Monday, September 24, 2018

supper star football - Modrich

রোনালদো-মেসির আধিপত্য ভেঙে ফিফার বর্ষসেরা মদ্রিচ

আমিনুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৫ ৯:৪৫:৩৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৫ ৯:৪৮:৫০ এএম
ক্রীড়া ডেস্ক : ব্যালন ডি’অর কিংবা ফিফা দ্য বেস্ট। দুটি পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে দ্বৈত আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গেল এক দশক ধরে ঘুরে ফিরে তারা দুজনেই জিতেছেন পুরস্কার দুটি। তবে তাদের সেই আধিপত্যে ছেদ পড়েছে। এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা লিওনেল মেসি নন, ফিফা দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। এ যাত্রায় তিনি পেছনে ফেলেছেন তার সাবেক সতীর্থ রোনালদো ও লিভারপুলের স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহকে।

২৯.০৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এবার ফিফা দ্যা বেস্ট হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার লুকা মদ্রিচ। ১৯.০৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর ১১.২৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ। ১০.৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে কালিয়ান এমবাপে হয়েছেন চতুর্থ। আর ৯.৮১ শতাংশ ভোট পেয়ে লিওনেল মেসি হয়েছেন পঞ্চম।

লন্ডনে সোমবার রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অবশ্য এই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি রোনালদো। দেননি লিওনেল মেসিও।

অ্যাওয়ার্ড নিতে এসে মদ্রিচ বলেন, ‘এই পুরস্কারটি কেবল আমার একার নয়। এটা রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রোয়েশিয়ায় আমার সতীর্থদেরও। আমার ক্যারিয়ারের কোচদের অবদান না থাকলে আমি হয়তো এই পুরস্কার জিততে পারতাম না। আমার পরিবার আমাকে সমর্থন না দিলে হয়তো আমি খেলোয়াড়ই হতে পারতাম না।’
 

লুকা মদ্রিচ রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছেন। সবশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমেও রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। রেখেছেন শিরোপা জেতায় অবদান। এরপর বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে তুলেছিলেন প্রথমবারের মতো ফাইনালে। তিনি হয়েছেন বিশ^কাপের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল)। সে কারণেই রোনালদোর চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে ফিফার বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

এদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও এই পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার ছিলেন। গেল মৌসুমে রোনালদো সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৪৪টি গোল করেছেন। জিতেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। বিশ্বকাপে করেছেন প্রথম হ্যাটট্রিক। দলকে তুলেছিলেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। অন্যদিকে সালাহ লিভারপুলের হয়ে রোনালদোর সমান ৪৪ গোল করেছিলেন। পাশাপাশি লিগে ৩২ গোল করে প্রিমিয়ার লিগের ৩৮ ম্যাচের ইতিহাসে নতুন গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন। লিভারপুলেকে তুলেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। সে কারণে তিনিও ছিলেন এই পুরস্কারের দাবিদার। কিন্তু ভোটে শেষ পর্যন্ত মদ্রিচ জিতেছেন ফিফা দ্যা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড।

তবে সালাহ পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর এভারটনের বিপক্ষে তার করা বাম পায়ের বাঁকানো শটের গোলটি জিতেছে পুসকাস অ্যাওয়ার্ড।

২০০৭ সালের পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর ও ফিফা দ্যা বেস্ট পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০০৭ সালে সবশেষ ব্রাজিলের কাকা জিতেছিলেন এই পুরস্কার। এরপর মেসি ও রোনালদো এই পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন প্রতিবার। তাদের আধিপত্যের বলয় ভেঙে এবার লুকা মদ্রিচ জিতলেন এই পুরস্কার।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/আমিনুল

global eco suppor garbage clean

জাহাজটি প্রতিদিন ৫ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করবে!

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম

  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৪ ৯:০১:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৪ ৯:০৩:৪১ পিএম
আহমেদ শরীফ : সমুদ্রে যে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক বোতল ও ব্যাগ ভাসমান আছে, সেগুলো পরিবেশের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে দিন দিন।

আর এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিজ্ঞানীরা তৈরি করছেন অত্যাধুনিক এক জাহাজ। এটি সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক সংগ্রহ করে সেগুলো রিসাইকেল করে তার জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করবে।

বিশ্বজুড়ে  সাগর ও  মহাসাগরে এখন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল ও ব্যাগের পরিমাণ। এতে করে পরিবেশ যেমন দূষণ হচ্ছে তেমনি সামুদ্রিক প্রাণীরা হয়ে পড়ছে  বিপন্ন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর পৃথিবীর সব সাগর-মহাসাগরে আট মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হয়। আর প্রতি বছর ৫ ট্রিলিয়ন পিস প্লাস্টিক সাগরে গিয়ে পড়ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রতিবছর ৩৩৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে, যা ৫০ বছর আগের সময়ের চেয়ে ৫ গুণ বেশি।

