পুরুষের স্তন ক্যানসারের ৪ উপসর্গ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১২ ৩:০৮:৩৫ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৮-১২ ৩:০৮:৩৫ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : স্তন ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে কম কমন, কিন্তু পুরুষদের এটি হওয়া অসম্ভব নয়। এ কারণে এ ক্যানসারের লক্ষণ বা উপসর্গ সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত মেডস্টার ফ্রানকলিন স্কয়ার মেডিক্যাল সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত ব্রেস্ট সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ক্রিস্টেন ফার্নান্দেজ বলেন, ‘যখন আমরা স্তন ক্যানসারের কথা বলি, আমাদের মাথায় স্তন ক্যানসার নির্ণীত হয়েছে এমন পুরুষদের কথা তেমন আসে না বললেই চলে। প্রায়ক্ষেত্রে আমরা ধারণা করি যে স্তন ক্যানসার বিশেষত নারীদের রোগ।’ তিনি ম্যান’স হেলথ ডটকমকে বলেন, ‘পুরুষেরা মনে করে যে তাদের স্তন টিউমার নেই, কিন্তু তাদের থাকতে পারে।’
পুরুষদের নারীদের তুলনায় স্তন টিস্যু কম, তাই তাদের স্তন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক অধিক বিরল। প্রকৃতপক্ষে, পুরুষদের স্তন ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঘটনা এক শতাংশেরও কম। কিন্তু তাদের স্তন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে এবং অনেক পুরুষ প্রায়ক্ষেত্রে এ রোগের উপসর্গকে অবহেলা করে, বলেন ফার্নান্দেজ।
পুরুষদের আবশ্যিকভাবে নিয়মিত নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু মাঝেমাঝে স্তনে ব্যথা কিংবা লাম্প আছে কিনা চেক করা উচিত। যদি ব্যথা অনুভব করেন, এটিকে উপেক্ষা করবেন না এবং অবিলম্বে চিকিৎসককে দেখান।
আসছে অক্টোবর হচ্ছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস, এই উপলক্ষে এখানে পুরুষের স্তন ক্যানসারের চারটি উপসর্গ দেওয়া হলো।
* লাম্প
পুরুষেরা প্রায়ক্ষেত্রে তাদের বুকের লাম্প বা পিণ্ডকে অবহেলা করে, তারা মনে করে যে কাজ করার সময় এরকম বাম্প হয়েছে, ফার্নান্দেজ বলেন। কিন্তু আপনার স্তনে লাম্প স্তন ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত এসব লাম্প ব্যথাহীন হয় এবং সেই সঙ্গে স্তনে নরম (টেন্ডারনেস) অনুভূত হয়, বিশেষ করে স্তন স্পর্শ করলে, তিনি বলেন। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে বগল, লসিকাগ্রন্থি অথবা কলার বোনে ফোলা হতে পারে।
* নিপল স্তনের ভেতর ঢুকে যাওয়া
স্তন ক্যানসারের টিউমার বিকশিত হলে এটি লিগামেন্টকে স্তনের ভেতরের দিকে টানে, যার ফলে নিপল স্তনের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার কারণে গর্তের মতো সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই সঙ্গে স্তনের ত্বক শুষ্ক ও আঁশযুক্ত হতে পারে।
* নিপল ডিসচার্জ
ফার্নান্দেজ বলেন, ‘পুরুষেরা তাদের শার্টের ওপর দাগ লক্ষ্য করে থাকতে পারে, এটা স্তন থেকে তরল নিঃসরণ হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।’ যদি সবসময় আপনার বুকের একই পাশে শার্টে দাগ দেখেন, এটি নিপল ডিসচার্জ হতে পারে। এমনটা ঘটে, কারণ বিকশিত টিউমার থেকে তরল নিপল নালীর মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
* ওপেন সোর বা ফোড়া
তীব্র ক্ষেত্রে পুরুষদের নিপলের ওপর ওপেন সোর বা ফোড়া ডেভেলপ হতে পারে, কারণ টিউমার ত্বকের মধ্য দিয়ে বিকশিত হচ্ছে, ফার্নান্দেজ বলেন। যেহেতু পুরুষদের অল্প স্তন টিস্যু থাকে, তাই তাদের ত্বকের মধ্য দিয়ে টিউমার বিকশিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ফোড়া দেখতে পিকড পিম্পলের মতো হবে, বলেন তিনি।
তথ্যসূত্র : ম্যান’স হেলথ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ আগস্ট ২০১৮/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১২ ৩:০৮:৩৫ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৮-১২ ৩:০৮:৩৫ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : স্তন ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে কম কমন, কিন্তু পুরুষদের এটি হওয়া অসম্ভব নয়। এ কারণে এ ক্যানসারের লক্ষণ বা উপসর্গ সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত মেডস্টার ফ্রানকলিন স্কয়ার মেডিক্যাল সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত ব্রেস্ট সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ক্রিস্টেন ফার্নান্দেজ বলেন, ‘যখন আমরা স্তন ক্যানসারের কথা বলি, আমাদের মাথায় স্তন ক্যানসার নির্ণীত হয়েছে এমন পুরুষদের কথা তেমন আসে না বললেই চলে। প্রায়ক্ষেত্রে আমরা ধারণা করি যে স্তন ক্যানসার বিশেষত নারীদের রোগ।’ তিনি ম্যান’স হেলথ ডটকমকে বলেন, ‘পুরুষেরা মনে করে যে তাদের স্তন টিউমার নেই, কিন্তু তাদের থাকতে পারে।’
পুরুষদের নারীদের তুলনায় স্তন টিস্যু কম, তাই তাদের স্তন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক অধিক বিরল। প্রকৃতপক্ষে, পুরুষদের স্তন ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঘটনা এক শতাংশেরও কম। কিন্তু তাদের স্তন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে এবং অনেক পুরুষ প্রায়ক্ষেত্রে এ রোগের উপসর্গকে অবহেলা করে, বলেন ফার্নান্দেজ।
পুরুষদের আবশ্যিকভাবে নিয়মিত নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু মাঝেমাঝে স্তনে ব্যথা কিংবা লাম্প আছে কিনা চেক করা উচিত। যদি ব্যথা অনুভব করেন, এটিকে উপেক্ষা করবেন না এবং অবিলম্বে চিকিৎসককে দেখান।
আসছে অক্টোবর হচ্ছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস, এই উপলক্ষে এখানে পুরুষের স্তন ক্যানসারের চারটি উপসর্গ দেওয়া হলো।
* লাম্প
পুরুষেরা প্রায়ক্ষেত্রে তাদের বুকের লাম্প বা পিণ্ডকে অবহেলা করে, তারা মনে করে যে কাজ করার সময় এরকম বাম্প হয়েছে, ফার্নান্দেজ বলেন। কিন্তু আপনার স্তনে লাম্প স্তন ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত এসব লাম্প ব্যথাহীন হয় এবং সেই সঙ্গে স্তনে নরম (টেন্ডারনেস) অনুভূত হয়, বিশেষ করে স্তন স্পর্শ করলে, তিনি বলেন। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে বগল, লসিকাগ্রন্থি অথবা কলার বোনে ফোলা হতে পারে।
* নিপল স্তনের ভেতর ঢুকে যাওয়া
স্তন ক্যানসারের টিউমার বিকশিত হলে এটি লিগামেন্টকে স্তনের ভেতরের দিকে টানে, যার ফলে নিপল স্তনের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার কারণে গর্তের মতো সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই সঙ্গে স্তনের ত্বক শুষ্ক ও আঁশযুক্ত হতে পারে।
* নিপল ডিসচার্জ
ফার্নান্দেজ বলেন, ‘পুরুষেরা তাদের শার্টের ওপর দাগ লক্ষ্য করে থাকতে পারে, এটা স্তন থেকে তরল নিঃসরণ হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।’ যদি সবসময় আপনার বুকের একই পাশে শার্টে দাগ দেখেন, এটি নিপল ডিসচার্জ হতে পারে। এমনটা ঘটে, কারণ বিকশিত টিউমার থেকে তরল নিপল নালীর মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
* ওপেন সোর বা ফোড়া
তীব্র ক্ষেত্রে পুরুষদের নিপলের ওপর ওপেন সোর বা ফোড়া ডেভেলপ হতে পারে, কারণ টিউমার ত্বকের মধ্য দিয়ে বিকশিত হচ্ছে, ফার্নান্দেজ বলেন। যেহেতু পুরুষদের অল্প স্তন টিস্যু থাকে, তাই তাদের ত্বকের মধ্য দিয়ে টিউমার বিকশিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ফোড়া দেখতে পিকড পিম্পলের মতো হবে, বলেন তিনি।
তথ্যসূত্র : ম্যান’স হেলথ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ আগস্ট ২০১৮/ফিরোজ
ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত মেডস্টার ফ্রানকলিন স্কয়ার মেডিক্যাল সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত ব্রেস্ট সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ক্রিস্টেন ফার্নান্দেজ বলেন, ‘যখন আমরা স্তন ক্যানসারের কথা বলি, আমাদের মাথায় স্তন ক্যানসার নির্ণীত হয়েছে এমন পুরুষদের কথা তেমন আসে না বললেই চলে। প্রায়ক্ষেত্রে আমরা ধারণা করি যে স্তন ক্যানসার বিশেষত নারীদের রোগ।’ তিনি ম্যান’স হেলথ ডটকমকে বলেন, ‘পুরুষেরা মনে করে যে তাদের স্তন টিউমার নেই, কিন্তু তাদের থাকতে পারে।’
