত সব গাড়ি

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৭ ৯:০৫:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-২৭ ৯:০৯:৩৯ পিএম
মাহমুদুল হাসান আসিফ : শব্দের গতিকে হার মানানো থেকে শুরু করে বিড়ালের ডিজাইনের গাড়ি। এ ধরনের অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় কিছু গাড়ি নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।


* কোনিগসেগ অ্যাগেরা আরএস-

সুইডেনের তৈরি অসাধারণ সুন্দর এই গাড়িটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা দ্রুতগামী গাড়ি, যার মূল্য ২.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গাড়িটি ঘণ্টায় ২৮৪ মাইল বেগে ছুটতে পারে, যা আপনাকে হতবাক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সামর্থ্য থাকলে গাড়িটি আপনি কিনতেই পারেন কিন্তু গাড়িটির গতির ব্যাপারেও সচেতন থাকুন।



* এক্টো-১

‘ঘোস্টবাস্টার্স’ নামক জনপ্রিয় সিনেমায় প্রেতাত্মা অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি দেখানো হয়। বাস্তবের এক্টো-১ নামক গাড়িটি বলা যায় সেটিরই একটি প্রতিরূপ। ১৯৫৯ সালে তৈরি ‘ক্যাডিল্যাক মিলার মেটেওর’ নামক অ্যাম্বুলেন্সের সংস্করণের মাধ্যমে এক্টো-১ গাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছিল। অদ্ভুত ধরনের প্রযুক্তিসম্বলিত এক্টো-১ হুবহু ঘোস্টবাস্টার্স চলচ্চিত্রের গাড়িটির মতোই দেখতে এবং সেসময় মাত্র ৪০০টি এক্টো-১ তৈরি করা হয়েছিল।



* পিল পি৫০ 

তিন চাকাবিশিষ্ট ‘পিল পি৫০’ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম গাড়ি, যা ১৯৬০ সালের দিকে বেশ জনপ্রিয় ছিল। সামনে থেকে পেছনে মাত্র ৫৪ ইঞ্চি লম্বা গাড়িটি খুবই অল্প জায়গার মধ্যে আপনি পার্ক করে ফেলতে পারবেন। হাস্যকর হলেও সত্য যে, পার্ক করার পর গাড়িটি খুঁজে পেতে আপনাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।



* ম্যাকলারেন ৬৫০এস স্পাইডার

বিশ্বের নজরকাড়া কনভার্টেবল গাড়িগুলোর প্রথম কাতারে রয়েছে ‘ম্যাকলারেন ৬৫০এস স্পাইডার’ গাড়িটি। চলন্ত অবস্থায় মাত্র ১৭ সেকেন্ডে গাড়িটির ছাদ ওঠানো এবং নামানো যায়। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটু নিয়মনীতি আপনাকে মেনে চলতে হবে। গাড়ির গতি ঘন্টায় ১৯ মাইলের মধ্যে থাকলে চলন্ত অবস্থায় ছাদ ওঠা-নামা করানো সম্ভব। একবার ছাদ ওঠানো বা নামানো হয়ে গেলে মাত্র ৩ সেকেন্ডে গাড়িটির গতি ঘন্টায় ০-১০০ মাইল পর্যন্ত ওঠানো যায়। অসাধারণ সুন্দর এই গাড়িটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০৪ মাইল বেগে ছুটতে পারে।



* ব্যাটমোবাইল

আপনি জেনে অবাক হবেন যে ‘দ্য ডার্ক নাইট’ সিনেমায় প্রদর্শিত ব্যাটম্যানের গাড়িটি পৃথিবীতে সত্যিই রয়েছে। ভয়ানক দেখতে ‘ব্যাটমোবাইল’ নামক গাড়িটির মূল্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিলাসী মানুষজনের অন্যতম চাহিদার বস্তু। ৪৪ ইঞ্চি চাকাবিশিষ্ট ব্যাট মোবাইলে রয়েছে দানবীয় এক ইঞ্জিন, যা বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো গাড়ির তুলনায় ব্যাপক শক্তিশালী। তাছাড়া গাড়িটিতে লাগানো হয়েছে ৫টি ক্যামেরা এবং পরিবর্তনযোগ্য জানালা। প্রযুক্তির এক অসাধারণ মেলবন্ধনে তৈরি গাড়িটি মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।



* থ্রাস্ট এসএসসি

বিমানে ব্যবহৃত টারবাইন প্রযুক্তিতে তৈরি জেটইঞ্জিন চালিত অদ্ভুত এক গাড়ি হচ্ছে ‘থ্রাস্ট এসএসসি’। ১৯৯৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর সময় গাড়িটির গতি ছিল ঘন্টায় ৭৬৩.০৩৫ মাইল, যা শব্দের গতির চেয়েও বেশি। ‘থ্রাস্ট এসএসসি’ বিশ্বের প্রথম গাড়ি, যা শব্দের গতির চেয়েও দ্রুত ছুটতে পারে। ফলে এটি কোনোভাবেই রাস্তায় চালানোর উপযোগী গাড়ি নয়।



* সুপার ফেরারি

বিশ্বের অন্যতম সুন্দর এবং বিলাসী গাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ম্যানসরি স্ট্যালন’ নামক ফেরারি মডেলের গাড়িটি। অসাধারণ সৌন্দর্য এবং ভয়ানক গতিবিশিষ্ট গাড়িটি উন্মোচন করা হয় জেনেভা মোটর প্রদর্শনীর ৮৮তম বর্ষপূর্তিতে। প্রদর্শনীটিতে সবার নজর ছিল তখন ম্যানসরি স্ট্যালনের দিকে। ফেরারি মডেলের গাড়িগুলোর মধ্যে ‘ম্যানসরি স্ট্যালন’ হচ্ছে সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন এবং বিলাসী এক গাড়ি।



* ম্যাককুইন

‘কারস থ্রি’ সিনেমার প্রচারের জন্য পিক্সার স্টুডিও থেকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত ম্যাককুইন নামক একটি গাড়ি বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের জন্য পাঠানো হয়। প্রদর্শনীর জন্য আমেরিকার ডেট্রয়েট থেকে মালেশিয়া পর্যন্ত গাড়িটি যাত্রা করে। চলচ্চিত্র নির্মাতারা বলেন, বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশের সংমিশ্রণে তৈরি ‘ম্যাককুইন’ অসাধারণ শক্তিশালী এক গাড়ি।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