সাগর-মহাসাগরের বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশ রক্ষা করতে পরিবেশবান্ধব এক জাহাজ তৈরি করেছেন  বৃটিশ গবেষকরা। বৃটেনের সাউদাম্পটন সিটির দ্য ইয়াচ মার্কেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ জাহাজটি তৈরি করছে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা রিচার্ড রবার্টস বলেছেন, বিবিসির সমুদ্র বিষয়ক ডকুমেন্টারি ‘ব্লু প্ল্যানেট’ দেখে বিশেষ এই জাহাজ তৈরিতে আগ্রহী হন তিনি। ‘ওশেন স্যাভিয়র’ নামের এই জাহাজ এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যা প্রতিদিন সমুদ্রের ৫ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও বর্জ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

শুধু তাই না, প্রথম জাহাজ হিসেবে সমুদ্রের ওই বর্জ্যকে রিসাইকেলের মাধ্যমে তার জ্বালানী হিসেবে রূপান্তরও করতে পারবে। আর এ কাজটা করা হবে পরিবেশ দূষণ রোধ করেই। পরিবেশবান্ধব এই জাহাজটি তৈরিতে মোট খরচ হবে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড। ২৩০ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজটির দু পাশে থাকা দুটি বড় হাতল থাকবে, যা প্লাস্টিকের বর্জ্য সংগ্রহ করবে। নেভাল আর্কিটেক্ট রিকি স্মিথ, যিনি পরিবেশবান্ধব যানবাহন তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন, তিনি এই ‘ওশেন সেভয়ের’ এর ডিজাইন করেছেন। জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের অভিযানে পাঠানো হবে।



তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইলhttp://www.risingbd.com/scienceand-technology-news/276020




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Sunday, September 23, 2018

parents respect by kids

গোপালগঞ্জে মা-বাবার পা ধোয়ালো দুই লাখ শিক্ষার্থী

বাদল সাহা : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৩ ৩:১২:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৩ ৩:১৬:৩৫ পিএম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে এবার ‘গুরুজনে কর নতি’ শ্লোগানে মা-বাবার পা ধোয়ালো দুই লাখ শিশু শিক্ষার্থী। গুরুজনকে সম্মান প্রদর্শনের এ আয়োজন ভীষণ মুগ্ধ করে স্থানীয় মানুষদের।

একযোগে জেলার এগারশ’ প্রাথমিক, উচ্চবিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় এ কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী তাদের মা ও বাবার চরণ ধুয়ে মুছিয়ে দেয়। এসময় পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের মাথায় হাত রেখে আশির্বাদ করেন এবং পিতা-মাতারা সন্তানদের আবেগে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসজল হন। যে দৃশ্যে উপস্থিত দর্শকরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ মহৎ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

আজ রোববার সকাল ১০টায় জেলা শহরের যুগশিখা স্কুলে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার।

এছাড়া বিণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরুনাহার ইউসুফ, বিণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোসাম্মদ শাম্মী আক্তার, এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শান্তি মণি চাকমা উপস্থিত ছিলেন।



জেলা শহরের গোপালগঞ্জ আইডিয়াল একাডেমি, সোনালী স্বপ্ন একাডেমিসহ জেলা ও উপজেলা এবং গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে এই কর্মসূচী পালিত হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণ।

এর আগে স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনা সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ কর্মসূচীতে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত বলে জানায়। এর মাধ্যমে সন্তানেরা নীতি ও নৈতিকতা শিখবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, ‘শিশুদের মৌখিক উপদেশে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। এ জন্য মাতা-পিতা, শিক্ষক ও গুরুজনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই ব্যবহারিক কার্যক্রমের আয়োজন। এতে প্রতিটি কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর মনে পিতা-মাতা, শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে উঠবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর থেকে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠান শুরু করা হয়।



রাইজিংবিডি/গোপালগঞ্জ/২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮/বাদল সাহা/টিপু

Saturday, September 22, 2018

vat tax info - software require over 5 crore turnover

টার্নওভার ৫ কোটি টাকা হলে সফটওয়্যারে হিসাব বাধ্যতামূলক

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম

  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৩ ১২:০৬:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৩ ১২:১৪:৩০ পিএম
এম এ রহমান মাসুম : প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ও টার্নওভারের তথ্য এতোদিন নিজেদের ইচ্ছেমতো সংরক্ষণ করলেও এখন তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণে আসছে।

মোট বিক্রয় বা টার্নওভার পাঁচ কোটি টাকা বা তার অধিক হলেই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি ও হিসাবপত্র এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর ফলে ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা এনবিআরকে ঠিকমতো পরিশোধ না করার সুযোগ আর থাকবে না। এতে বন্ধ হবে ভ্যাট ফাঁকি এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে এনবিআর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ আদেশ আগামি ১ জানুয়ারি থেকে পরিপালনের বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে। না মানলে রাখা হয়েছে শাস্তির বিধানও। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এমন কিছু বিধান রেখে আদেশ জারি করেছে এনবিআর। সংস্থাটির উর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে ওই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এনবিআরের প্রথম সচিব (মূসক নীতি) হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার সই করা ওই আদেশ ১৯৯১ সালের মূসক আইনের ৩১ ও ৩৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে।