পুরুষদের নারীদের তুলনায় স্তন টিস্যু কম, তাই তাদের স্তন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক অধিক বিরল। প্রকৃতপক্ষে, পুরুষদের স্তন ক্যানসার বিকশিত হওয়ার ঘটনা এক শতাংশেরও কম। কিন্তু তাদের স্তন ক্যানসার ডেভেলপ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে এবং অনেক পুরুষ প্রায়ক্ষেত্রে এ রোগের উপসর্গকে অবহেলা করে, বলেন ফার্নান্দেজ।
পুরুষদের আবশ্যিকভাবে নিয়মিত নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু মাঝেমাঝে স্তনে ব্যথা কিংবা লাম্প আছে কিনা চেক করা উচিত। যদি ব্যথা অনুভব করেন, এটিকে উপেক্ষা করবেন না এবং অবিলম্বে চিকিৎসককে দেখান।
আসছে অক্টোবর হচ্ছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস, এই উপলক্ষে এখানে পুরুষের স্তন ক্যানসারের চারটি উপসর্গ দেওয়া হলো।
* লাম্প
পুরুষেরা প্রায়ক্ষেত্রে তাদের বুকের লাম্প বা পিণ্ডকে অবহেলা করে, তারা মনে করে যে কাজ করার সময় এরকম বাম্প হয়েছে, ফার্নান্দেজ বলেন। কিন্তু আপনার স্তনে লাম্প স্তন ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত এসব লাম্প ব্যথাহীন হয় এবং সেই সঙ্গে স্তনে নরম (টেন্ডারনেস) অনুভূত হয়, বিশেষ করে স্তন স্পর্শ করলে, তিনি বলেন। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে বগল, লসিকাগ্রন্থি অথবা কলার বোনে ফোলা হতে পারে।
* নিপল স্তনের ভেতর ঢুকে যাওয়া
স্তন ক্যানসারের টিউমার বিকশিত হলে এটি লিগামেন্টকে স্তনের ভেতরের দিকে টানে, যার ফলে নিপল স্তনের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার কারণে গর্তের মতো সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই সঙ্গে স্তনের ত্বক শুষ্ক ও আঁশযুক্ত হতে পারে।
* নিপল ডিসচার্জ
ফার্নান্দেজ বলেন, ‘পুরুষেরা তাদের শার্টের ওপর দাগ লক্ষ্য করে থাকতে পারে, এটা স্তন থেকে তরল নিঃসরণ হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।’ যদি সবসময় আপনার বুকের একই পাশে শার্টে দাগ দেখেন, এটি নিপল ডিসচার্জ হতে পারে। এমনটা ঘটে, কারণ বিকশিত টিউমার থেকে তরল নিপল নালীর মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
* ওপেন সোর বা ফোড়া
তীব্র ক্ষেত্রে পুরুষদের নিপলের ওপর ওপেন সোর বা ফোড়া ডেভেলপ হতে পারে, কারণ টিউমার ত্বকের মধ্য দিয়ে বিকশিত হচ্ছে, ফার্নান্দেজ বলেন। যেহেতু পুরুষদের অল্প স্তন টিস্যু থাকে, তাই তাদের ত্বকের মধ্য দিয়ে টিউমার বিকশিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ফোড়া দেখতে পিকড পিম্পলের মতো হবে, বলেন তিনি।
তথ্যসূত্র : ম্যান’স হেলথ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ আগস্ট ২০১৮/ফিরোজ
পুরুষের এনলারজড প্রস্টেটের ৭ লক্ষণ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৭ ১১:৫৫:০৮ এএম || আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৫:০৩:০০ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : এনলারজড প্রস্টেট বা বিবর্ধিত প্রস্টেট বিষয়টি আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, কিন্তু এই বিষয়টি আসলে কি?
মূত্রথলি এবং মূত্রনালীর নিচে আপনার প্রস্টেট গ্রন্থি অবস্থিত। যখন আপনি প্রস্রাব করেন, আপনার মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব প্রস্টেটে আসে এবং তারপর মূত্রনালির মধ্য দিয়ে শরীরের বাইরে বের হয়ে যায়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ইউরোলজি ক্যানসার স্পেশালিস্টস এর মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং ইউরোলজিস্ট ডা. এস. অ্যাডাম রামিন, ‘প্রস্টেটের ফাঁকা জায়গা নিয়ন্ত্রণী পদ্ধতির ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি যখন চাবেন, শুধু তখন প্রস্রাব করবেন। প্রস্টেট না থাকলে মূত্রথলি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রস্রাব লিক আউট বা বের হয়ে যাবে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ সমস্যা দেখা দেবে।’
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি বা বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি অফিসিয়ালি ‘বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া’ বা ‘বিপিএইচ’ নামে পরিচিত। বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে বয়স্ক পুরুষদের হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এর উপসর্গ প্রকাশ পায়। প্রকৃতপক্ষে, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি বা বিপিএইচ ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে।
ঠিক কি কারণে প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হয় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, কিন্তু এটি প্রধানত বয়স্ক পুরুষদের হয়ে থাকে বলে তারা ধারণা করছেন যে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে তা হতে পারে। এ ঘটনার ক্ষেত্রে, বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে টেসটস্টেরন কম উৎপাদিত হয় এবং উচ্চ শতাংশে ইস্ট্রোজেন সঞ্চিত হয়। এ কারণে তাদের প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিহাইড্রোটেসটস্টেরন নামক হরমোন পুঞ্জিভূত হলেও প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হতে পারে। টেসটস্টেরনের মাত্রা নিম্নগামী হলেও ডিহাইড্রোটেসটস্টেরন পুঞ্জিভূত হতে পারে, যে কারণে প্রস্টেট কোষের বৃদ্ধি হতে পারে।
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ
অনেকক্ষেত্রে, প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে থাকলে প্রস্টেটের নলাকৃতির ফাঁকা জায়গা আঁটসাঁট ও সংকুচিত হয়ে যায়। এ কারণে প্রস্রাবের প্রবাহ সীমিত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ডা. রামিন বলেন, ‘মূত্রত্যাগে কাঠিন্যতা বা প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, প্রস্টেট সমস্যার সবচেয়ে কমন উপসর্গ।’ বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গসমূহ হচ্ছে :
১. মূত্রত্যাগ শেষ করার পর মূত্রথলি খালি হয়নি অনুভূত হওয়া।
২. মূত্রত্যাগ শেষ করার পর দুই ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে আবার মূত্রত্যাগ করার প্রয়োজন হওয়া।
৩. মূত্রত্যাগের সময় কয়েকবার করে প্রস্রাব থামছে এবং আবার আসছে প্রকৃতির ঘটনা ঘটা।
৪. প্রস্রাব আটকানো কঠিন হওয়া।
৫. প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হওয়া।
৬. প্রস্রাব করা শুরু করতে জোর বা চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হওয়া।
৭. রাতে মূত্রত্যাগের জন্য বারবার ঘুম থেকে জেগে ওঠা।
আপনার বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি থাকলে কি করবেন?
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির মানে হচ্ছে, গ্রন্থিটির আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে ওঠেছে- এটি কোনো ক্যানসারের বৃদ্ধি নয়- যে কারণে এটির অফিশিয়াল নাম ‘বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া’। কিন্তু বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ প্রস্টেট ক্যানসারের উপসর্গকে অনুকরণ করতে পারে। তাই বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি ও প্রস্টেট ক্যানসার- যেটারই উপসর্গ দেখা দিক না কেন, মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ডা. রামিন বলেন, ‘আপনার ফিজিশিয়ান আপনাকে একজন ইউরোলজিস্ট বা মূত্রব্যবস্থাসংক্রান্ত রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার জন্য বলতে পারেন, কিন্তু প্রথমে চেকআপ দিয়ে শুরু করুন।’ আপনি যত দ্রুত মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করবেন, তত ভালো ফলাফল পেতে পারেন। ডা. রামিনের মতে, ‘কিছুক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ সমস্যার তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নাও হতে পারে। এ কারণে সিম্পল টেস্ট, যেমন- ব্লাডার ও প্রস্টেট আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রস্রাবের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, রোগ প্রক্রিয়ার প্রকৃত প্রকাশ করতে পারে।’
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির চিকিৎসা কি?
