Wednesday, October 31, 2018

highest statue in India

বিশ্বের উচ্চতম ভাস্কর্য উদ্বোধন করলো ভারত

সাইফুল আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-৩১ ১:১৩:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-৩১ ৩:০৪:২১ পিএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের উচ্চতম ভাস্কর্য উদ্বোধন করলো ভারত। ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ নামের ৫৯৭ ফুট (১৮২ মিটার) উচ্চতার এ ভাস্কর্য বুধবার উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য ছিল গৌতম বুদ্ধের সম্মানে তৈরি চীনের ‘স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ’, যার উচ্চতা ৪২০ ফুট (১২৮) মিটার। এছাড়া স্ট্যাচু অব ইউনিটি উচ্চতায় নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টির দ্বিগুণ।

ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সরদার বল্লবভাই প্যাটেলের এ মূর্তিটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছে ২,৯৮৯ কোটি রুপি। ভাস্কর্যটির নকশা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত ভাস্কর রাম ভি সুতার।

সরদার বল্লবভাই প্যাটেল ভারত থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়ণ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যকে নিয়ে একটি দেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এজন্য তার ভাস্কর্যের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’। বল্লভ ভাই প্যাটেলের ১৪৩তম জন্মদিবসে স্ট্যাচু অব ইউনিটি'র উদ্বোধন করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

গুজরাটের রাজ্যের নর্মদা জেলায় সর্দার সরোবর ড্যামের কাছে সাধু বেট আইলেটে পাঁচ বছরের চেষ্টায় এই মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি ২০ হাজার বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছে। এটিকে ঘিরে রয়েছে ১২ কিলোমিটার একটি কৃত্রিম হ্রদ।

‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ মূর্তি ছাড়াও প্যাটেল মেমোরিয়াল প্রজেক্টের আওতায় সেখানে একটি তিন তারকা হোটেল, একটি জাদুঘর ও একটি গবেষণা কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করে বলেন, ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ ভারতে অন্যতম পর্যটক স্থান হিসেবে লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এটি ভারতের একাগ্রতা ও দৃঢ়তার প্রতীক।’

তবে অনেক ভারতীয়র মত হলো, এই ভাস্কর্য জনগণের অর্থের ব্যাপক অপচয়। এই অর্থ দিয়ে ভালো কিছু করা যেত, যা জনগণের উপকারে আসত। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই মূর্তি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এ কারণে সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বুধবার ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের সময় অর্থ অপচয়ের প্রতিবাদে গুজরাট জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। অনেক জায়গায় প্রতিবাদকারীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন এবং নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি নেতাদের কুশপুতুল দাহ করেন। প্রতিবাদ ঠেকাতো হাজারো পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ প্রতিবাদকালে বেশ কয়েকজন কৃষক ও উপজাতি মানবাধিকার কর্মীকে আটক করেছে।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এ অঞ্চলের লোকজন কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেখানে সেচের সংকট রয়েছে। হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদের জন্য মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করেন। দীর্ঘ খরার কারণে পানির জন্য হাহাকার চলে। অথচ কৃষিকাজের জন্য পানি সেচের ব্যবস্থা না করে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মূর্তি নির্মাণ অযৌক্তিক।

প্রসঙ্গত, এর আগে সর্বোচ্চ স্ট্যাচুর রেকর্ড ছিল চীনের। স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ নামের ওই স্ট্যাচুর উচ্চতা ১২৮ মিটার। বর্তমানে সেটিকে হটিয়ে সর্বোচ্চ স্ট্যাচু এখন ভারতের স্ট্যাচু অব ইউনিটি। উচ্চতার দিকে থেকে তৃতীয় জাপানের ১২০ মিটার উঁচু উশিকু দায়বাসু, চতুর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ৯৩ মিটার উঁচু স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে রাশিয়ার ৮৫ মিটার উঁচু হোমল্যান্ড মাদার।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ অক্টোবর ২০১৮/সাইফুল/এনএ

Friday, October 19, 2018

largest online fair in dhaka 2018

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন মেলা এখন বাংলাদেশে

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ৯:১১:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৮ ৯:১১:৫৮ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার দেশের শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইট দারাজ (www.daraz.com.bd), বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিয়ে এলো ‘বিশ্বের বৃহত্তম সেল ডে-১১.১১।’