যেখানে বলা হয়েছে,যে সব মূসক নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী আর্থিক বৎসরে মোট বিক্রয় বা টার্নওভার পাঁচ কোটি টাকা বা তার অধিক,সেই সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ভ‌্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি ও হিসাবপত্র এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণের এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূসক কার্যালয়ে কম্পিউটার সিস্টেমে প্রেরণের লক্ষ্যে আদেশ প্রদান করা হলো।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাটনীতি) ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. রেজাউল হাসান বলেন, মূলত ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ ও রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার মধ্যে নিয়ে আসতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার পর্যবেক্ষণ করতে পারলেই রাজস্ব আদায় অনেক বেড়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে বিষয়টি বাস্তবায়ন একটু কষ্টসাধ্য হবে। এজন্য সচেতনতা ও প্রচারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে অভিযানও পরিচালনা করতে হতে পারে এনবিআরকে।

এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, যে সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দলিলাদি ও হিসাবপত্র নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই কিন্তু মূসক সংশ্লিষ্ট হিসাবপত্র সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে ইচ্ছুক, তারাও এনবিআরের ওয়বেসাইটে প্রকাশিত সফটওয়্যারের তালিকা হতে সফটওয়্যার সংগ্রহ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

অন্যদিকে যে সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দলিলাদি ও হিসাবপত্র নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয়েছে, সে সকল প্রতিষ্ঠান চাইলে যে কোনো সফটওয়্যার নির্মাণকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হতেও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে পারবে। তবে তা এনবিআর কর্তৃক পরীক্ষিত ও অনুমোদিত হতে হবে।

এক্ষেত্রে সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির জন্য চারটি বৈশিষ্ট‌্য থাকা বাধ্যতামূলক।

এসব বৈশিষ্ট্য  হলো- 
১। প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এর দপ্তর হতে প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে নিবন্ধিত হতে হবে।

২। সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ন্যূনতম পাঁচ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করিবার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৩। প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত বা কমিটির বিবেচনায় সমমানের সফটওয়্যার নির্মাণ এবং কমপক্ষে তিনটি মধ্যম বা বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে তাহা সফলভাবে স্থাপন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মধ্যম বা বৃহৎ প্রতিষ্ঠান বলতে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, এনজিও, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানি এবং মাধ্যমিকোত্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূসক) এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে।

৪। সফটওয়্যারটি অনুমোদন প্রদানের পূর্বে বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত ও কার্যকর কিনা সে বিষয়ে সরেজমিনে পরীক্ষাপূর্বক নিশ্চিত হওয়ার ব্যবস্থাদি আবেদনকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্পন্ন করতে হবে।

আর সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ২৩ বৈশিষ্ট‌্য থাকতে হবে। এগুলো হলো-
১। নির্মিত সফটওয়্যারটি ১৯৯১ মূসক আইন ও বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন ও আদেশ পরিপালনে সক্ষমতা সম্পন্ন হতে হবে।

২। সফটওয়্যারে যাবতীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি রেকর্ডপূর্বক মূসক আইন ও প্রণীত অন্যান্য বিধানাবলীর আওতায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের সুবিধা সম্বলিত ব্যবস্থা সন্নিবেশিত থাকতে হবে।

৩। সফটওয়্যারে ক্রয় হিসাব রেজিস্টার ও বিক্রয় চালানপত্রে কোন তথ্য এন্ট্রি দেয়ার সাথে সাথে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্রয় হিসাব, চলতি হিসাব রেজিস্ট্রার এবং দাখিলপত্রে আপডেট হতে হবে।

৪। সফটওয়্যারে আদর্শ হার বা ট্যারিফ মূল্য বা সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে সরবরাহ করার সুবিধা সৃষ্টিসহ উৎসে মূসক আদায়,কর্তন,অপচয় ও উপজাত পণ্য ব্যবস্থাপনা, ডেবিট নোট ও ক্রেডিট নোটের ব্যবস্থাপনা, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন,উপকরণ কর রেয়াত ব্যবস্থাপনা ও মূল্য ঘোষণা ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার সুবিধা থাকতে হব।

৫। মূল্য ঘোষণায় বর্ণিত সহগ এর ভিত্তিতে উৎপাদিত পণ্য, ব্যবহৃত উপকরণ ও বিক্রয়ের বিপরীতে প্রকৃত উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের স্থিতির একটি তুলনামূলক প্রতিবেদন প্রতি কর-মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রণীত হতে হবে।

৬। মাসিক দাখিলপত্রসহ অন্যান্য রেজিস্টারাদি (ক্রয় হিসাব, বিক্রয় হিসাব, চলতি হিসাব) এবং রিপোর্ট অটোমেটেড সিস্টেম থেকে প্রস্তুত ও প্রিন্ট করার সুবিধা থাকতে হবে।

৭।সফটওয়্যারে শুধুমাত্র একবার মূল মূসক চালানপত্র প্রিন্ট করা যাবে। সফটওয়্যারটিতে যেন একটি চালানপত্র দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী সময়ে ইস্যু করা না যায় তেমন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৮। মূসক চালানপত্রে সময় ও তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিন্ট করতে হবে, যা কেবলমাত্র যখনই প্রিন্ট করা হবে সে সময় ও তারিখ প্রদর্শন করিবে।

