Monday, October 1, 2018

World probin/old age day info

‘পরিবারই হচ্ছে প্রবীণদের আসল ঠিকানা’

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০১ ৫:৩২:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০১ ৫:৩২:৫০ পিএম
নিজস্ব প্রতিবেদক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, পরিবারই হচ্ছে প্রবীণদের আসল ঠিকানা। একজন সক্ষম মানুষ তার জীবনের পুরোটা শেষ করে দেয় যে পরিবারের জন্য, জীবনের শেষ সময়ে সেই পরিবারে থাকাটা তার নৈতিক অধিকার।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা প্রবীণ হয়ে গেলে সন্তানরা তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমে বাবা-মায়ের মনের যে লুকানো আকুতি তা সন্তানরা দেখতে পায় না। এটা ভেবে দেখে না যে, সেই সন্তানরাও একদিন প্রবীণ হবে, একদিন তাদের সন্তানও একই আচরণ তাদের সাথেও করতে পারে। কাজেই সন্তানের জীবদ্দশায় কোনো বাবা-মাকেই যেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে না হয়। পরিবারই যেন হয় প্রতিটি প্রবীণের নিজ আবাস, এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

প্রবীণ ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে, উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আজকের প্রবীণ দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকে একজন আলোকিত মানুষ। তার অভিজ্ঞতাকে আমাদের উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় কি না, এ নিয়ে আমাদের ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকার প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি বরাবরই আন্তরিক। ১৯৯৭ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রবীণদের নামে প্রথমবারের মতো ১০০ টাকা করে মাসিক সম্মানী ভাতা চালু করেছিল, যা এখন ৫০০ টাকা করে প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ ব্যক্তিকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এই টাকায় তার সংসার হয়তো চলবে না, কিন্তু তাকে তার পরিবারের কাছে মর্যাদাশীল অবশ্যই করবে।’

সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাশেদ খান মেনন বলেন, সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স যেমন বৃদ্ধি করে ৬৫ বছর করা উচিৎ, ঠিক তেমনি প্রবেশের বয়সও ৩৫ বছর করা উচিৎ।

অনুষ্ঠানে প্রবীণ সহায়ক প্রতিষ্ঠান করার জন্য আপন নিবাসের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা সেলিনা সেলিমকে, ৯৩ বছর বয়সী বৃদ্ধ মায়ের সেবা করার জন্য ইভান আহমেদ কথা নামের এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে উত্তম সেবা করার জন্য শামসুন্নাহার সুমাকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। সূচনা বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব আবু মোহাম্মদ ইউছুফ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এ এস এম আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমাজসেবা অধদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর।

উল্লেখ্য, মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীরের নেতৃত্বে আগারগাঁওয়ের প্রবীণ হিতৈষী নিবাস থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পর্যন্ত একটি র‍্যালি করা হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ অক্টোবর ২০১৮/আসাদ/রফিক

No comments:

Post a Comment