ডা. রামিনের মতে, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কম তীব্রতার ক্ষেত্রে কফি, চা এবং সোডা সীমিত করে ফেললে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে- ক্যাফেইন মূত্রথলিকে চেতিয়ে তুলে বা উদ্দীপিত করে এবং ইউরিনারি ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রস্রাব পুনরাবৃত্তি বৃদ্ধি করে, যা প্রস্টেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একটু বেশি অগ্রসর পরিস্থিতিতে আলফা ব্লকার এবং আলফা রিডাকটেস ইনহিবিটরের মতো ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। আলফা ব্লকার মূত্রথলি এবং প্রস্টেটের পেশীকে শিথিল করে সহজে প্রস্রাব করতে সাহায্য করে এবং আলফা রিডাকটেস ইনহিবিটর প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে হ্রাস করতে পারে।
ডা. রামিন বলেন, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে মাইক্রোওয়েভ থেরাপির মতো মিনিম্যালি ইনভেসিভ চিকিৎসাও প্রচলিত আছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, লেজার থেরাপির মাধ্যমে আপনার বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি ধ্বংস করার প্রয়োজন হতে পারে।
স্পষ্টভাবে বিস্তৃত বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির ক্ষেত্রে রোগীর রোবটিক সাবটোটাল প্রস্টেটেক্টমি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. রামিন বলেন, সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা আসলে নির্ভর করে নির্দিষ্ট রোগীর উপসর্গ এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলের উপর। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক রোগীর বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি একইভাবে উদ্ভব হয় না এবং প্রত্যেক চিকিৎসা ব্যবস্থা সব রোগীর জন্য ভালো নয়। তাই আপনার জন্য কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা উপযুক্ত হবে তা জানতে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করুন। বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থিকে অবহেলা করবেন না। ডা. রামিনের মতে, ‘এর চিকিৎসা করা না হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণী ক্ষমতা দুর্বল বা নষ্ট হওয়া, প্রস্রাব করতে জোর বা চাপ প্রদানের ফলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া। এমনকি অবশেষে আপনি কিডনি ড্যামেজের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।’
তথ্যসূত্র : ম্যানস হেলথ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৭ ১১:৫৫:০৮ এএম || আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৫:০৩:০০ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : এনলারজড প্রস্টেট বা বিবর্ধিত প্রস্টেট বিষয়টি আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, কিন্তু এই বিষয়টি আসলে কি?
মূত্রথলি এবং মূত্রনালীর নিচে আপনার প্রস্টেট গ্রন্থি অবস্থিত। যখন আপনি প্রস্রাব করেন, আপনার মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব প্রস্টেটে আসে এবং তারপর মূত্রনালির মধ্য দিয়ে শরীরের বাইরে বের হয়ে যায়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ইউরোলজি ক্যানসার স্পেশালিস্টস এর মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং ইউরোলজিস্ট ডা. এস. অ্যাডাম রামিন, ‘প্রস্টেটের ফাঁকা জায়গা নিয়ন্ত্রণী পদ্ধতির ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি যখন চাবেন, শুধু তখন প্রস্রাব করবেন। প্রস্টেট না থাকলে মূত্রথলি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রস্রাব লিক আউট বা বের হয়ে যাবে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ সমস্যা দেখা দেবে।’
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি বা বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি অফিসিয়ালি ‘বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া’ বা ‘বিপিএইচ’ নামে পরিচিত। বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে বয়স্ক পুরুষদের হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এর উপসর্গ প্রকাশ পায়। প্রকৃতপক্ষে, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি বা বিপিএইচ ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে।
ঠিক কি কারণে প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হয় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, কিন্তু এটি প্রধানত বয়স্ক পুরুষদের হয়ে থাকে বলে তারা ধারণা করছেন যে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে তা হতে পারে। এ ঘটনার ক্ষেত্রে, বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে টেসটস্টেরন কম উৎপাদিত হয় এবং উচ্চ শতাংশে ইস্ট্রোজেন সঞ্চিত হয়। এ কারণে তাদের প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিহাইড্রোটেসটস্টেরন নামক হরমোন পুঞ্জিভূত হলেও প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হতে পারে। টেসটস্টেরনের মাত্রা নিম্নগামী হলেও ডিহাইড্রোটেসটস্টেরন পুঞ্জিভূত হতে পারে, যে কারণে প্রস্টেট কোষের বৃদ্ধি হতে পারে।
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ
অনেকক্ষেত্রে, প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে থাকলে প্রস্টেটের নলাকৃতির ফাঁকা জায়গা আঁটসাঁট ও সংকুচিত হয়ে যায়। এ কারণে প্রস্রাবের প্রবাহ সীমিত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ডা. রামিন বলেন, ‘মূত্রত্যাগে কাঠিন্যতা বা প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, প্রস্টেট সমস্যার সবচেয়ে কমন উপসর্গ।’ বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গসমূহ হচ্ছে :
১. মূত্রত্যাগ শেষ করার পর মূত্রথলি খালি হয়নি অনুভূত হওয়া।
মূত্রথলি এবং মূত্রনালীর নিচে আপনার প্রস্টেট গ্রন্থি অবস্থিত। যখন আপনি প্রস্রাব করেন, আপনার মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব প্রস্টেটে আসে এবং তারপর মূত্রনালির মধ্য দিয়ে শরীরের বাইরে বের হয়ে যায়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ইউরোলজি ক্যানসার স্পেশালিস্টস এর মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং ইউরোলজিস্ট ডা. এস. অ্যাডাম রামিন, ‘প্রস্টেটের ফাঁকা জায়গা নিয়ন্ত্রণী পদ্ধতির ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি যখন চাবেন, শুধু তখন প্রস্রাব করবেন। প্রস্টেট না থাকলে মূত্রথলি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রস্রাব লিক আউট বা বের হয়ে যাবে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ সমস্যা দেখা দেবে।’
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি বা বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি অফিসিয়ালি ‘বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া’ বা ‘বিপিএইচ’ নামে পরিচিত। বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে বয়স্ক পুরুষদের হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এর উপসর্গ প্রকাশ পায়। প্রকৃতপক্ষে, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি বা বিপিএইচ ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে।
ঠিক কি কারণে প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হয় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, কিন্তু এটি প্রধানত বয়স্ক পুরুষদের হয়ে থাকে বলে তারা ধারণা করছেন যে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে তা হতে পারে। এ ঘটনার ক্ষেত্রে, বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে টেসটস্টেরন কম উৎপাদিত হয় এবং উচ্চ শতাংশে ইস্ট্রোজেন সঞ্চিত হয়। এ কারণে তাদের প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে পারে। ডিহাইড্রোটেসটস্টেরন নামক হরমোন পুঞ্জিভূত হলেও প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হতে পারে। টেসটস্টেরনের মাত্রা নিম্নগামী হলেও ডিহাইড্রোটেসটস্টেরন পুঞ্জিভূত হতে পারে, যে কারণে প্রস্টেট কোষের বৃদ্ধি হতে পারে।
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ
অনেকক্ষেত্রে, প্রস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে থাকলে প্রস্টেটের নলাকৃতির ফাঁকা জায়গা আঁটসাঁট ও সংকুচিত হয়ে যায়। এ কারণে প্রস্রাবের প্রবাহ সীমিত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ডা. রামিন বলেন, ‘মূত্রত্যাগে কাঠিন্যতা বা প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, প্রস্টেট সমস্যার সবচেয়ে কমন উপসর্গ।’ বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গসমূহ হচ্ছে :
১. মূত্রত্যাগ শেষ করার পর মূত্রথলি খালি হয়নি অনুভূত হওয়া।
২. মূত্রত্যাগ শেষ করার পর দুই ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে আবার মূত্রত্যাগ করার প্রয়োজন হওয়া।
৩. মূত্রত্যাগের সময় কয়েকবার করে প্রস্রাব থামছে এবং আবার আসছে প্রকৃতির ঘটনা ঘটা।
৪. প্রস্রাব আটকানো কঠিন হওয়া।
৫. প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হওয়া।
৬. প্রস্রাব করা শুরু করতে জোর বা চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হওয়া।
৭. রাতে মূত্রত্যাগের জন্য বারবার ঘুম থেকে জেগে ওঠা।
আপনার বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি থাকলে কি করবেন?
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির মানে হচ্ছে, গ্রন্থিটির আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে ওঠেছে- এটি কোনো ক্যানসারের বৃদ্ধি নয়- যে কারণে এটির অফিশিয়াল নাম ‘বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া’। কিন্তু বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ প্রস্টেট ক্যানসারের উপসর্গকে অনুকরণ করতে পারে। তাই বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি ও প্রস্টেট ক্যানসার- যেটারই উপসর্গ দেখা দিক না কেন, মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ডা. রামিন বলেন, ‘আপনার ফিজিশিয়ান আপনাকে একজন ইউরোলজিস্ট বা মূত্রব্যবস্থাসংক্রান্ত রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার জন্য বলতে পারেন, কিন্তু প্রথমে চেকআপ দিয়ে শুরু করুন।’ আপনি যত দ্রুত মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করবেন, তত ভালো ফলাফল পেতে পারেন। ডা. রামিনের মতে, ‘কিছুক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ সমস্যার তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নাও হতে পারে। এ কারণে সিম্পল টেস্ট, যেমন- ব্লাডার ও প্রস্টেট আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রস্রাবের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, রোগ প্রক্রিয়ার প্রকৃত প্রকাশ করতে পারে।’
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির চিকিৎসা কি?
