Thursday, July 26, 2018

Age life and medical test

কোন বয়সে কোন পরীক্ষা করবেন? (শেষ পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৬ ৯:৪৭:১৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-২৬ ২:১৩:৩০ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : যদি আপনি অসুস্থতা বা রোগ প্রতিরোধ করতে চান, তাহলে সঠিক সময়ে সঠিক স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সঠিক সময় কখন? জানতে চোখ বুলিয়ে নিন এই প্রতিবেদনে। দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* ৩০ এর দশকে: মস্তিষ্ক পরীক্ষা
ওয়েইল কর্নেল ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইন সেন্টারের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা এবং নিউরোসার্জন ফিলিপ ই. স্টিগ বলেন, ‘সাম্প্রতিক গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে ক্রনিক্যালি প্রগ্রেসিভ ডিসঅর্ডার অ্যালজেইমার’স ও স্মৃতিভ্রংশতার অন্যান্য ফর্মের মতো মস্তিষ্কের ডিজেনারেটিভ রোগ মধ্যজীবনে শুরু হয়। এ কারণে উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই মস্তিষ্ক পরীক্ষা করা উচিত। এই পরীক্ষায় ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) স্ক্যান, এমআর এনজিওগ্রাম ও ক্যারোটিড আল্ট্রাসনোগ্রাফি অন্তর্ভুক্ত। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো সংবহনের ওপর খুব বেশি নির্ভর করে এবং এসব টেস্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে সেখানে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।’

* ৪০ এর দশকে: ম্যামোগ্রাম
আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনিকোলজি স্তন ক্যানসারের স্বাভাবিক ঝুঁকির নারীদের ৪০ বছর বয়সে ম্যামোগ্রাম শুরু করতে পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু যদি আপনার কোনো ফার্স্ট-ডিগ্রি রিলেটিভের (উদাহরণস্বরূপ, মা অথবা বোন) মেনোপজপূর্ব স্তন ক্যানসার থাকে, তাহলে আপনার আরো আগে ম্যামোগ্রাম আরম্ভ করা উচিত, বলেন ডা. জ্যানোট্টি। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ক্লিনিক্যাল এমেরিটাস প্রফেসর মর্টন ট্যাভেল বলেন, ‘৭৪ বছর বয়সের পর টেস্টিং ঐচ্ছিক এবং আপনার ফিজিশিয়ানের পরামর্শ মোতাবেক সবচেয়ে ভালো উপায়টিই বেছে নিন। ইউএসপিএসটিএফের রিপোর্ট নির্দেশ করছে যে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও উদ্বেগ ছাড়াও অধিক ঘনঘন ম্যামোগ্রামের রেডিয়েশন সামান্য কিন্তু উল্লেখযোগ্য স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।’

* ৪০ এর দশকে: পিএসএ ব্লাড টেস্ট
ইউএসপিএসটিএফ পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং রিকমেন্ড করেনি এবং ডা. কারি বলেন যে এটি একটি বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত। কারণ, ‘এটি স্পষ্ট নয় যে প্রারম্ভিক পর্যায়ে এই ক্যানসার শনাক্তকরণ ফলাফলে পরিবর্তন আনতে পারে।’ আমেরিকান ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, পুরুষদের ৪৫ বছর বয়সে এই টেস্ট নিয়ে তাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। ডা. কারি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিই। রোগী ও ফিজিশিয়ান ঝুঁকি ও উপকারিতা মূল্যায়ন করবেন।’ তিনি যোগ করেন যে যদি কোনো পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকে অথবা যদি তিনি আফ্রিকান আমেরিকান হন, তার এই জাতীয় ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাই স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে।