আগামী ১১ নভেম্বর ২৪ ঘণ্টার জন্য দারাজ ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে অনলাইনে পণ্য কেনার বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

২০০৯ সালে চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ১১.১১ নামের ক্যাম্পেইন চালু করে। চলতি বছর দারাজকে আলিবাবা কেনা নেওয়ায় এবার এই সুযোগ পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রেতারা।

‘১১.১১’ ক্যাম্পেইনটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন কেনাকাটা উৎসব। এটি ‘অ্যামাজন প্রাইম ডে’র তুলনায় ১৮ গুণ বড় এবং ব্ল্যাক ফ্রাইডের তুলনায় আড়াই গুণ বড়। ১ দিনের এই ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৮৩% পর্যন্ত মূল্যছাড় পাওয়া যাবে দারাজে। এই ইভেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হল- ১১ টাকায় ডিল (১১ টাকায় পণ্য কেনা যাবে), মিস্ট্রি বক্স, ডাবল টাকা ভাউচার, ফ্ল্যাশ সেল, ব্র্যান্ড ভাউচার, ব্যাংক ডিসকাউন্ট এবং আরো অনেক কিছু।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এই বিশাল ক্যাম্পেইন উপলক্ষে দারাজ বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ মোস্তাহিদল হক বলেন, ‘১১.১১ ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশের ই-কমার্স ইতিহাসে একটি অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ১১.১১ ক্যাম্পেইনটি শুধুমাত্র ডিল এবং ছাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সমগ্র ডিজিটাল ইকো সিস্টেমের মধ্যে আনবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পার্সোনালাইজেশন, বিনোদন, আকর্ষণীয় ডিল, সুরক্ষিত পেমেন্ট সমাধান এবং ৪ লাখেরও বেশি একটি পণ্যভাণ্ডার।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/ফিরোজ

Food and diseases info

যে ৯ খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ১০:২৯:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৮ ১০:২৯:৫২ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : আপনি সম্ভবত ইতোমধ্যে জানেন যে, কিছু খাবার ফিটনেস ও হার্টের জন্য ভালো নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে, জাঙ্ক ফুড ও অন্যান্য কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। এখানে আপনার যা জানা প্রয়োজন তা দেওয়া হলো।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণ
আপনার খাদ্যতালিকা উন্নত করার জন্য অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু গবেষণা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, কিছু ক্যানসার বিকাশের ঝুঁকি কমানো হতে পারে সর্বোত্তম কারণ। উচ্চ চিনি, চর্বি ও লবণ সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনাকে স্থূলতা ও এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অবস্থা যেমন- ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রাখে। সম্প্রতি পিএলওএস মেডিসিন নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় নিম্ন পুষ্টির খাবার এবং কিছু ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে কিছু কথা
গবেষকরা নিউট্রি-স্কোর লোগে নামে পরিচিত যুক্তরাজ্যের নিউট্রিশনাল লেবেলিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করেন, যা ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছে। এই গবেষণায় ৪৭০,০০০ এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের খাবার মূল্যায়ন করা হয়। অন্যান্য ফ্যাক্টর (যেমন- এক্সারসাইজ না করা এবং ধূমপান করা) সংশোধন করার পরও গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক সবচেয়ে কম স্কোরের খাবার খেয়েছিল তাদের পাকস্থলী, কোলরেক্টাল, শ্বাসনালী, ফুসফুস, যকৃত ও মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকি ছিল।

খাবারকে ভয় পাবেন না
এই গবেষণা এটি ইঙ্গিত করছে না যে, মাঝেমাঝে এসব খাবার খাওয়া আপনার মৃত্যুর কারণ হবে। বরঞ্চ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়ত নিম্নমানের ডায়েটের ওপর থাকাই হচ্ছে সমস্যা: যদি আপনি নিয়মিত চর্বিহীন প্রোটিন, হোল গ্রেন, ফল ও শাকসবজি না খান এবং এর পরিবর্তে উচ্চ চর্বি, চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান- তাহলে আপনার খাদ্যতালিকা পুনরায় বিবেচনা করার সময় হয়েছে।