ডা. রামিনের মতে, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কম তীব্রতার ক্ষেত্রে কফি, চা এবং সোডা সীমিত করে ফেললে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে- ক্যাফেইন মূত্রথলিকে চেতিয়ে তুলে বা উদ্দীপিত করে এবং ইউরিনারি ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রস্রাব পুনরাবৃত্তি বৃদ্ধি করে, যা প্রস্টেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একটু বেশি অগ্রসর পরিস্থিতিতে আলফা ব্লকার এবং আলফা রিডাকটেস ইনহিবিটরের মতো ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। আলফা ব্লকার মূত্রথলি এবং প্রস্টেটের পেশীকে শিথিল করে সহজে প্রস্রাব করতে সাহায্য করে এবং আলফা রিডাকটেস ইনহিবিটর প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে হ্রাস করতে পারে।
ডা. রামিন বলেন, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে মাইক্রোওয়েভ থেরাপির মতো মিনিম্যালি ইনভেসিভ চিকিৎসাও প্রচলিত আছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, লেজার থেরাপির মাধ্যমে আপনার বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি ধ্বংস করার প্রয়োজন হতে পারে।
স্পষ্টভাবে বিস্তৃত বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির ক্ষেত্রে রোগীর রোবটিক সাবটোটাল প্রস্টেটেক্টমি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. রামিন বলেন, সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা আসলে নির্ভর করে নির্দিষ্ট রোগীর উপসর্গ এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলের উপর। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক রোগীর বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি একইভাবে উদ্ভব হয় না এবং প্রত্যেক চিকিৎসা ব্যবস্থা সব রোগীর জন্য ভালো নয়। তাই আপনার জন্য কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা উপযুক্ত হবে তা জানতে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করুন। বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থিকে অবহেলা করবেন না। ডা. রামিনের মতে, ‘এর চিকিৎসা করা না হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণী ক্ষমতা দুর্বল বা নষ্ট হওয়া, প্রস্রাব করতে জোর বা চাপ প্রদানের ফলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া। এমনকি অবশেষে আপনি কিডনি ড্যামেজের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।’
তথ্যসূত্র : ম্যানস হেলথ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ
আপনার বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি থাকলে কি করবেন?
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির মানে হচ্ছে, গ্রন্থিটির আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে ওঠেছে- এটি কোনো ক্যানসারের বৃদ্ধি নয়- যে কারণে এটির অফিশিয়াল নাম ‘বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেসিয়া’। কিন্তু বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ প্রস্টেট ক্যানসারের উপসর্গকে অনুকরণ করতে পারে। তাই বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি ও প্রস্টেট ক্যানসার- যেটারই উপসর্গ দেখা দিক না কেন, মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ডা. রামিন বলেন, ‘আপনার ফিজিশিয়ান আপনাকে একজন ইউরোলজিস্ট বা মূত্রব্যবস্থাসংক্রান্ত রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার জন্য বলতে পারেন, কিন্তু প্রথমে চেকআপ দিয়ে শুরু করুন।’ আপনি যত দ্রুত মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করবেন, তত ভালো ফলাফল পেতে পারেন। ডা. রামিনের মতে, ‘কিছুক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থির উপসর্গ সমস্যার তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নাও হতে পারে। এ কারণে সিম্পল টেস্ট, যেমন- ব্লাডার ও প্রস্টেট আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রস্রাবের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, রোগ প্রক্রিয়ার প্রকৃত প্রকাশ করতে পারে।’
বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির চিকিৎসা কি?
ডা. রামিনের মতে, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কম তীব্রতার ক্ষেত্রে কফি, চা এবং সোডা সীমিত করে ফেললে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে- ক্যাফেইন মূত্রথলিকে চেতিয়ে তুলে বা উদ্দীপিত করে এবং ইউরিনারি ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রস্রাব পুনরাবৃত্তি বৃদ্ধি করে, যা প্রস্টেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একটু বেশি অগ্রসর পরিস্থিতিতে আলফা ব্লকার এবং আলফা রিডাকটেস ইনহিবিটরের মতো ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। আলফা ব্লকার মূত্রথলি এবং প্রস্টেটের পেশীকে শিথিল করে সহজে প্রস্রাব করতে সাহায্য করে এবং আলফা রিডাকটেস ইনহিবিটর প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে হ্রাস করতে পারে।
ডা. রামিন বলেন, বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে মাইক্রোওয়েভ থেরাপির মতো মিনিম্যালি ইনভেসিভ চিকিৎসাও প্রচলিত আছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, লেজার থেরাপির মাধ্যমে আপনার বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি ধ্বংস করার প্রয়োজন হতে পারে।
স্পষ্টভাবে বিস্তৃত বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থির ক্ষেত্রে রোগীর রোবটিক সাবটোটাল প্রস্টেটেক্টমি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. রামিন বলেন, সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা আসলে নির্ভর করে নির্দিষ্ট রোগীর উপসর্গ এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলের উপর। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক রোগীর বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থি একইভাবে উদ্ভব হয় না এবং প্রত্যেক চিকিৎসা ব্যবস্থা সব রোগীর জন্য ভালো নয়। তাই আপনার জন্য কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা উপযুক্ত হবে তা জানতে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ করুন। বিবর্ধিত প্রস্টেট গ্রন্থিকে অবহেলা করবেন না। ডা. রামিনের মতে, ‘এর চিকিৎসা করা না হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণী ক্ষমতা দুর্বল বা নষ্ট হওয়া, প্রস্রাব করতে জোর বা চাপ প্রদানের ফলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া। এমনকি অবশেষে আপনি কিডনি ড্যামেজের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।’
তথ্যসূত্র : ম্যানস হেলথ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ
পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৭ ৯:২৮:৫০ এএম || আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৫:০০:৩৩ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : সম্ভবত আপনি লিবিডো বা কামশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করেছেন এবং তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথবা হয়তো আপনি বয়স্কতার জন্য উদ্বিগ্ন এবং টেস্টোস্টেরন ঘাটতি সমস্যার অলৌকিক সমাধানের জন্য টেস্টোস্টেরন বুস্টারের দিকে ঝুঁকছেন।
কিন্তু কৌশলী মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে প্রলুব্ধ হয়ে টেস্টোস্টেরন বুস্টার বা টেস্টোস্টেরন ওষুধ গ্রহণের কথা বিবেচনা করার পূর্বে আপনার টেস্টোস্টেরন সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া উচিত। এখানে ৯টি প্রশ্নের উল্লেখ করা হলো, যা পুরুষদের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা উচিত।
১. টেস্টোস্টেরন কি?
টেস্টোস্টেরন একটি স্টেরয়েড হরমোন যা কোলেস্টেরল থেকে অর্জিত হয়। টেস্টোস্টেরনকে অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোন বলা হয়। এই হরমোন কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, লিঙ্গোত্থানে সমস্যার মতো ঘটনা ঘটে। এই হরমোন প্রধানত পুরুষদের শুক্রাশয় দ্বারা নিঃসৃত হয়ে থাকে, কিন্তু খুব অল্প পরিমাণ টেস্টোস্টেরন নারীদের অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স ও ডিম্বাশয় দ্বারাও নিঃসৃত হয়। বয়ঃসন্ধিকালে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়, কৈশোরের শেষের দিক থেকে ২০ বছর বয়সের প্রারম্ভে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সর্বাধিক হয় এবং তারপর এ মাত্রা কমতে থাকে। ৩০ বছর বয়সের পর, একজন পুরুষের টেস্টোস্টেরন মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক এবং এ হ্রাস পাওয়া প্রতিবছর অব্যাহত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মতে, ‘টেস্টোস্টেরন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ হরমোন যা কামোন্নয়ন বা যৌনোন্নয়ন, মাসল মাস বা মেটাবলিক রেট বা শারীরিক শক্তি ও দৈনিক কার্যক্ষমতা এবং লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।’ ১৯৩৭ সালের প্রথম দিকে ক্লিনিক্যাল ড্রাগ হিসেবে প্রথম সিন্থেটিক টেস্টোস্টেরন ব্যবহার করা হয় এবং বর্তমানে সিন্থেটিক টেস্টোস্টেরন সেসব পুরুষদের প্রেসক্রাইব করা হয়, যাদের প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের মাত্রা কম।
২. আমার কি টেস্টোস্টেরন কম রয়েছে?
টেস্টোস্টেরন ঘাটতির কোন মাত্রা মেডিক্যালি প্রাসঙ্গিক তা এখনো ভালোভাবে নির্ণীত হয়নি। এটি শুধুমাত্র বয়স্ক পুরুষদের সমস্যা নয়। টেস্টোস্টেরন ঘাটতি পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য সমস্যাসমূহের একটি যার সম্পর্কে পুরুষদের জ্ঞান থাকা উচিত। স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন উৎপাদন মাত্রা পুরুষদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে এবং সারাদিন এ হরমোনের মাত্রার হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে- সাধারণত সকালে সর্বোচ্চ হয়ে থাকে। লো টেস্টোস্টেরন বা নিম্ন টেস্টোস্টেরন বা টেস্টোস্টেরন ঘাটতির আদর্শ কোনো সংজ্ঞা নেই। লো টেস্টোস্টেরনকে ‘লো-টি’ নামে উল্লেখ করা হয়। মায়ো ক্লিনিকের মতে, গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের (৩০+) স্বাস্থ্যতার পরিচায়ক টেস্টোস্টেরন মাত্রা প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ২৭০ থেকে ১,০৭০ ন্যানোগ্রাম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মতে, লো-টি এর সম্ভাব্য উপসর্গ হচ্ছে যৌন তাড়না হ্রাস, লিঙ্গ উত্থান অক্ষমতা বা পুরুষত্বহীনতা, স্তনের আকার বৃদ্ধি, শুক্রাণু হ্রাস, হট ফ্ল্যাশ, বিষণ্নতা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে অসমর্থতা, সংকুচিত ও নরম টেস্টিস, মাসল মাস হ্রাস, চুল পড়ে যাওয়া এবং হাড়ে ফ্র্যাকচার প্রবণতা।
৩. লো-টি কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
অধিকাংশ পুরুষের পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরনের চেয়েও বেশি টেস্টোস্টেরন থাকে। কিন্তু কিছু পুরুষের মধ্যে এ হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয় না- যা তাদেরকে হাইপোগোনাডিজম নামক অবস্থার দিকে ধাবিত করে। একটি রক্ত পরীক্ষা আপনার ডাক্তারকে বলতে পারবে যে কি পরিমাণ মুক্ত টেস্টোস্টেরন আপনার রক্তে চলাচল করছে এবং এটাও জানাতে পারে যে আপনার শরীরে মোট কি পরিমাণ হরমোন আছে। দ্য জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজমে প্রকাশিত এন্ডোক্রাইন সোসাইটির নির্দেশিকার মতে, শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে সুসংগত উপসর্গ এবং সুস্পষ্ট নিম্ন সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে লো-টি নির্ণয় করা উচিত। লেবেলিং এবং মেডিকেটিং বা ওষুধ এড়াতে নির্দেশিকাটিতে পুরুষদেরকে সাধারণ লোকদের মধ্যে স্ক্রিনিং না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় সুস্থ পুরুষদের টেস্টিং, ট্রিটমেন্ট এবং মনিটরিংয়ে অস্পষ্ট ফলাফল আসতে পারে।
৪. লো-টি কি বয়স্কতার সঙ্গে একটি অনিবার্য অংশ?