* ৪০ এর দশকে: ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং
ইউএসপিএসটিএফ ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল প্রাপ্তবয়স্কদের অস্বাভাবিক রক্ত শর্করার জন্য স্ক্রিনিং রিকমেন্ড করছে। ডা. কারি বলেন, ‘এটি তাড়াতাড়ি শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডায়াবেটিস অনেক বছর ধরে অনির্ণীত থেকে যেতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘টাইপ ২ ডায়াবেটিসে (অ্যাডাল্ট ডায়াবেটিসের সর্বাধিক কমন টাইপ) ভোগা ব্যক্তিদের এই রোগ নির্ণীত হওয়ার পূর্বেই গড়ে ৫ বছর ধরে এটির অস্তিত্ব থাকে। এই সময়ে তাদের কোনো উপসর্গ অথবা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয় না, তাই তারা কোনোকিছুর জন্য পরীক্ষা করে না। কিন্তু এই রোগ তাদের মস্তিষ্ক, চোখ, হৃদপিণ্ড ও বৃক্কের ছোট ধমনীর ক্ষতি করছে এবং তাদের এই বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।’

* ৫০ এর দশকে: কোলনোস্কপি
নিউ ইয়র্ক সিটির গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট আলেক্স শেরম্যান বলেন, ‘আমার জানামতে, গড় ব্যক্তির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল স্ক্রিনিং হচ্ছে কোলনোস্কপি স্ক্রিনিং। এটি নিরীহ টিউমার বা পলিপ শনাক্তকরণ ও অপসারণে ভূমিকা রাখে, যা অন্যথায় ক্যানসারে রূপান্তর হতে পারে। কোলন ক্যানসারের সব ধরনের স্ক্রিনিং টেস্টের মধ্যে এটি সবচেয়ে কার্যকর, কারণ এটি শুরু থেকেই কোলন ক্যানসারের বিকাশ প্রতিরোধ করতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘৫০ বছর বয়সের প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এই টেস্ট সুপারিশকৃত। কিন্তু আফ্রিকান আমেরিকান এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য লোকদের (উদাহরণস্বরূপ, কোলন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস আছে এমন লোক) ৪৫ বছর বয়সেই কোলনোস্কপি আরম্ভ করা উচিত।’ আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, যদি আপনার রেজাল্ট স্বাভাবিক আসে, তাহলে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত আরেকটি কোলনোস্কপির প্রয়োজন নেই।

* ৫০ এর দশকে: হাড়ের ঘনত্বের স্ক্যান
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ডিপার্টমেন্ট অব রিউম্যাটিক অ্যান্ড ইমিউনোলজিক ডিজিজের সভাপতি অ্যাবি আবেলসন বলেন, ‘নারীদের মেনোপজ শুরুর দিকে প্রথম বোন ডেনসিটি স্ক্যান বা হাড়ের ঘনত্বের পরীক্ষা করা উচিত।’ পুরুষদের ৬৫ বছর বয়সের দিকে প্রথম বোন ডেনসিটি স্ক্যান করা উচিত। ডা. আবেলসন বলেন, ‘কিন্তু যদি কোনো রোগী প্রেডনিসোনের মতো স্টেরয়েড ও হাড়কে দুর্বল করে এমন ওষুধ গ্রহণ করে অথবা যদি তার প্রদাহ জনিত অন্ত্রীয় রোগের মতো দশা বা ট্রমার সঙ্গে জড়িত নয় এমন ফ্র্যাকচার থাকে, তাহলে তার খুব তাড়াতাড়ি টেস্ট প্রয়োজন হবে। আপনার ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

* ৫০ এর দশকে: শ্রবণ পরীক্ষা
নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাইভেট প্র্যাকটিসের কান, নাক ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং এনওয়াইইউ ল্যানগোন মেডিক্যাল সেন্টারের সহযোগী অধ্যাপক রিচার্ড নাস বলেন, ‘আমরা বয়স্ক হতে থাকলে আমাদের শোনার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। শ্রবণসংক্রান্ত কোনো সমস্যা হওয়ার আগেই বেইসলাইন অডিওগ্রাম অথবা শ্রবণ পরীক্ষা করা ভালো আইডিয়া, কারণ এতে শ্রবণের পরিবর্তন ও সমস্যা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা যায়।’