এখানে কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা এড়িয়ে চললে, বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে।

* বারবিকিউ
গ্রিল প্রেমিকেরা, সাবধান। অত্যধিক মাংস (বিশেষ করে, অত্যধিক রান্নাকৃত মাংস) ভোজনের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, বলেন আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির এপিডেমিওলজি রিসার্চের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর মিয়া গডেট। সমস্যা হচ্ছে, গ্রিলের ওপর মাংস রান্না করলে পিএএইচ নামক কার্সিনোজেনিক কম্পাউন্ড উৎপন্ন হতে পারে, তিনি বলেন। ফ্লেইম-ব্রয়েলড (সরাসরি তাপ প্রয়োগে রান্না) বার্গার বা স্টিকের পোড়া দাগ হচ্ছে কেমিক্যালের লক্ষণ যা খেতে যতটা সুস্বাদু, স্বাস্থ্যের জন্য তার চেয়েও বেশি খারাপ। গবেষণায় যেসব ইঁদুরকে এসব কম্পাউন্ড সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছিল তাদের ক্যানসারযুক্ত টিউমার বিকশিত হয়েছিল। এমনকি পোড়া টোস্টেও অল্প পরিমাণে এসব কম্পাউন্ড থাকে, বলেন গডেন। তাই যদি আপনি নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নাকৃত মাংস খান, তাহলে বিকল্প পদ্ধতির খাবার গ্রহণের কথা বিবেচনা করুন।

* গাঁজানো খাবার
উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ ও পরিপাকতন্ত্রের উপকারিতার কারণে গাঁজানো খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব খাবারের উচ্চ লবণের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সংযোগ থাকতে পারে। গবেষণায় এশিয়ার লোকদের মধ্যে ক্যানসারের উচ্চ হার পাওয়া গেছে যারা প্রচুর গাঁজানো খাবার (যেমন-স্মোকড ফিশ) খেত, বলেন মেডিক্যাল অফিসেস অব ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট সেগাল।

* চারকুটেরি
সসেজ, ব্যাকন, হ্যাম ও স্যালামির মতো মাংস সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নাইট্রাইটস গঠন করে। গবেষকরা পেয়েছেন যে, এই কম্পাউন্ড কোলন ও অন্যান্য ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, বলেন গডেট। এ কারণে এসিএস (আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি) গাইডলাইন আপনার ডায়েটে প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত করার জন্য সুপারিশ করছে। স্মোকিং, সল্টিং অথবা কিউরিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত মাংস কম খান।

* অ্যালকোহলিক পানীয়
অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি বড় ফ্যাক্টর। পরিমিত থেকে উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, বলেন গডেট। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এক সার্ভিংয়ের বেশি অ্যালকোহল পান করতে নিষেধ করছেন।

* লাল মাংস
যেকোনো ধরনের লাল মাংস (যেমন- গরুর মাংস, শূকরের মাংস, ভেড়ার মাংস) আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতি সপ্তাহে ১৮ আউন্সের বেশি লাল মাংস ভক্ষণ আপনার কোলরেক্টাল ক্যানসার বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ অনুসারে। এ কারণে অধিকাংশ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় আপনার ডায়েটের বেশিরভাগ প্রোটিন উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন- বিনস ও টফু) থেকে পেতে সুপারিশ করছে।

* কোমল পানীয়
গবেষকরা এখনো চিনি ও ক্যানসারের মধ্যে সংযোগ নিয়ে তদন্ত করলেও অত্যধিক চিনি ভোজন নিশ্চিতভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার শরীরে যত বেশি চর্বি থাকবে, আপনার ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তত বেশি হবে এবং এটি স্তন ক্যানসার ও প্রজননাঙ্গে ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে, ডা. সেগাল সতর্ক করেন।

* মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন
প্রায়ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ্যাবল পপকর্ন ব্যাগে লাইনার হিসেবে ননস্টিক কোটিং ব্যবহার করা হয়। ননস্টিক কোটিংয়ে পিএফওএ নামক কেমিক্যাল থাকে। প্রাণীর ওপর চালানো গবেষণায় পাওয়া যায়, এই কেমিক্যাল যকৃত, অণ্ডকোষ ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ঘরে বানানো পপকর্ন খেতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প লাইনারের পপকর্ন খেতে পারেন।