নারীরা যখন মেনোপজের মধ্য দিয়ে যায়, তাদের ইস্ট্রোজন মাত্রা খুব দ্রুত হ্রাস পায় এবং প্রায় সম্পূর্ণরূপে থেমে যায়। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন মাত্রা হ্রাস ভিন্নভাবে হয়ে থাকে। সাধারণত, ৪০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিবছর ১ থেকে ২ শতাংশ টেস্টোস্টেরন মাত্রা হ্রাস পায় এবং লো-টি অবশ্যই অনিবার্য নয়। ব্রিটিশ মেডিক্যালের ২০১০ সালের জুন সংখ্যার ড্রাগ অ্যান্ড থেরাপিউটিকস বুলেটিনের মতে, ৬০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং তাদের মধ্যে অর্ধেকের আশি বা তদোর্ধ্ব বছর বয়সে টেস্টোস্টেরন মাত্রা অল্পবয়স্ক পুরুষদের মতো স্বাভাবিক রেঞ্জের মধ্যে ছিল।
৫. কিভাবে আমি লো-টি এর চিকিৎসা করব?
লো-টি থাকা পুরুষদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির (টিআরটি) মাধ্যমে এ অবস্থার চিকিৎসা করা যায়। এজন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এবং সাবধানী মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ লাগবে। বিভিন্ন রূপে ওষুধ পাওয়া যায়, যেমন- জেল, টপিক্যাল সল্যুশন, চর্মের ওপর ট্রান্সডারমাল প্যাচ স্থাপন, উপরের মাড়িতে বাক্কেল প্যাচ প্রয়োগ, ইনজেকশন এবং চর্মের নিচে পেলেট ইমপ্লান্ট। এসব ওষুধ বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায়, যেমন- অ্যান্ড্রোডার্ম, অ্যান্ড্রোজেল, অ্যাক্সিরন, ফরটেস্টা, স্ট্রিয়ান্ট, টেস্টিম এবং টেস্টোপেল। শক্তি বৃদ্ধি, অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স, শারীরিক সৌন্দর্য কিংবা বয়স্কতা প্রতিরোধের জন্য যদি আপনি টেস্টোস্টেরন গ্রহণের চিন্তা করেন, তাহলে এ কথা মনে রাখবেন যে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এফডিএ) এসব ক্ষেত্রে এ ড্রাগ ব্যবহারের অনুমোদন দেননি।
৬. টেস্টোস্টেরন গ্রহণের কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে?
টেস্টোস্টেরন গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ কিছু ভীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যদি আপনি টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণের কথা বিবেচনা করেন, তাহলে নিশ্চিত হোন যে আপনি সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেছেন। মায়ো ক্লিনিকের মতে, এসব ঝুঁকি হতে পারে ব্রণ বা তৈলাক্ত ত্বকের বিকাশ, তরল জমা, প্রস্রাবের উপসর্গ বৃদ্ধির সম্ভাবনা (যেমন- প্রস্রাবের তাড়া বা ঘনঘন প্রস্রাব), বৈরভাব ও দোদুল্যমান মেজাজ, স্লিপ অ্যাপনিয়া বৃদ্ধি, অণ্ডকোষের আকার হ্রাস, স্তন বৃদ্ধি এবং রক্তজমাটের ঝুঁকি বৃদ্ধি। রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করতে ২০১৪ সালে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এফডিএ) টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্টের লেবেল রিভাইজ করে। টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারী রোগীদের বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস সমস্যা, শরীরের একপাশে দুর্বলতা অথবা কথা অস্পষ্ট হলে এফডিএ মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধানের পরামর্শ দেয়।
৭. আমি কি প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করতে পারব?
স্থূল পুরুষদের টেস্টোস্টেরন কম থাকে। তাদের মতো ধূমপায়ী, শারীরিকভাবে অলস অথবা প্রতিসপ্তাহে ২৮ বারের বেশি মদ্যপায়ীদেরও টেস্টোস্টেরন কম থাকে। তাই ওজন হ্রাস করে, বেশি করে কর্মে সক্রিয় হয়ে এবং মদ্যপান কমিয়ে আপনি প্রেসক্রিপশন ছাড়া টেস্টোস্টেরন মাত্রা বাড়াতে পারেন। ২০১২ সালে এন্ডোক্রাইন সোসাইটির বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত গবেষণা ফলাফলের মতে, যেসব স্থূল পুরুষেরা গড়ে ১৭ পাউন্ড ওজন কমিয়েছে, তাদের টেস্টোস্টেরন মাত্রা ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে ২০১৪ সালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, হাই ইন্টেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেইনিং (এইচআইআইটি) টেস্টোস্টেরন মাত্রা বাড়াতে পারে।
৮. টেস্টোস্টেরনের জন্য কি খারাপ সহযোগী আছে?
স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন মাত্রা থাকা পুরুষদের টেস্টোস্টেরন থেরাপি বিবেচনা করা উচিত নয় এবং ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়া পুরুষ বা নারীদের টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। ধারণা করা হয় যে, টেস্টোস্টেরন প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে অথবা এনলার্জড প্রস্টেটের উপসর্গকে আরো খারাপ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করতে পারে- এ বিষয়টা নিয়ে মেডিক্যাল কমিউনিটির মধ্যে অনেক বছর ধরে তর্কবিতর্ক হয়েছে। সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিক্যাল সেন্টার এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন দ্বারা ২০১৬ সালে সম্পাদিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, টেস্টোস্টেরন থেরাপি আগ্রাসী প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় না। তবুও আপনার প্রস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে টেস্টোস্টেরন থেরাপি শুরু করার পূর্বে ডাক্তারকে জানান।
৯. টেস্টোস্টেরন গ্রহণ কি অন্যের ঝুঁকির কারণ হবে?
টেস্টোস্টেরন মেডিকেশন বা ওষুধের মোড়কে সতর্কবাণী লেখা থাকে। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সতর্ক করে যে, যেসব শিশুরা ঘটনাক্রমে এ হরমোন এক্সপোজ করে- তাদের পেনিস বা ক্লিটরিস বৃদ্ধি, গুপ্ত লোম জন্মানো, লিঙ্গ উত্থান ও কামশক্তি বৃদ্ধি, আগ্রাসী মনোভাব এবং হাড়ে বার্ধক্য আসতে পারে। তাই শরীরের সেসব জায়গায় টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয় যা শিশু বা গর্ভবতী নারীর সংস্পর্শে আসতে পারে। এ প্রোডাক্ট প্রয়োগ করার পর প্রয়োগকৃত স্থান কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত এবং সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। কারো সঙ্গে চর্ম-থেকে-চর্ম সংস্পর্শ হওয়ার পূর্বেই টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্ট প্রয়োগকৃত স্থান ধুয়ে ফেলা উচিত। টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারীর বেড শিট, বালিশ এবং কাপড়ে টেস্টোস্টেরন লেগে থাকতে পারে, তাই এসবের সংস্পর্শে কেউ আসতে চাইলে তাকে ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করুন।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ নভেম্বর ২০১৭/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৭ ৯:২৮:৫০ এএম || আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ৫:০০:৩৩ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : সম্ভবত আপনি লিবিডো বা কামশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রাকৃতিক পন্থা অবলম্বন করেছেন এবং তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথবা হয়তো আপনি বয়স্কতার জন্য উদ্বিগ্ন এবং টেস্টোস্টেরন ঘাটতি সমস্যার অলৌকিক সমাধানের জন্য টেস্টোস্টেরন বুস্টারের দিকে ঝুঁকছেন।
কিন্তু কৌশলী মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে প্রলুব্ধ হয়ে টেস্টোস্টেরন বুস্টার বা টেস্টোস্টেরন ওষুধ গ্রহণের কথা বিবেচনা করার পূর্বে আপনার টেস্টোস্টেরন সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া উচিত। এখানে ৯টি প্রশ্নের উল্লেখ করা হলো, যা পুরুষদের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা উচিত।
১. টেস্টোস্টেরন কি?