* ৬০ এর দশকে: পেটের অ্যানিউরিজম স্ক্রিনিং
ইউএসপিএসটিএফ ধূমপায়ী পুরুষদের পেটের অ্যাওরটিক অ্যানিউরিজমের ঝুঁকি নির্ণয় করতে একটি ওয়ান-টাইম স্ক্রিনিং করতে পরামর্শ দিচ্ছে। অ্যাওরটিক অ্যানিউরিজম হচ্ছে স্বাভাবিক মহাধমনীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, যা সাধারণত ফেটে যাওয়া ব্যতীত কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। অন্ত্রে এই বড় রক্তনালী ফেটে গেলে জীবননাশ হতে পারে। তামাকের ব্যবহার অ্যানিউরিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অ্যাবডোমিনাল অ্যাওরটিক অ্যানিউরিজম নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি বিকশিত হয় এবং ইউএসপিএসটিএফ নারীদের এই স্ক্রিনিং রিকমেন্ড করেনি। কিন্তু আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, যদি আপনি নারী হন ও অনেক বছর ধরে ধূমপান করেন- স্ক্রিনিং করাটাই ভালো আইডিয়া হতে পারে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট :http://www.risingbd.com/prescription-news/270740

পড়ুন : কোন বয়সে কোন পরীক্ষা করবেন? (প্রথম পর্ব)

আরো পড়ুন : * চিকিৎসকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের পূর্বে যা করা উচিত নয়
                     * যেসব কারণে চিকিৎসককে বয়কট করবেন



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ

কোন বয়সে কোন পরীক্ষা করবেন?

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৪ ১১:৫৭:৩৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-২৪ ২:৩৮:৫৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : যদি আপনি অসুস্থতা বা রোগ প্রতিরোধ করতে চান, তাহলে সঠিক সময়ে সঠিক স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সঠিক সময় কখন? জানতে চোখ বুলিয়ে নিন এই প্রতিবেদনে। দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* ২০ এর দশকে: শারীরিক পরীক্ষা
আপনার ২০-এ আপনি তারুণ্য ও অদম্য বা অপরাজেয় অনুভব করেন, কিন্তু এই সময়ে আপনার টু-ডু লিস্টে নিয়মিত শারীরিক চেকআপ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এসব ভিজিট আপনার চিকিৎসককে আপনার সাধারণ স্বাস্থ্যের বেইসলাইন পিকচার তৈরি করতে সাহায্য করবে। বার্মিংহামে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব আলবামা স্কুল অব মেডিসিনের জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর উইলিয়াম এ. কারি বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাস্কুলার ঝুঁকি, তামাকের ব্যবহার, অ্যালকোহল, ওষুধ, ডায়েট, ব্যায়ামের মাত্রা, ভ্যাকসিনেশন, ডিপ্রেশনের উপস্থিতি, এইচআইভি ও অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টরের জন্য সকলের নিয়মিত অ্যাসেসমেন্ট করা প্রয়োজন।’ এসব অ্যাসেসমেন্টের অধিকাংশই শারীরিক পরীক্ষার দ্বারা ট্যাকল দেওয়া যায়।

* ২০ এর দশকে: গাইনিকোলজিক্যাল পরীক্ষা
নারীদের তাদের ২০-এ পেলভিক পরীক্ষা, ক্লিনিক্যাল স্তন পরীক্ষা ও জরায়ু বা সার্ভিক্যাল ক্যানসারের জন্য স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত। বিশেষজ্ঞরাও প্যাপ স্মিয়ার বা সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিং করতে পরামর্শ দিচ্ছেন, কিন্তু সময়ের ব্যবধান কি হবে তা নির্ভর করছে আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ইতিহাসের ওপর। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গাইনিকোলজি স্পেশালিস্ট সেলেনা জ্যানোট্টি বলেন, ‘২১ থেকে ২৯ পর্যন্ত প্রতি তিন বছর পরপর প্যাপ স্মিয়ারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যদি টেস্ট স্বাভাবিক হয়। ৩০ থেকে ৬৫ পর্যন্ত প্রতি পাঁচ বছর পরপর হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টেস্টের সঙ্গে সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিং প্রয়োজন, যদি আপনার অস্বাভাবিক প্যাপ স্মিয়ারের কোনো ইতিহাস না থাকে।’