৯। প্রতিদিনের কার্যক্রম শেষে কম্পিউটার জেনারেটেড রিপোর্ট ও বিধি মোতাবেক হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত সকল বাণিজ্যিক দলিলাদি, যেমন- চালানপত্র, ডেবিট বা ক্রেডিট নোট, ক্রয় রেজিস্টার, বিক্রয় রেজিস্টার, চলতি হিসাব, দাখিলপত্র ইত্যাদি প্রিন্ট করে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষর করে সংরক্ষণ করতে হব।

১০। প্রতি করমেয়াদ শেষে উপযুক্ত কর্মকর্তার সই করা হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত সব বাণিজ্যিক দলিলাদির হার্ডকপি স্থায়ীভাবে বাঁধাই করতে হবে। যা অন্যুন ছয় বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

১১। মূসক বিধিমালার নির্ধারিত ছকের তথ্য ক্ষুন্ন না করে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান তার প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্যসহ মূসক চালানপত্র এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি তৈরি ও সংরক্ষণ করতে পারবে।

১২। সফটওয়্যারে এনবিআর সংশ্লিষ্ট মূসক কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অ্যাকসেস সুবিধা থাকতে হবে।

১৩। সিস্টেমে মূসক চালানপত্রের সাথে পণ্য ভান্ডার (স্টক) ইন্টিগ্রেটেড থাকতে হবে, যেন সিস্টেমে মূসক চালানপত্র ইস্যু করা হলে বিক্রয় রেজিস্টারের সংশ্লিষ্ট কলামে অভিন্ন সমন্বয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদিত হয় এবং স্টকের পরিমাণে ম্যানুয়ালি কোনো প্রকার পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়।

১৪। বিক্রিত পণ্য ফেরত বা ক্রয়াদেশ বাতিলের ক্ষেত্রে ডেবিট বা ক্রেডিট নোটের মাধ্যমে তা সমন্বয় করতে হবে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্রয় এবং চলতি হিসাব রেজিস্টারে প্রতিফলিত হবে।

১৫। এনবিআরের অন্যান্য সফটওয়্যার বা উপাত্ত ভান্ডার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে তথ্য ও উপাত্ত বিনিময়ের সুবিধা থাকতে হবে।

১৬। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রাঙ্গনে সকল তথ্যসহ সিস্টেম পরিচালনা করতে হবে।

১৭। ইস্যুকৃত মূসক চালান কোনো কারণে বিনষ্ট হলে কিংবা তা বাতিল করার প্রয়োজন হলে তা এডিট ও পুনরায় প্রিন্ট করার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে ডেবিট নোট/ক্রেডিট নোট ব্যবহার করে চালানপত্র বাতিল করতে হবে এবং পুনরায় ধারাবাহিক ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে চালনপত্র ইস্যু করতে হব।

১৮। আইনানুগভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো মূসক কর্মকর্তা সিস্টেমে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন।

১৯। ওরাকল,ডিবিটু, এসকিউএল ইত্যাদির যে কোনোটিকে ডাটাবেজ ব্যাক হ্যান্ড হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।

২০। দাখিলপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ম্যানেজমেন্ট রিপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে থেকে প্রস্তুত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং দাখিলপত্রসহ বিভিন্ন আবেদন/তথ্যাদি এনবিআরের ডাটা সিম্টেম অনুযায়ী আপলোডের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

২১। প্রতিদিনের কার্যক্রম শেষে সব তথ্য ন্যূনতম দুটি ব্যাক-আপ নেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেকোনো ডেটা হারানোর দায়-দায়িত্ব নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে।

২২। সফটওয়্যারে হ‌্যাকিং এবং টেম্পারিংসহ সব ধরনের ঝুঁকি হতে সুরক্ষার জন্য পরিপূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

২৩। সিস্টেমের ব্যবহার বিষয়ে এবং মূসক অপারেশন বিষয়ে বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট প্রণয়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

আর যে সকল প্রতিষ্ঠান এ সফটওয়্যার ব্যবহার করবে না তাদের শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এনবিআর। আইনের ওই ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিলে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের অর্ধেক বা সমপরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। এছাড়া অন্যূন ২০ হাজার ও অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিতে পারবেন এনবিআর।

অন্যদিকে আদেশে আরো বলা হয়েছে, যে সব মুসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ইতোপূর্বে কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত সফটওয়্যার স্থাপন করেছেন, সে সব প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার সরবরাহকারীগণ প্রযোজ্য বৈশিষ্ট্য প্রতিপালনপূর্বক মূসক আইন ও বিধিমালার সর্বশেষ বিধি-বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও হালনাগাদ করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সফটওয়্যারসমূহ পরীক্ষা করিবার জন্য কমিটি বরাবরে আবেদন করতে হবে। এ আদেশ ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি হতে বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া এনবিআর ২০১১ সালের ২৯ জুনে জারিকৃত সাধারণ আদেশ নং-৬৪/মূসক/২০১১ বাতিল করা হলো।

তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন হিসাব সংরক্ষণে সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক করা হলেও তা বাস্তবায়ন বেশ কঠিন। কারণ সব ব্যবসায়ীর পক্ষে হঠাৎ করে এ সফটওয়্যার স্থাপনও সম্ভব নয়। এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে আমরা আশা করব, ব্যবসায়ীদের হয়রানি ছাড়াই এসব কাজ হবে।