কিন্তু কৌশলী মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে প্রলুব্ধ হয়ে টেস্টোস্টেরন বুস্টার বা টেস্টোস্টেরন ওষুধ গ্রহণের কথা বিবেচনা করার পূর্বে আপনার টেস্টোস্টেরন সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া উচিত। এখানে ৯টি প্রশ্নের উল্লেখ করা হলো, যা পুরুষদের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা উচিত।
১. টেস্টোস্টেরন কি?
টেস্টোস্টেরন একটি স্টেরয়েড হরমোন যা কোলেস্টেরল থেকে অর্জিত হয়। টেস্টোস্টেরনকে অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোন বলা হয়। এই হরমোন কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, লিঙ্গোত্থানে সমস্যার মতো ঘটনা ঘটে। এই হরমোন প্রধানত পুরুষদের শুক্রাশয় দ্বারা নিঃসৃত হয়ে থাকে, কিন্তু খুব অল্প পরিমাণ টেস্টোস্টেরন নারীদের অ্যাড্রিনাল কর্টেক্স ও ডিম্বাশয় দ্বারাও নিঃসৃত হয়। বয়ঃসন্ধিকালে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়, কৈশোরের শেষের দিক থেকে ২০ বছর বয়সের প্রারম্ভে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সর্বাধিক হয় এবং তারপর এ মাত্রা কমতে থাকে। ৩০ বছর বয়সের পর, একজন পুরুষের টেস্টোস্টেরন মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক এবং এ হ্রাস পাওয়া প্রতিবছর অব্যাহত থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মতে, ‘টেস্টোস্টেরন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ হরমোন যা কামোন্নয়ন বা যৌনোন্নয়ন, মাসল মাস বা মেটাবলিক রেট বা শারীরিক শক্তি ও দৈনিক কার্যক্ষমতা এবং লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।’ ১৯৩৭ সালের প্রথম দিকে ক্লিনিক্যাল ড্রাগ হিসেবে প্রথম সিন্থেটিক টেস্টোস্টেরন ব্যবহার করা হয় এবং বর্তমানে সিন্থেটিক টেস্টোস্টেরন সেসব পুরুষদের প্রেসক্রাইব করা হয়, যাদের প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের মাত্রা কম।
২. আমার কি টেস্টোস্টেরন কম রয়েছে?
২. আমার কি টেস্টোস্টেরন কম রয়েছে?
টেস্টোস্টেরন ঘাটতির কোন মাত্রা মেডিক্যালি প্রাসঙ্গিক তা এখনো ভালোভাবে নির্ণীত হয়নি। এটি শুধুমাত্র বয়স্ক পুরুষদের সমস্যা নয়। টেস্টোস্টেরন ঘাটতি পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য সমস্যাসমূহের একটি যার সম্পর্কে পুরুষদের জ্ঞান থাকা উচিত। স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন উৎপাদন মাত্রা পুরুষদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে এবং সারাদিন এ হরমোনের মাত্রার হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে- সাধারণত সকালে সর্বোচ্চ হয়ে থাকে। লো টেস্টোস্টেরন বা নিম্ন টেস্টোস্টেরন বা টেস্টোস্টেরন ঘাটতির আদর্শ কোনো সংজ্ঞা নেই। লো টেস্টোস্টেরনকে ‘লো-টি’ নামে উল্লেখ করা হয়। মায়ো ক্লিনিকের মতে, গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের (৩০+) স্বাস্থ্যতার পরিচায়ক টেস্টোস্টেরন মাত্রা প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ২৭০ থেকে ১,০৭০ ন্যানোগ্রাম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মতে, লো-টি এর সম্ভাব্য উপসর্গ হচ্ছে যৌন তাড়না হ্রাস, লিঙ্গ উত্থান অক্ষমতা বা পুরুষত্বহীনতা, স্তনের আকার বৃদ্ধি, শুক্রাণু হ্রাস, হট ফ্ল্যাশ, বিষণ্নতা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে অসমর্থতা, সংকুচিত ও নরম টেস্টিস, মাসল মাস হ্রাস, চুল পড়ে যাওয়া এবং হাড়ে ফ্র্যাকচার প্রবণতা।
৩. লো-টি কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
৩. লো-টি কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
অধিকাংশ পুরুষের পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরনের চেয়েও বেশি টেস্টোস্টেরন থাকে। কিন্তু কিছু পুরুষের মধ্যে এ হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয় না- যা তাদেরকে হাইপোগোনাডিজম নামক অবস্থার দিকে ধাবিত করে। একটি রক্ত পরীক্ষা আপনার ডাক্তারকে বলতে পারবে যে কি পরিমাণ মুক্ত টেস্টোস্টেরন আপনার রক্তে চলাচল করছে এবং এটাও জানাতে পারে যে আপনার শরীরে মোট কি পরিমাণ হরমোন আছে। দ্য জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজমে প্রকাশিত এন্ডোক্রাইন সোসাইটির নির্দেশিকার মতে, শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে সুসংগত উপসর্গ এবং সুস্পষ্ট নিম্ন সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে লো-টি নির্ণয় করা উচিত। লেবেলিং এবং মেডিকেটিং বা ওষুধ এড়াতে নির্দেশিকাটিতে পুরুষদেরকে সাধারণ লোকদের মধ্যে স্ক্রিনিং না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় সুস্থ পুরুষদের টেস্টিং, ট্রিটমেন্ট এবং মনিটরিংয়ে অস্পষ্ট ফলাফল আসতে পারে।
৪. লো-টি কি বয়স্কতার সঙ্গে একটি অনিবার্য অংশ?
৪. লো-টি কি বয়স্কতার সঙ্গে একটি অনিবার্য অংশ?
নারীরা যখন মেনোপজের মধ্য দিয়ে যায়, তাদের ইস্ট্রোজন মাত্রা খুব দ্রুত হ্রাস পায় এবং প্রায় সম্পূর্ণরূপে থেমে যায়। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন মাত্রা হ্রাস ভিন্নভাবে হয়ে থাকে। সাধারণত, ৪০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিবছর ১ থেকে ২ শতাংশ টেস্টোস্টেরন মাত্রা হ্রাস পায় এবং লো-টি অবশ্যই অনিবার্য নয়। ব্রিটিশ মেডিক্যালের ২০১০ সালের জুন সংখ্যার ড্রাগ অ্যান্ড থেরাপিউটিকস বুলেটিনের মতে, ৬০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ পুরুষদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং তাদের মধ্যে অর্ধেকের আশি বা তদোর্ধ্ব বছর বয়সে টেস্টোস্টেরন মাত্রা অল্পবয়স্ক পুরুষদের মতো স্বাভাবিক রেঞ্জের মধ্যে ছিল।
৫. কিভাবে আমি লো-টি এর চিকিৎসা করব?
৫. কিভাবে আমি লো-টি এর চিকিৎসা করব?
লো-টি থাকা পুরুষদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির (টিআরটি) মাধ্যমে এ অবস্থার চিকিৎসা করা যায়। এজন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এবং সাবধানী মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ লাগবে। বিভিন্ন রূপে ওষুধ পাওয়া যায়, যেমন- জেল, টপিক্যাল সল্যুশন, চর্মের ওপর ট্রান্সডারমাল প্যাচ স্থাপন, উপরের মাড়িতে বাক্কেল প্যাচ প্রয়োগ, ইনজেকশন এবং চর্মের নিচে পেলেট ইমপ্লান্ট। এসব ওষুধ বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায়, যেমন- অ্যান্ড্রোডার্ম, অ্যান্ড্রোজেল, অ্যাক্সিরন, ফরটেস্টা, স্ট্রিয়ান্ট, টেস্টিম এবং টেস্টোপেল। শক্তি বৃদ্ধি, অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স, শারীরিক সৌন্দর্য কিংবা বয়স্কতা প্রতিরোধের জন্য যদি আপনি টেস্টোস্টেরন গ্রহণের চিন্তা করেন, তাহলে এ কথা মনে রাখবেন যে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এফডিএ) এসব ক্ষেত্রে এ ড্রাগ ব্যবহারের অনুমোদন দেননি।
৬. টেস্টোস্টেরন গ্রহণের কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে?
৬. টেস্টোস্টেরন গ্রহণের কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে?
টেস্টোস্টেরন গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ কিছু ভীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যদি আপনি টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণের কথা বিবেচনা করেন, তাহলে নিশ্চিত হোন যে আপনি সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেছেন। মায়ো ক্লিনিকের মতে, এসব ঝুঁকি হতে পারে ব্রণ বা তৈলাক্ত ত্বকের বিকাশ, তরল জমা, প্রস্রাবের উপসর্গ বৃদ্ধির সম্ভাবনা (যেমন- প্রস্রাবের তাড়া বা ঘনঘন প্রস্রাব), বৈরভাব ও দোদুল্যমান মেজাজ, স্লিপ অ্যাপনিয়া বৃদ্ধি, অণ্ডকোষের আকার হ্রাস, স্তন বৃদ্ধি এবং রক্তজমাটের ঝুঁকি বৃদ্ধি। রোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করতে ২০১৪ সালে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এফডিএ) টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্টের লেবেল রিভাইজ করে। টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারী রোগীদের বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস সমস্যা, শরীরের একপাশে দুর্বলতা অথবা কথা অস্পষ্ট হলে এফডিএ মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধানের পরামর্শ দেয়।
৭. আমি কি প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করতে পারব?