* ২০ এর দশকে: এসটিডি স্ক্রিনিং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস টাস্ক ফোর্স (ইউএসপিএসটিএফ) অনুসারে, আপনার ২০-এ বা এর পূর্বে (আপনি যত আগে সেক্সুয়ালি অ্যাকটিভ হবেন), আপনার নিয়মিত সেক্সুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) বা যৌন সংক্রমিত রোগের জন্য চেকআপ করা উচিত। এ সংস্থার চিকিৎসকদের ভলান্টিয়ার প্যানেল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃত বিশেষজ্ঞরা এসব সমস্যার জন্য টেস্ট ও স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন। যদি আপনি আপনার পরবর্তী বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষার পূর্বে যৌনসঙ্গী পরিবর্তন করেন অথবা যদি আপনি ঘনঘন সঙ্গী বদলান, তাহলে আপনার ঘনঘন এসটিডি স্ক্রিনিং করানো উচিত।

* ২০ এর দশকে: হাইপারটেনশন স্ক্রিনিং
ফ্লোরিডার মিয়ামির ফ্যামিলি মেডিসিনের চিকিৎসক তেজভি দোরন বলেন, ‘ইউএসপিএসটিএফ ১৮ বছরের ওপরের লোকদের নিয়মিত হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপের জন্য স্ক্রিনিং করতে পরামর্শ দিচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ আছে। যদি চিকিৎসা করা না হয়, এই অবস্থা হৃদরোগ, অ্যানিউরিজম, এমনকি স্ট্রোকের দিকে চলে যেতে পারে। এটি ডায়াগনোসিস করা সহজ: কয়েক মিনিটেই রক্তচাপের পরীক্ষা করা যায়, কিন্তু তরুণ বয়সেই এটির টেস্ট শুরু করা উচিত, যাতে আপনার চিকিৎসক বেইসলাইন রিডিং করতে পারেন।

* ২০ এর দশকে: দাঁতের পরীক্ষা
আপনার দাঁত হলো আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জানালা, যার মানে হচ্ছে নিয়মিত দাঁতের পরীক্ষা ও ক্লিনিং গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, আপনার স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলে প্রতি ছয়মাস পরপর ক্লিনিং ও মুখের পরীক্ষা থাকা উচিত।

* ২০ এর দশকে: কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে একটি লিপোপ্রোটিন প্রোফাইল টেস্ট করতে পরামর্শ দিচ্ছে। এই স্ক্রিনিং আপনার অপকারী কোলেস্টেরল বা এলডিএল ও উপকারী কোলেস্টেরল বা এইচডিএল এবং মোট কোলেস্টেরল পরিমাপ করবে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও ২০ বছর বয়সে কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং শুরু করতে পরামর্শ দিচ্ছে। ডা. কারি বলেন, ‘যদি আপনার প্রথম পরীক্ষা স্বাভাবিক হয়, তাহলে পরবর্তী পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় আপনার আরেকটি কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং প্রয়োজন নেই।’ যদি আপনার চিকিৎসক বলে যে আপনি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকিতে আছেন, তাহলে আপনার ঘনঘন কোলেস্টেরল চেক করার প্রয়োজন হবে।

* ৩০ এর দশকে: স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং
কখন ত্বক পরীক্ষা করা উচিত তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইউএসপিএসটিএফ’র মতে, বয়স ৩০ হলেই স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি ধারণা করছে যে, স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং জীবন রক্ষা করতে পারে এবং তারা কত সময় পরপর আপনার মোল বা তিল বা আঁচিল পরীক্ষা করতে হবে তা নির্ণয়ের জন্য কোনো ডার্মাটোলজিস্টের সঙ্গে আপনার সূর্যের নিচে কাটানো সময়ের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে পরামর্শ দিচ্ছেন। বয়স ৩০ হয়নি এমন লোকদের অধিকাংশেরই ত্বক পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে বয়স ২০ হলেই স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত। যদি আপনার স্কিন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকে অথবা যদি আপনার ত্বক সাদা হয় অথবা যদি আপনার সন্দেহজনক তিল বা আঁচিল থাকে, তাহলে আপনার বার্ষিক স্কিন স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে, অন্যদের ক্ষেত্রে কয়েকবছরে একবার ত্বক পরীক্ষা করলে চলবে।