এর আগে ভ‌্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা ও পরিমাণ বৃদ্ধিতে ১৩ ধরণের ব‌্যবসায় ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বাধ‌্যতামূলক করে এনবিআর। এর ফলে যেসব ব্যবসা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিন রয়েছে তাদের নতুন ইএফডি মেশিন স্থাপন করতে হবে।

** ১৩ ব্যবসায় বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮/এম এ রহমান/এনএ

১৩ ব্যবসায় বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০২ ৮:৩৫:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-০৩ ১:০৪:৪২ পিএম

এম এ রহমান মাসুম : ভ‌্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা ও পরিমাণ বৃদ্ধিতে ১৩ ধরণের ব‌্যবসায় ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বাধ‌্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে যেসব ব্যবসা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিন রয়েছে তাদেরকে নতুন ইএফডি মেশিন স্থাপন করতে হবে।

তবে যে সকল ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) সফটওয়‌্যার ব্যবহার করবে, সেক্ষেত্রে ইএফডি’র পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল প্রিন্টার (ইএফপি) বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে।

এনবিআর সদস‌্য মো. রেজাউল হাসান (মূসকনীতি) সই করা আদেশ সূত্রে এসব তথ‌্য জানা গেছে। গত ২৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে তা নিশ্চিত করেছে।

আর ওই আদেশ চলতি বছরের ১ নভেম্বর হতে দেশের সকল সিটি করপোরেশন এলাকা এবং ১ ডিসেম্বর হতে দেশের সকল জেলা শহর এলাকায় কার্যকর ধরা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনের ৩১ ধারা এবং মূসক বিধিমালার ২২ বিধির উপ-বিধি (৩) ও ৩৮ বিধিতে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এনবিআর ওই আদেশ জারি করেছে। আদেশে দেশের সকল সিটি করপোরেশন, জেলা শহর কিংবা সংশ্লিষ্ট কাস্টমস, এক্সাইস ও ভ্যাট কমিশনারেট কর্তৃক নির্বাচিত সেবা প্রদানকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত হিসাব সংরক্ষণ, বিক্রয় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এনবিআরের নিকট প্রেরণ ও বিক্রিত পণ্য এবং সেবার গ্রাহককে মূসক-১১ চালানপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) অথবা ক্ষেত্রবিশেষে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল প্রিন্টার (ইএফপি) ও পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) সফটওয়‌্যার বাধ‌্যতামূলক করা হলো।

খাতগুলো হলো- আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড শপ, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আসবাবপত্র বিক্রয় কেন্দ্র, পোশাক বিক্রয়কেন্দ্র কিংবা বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ইলেকট্রনিক/ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালী সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, অভিজাত শপিং সেন্টার-এর অন্তর্ভুক্ত সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর ও সুপারশপ, অন্যান্য বড় ও মাঝারী ব্যবসায়ী (পাইকারী ও খুচরা) প্রতিষ্ঠান এবং স্বর্ণকার ও রৌপ্যকার বা স্বর্ণ ও রৌপ্যের দোকান।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য রেজাউল হাসান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিধিমালা জারির পর আগের মতোই আমদানিকারকদের বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ইএফডি মেশিন আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর ভ্যাট কমিশনারদের স্ব স্ব কমিশনারেটের অধীনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন স্থাপন বা প্রতিস্থাপনে নির্দেশ দেওয়া হবে। এর ফলে ভ‌্যাট আহরণ আরো গতিশীল হবে বলে আশা করি।’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আগে ১১ ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন বাধ্যতামূলক থাকলেও যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে তা পুরোপুরি সফল হয়নি। অনেক সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইসিআর মেশিন টেম্পারিং করে ভ্যাট ফাঁকি দিতো। কিন্তু ইএফডি মেশিন স্থাপন হলে মেশিন টেম্পারিং করা যাবে না। তাছাড়া প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনকার বিক্রয়ের তথ্য সরাসরি এনবিআরের সার্ভারে চলে আসবে এ সিস্টেমে।

ইএফডি সিস্টেম পরিচালনার শর্তাগুলো হলো: ইএফডির প্রত্যেক বিক্রয় তথ্য অনুমোদিত কোডের জন্য কেন্দ্রিয় ইএফডি ম‌্যানেজমেন্ট সিস্টেমে যাবে, অনুমোদিত কোড পাওয়ার পর প্রত্যেক বিক্রয় লেনদেন কার্যকর হবে, চালান ইস্যু করার আগে অনুমোদিত কোড একটি ইউনিক নম্বরসহ বিক্রয় মুদ্রিত থাকতে হবে, ডাটা সুরক্ষার সকল বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিতে হবে, দূরবর্তীভাবে এবং ব্যবসা অঙ্গনে নিরীক্ষা পরিচালনার বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে এবং বিভিন্ন ধরণের পর্যায়বৃত্ত প্রতিবেদন যেমন: এক্সরে রিপোর্ট, জেড-রিপোর্ট ইত‌্যাদি সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরের ইএফডি ম‌্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রেরণের সক্ষমতা থাকতে হবে।