* ক্যানড টমেটো ও সস
উৎপাদকরা কিছু প্লাস্টিকে বিসফেনল এ (বিপিএ) ব্যবহার করে। খাবারের ক্যানেও এটি ব্যবহার করা হয়। সমস্যা? বিপিএ শরীরে সেক্স হরমোনের প্রাকৃতিক উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। টমেটোর উচ্চ অম্লতা ক্যান থেকে এই কেমিক্যাল টমেটো বা সসের সঙ্গে মেশাতে পারে। আপনি ক্যানড টমেটোর পরিবর্তে তাজা টমেটো ও অম্লতাযুক্ত সাইট্রাস ফল পছন্দ করতে পারেন।

* গরম পানীয়
কফি ও চা নিয়ে প্রচুর মতভেদ রয়েছে, কারণ উভয়ের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনের তালিকা থেকে কফি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু গবেষণা উল্লেখ করেছে, ১৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রায় পানীয় পরিবেশন খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। গবেষকরা ধারণা করছেন যে উচ্চ তাপমাত্রা টিস্যু ড্যামেজ করতে পারে, যার ফলে এটিতে ক্যানসারযুক্ত লেশন (লেশন হচ্ছে অস্বাভাবিক টিস্যুর অংশ, যা বিনাইন অথবা ক্যানসারযুক্ত হতে পারে) বিকাশের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অধিকাংশ বাণিজ্যিক পানীয় ১৪০-১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট রেঞ্জে পরিবেশন করা হয়। তাই গরম পানীয় পানের পূর্বে এটিকে পর্যাপ্ত ঠান্ডা হতে দিন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/ফিরোজ

Ayub baccu fly in sky ...

উড়াল দেব আকাশে

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ৭:১১:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৯ ৮:০৯:১৬ এএম
আরিফ সাওন : ‘অভিলাষী আমি, অভিমানী তুমি/হাজারো স্বপ্ন নিয়ে সবকিছু ভুলে গিয়ে/পৃথিবীতে বসে আছি সংসার সাজিয়ে/জানে অন্তরযামী, কে বা আগে পরে/সবাইকে একা করে চলে যাবো অন্ধ ঘরে/এই শহর গাড়ি বাড়ি কিছুই যাবে না/আর কত এভাবে আমাকে কাঁদাবে/আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেব আকাশে।’

উড়াল দেব! হ্যাঁ, সত্যিই তিনি উড়াল দিয়ে দিয়েছেন। এই শহর গাড়ি, বাড়ি, হাজারো স্বপ্ন সব রেখে, অগণিত ভক্তকে চোখের জলে ভিজিয়ে চলে গেলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু।

সবাইকেই যেতে হবে। কেউ আগে যাবে আর কেউ পরে। তবে কে কখন যাবে তা শুধু সৃষ্টিকর্তাই জানেন। এটা মনে প্রাণে উপলব্ধি করেছেন এই জনপ্রিয় তারকা। তিনি উপলব্ধি করলেও কারো কারো হঠাৎ চলে যাওয়া মানতে বা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় অনেকের। তেমনি, বাচ্চুর চলে যাওয়াও মানতে পারছেন না তার ভক্তরা। শোকের কালো ছায়ায় মন খারাপের বাড়ি বসে কাঁদছেন তারা। আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি এ যেন ভক্তের অসীম অস্পর্শী ভালোবাসা।

আইয়ুব বাচ্চু একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, প্লেব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেনের সাথে আইয়ুব বাচ্চুর ছিল খুব সখ্যতা। রুবেল তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বাচ্চু ভাই আপনি আর আপনার গানগুলো বেঁচে থাকবে কোটি মানুষের হৃদয়ে অনন্তকাল।’