* ৩০ এর দশকে: চোখ পরীক্ষা
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথ্যালমোলজি আপনার বয়স ৪০ হলেই চোখ পরীক্ষা করতে পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু জ্যামাইকা হসপিটাল মেডিক্যাল সেন্টার ও লিনক্স হিল হসপিটালে কর্মরত নিউ ইয়র্কের অপথ্যালমোলজিস্ট জেফ্রি প্যাশিওন আরো আগে এসব স্ক্রিনিং শুরু করতে সাজেস্ট করছেন। তিনি বলেন, ‘এই বয়সটা চোখের মনিটরিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং চোখের যেকোনো পরিবর্তনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, যা সমস্যার সংকেত দিতে পারে। অনেক চোখের রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ থাকে না, যেমন- গ্লুকোমা ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। কিন্তু যদি আপনি কোনো রোগ বা দশা খুব তাড়াতাড়ি ধরতে পারেন, তাহলে আপনি এটির অবস্থা আরো খারাপ হওয়া থেকে প্রতিরোধ করতে পারবেন এবং এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানো থেকেও।’

(আগামী পর্বে সমাপ্য)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ

যেসব কারণে চিকিৎসককে বয়কট করবেন (শেষ পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০১ ৭:৫৩:৩৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-০১ ১:২১:০৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল: চিকিৎসাসেবা মহৎ পেশা। চিকিৎসকরা অসুস্থ মানুষকে সেবা দিয়ে সুস্থ করেন কিংবা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষের ধারণা, চিকিৎসকরা রোগীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেন। সব চিকিৎসক এমন নন। কিছু চিকিৎসকের অসততার কারণে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

অসৎ বা খারাপ মনোবাসনাপূর্ণ চিকিৎসক চেনার অনেক উপায় রয়েছে। অসৎ চিকিৎসকদের চেনার ১৪টি লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন না : একজন ভালো চিকিৎসক অবশ্যই তার রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কথা ভালোমতো না শুনে যে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লিখতে বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যস্ত থাকেন তাকে বর্জন করতে পারেন। আপনার চিকিৎসক আপনার কথা না শুনলে তার কাছ থেকে ভালো সেবা আশা করতে পারেন না।

* অন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুৎসাহিত করে : এমডি ইনসাইডারের সিইও ডেভিড নরিস বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীর রোগ নির্ণয়ে ভুল হয়। এটি অবধারিতভাবে ভালো চিকিৎসকের লক্ষণ নয়। যেহেতু মেডিসিন একটি জটিল বিজ্ঞান তাই আপনার ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয় সঠিক হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে সেকেন্ড অপিনিয়ন বা অন্য কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ভালো চিকিৎসকরা আপনাকে রেফারেলও দিতে পারেন। কিন্তু যদি আপনার চিকিৎসক তার কথার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন যে অন্য কোনো অপিনিয়নের প্রয়োজন নেই, তাহলে অন্য চিকিৎসকের কাছে যান।

* রোগ নির্ণয়ে বারবার ভুল টেস্ট : রোগ নির্ণয়ে যেখানে একবার ভুল টেস্ট হওয়া কঠিন, সেখানে বারবার ভুল টেস্ট দেওয়া হলে নিশ্চিত হতে পারেন, কোনো মারাত্মক ভুল হচ্ছে। আপনার চিকিৎসক আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য যথেষ্ট সময় না নিলে, সঠিক ইতিহাস অনুসন্ধান না করলে, অফিসের কার্যপ্রণালী ত্রুটিপূর্ণ হলে অথবা তিনি অনভিজ্ঞ হলে কিংবা অন্যান্য সমস্যা থাকলে রোগ নির্ণয়ে ভুল টেস্ট দেওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনার এমন চিকিৎসকের খোঁজ করা উচিৎ যিনি আপনার স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকৃত উৎস নির্ণয় করতে সমর্থ।

* নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ সেবনে পরামর্শ : নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, ৯৪ শতাংশ চিকিৎসকের সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কোনো না কোনোভাবে সম্পর্ক আছে। যার মানে হচ্ছে- তারা ফ্রি স্যাম্পল, গিফট অথবা কোনো নির্দিষ্ট ওষুধের জন্য মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে পেমেন্ট পেয়ে থাকে। এটি তাদের প্রেসক্রিপশনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। কোনো নতুন ওষুধ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া ভিন্ন কথা, কিন্তু যদি আপনার চিকিৎসক আপনাকে সবসময় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ সেবনে পরামর্শ দেন, তাহলে অন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

* অযথা ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব: যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ওপিওইড (আফিম জাতীয় ওষুধ) ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সেখানে মধ্যবয়সি ব্যক্তিদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে ওপিওইডের অতিমাত্রায় ব্যবহার। এখনো বিশেষজ্ঞরা এর জন্য দায়ী কে তা অনুসন্ধান করছে, কিন্তু এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে যেসব চিকিৎসক ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন তারাও এর অংশ। কেউই দীর্ঘস্থায়ী ও অত্যধিক ব্যথা চায় না, কিন্তু আপনার চিকিৎসকের উচিৎ হবে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থার প্রেক্ষিতে সীমিত পরিমাণে এ জাতীয় ব্যথানাশক প্রেসক্রাইব করা, অন্যথায় এতে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* হাত অপরিষ্কার রাখেন : বর্তমানে রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে হ্যান্ডওয়াশিং বা হাতধোয়া। এ বিষয়ে জানা সত্ত্বেও অনেক চিকিৎসক রোগী দেখার আগে হাত ধোয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলেন। এক গবেষণায় জানা যায়, মাত্র ২২ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে হ্যান্ডওয়াশ করেন। আপনার চিকিৎসকের অফিসে হ্যান্ড-স্যানিটাইজিং জেল বা সাবান এবং প্রত্যেক রোগীর রুমে পানি থাকা উচিৎ। আপনাকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বে চিকিৎসক হাত ধুয়ে নিচ্ছেন কিনা লক্ষ্য করুন।

* প্রয়োজনীয় সনদ না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা প্রদান: ভুয়া চিকিৎসক এড়াতে আপনি যে বিষয়ে সেবা নিতে চান সে বিষয়ে আপনার চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় সনদ আছে কিনা নিশ্চিত হোন। এমন চিকিৎসকের অনুসন্ধান করুন যিনি আপনার সমস্যা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ। সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা পেতে বোর্ড-সনদপ্রাপ্ত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : যেসব কারণে চিকিৎসককে বয়কট করবেন (প্রথম পর্ব)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ/মারুফ

যেসব কারণে চিকিৎসককে বয়কট করবেন (শেষ পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০১ ৭:৫৩:৩৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-০১ ১:২১:০৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল: চিকিৎসাসেবা মহৎ পেশা। চিকিৎসকরা অসুস্থ মানুষকে সেবা দিয়ে সুস্থ করেন কিংবা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষের ধারণা, চিকিৎসকরা রোগীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেন। সব চিকিৎসক এমন নন। কিছু চিকিৎসকের অসততার কারণে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

অসৎ বা খারাপ মনোবাসনাপূর্ণ চিকিৎসক চেনার অনেক উপায় রয়েছে। অসৎ চিকিৎসকদের চেনার ১৪টি লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন না : একজন ভালো চিকিৎসক অবশ্যই তার রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কথা ভালোমতো না শুনে যে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লিখতে বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যস্ত থাকেন তাকে বর্জন করতে পারেন। আপনার চিকিৎসক আপনার কথা না শুনলে তার কাছ থেকে ভালো সেবা আশা করতে পারেন না।

* অন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুৎসাহিত করে : এমডি ইনসাইডারের সিইও ডেভিড নরিস বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীর রোগ নির্ণয়ে ভুল হয়। এটি অবধারিতভাবে ভালো চিকিৎসকের লক্ষণ নয়। যেহেতু মেডিসিন একটি জটিল বিজ্ঞান তাই আপনার ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয় সঠিক হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে সেকেন্ড অপিনিয়ন বা অন্য কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ভালো চিকিৎসকরা আপনাকে রেফারেলও দিতে পারেন। কিন্তু যদি আপনার চিকিৎসক তার কথার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন যে অন্য কোনো অপিনিয়নের প্রয়োজন নেই, তাহলে অন্য চিকিৎসকের কাছে যান।