ইএফডি’র বৈশিষ্ট‌গুলো হলো: ডিভাইসে ন্যূনতম ৫টি ভিন্ন হারে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট গণনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালানোর জন্য ওয়াই-ফাই সংযোগ বা ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সিম সংযুক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ইএফডি মেশিন থেকে পণ্য ও সেবার বিপরীতে গ্রাহকদের যে চালান দেওয়া হবে তাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা; বিআইএন নম্বর; তারিখ ও সময়; ক্যাশিয়ারের নম্বর ও কাউন্টার নম্বর; ফিসক্যাল ডিভাইস ও মেমোরি নম্বর; পণ্যের পরিমাণ, মূল্য, ভ্যাটের হার ও পরিমাণ, ভ্যাটসহ পণ্যমূল্য থাকবে। পাশাপাশি গ্রাহকের পেমেন্ট পদ্ধতি (নগদ, কার্ড, চেক অথবা ক্রেডিট) উল্লেখ থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান পয়েন্ট অব সেলস মেশিন ব্যবহার করছে তাদের ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল প্রিন্টার মেশিন (ইএফপি) ব্যবহার করতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, ইএফডি মেশিন সরাসরি ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এনবিআর কর্মকর্তারা অফিসে বসেই মেশিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। চাইলে মেশিন কার্যকর ও অকার্যকর করতে পারবেন। প্রতিটি ইএফডি মেশিনের বিপরীতে একটি বিআইএন নম্বর দেওয়া হবে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধিক কাউন্টার থাকলে ওই একটি বিআইএন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইএফডি মেশিনের জন্য এনবিআর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজেশন নম্বর দেওয়া হবে। এ নম্বর ছাড়া চালান প্রিন্ট দেওয়া যাবে না। বর্ণিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইএফডি মেশিন ব্যবহার না করে তাহলে শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। ভ্যাট আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, ফাঁকি দেয়া ভ্যাটের অর্ধেক বা সমপরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে। এ ছাড়া অন্যূন ২০ হাজার টাকা এবং অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে ইএফডি মেশিন ব্যবহার করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিধিমালায় কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান ইএফডি মেশিন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাবে তারাও এ কাজ করতে পারবে।

ইএফডি মেশিন স্থাপনের বিষয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, সারা দেশে বড় বড় রিসোর্ট, হোটেল ও অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইসিআর ও পিওএস মেশিন ব্যবহারের পরিবর্তে ইএফডি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এনবিআরের সঙ্গে ইএফডি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনলাইনে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ সেপ্টেম্বর ২০১৮/এম এ রহমান/শাহনেওয়াজ

secret info with near and dearer

যে ৭ বিষয় গোপন রাখা উচিত

মোহাম্মদ আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২০ ১০:২৮:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২০ ১০:২৯:৫২ পিএম
প্রতীকী ছবি
মোহাম্মদ আসিফ : আপনি যদি আপনার সব গোপন কথা প্রকাশ করেন তাহলে আপনার জীবন আরো জটিল হয়ে উঠবে। কিছু বিষয় অবশ্যই গোপন রাখা উচিত।

পারিবারিক বিষয় কিংবা ব্যক্তিগত, কিংবা আপনার ডায়েট এর পরিকল্পনা, এসব ব্যাপারের সিদ্ধান্ত সকলের কাছে প্রকাশ না করাই ভালো। কারণ দুনিয়ার সব মানুষ আপনাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য জন্ম নেয়নি। উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে আপনার ক্ষতি করার লোকের অভাব হবে না। ব্যক্তিগত তথ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপারে অনেকে ওৎ পেতে থাকে।

এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৭ বিষয় অন্যের কাছে গোপন রাখাটা মঙ্গলজনক হতে পারে।

* ভবিষ্যত পরিকল্পনা : আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভবিষ্যত পরিকল্পনা বন্ধুদের জানাতে চান। বন্ধুদের পাশে পাওয়া যাবে, তারা সহযোগিতা করবে এই প্রত্যাশায়। কিন্তু সবসময়ই যে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন এমন ভাবনা মন থেকে মুছে ফেলাটাই ভালো। কেউ কেউ আপনাকে আপনার লক্ষ্য থেকে পিছনে টেনে আনতে চাইবে, কেউ নেতিবাচক কথা বলবে। কেউবা বলেই বসবে আরে তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না। এ অনেক কঠিন কাজ। শেষমেষ সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে সাহস আর আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিলেন সেটাও হারাবেন।

* বন্ধুদের গোপন তথ্য : আপনার কোনো বন্ধু বিশ্বাস করে যে গোপন কথা আপনাকে বলেছে সেটাকে কানের কুঠুরিতে বন্ধ করে রাখাটাই মঙ্গলজনক। বন্ধুর গোপন কোনো কথা অন্যদের জানাবেন না বা আলোচনা করবেন না। এতে বন্ধুত্বের সম্পর্কে চিড় ধরতে এক পলক সময় ও লাগবে না। সেই সঙ্গে বন্ধুর কাছে বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গাটাও হারাবেন। এছাড়া কারো সম্পর্কে কোনো কথা শোনার পর তার সত্যতা যাচাই না করে সেই কথা নিয়ে আলোচনা করবেন না, বা সবাইকে বলে বেড়াবেন না যে, সে এমন কাজ করেছে।