এর আগে আইয়ুর বাচ্চুর মৃত্যুর খবরে রুবেল হোসেন  ফেসবুকে আইয়ুব বাচ্চুর সাথে একটি ছবি পোস্ট করে স্ট্যাটাস দেন। ‘ইন্না ইলাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন। সত্যি মানতে পারছি না আমি ছোটবেলা থেকেই জেমস ভাই বাচ্চু ভাই এদের গান শুনি। আমি বাচ্চু ভাইয়ের বিশাল বড় একজন ফ্যান। সেদিনও টিভিতে তার কনসার্ট দেখছিলাম। আল্লাহ এটা কি হয়ে গেল আসলে সবাইকে চলে যেতে হবে একদিন এটাই বাস্তবতা তার জন্য সবাই দোয়া করবেন.. আল্লাহ যেন প্রিয় শিল্পীকে বেহেশত নসীব করেন আমিন।’

বাংলাদেশ দলের এই পেসারেরও আইয়ুব বাচ্চুর গানের প্রতি রয়েছে দুর্বলতা। নিজের রয়েছে একটি ব্যান্ড দল। জাতীয় টিমে আসার পর প্রিয় শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে গান গেয়ে শোনান রুবেল হোসেন। তার গানে মুগ্ধ হন আইয়ুব বাচ্চু।

জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফিও আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তার একটি গানের দুটি লাইন লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘সবাইকে একা করে চলে যাবো অন্ধ ঘরে/এই শহর গাড়ি বাড়ি কিছুই যাবে না।’

শুধু ক্রিকেটাররা নন। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আইয়ুব বাচ্চুর ডাক নাম রবিন। ভক্তদের কাছে তিনি এবি নামে পরিচিত। যখন তিনি পারফর্ম করতেন তার মাথার এবি লেখা ক্যাপ দেখা যেতো। সবশেষ গত পরশু রংপুরে স্টেজ পারফর্ম করার সময়ও তার মাথায় এবি লেখা ক্যাপ দেখা যায়। শিকড়ের সন্ধানে মেগা কনসার্ট-২০১৮ তে রংপুরে আইয়ুব বাচ্চুর গান দিয়েই কনসার্ট শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে আইয়ুব বাচ্চুকে অচেতন অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ রয়ে যাবে তার গান। গানের মাঝে বেঁচে থাকবেন আইয়ুব বাচ্চু।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/সাওন/সাইফ

Ayub baccu info

Long years my history during work as hed of Operations in Fantasy Kingdom till Feb 2005. still live and feel touch baccu vi ..... seen as a big heart gentleman ...pls  pray for him  আজ আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা, দাফন কাল

সাইফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৯ ৮:৪৯:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৯ ১:০৪:১৮ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক : কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর রাতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে চট্টগ্রামে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শনিবার পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে নাট্যব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে শুক্রবার জানাজার জন্য জাতীয় ঈদগাহে নেওয়া হবে। সেখান থেকে মরদেহ এনে আবার স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। এরপর শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে যাবেন তার জন্মস্থান চট্টগ্রামে। সেখানে শনিবার জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তার দাফন হবে।

প্রসঙ্গত, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। চলো বদলে যাই, ফেরারি মন, এখন অনেক রাত, হকার, আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি, বাংলাদেশসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ অক্টোবর ২০১৮/সাইফ

আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ শহীদ মিনারে

সাইফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৯ ১০:৫১:১৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৯ ২:০১:৪৯ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে তার মরদেহ। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মগবাজারে তাঁর নিজের স্টুডিও এবি কিচেনে। আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে এই শিল্পীর মরদেহ ফের হিমঘরে রাখা হবে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও ছেলে আহনাফ তাজোয়ার আইয়ুব দেশে আসার পর চট্টগ্রামে শনিবার মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আইয়ুব বাচ্চু।

প্রসঙ্গত, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। চলো বদলে যাই, ফেরারি মন, এখন অনেক রাত, হকার, আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি, বাংলাদেশসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ অক্টোবর ২০১৮/সাইফ

Thursday, October 18, 2018

we , A bachu vi noor vi memory in fantasy kingdom ..