* রোগ নির্ণয়ে বারবার ভুল টেস্ট : রোগ নির্ণয়ে যেখানে একবার ভুল টেস্ট হওয়া কঠিন, সেখানে বারবার ভুল টেস্ট দেওয়া হলে নিশ্চিত হতে পারেন, কোনো মারাত্মক ভুল হচ্ছে। আপনার চিকিৎসক আপনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য যথেষ্ট সময় না নিলে, সঠিক ইতিহাস অনুসন্ধান না করলে, অফিসের কার্যপ্রণালী ত্রুটিপূর্ণ হলে অথবা তিনি অনভিজ্ঞ হলে কিংবা অন্যান্য সমস্যা থাকলে রোগ নির্ণয়ে ভুল টেস্ট দেওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনার এমন চিকিৎসকের খোঁজ করা উচিৎ যিনি আপনার স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকৃত উৎস নির্ণয় করতে সমর্থ।

* নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ সেবনে পরামর্শ : নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, ৯৪ শতাংশ চিকিৎসকের সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কোনো না কোনোভাবে সম্পর্ক আছে। যার মানে হচ্ছে- তারা ফ্রি স্যাম্পল, গিফট অথবা কোনো নির্দিষ্ট ওষুধের জন্য মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে পেমেন্ট পেয়ে থাকে। এটি তাদের প্রেসক্রিপশনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। কোনো নতুন ওষুধ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া ভিন্ন কথা, কিন্তু যদি আপনার চিকিৎসক আপনাকে সবসময় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ সেবনে পরামর্শ দেন, তাহলে অন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

* অযথা ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব: যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ওপিওইড (আফিম জাতীয় ওষুধ) ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সেখানে মধ্যবয়সি ব্যক্তিদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে ওপিওইডের অতিমাত্রায় ব্যবহার। এখনো বিশেষজ্ঞরা এর জন্য দায়ী কে তা অনুসন্ধান করছে, কিন্তু এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে যেসব চিকিৎসক ব্যথানাশক ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন তারাও এর অংশ। কেউই দীর্ঘস্থায়ী ও অত্যধিক ব্যথা চায় না, কিন্তু আপনার চিকিৎসকের উচিৎ হবে কোনো নির্দিষ্ট অবস্থার প্রেক্ষিতে সীমিত পরিমাণে এ জাতীয় ব্যথানাশক প্রেসক্রাইব করা, অন্যথায় এতে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* হাত অপরিষ্কার রাখেন : বর্তমানে রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে হ্যান্ডওয়াশিং বা হাতধোয়া। এ বিষয়ে জানা সত্ত্বেও অনেক চিকিৎসক রোগী দেখার আগে হাত ধোয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলেন। এক গবেষণায় জানা যায়, মাত্র ২২ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে হ্যান্ডওয়াশ করেন। আপনার চিকিৎসকের অফিসে হ্যান্ড-স্যানিটাইজিং জেল বা সাবান এবং প্রত্যেক রোগীর রুমে পানি থাকা উচিৎ। আপনাকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বে চিকিৎসক হাত ধুয়ে নিচ্ছেন কিনা লক্ষ্য করুন।

* প্রয়োজনীয় সনদ না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা প্রদান: ভুয়া চিকিৎসক এড়াতে আপনি যে বিষয়ে সেবা নিতে চান সে বিষয়ে আপনার চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় সনদ আছে কিনা নিশ্চিত হোন। এমন চিকিৎসকের অনুসন্ধান করুন যিনি আপনার সমস্যা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ। সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা পেতে বোর্ড-সনদপ্রাপ্ত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : যেসব কারণে চিকিৎসককে বয়কট করবেন (প্রথম পর্ব)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ/মারুফ

No comments:

Post a Comment