* পারিবারিক সমস্যা : পরিবারের গুরুত্ব সবার উর্ধ্বে। সঙ্গিনীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে? কিংবা পরিবারের কারো ডিভোর্স হয়েছে? এমন সব কথা পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধা থাকাটা ভালো। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে অন্যের সঙ্গে কথা বললে পারতপক্ষে সাময়িক সময়ের জন্য সমবেদনা বা সহানুভূতি মিললেও আপনি সেই ব্যক্তির কাছে দুর্বল হয়ে গেলেন। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা মূলত এর মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আপনার সঙ্গীর সবকিছু আপনার ভালো নাই লাগতে পারে। বা আপনি তার কোনো কাজে বিরক্ত। সেটা নিজেদের মধ্যেই রাখুন। বাইরের মানুষের সামনে সে বিষয়কে প্রকাশ করলে আপনার সঙ্গীকে হেনস্তার শিকার হতে হবে।

* ব্যক্তিগত সম্পর্ক : প্রেমিক বা প্রেমিকার কথা বন্ধু সহকর্মীর কাছে প্রকাশ করে বেশ গর্ববোধ করা যায়। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবন বিস্তারিত আলোচনা বাজে অভ্যাস। এই অভ্যাসের দরুন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সম্পর্ক ধ্বংস হতে পারে।

* দানশীলতা : অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট আপনাকে কাদায়। আপনি সাধ্যমত তাদের সাহায্যে কাজ করে যান, তাদের মুখে হাসি ফুটাতে চান। কিন্তু আপনার এই মানবপ্রেমমূলক কাজের কথা সবাইকে বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা এটা তাদের দায়িত্ব জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাছাড়া মানুষ ভাববে আপনি লোক দেখানোর জন্য এই কাজ করছেন। তাই নিজের জনসেবামূলক কাজকে বেশিমাত্রায় প্রকাশ না করাটাই ভালো।

* আর্থিক অবস্থা : আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা, আপনার টাকা-পয়সার পরিমাণ কিংবা ব্যাংকে আপনার জমাকৃত সম্পদের পরিমাণ অন্যের কাছে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। অর্থনৈতিক সমতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় না।  আপনি যদি আপনার বন্ধুদের মধ্যে আপনার অর্থ উপার্জন নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেন তাহলে সেটা শেষ পর্যন্ত কে কত বেশি টাকা ইনকাম করতে পারে এমন প্রতিযোগিতায় নেমে যাবে। আর এর ফলাফল হিসেবে বন্ধুরা আপনার অর্থ উপার্জন এর জন্য হিংসা করবে। ফলে বন্ধুত্বের সম্পর্কটাও হারাবে। এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে চাইলে আপনার অর্থ উপার্জন ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। মঙ্গল সর্বজনে।

* জীবনযাপন : ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিচিতজনরা আপনার স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পথে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। আপনার নতুন ডায়েট অথবা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বেশিদিন স্থায়ী হবে যদি তা গোপন রাখেন।  আপনার ইতিবাচক জীবনযাপন নিয়ে বেশি আলোচনা করলে সেটা এমন সব লোকের মনযোগের কারণ হবে যারা আপনার সুস্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত নয়। আর তাদের কারণে হয়তো আপনার সুস্থ থাকার রাস্তাটাও বদলে যেতে পারে।

আরো একটি ব্যক্তিগত বিষয় যেটি নিয়ে অন্যের সঙ্গে আলোচনা থেকে বিরত থাকা জরুরি, সেটি হল ধর্মীয় বিশ্বাস। এটি খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কেননা মতনৈক্য কারণে অশান্ত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তথ্যসূত্র : লিফটার

পড়ুন : সঙ্গীর কাছে গোপন রাখবেন যে বিষয়গুলো
 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

সঙ্গীর কাছে গোপন রাখবেন যে বিষয়গুলো

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  Share 
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৯ ১১:২১:০৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-০৯ ১:২৭:৩০ পিএম
প্রতীকী ছবি
আফরিনা ফেরদৌস : একটি সুন্দর এবং রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই সৎ হওয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন ব্যাপার হয় কোনো কিছু শেয়ার করা বা বলার তখন সত্যিটা বলা খুব দরকার।

তবে আপনাকে যে আপনার সঙ্গীকে সব কিছু বলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কিছু কিছু কথা থাকে যার গোপনীয়তা শুধুমাত্র নিজের কাছে সুরক্ষিত।

যে সত্যিগুলো আপনাকে আপনার সঙ্গীর সামনে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, এমন কথা আপনি চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন। অথবা এমন কিছু কথা যা আপনার সঙ্গীকে মানসিক ভাবে আঘাত করতে পারে, সেগুলোও আপনি চাইলে না ও বলতে পারেন। এতে বরং সম্পর্ক আরো সুন্দর থাকবে।