মন খারাপের সময় আমি আপনার গানটা গাই

আবদুন নূর তুষার : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ৪:১১:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৮ ৫:৩৯:৫৩ পিএম
||আবদুন নূর তুষার||

আইয়ুব বাচ্চুর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। ছাত্রলীগ মেডিক্যাল কলেজ শাখার নবীনবরণ। সোলস এসেছে, আইয়ুব বাচ্চু, নকিব খান, তপন চৌধুরী, নাসিম, রনি ...। সোলস, মাদার অব ব্যান্ডস ইন বাংলাদেশ। মঞ্চে আমাকে দেখে বাচ্চু ভাই বলেন, কি ডাক্তার। আমি তখন প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমাকে প্রথম ডাক্তার বলে ডেকেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর আর সেই ডাক কখনো বদলে যায় নাই।

বাচ্চু ভাইয়ের মায়ের অসুখ, ভাইয়ের অসুখ, ওষুধ খাওয়ানোর আগে বাচ্চু ভাই আমাকে ফোন করতেন।

শুভেচ্ছার দ্বিতীয় অনুষ্ঠানে গান গাইলেন বাচ্চু ভাই। সেই তুমি... প্রথম অনুষ্ঠানে মাইলসকে ডেকে আনায় তার অভিমান।

কি ডাক্তার? ভাইকে বাদ দিয়ে ম্যাগাজিন বানিয়ে ফেললেন? রসিকতা করে বললেন, আমরা চাটগাইয়া তো , ইংলিশ ভালো পারি না। বলে হা হা হা করে হাসলেন। এরপর শুভেচ্ছার প্রতিটি বিশেষ অনুষ্ঠান, ঈদ এবং প্রতি চারমাসে একবার বাচ্চু ভাই গান গাইতেন।

তার সলো বের হলো, ‘কষ্ট’। ঈদের অনুষ্ঠান শুভেচ্ছায় তিনি গাইলেন। আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি, উড়াল দেবো আকাশে, হাসতে দেখো গাইতে দেখো, সুখেরি পৃথিবী, নির্ঘুম রাত, ঘুম ভাঙ্গা শহরে, দরজার ওপাশে, সাড়ে তিনহাত মাটি, বাংলাদেশ.... কত যে গান। বিপাশার জন্য শচীনের গান ট্র্যাক করে দিলেন। শুভেচ্ছার ঈদ অনুষ্ঠান, আনন্দমেলার টাইটেল।

বাচ্চু ভাইয়ের এবি কিচেনের চটপটি আর ফুচকা, তার সাথে বিকেলের আড্ডা। শুভেচ্ছা জোর করে বন্ধ করে দেয়ার পর তার কষ্ট কে দেখে? আমাকে বললেন, আপনার জন্য বাচ্চু সারাজীবন থাকবে। সত্যি ছিলেন তিনি।

তার কালো লেভিন আর আমার পুরোনো স্টারলেট দিয়ে ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়েতে পাল্লা দেয়া। গাড়ি থেকে নুরজাহানে নেমে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, মেরেই তো ফেলতেন আমাকে আরেকটু হলে। চাটগাইয়া ভাষায় বললেন, ‘অনর বাংগা গারির শিনার জোর আছে।’

বাচ্চু ভাইয়ের সাথে একাধিকবার আমি মঞ্চে হাসতে দেখো গাইতে দেখো গেয়েছি। এটা গাওয়ার সময় তিনি যদি জানতেন আমি দর্শক সারিতে আছি তবে আমাকে মঞ্চে ডাকতেন-ই।

একসাথে জাপান, ইতালি, দুবাইয়ে অনুষ্ঠান করতে গেছি। জাপানে এক গিটারের দোকানে ঢুকতেই দোকানি আমাদের পাত্তা না দিয়ে অন্য ক্রেতার সাথে কথা বলছিল। বাচ্চু ভাই বিনয়ের সাথে বললেন, মে আই প্লে দিস গিটার? গিটারে বেজে উঠল জিমি হেনড্রিক্স, নফলার ব্রাদার্স আর সান্টানার সুর। তারপর গিটার আর থামে না। শেষে এরিক ক্ল্যাপটন। দোকানের বাইরে ভিড়। কয়েক শ লোক। বাচ্চু ভাই বাজিয়ে দিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

গিটারের দোকানি বাচ্চু ভাইকে জড়িয়ে ধরে আর ছাড়ে না। দোতলায় নিয়ে তার দোকানের সব গিটার তাকে মেলে ধরে বলে একটা নিয়ে যাও। যে দাম খুশি সে দাম দাও।

আমি খুশিতে চোখ ভিজিয়ে ফেলেছিলাম। বিদেশে গেলে আমাকে সাথে নিয়ে সবখানে ঘুরতেন। বলতেন ডাক্তার সাথে থাকলে আমি সেফ, বিপদ নাই।

তার মায়ের চিকিৎসাতে আমার খানিকটা ভূমিকা থাকাতে তিনি বারবার সেই কথা বলতেন। গেলাম ইতালি। সেখানে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ইতালিয়ান শ্বেতকায়। সে কোনো কথা বোঝে না। সাউন্ড চেকে বাচ্চু ভাই গেয়ে ফেললেন পরপর- মানি ফর নাথিং, সালটান অব সুইং, ওয়াক অফ লাইফ আর বিউটিফুল টুনাইট। তারপর সাউন্ডের লোক আর তার পিছু ছাড়ে না। আমি হাসি। মাসুদ আর স্বপন ভাই হাসে আর বলে বস ইজ বস।

টুটুল এল আর বি ছেড়ে দেয়ায় খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। এরপর এল আর বি-তে কেউ কীবোর্ড বাজায় নাই। তিনি বলতেন সে চলে গেছে যাক, তার জায়গা কাউকে দেব না। তাকে কয়েকজন গানের শিল্পী বারবার কষ্ট দিয়ে কথা বলেছেন। তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন, কি করব ডাক্তার। সব তো সন্তানের মতো। আমি বলেছিলাম, ধৈর্য্য ধরেন। তিনি অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন, কিছুই বলেন নাই, ধৈর্য্য ধরেছিলেন।

বাচ্চু ভাইয়ের সাথে মাদক বিরোধী কনসার্ট, ক্যানসার সোসাইটির কনসার্ট, বাংলাদেশের ক্রিকেট কনসার্ট, আর্মি স্টেডিয়াম আর ইনডোর স্টেডিয়ামে, শুভেচ্ছার ঈদ অনুষ্ঠান, চট্টগ্রামে স্টেডিয়ামে সিনটিলার কনসার্ট, মেডিক্যাল কলেজের অ্যালামনাই ডে তে কনসার্টে বিরাট শব্দে স্পিকারে ডাক্তার শব্দটা শুনবই।

একবার বাচ্চু ভাই ব্যাংকক এয়ারপোর্টে সবাইকে ফল কিনে খাওয়াচ্ছেন। কি ব্যাপার ভাইজান? বলেন পকেটে এতগুলো টাকা, কোথায় খরচ করব? তাই সবাইকে ফল খাওয়াচ্ছি।

একটু পরে এসে বলেন, ডাক্তার মা চলে যাওয়ার পর সব অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছি। সেজন্যই টাকা শেষ হচ্ছে না। কিছুদিন বাচ্চু ভাই সিগারেটও খান নাই।

বাচ্চু ভাই, আপনার প্রায় সব গান আমার মুখস্থ। আপনার গান, আজম খানের গান, মাকসুদ ভাই, মাইলস, ফীডব্যাক, সোলস আমার বড় হওয়ার সঙ্গী। মন খারাপের সময় আমি আপনার গানটা গাই, আমার আরেক ভাই আসিফ ইকবালের লেখা...

বহুদূর যেতে হবে
এখনো পথের অনেক রয়েছে বাকি
ভালোবাসায় বিশ্বাস রেখো
হয়তো অচেনা মনে হতে পারে আমাকে


তুমি ভয় পেওনা
তুমি থেমে যেওনা


তুমি ভয় পেওনা।
বহুদূর যাত্রা করেছেন ভাই আমার।
ভয় পাবেন না।

এত কোটি মানুষকে জীবনে আনন্দ আর বেদনার সময় গান গেয়ে ভালো রেখেছেন তাদের দোয়া আপনাকে বহুদূরের সেই দেশে ভালো রাখবেই। বেঁচে থাকলে প্রিয়বিয়োগের বেদনা হবেই। আপনার না থাকার বেদনা বাকি সময় বহন করতেই হবে আমাকে। আামি এখনো আপনার গান শুনছি। বহুদূর যেতে হবে। ভালোবাসা।

লেখাটি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষারের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/শান্ত/মারুফ