একটি সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি হল দুই জনের মধ্যে সমঝোতা এবং বিশ্বাস। একজন আরেকজনের চিন্তা ভাবনা, চাওয়া পাওয়া এবং কথাগুলোকে শোনা এবং ধৈর্য, যত্ন এবং সচেতনতার সঙ্গে সেগুলোকে মূল্যায়ন করা। আর এই ক্ষেত্রে খুবই সামান্য কিছু বিষয় আছে যেগুলো আপনার সঙ্গীর সঙ্গে শেয়ার করার প্রয়োজন নেই। আসুন জেনে নিই সেই গোপনীয়তাগুলো সম্পর্কে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত।

আপনার সংখ্যা
নিজের যৌন কীর্তিকলাপ সম্পর্কে অনেক বেশি শেয়ার করলে তা আপনার সঙ্গীর মতে সন্দেহ এবং হতাশা তৈরি করতে পারে- এমনটাই জানান টনি কোলম্যান, সাইকোথেরাপিস্ট, রিলেশনশিপ কোচ এবং ডিভোর্স মেডিয়েটর। তিনি আরো বলেন, একজন প্রকৃত সঙ্গীর কাছে এটি আসলেই কোনো ব্যাপার নয় যে আপনি আপনার অতীতে কার সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু আপনি যদি দেখেন আপনার সঙ্গী আপনার অতীত নিয়ে অনেক বেশি সন্দেহ করছেন তাহলে সেটা নিয়ে অবশ্যই কথা বলা দরকার দুজনের।

সঙ্গীর অপারগতা প্রকাশ করা
রিলেশনশিপ এক্সপার্ট স্টেফ সাফরান বলেন, আপনার সঙ্গী হয়তো বিছানায় অন্যদের তুলনায় কম রোমান্টিক, তাই বলে তা প্রকাশ করা ঠিক নয়। আপনি আপনার বর্তমান সঙ্গীর থেকেও রোমান্টিক কারো সঙ্গে ছিলেন পূর্বে সেটা নিয়ে বর্তমানে কথা না বলাই ভালো। এবং আপনি সেটা নিয়ে কথা বলতে বাধ্য না। আর আপনার সঙ্গীর ভেতরে যেটার কমতি আছে সেটার তুলনা না করে বরং উপায় খুঁজে বের করুন কিভাবে এই সম্পর্ককে আরো সুন্দর করে তোলা যায়।

অতীতের অস্বস্তিকর ব্যাপার
সাফরান বলেন, সম্পর্কে অতীত ঘটনা শেয়ারিং এর ব্যাপারে সবাই সব সময় সমান হতে পারে না। কষ্ট পাওয়া বা খারাপ লাগার ঘটনাগুলো কেউই সহজে বলতে চায় না। তবে আপনার অতীত সম্পর্কে যে কথা আপনি আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বলতে পারেন না, তা আপনার সঙ্গীকে বলার কোনো প্রয়োজন নেই। সম্পর্ক একটি বিশ্বাস এবং সমঝোতার জায়গা। যার সম্পর্কে আপনি নিজেই ধীরে ধীরে জানছেন তাকে সব কিছু হুট করে বলা ঠিক নয়। আর সেটা যদি হয় আপনার অতীতের কোনো অস্বস্তিকর ঘটনা তাহলে তা আপনার সঙ্গীকে বলা থেকে বিরত থাকুন।

অপমানজনক কথা
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ যালমান ব্রেগমান বলেন, যদি আপনি আপনার সঙ্গীর মধ্যে এমন কোনো নেতিবাচক আচরণ দেখে থাকেন যা তার পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্যই তাকে বলবেন না। বরং সেটা আপনি আপনার নিজের মধ্যে রেখে দিন। জোরে খাবার চিবানো বা নাক ডাকার মতো বিষয় নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে বাকচিত করাটা অপমানজনক। যদি বিষয়গুলো খুব বড় ধরনের না হয় যা আপনার সম্পর্ককে প্রভাবিত করে তাহলে সেটা নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়।

মুঠোফোনের বার্তা
যালমান বলেন, যদি আপনার সঙ্গী আপনার সব কিছুতে একটু বেশি নাক গলায় যেমন আপনার মুঠোফোনের বার্তা- আপনি কাকে বার্তা পাঠাচ্ছেন বা কে আপনাকে পাঠাচ্ছে এবং কথা সত্যতা যাচাই করার জন্য ফোন দেখা ও জেরা করে, তাহলে বুঝবেন যে আপনার সম্পর্কে বিশ্বাসের কমতি আছে। যদি আপনার সঙ্গী আপনাকে তার সব ধরনের বার্তা দেখাতে চায় এবং পরিবর্তে আপনার মুঠোফোনের বার্তা দেখতে চায় তাহলে তা মোটেও ভালো লক্ষণ নয় বরং এখনি এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন।

সব সম্পর্ক তার প্রকৃতি অনুযায়ী ভিন্ন। আপনি যেখানে যার সঙ্গে স্বস্তি অনুভব করবেন তার সঙ্গেই থাকবেন সারাজীবন। যদিও ওপরের বিষয়গুলো সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না যদি না আপনার সঙ্গী সন্দেহপ্রবণ হন। আর প্রকৃত সঙ্গীরা এই ধরনের ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামান না।

তথ্যসূত্র : বাস্টল



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ জানুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