৭. আমি কি প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করতে পারব?
স্থূল পুরুষদের টেস্টোস্টেরন কম থাকে। তাদের মতো ধূমপায়ী, শারীরিকভাবে অলস অথবা প্রতিসপ্তাহে ২৮ বারের বেশি মদ্যপায়ীদেরও টেস্টোস্টেরন কম থাকে। তাই ওজন হ্রাস করে, বেশি করে কর্মে সক্রিয় হয়ে এবং মদ্যপান কমিয়ে আপনি প্রেসক্রিপশন ছাড়া টেস্টোস্টেরন মাত্রা বাড়াতে পারেন। ২০১২ সালে এন্ডোক্রাইন সোসাইটির বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত গবেষণা ফলাফলের মতে, যেসব স্থূল পুরুষেরা গড়ে ১৭ পাউন্ড ওজন কমিয়েছে, তাদের টেস্টোস্টেরন মাত্রা ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে ২০১৪ সালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, হাই ইন্টেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেইনিং (এইচআইআইটি) টেস্টোস্টেরন মাত্রা বাড়াতে পারে।
৮. টেস্টোস্টেরনের জন্য কি খারাপ সহযোগী আছে?
৮. টেস্টোস্টেরনের জন্য কি খারাপ সহযোগী আছে?
স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন মাত্রা থাকা পুরুষদের টেস্টোস্টেরন থেরাপি বিবেচনা করা উচিত নয় এবং ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়া পুরুষ বা নারীদের টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। ধারণা করা হয় যে, টেস্টোস্টেরন প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে অথবা এনলার্জড প্রস্টেটের উপসর্গকে আরো খারাপ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করতে পারে- এ বিষয়টা নিয়ে মেডিক্যাল কমিউনিটির মধ্যে অনেক বছর ধরে তর্কবিতর্ক হয়েছে। সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিক্যাল সেন্টার এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন দ্বারা ২০১৬ সালে সম্পাদিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, টেস্টোস্টেরন থেরাপি আগ্রাসী প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় না। তবুও আপনার প্রস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে টেস্টোস্টেরন থেরাপি শুরু করার পূর্বে ডাক্তারকে জানান।
৯. টেস্টোস্টেরন গ্রহণ কি অন্যের ঝুঁকির কারণ হবে?
৯. টেস্টোস্টেরন গ্রহণ কি অন্যের ঝুঁকির কারণ হবে?
টেস্টোস্টেরন মেডিকেশন বা ওষুধের মোড়কে সতর্কবাণী লেখা থাকে। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সতর্ক করে যে, যেসব শিশুরা ঘটনাক্রমে এ হরমোন এক্সপোজ করে- তাদের পেনিস বা ক্লিটরিস বৃদ্ধি, গুপ্ত লোম জন্মানো, লিঙ্গ উত্থান ও কামশক্তি বৃদ্ধি, আগ্রাসী মনোভাব এবং হাড়ে বার্ধক্য আসতে পারে। তাই শরীরের সেসব জায়গায় টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত নয় যা শিশু বা গর্ভবতী নারীর সংস্পর্শে আসতে পারে। এ প্রোডাক্ট প্রয়োগ করার পর প্রয়োগকৃত স্থান কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত এবং সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। কারো সঙ্গে চর্ম-থেকে-চর্ম সংস্পর্শ হওয়ার পূর্বেই টেস্টোস্টেরন প্রোডাক্ট প্রয়োগকৃত স্থান ধুয়ে ফেলা উচিত। টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারীর বেড শিট, বালিশ এবং কাপড়ে টেস্টোস্টেরন লেগে থাকতে পারে, তাই এসবের সংস্পর্শে কেউ আসতে চাইলে তাকে ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করুন।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ নভেম্বর ২০১৭/ফিরোজ
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ নভেম্বর ২০১৭/ফিরোজ
রুষের মারাত্মক একটি ক্যানসারের ৮ লক্ষণ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:২২:০৮ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:২৯:৪১ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : টেস্টিকুলার বা অণ্ডকোষের ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে জ্ঞান আপনার জীবন রক্ষা করতে পারে। এ প্রতিবেদনে এ ক্যানসারের ৮টি নীরব লক্ষণ আলোচনা করা হলো।
* আপনার অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প আছে
ইউনিভার্সিটি অব পেলসিলভানিয়ার ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জোসেপ হ্যারিহিল বলেন, ‘অণ্ডকোষের ক্যানসারের অন্যতম সর্বাধিক কমন উপসর্গ হচ্ছে, অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প বা পিণ্ড। পুরুষদের এটা অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ যে, অণ্ডকোষের টিউমার প্রায়ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যথা সৃষ্টি করে না- তাই নিয়মিত নিজে নিজে অণ্ডকোষ পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে।’ অনেকক্ষেত্রে পুরুষেরা কোনো ইনজুরি না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্য করে না যে, তাদের অণ্ডকোষে লাম্প আছে। তাই নিয়মিত নিজে নিজে লাম্প বা বাম্প আছে কিনা চেক করে দেখুন।
* আপনার অণ্ডথলিতে ভারী অনুভূত হয়
আপনি কোনো ব্যথা অনুভব না করলেও স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলিতে ভারী অনুভূত হওয়া হচ্ছে, অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি লক্ষণ। ডা. হ্যারিহিল বলেন, ‘কিছু লোক বর্ণনা দেয় যে তারা অণ্ডথলিতে ভারী বা টান অনুভব করেন, যা চিকিৎসককে জানানো উচিত।’ দীর্ঘস্থায়ী নিস্তেজ ব্যথা, ভারী বা টানের সেনসেশন উপেক্ষা করার মতো কিছু নয়।
* আপনার ছেলের খুব তাড়াতাড়ি বয়ঃসন্ধি হচ্ছে
কিছু অণ্ডকোষের টিউমার অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন করে, এটি হচ্ছে পুরুষ হরমোন, যা অল্প বয়স্ক ছেলেদের মধ্যে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ প্রকাশ করে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, যেসব ছেলের কণ্ঠস্বর ভারী হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি যৌনাঙ্গে লোম গজায়, তাদের সম্ভবত অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে। আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে আপনার শিশুর যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
* আপনার স্তন নরম
আপনি মনে করতে পারেন যে, কেবলমাত্র নারীদের স্তনে অস্বস্তি হয় ও স্তন নরম হয়। কিন্তু অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে এমন পুরুষদের স্তন নরম, স্তন থেকে নিঃসরণ ও স্তন বড় হতে পারে। নর্থওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শিলাজিত কুন্ডু বলেন, ‘অণ্ডকোষের টিউমার একটি প্রোটিন উৎপাদন করে, যা পুরুষের স্তনাঞ্চলে এসব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।’ স্তন বেড়ে যাওয়া বা স্তন থেকে নিঃসরণ নিয়ে লজ্জিত না হয়ে এটিকে আপনার শরীরের সতর্কীকরণ লক্ষণ হিসেবে নিন এবং আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
* আপনার অণ্ডকোষের আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে
ডা. কুন্ডু বলেন, ‘একটি অণ্ডকোষের আকার বা আকৃতি অন্য অণ্ডকোষের তুলনায় পরিবর্তন হলে তা অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি নীরব লক্ষণ।’ অবশ্য একটি অণ্ডকোষের তার সঙ্গীর তুলনায় বড় হওয়া বা ভিন্নভাবে ঝুলে থাকা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু যদি আপনি একটি অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক ফোলা বা ফাঁপা লক্ষ্য করেন, তাহলে আপনার চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
* আপনার অণ্ডথলিতে তরল জমেছে
আপনার অণ্ডথলিতে তরল জমা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু যদি এটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় থাকে, তাহলে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে। ডা. কুন্ডু বলেন, ‘হঠাৎ অণ্ডথলিতে তরল জমা হওয়া এমন একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা অণ্ডকোষের টিউমার নির্দেশ করে।’ হাইড্রোসিল হচ্ছে এমন একটি দশা, যেখানে আপনার অণ্ডথলির চারপাশে তরলের থলি গঠিত হয়, যা সামান্য অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসা ব্যতীত চলে যায়। কিন্তু যদি আপনার অণ্ডথলির তরল কয়েক সপ্তাহ থাকে, তাহলে চিকিৎসক দেখানো বিলম্ব করা উচিত নয়।
* আপনার পিঠ ব্যথা ও কাশি আছে
ক্যানসার মেটাস্ট্যাসাইজ করে যখন এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়াতে শুরু করে। এর মানে হচ্ছে- ক্যানসার অগ্রসর হচ্ছে, রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ছে। ডা. হ্যারিহিল বলেন, ‘অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে এমন লোকদের ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে শুরুতে অণ্ডকোষের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন উপসর্গ দেখা দেয়। আপনার ক্যানসার যে লসিকাগ্রন্থির দিকে মেটাস্ট্যাসাইজ হচ্ছে, তার একটি লক্ষণ হতে পারে গলা বা ঘাড়ে লাম্প।’ যেকোনো লাম্প লক্ষ্য করে থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
* আপনার পেটব্যথা হয়
অন্যান্য নীরব উপসর্গের সঙ্গে তলপেটে ব্যথা অগ্রসর পর্যায়ের অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, বর্ধিত লসিকাগ্রন্থি এবং যকৃতে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া পেটব্যথা সৃষ্টি করে।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
আরো পড়ুন : * পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
* পুরুষের স্বাস্থ্যের যে উপসর্গ বিপজ্জনক
* পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
* পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* বাবা হতে মেনে চলুন ১৩ বিষয়
* পুরুষের এনলারজড প্রস্টেটের ৭ লক্ষণ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:২২:০৮ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:২৯:৪১ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : টেস্টিকুলার বা অণ্ডকোষের ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে জ্ঞান আপনার জীবন রক্ষা করতে পারে। এ প্রতিবেদনে এ ক্যানসারের ৮টি নীরব লক্ষণ আলোচনা করা হলো।
* আপনার অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প আছে
ইউনিভার্সিটি অব পেলসিলভানিয়ার ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জোসেপ হ্যারিহিল বলেন, ‘অণ্ডকোষের ক্যানসারের অন্যতম সর্বাধিক কমন উপসর্গ হচ্ছে, অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প বা পিণ্ড। পুরুষদের এটা অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ যে, অণ্ডকোষের টিউমার প্রায়ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যথা সৃষ্টি করে না- তাই নিয়মিত নিজে নিজে অণ্ডকোষ পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে।’ অনেকক্ষেত্রে পুরুষেরা কোনো ইনজুরি না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্য করে না যে, তাদের অণ্ডকোষে লাম্প আছে। তাই নিয়মিত নিজে নিজে লাম্প বা বাম্প আছে কিনা চেক করে দেখুন।
* আপনার অণ্ডথলিতে ভারী অনুভূত হয়
আপনি কোনো ব্যথা অনুভব না করলেও স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলিতে ভারী অনুভূত হওয়া হচ্ছে, অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি লক্ষণ। ডা. হ্যারিহিল বলেন, ‘কিছু লোক বর্ণনা দেয় যে তারা অণ্ডথলিতে ভারী বা টান অনুভব করেন, যা চিকিৎসককে জানানো উচিত।’ দীর্ঘস্থায়ী নিস্তেজ ব্যথা, ভারী বা টানের সেনসেশন উপেক্ষা করার মতো কিছু নয়।
* আপনার ছেলের খুব তাড়াতাড়ি বয়ঃসন্ধি হচ্ছে
কিছু অণ্ডকোষের টিউমার অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন করে, এটি হচ্ছে পুরুষ হরমোন, যা অল্প বয়স্ক ছেলেদের মধ্যে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ প্রকাশ করে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, যেসব ছেলের কণ্ঠস্বর ভারী হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি যৌনাঙ্গে লোম গজায়, তাদের সম্ভবত অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে। আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে আপনার শিশুর যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
* আপনার স্তন নরম
আপনি মনে করতে পারেন যে, কেবলমাত্র নারীদের স্তনে অস্বস্তি হয় ও স্তন নরম হয়। কিন্তু অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে এমন পুরুষদের স্তন নরম, স্তন থেকে নিঃসরণ ও স্তন বড় হতে পারে। নর্থওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শিলাজিত কুন্ডু বলেন, ‘অণ্ডকোষের টিউমার একটি প্রোটিন উৎপাদন করে, যা পুরুষের স্তনাঞ্চলে এসব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।’ স্তন বেড়ে যাওয়া বা স্তন থেকে নিঃসরণ নিয়ে লজ্জিত না হয়ে এটিকে আপনার শরীরের সতর্কীকরণ লক্ষণ হিসেবে নিন এবং আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
* আপনার অণ্ডকোষের আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে
ডা. কুন্ডু বলেন, ‘একটি অণ্ডকোষের আকার বা আকৃতি অন্য অণ্ডকোষের তুলনায় পরিবর্তন হলে তা অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি নীরব লক্ষণ।’ অবশ্য একটি অণ্ডকোষের তার সঙ্গীর তুলনায় বড় হওয়া বা ভিন্নভাবে ঝুলে থাকা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু যদি আপনি একটি অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক ফোলা বা ফাঁপা লক্ষ্য করেন, তাহলে আপনার চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
* আপনার অণ্ডথলিতে তরল জমেছে
আপনার অণ্ডথলিতে তরল জমা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু যদি এটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় থাকে, তাহলে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে। ডা. কুন্ডু বলেন, ‘হঠাৎ অণ্ডথলিতে তরল জমা হওয়া এমন একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা অণ্ডকোষের টিউমার নির্দেশ করে।’ হাইড্রোসিল হচ্ছে এমন একটি দশা, যেখানে আপনার অণ্ডথলির চারপাশে তরলের থলি গঠিত হয়, যা সামান্য অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসা ব্যতীত চলে যায়। কিন্তু যদি আপনার অণ্ডথলির তরল কয়েক সপ্তাহ থাকে, তাহলে চিকিৎসক দেখানো বিলম্ব করা উচিত নয়।
* আপনার পিঠ ব্যথা ও কাশি আছে
ক্যানসার মেটাস্ট্যাসাইজ করে যখন এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়াতে শুরু করে। এর মানে হচ্ছে- ক্যানসার অগ্রসর হচ্ছে, রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ছে। ডা. হ্যারিহিল বলেন, ‘অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে এমন লোকদের ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে শুরুতে অণ্ডকোষের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন উপসর্গ দেখা দেয়। আপনার ক্যানসার যে লসিকাগ্রন্থির দিকে মেটাস্ট্যাসাইজ হচ্ছে, তার একটি লক্ষণ হতে পারে গলা বা ঘাড়ে লাম্প।’ যেকোনো লাম্প লক্ষ্য করে থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
* আপনার পেটব্যথা হয়
অন্যান্য নীরব উপসর্গের সঙ্গে তলপেটে ব্যথা অগ্রসর পর্যায়ের অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, বর্ধিত লসিকাগ্রন্থি এবং যকৃতে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া পেটব্যথা সৃষ্টি করে।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
আরো পড়ুন : * পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
* পুরুষের স্বাস্থ্যের যে উপসর্গ বিপজ্জনক
* পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
* পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* বাবা হতে মেনে চলুন ১৩ বিষয়
* পুরুষের এনলারজড প্রস্টেটের ৭ লক্ষণ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ
* আপনার অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প আছে
ইউনিভার্সিটি অব পেলসিলভানিয়ার ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জোসেপ হ্যারিহিল বলেন, ‘অণ্ডকোষের ক্যানসারের অন্যতম সর্বাধিক কমন উপসর্গ হচ্ছে, অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প বা পিণ্ড। পুরুষদের এটা অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ যে, অণ্ডকোষের টিউমার প্রায়ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যথা সৃষ্টি করে না- তাই নিয়মিত নিজে নিজে অণ্ডকোষ পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে।’ অনেকক্ষেত্রে পুরুষেরা কোনো ইনজুরি না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্য করে না যে, তাদের অণ্ডকোষে লাম্প আছে। তাই নিয়মিত নিজে নিজে লাম্প বা বাম্প আছে কিনা চেক করে দেখুন।
* আপনার অণ্ডথলিতে ভারী অনুভূত হয়
আপনি কোনো ব্যথা অনুভব না করলেও স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলিতে ভারী অনুভূত হওয়া হচ্ছে, অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি লক্ষণ। ডা. হ্যারিহিল বলেন, ‘কিছু লোক বর্ণনা দেয় যে তারা অণ্ডথলিতে ভারী বা টান অনুভব করেন, যা চিকিৎসককে জানানো উচিত।’ দীর্ঘস্থায়ী নিস্তেজ ব্যথা, ভারী বা টানের সেনসেশন উপেক্ষা করার মতো কিছু নয়।
* আপনার ছেলের খুব তাড়াতাড়ি বয়ঃসন্ধি হচ্ছে
কিছু অণ্ডকোষের টিউমার অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন করে, এটি হচ্ছে পুরুষ হরমোন, যা অল্প বয়স্ক ছেলেদের মধ্যে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ প্রকাশ করে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, যেসব ছেলের কণ্ঠস্বর ভারী হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি যৌনাঙ্গে লোম গজায়, তাদের সম্ভবত অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে। আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে আপনার শিশুর যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
* আপনার স্তন নরম
আপনি মনে করতে পারেন যে, কেবলমাত্র নারীদের স্তনে অস্বস্তি হয় ও স্তন নরম হয়। কিন্তু অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে এমন পুরুষদের স্তন নরম, স্তন থেকে নিঃসরণ ও স্তন বড় হতে পারে। নর্থওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শিলাজিত কুন্ডু বলেন, ‘অণ্ডকোষের টিউমার একটি প্রোটিন উৎপাদন করে, যা পুরুষের স্তনাঞ্চলে এসব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।’ স্তন বেড়ে যাওয়া বা স্তন থেকে নিঃসরণ নিয়ে লজ্জিত না হয়ে এটিকে আপনার শরীরের সতর্কীকরণ লক্ষণ হিসেবে নিন এবং আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
* আপনার অণ্ডকোষের আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে
ডা. কুন্ডু বলেন, ‘একটি অণ্ডকোষের আকার বা আকৃতি অন্য অণ্ডকোষের তুলনায় পরিবর্তন হলে তা অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি নীরব লক্ষণ।’ অবশ্য একটি অণ্ডকোষের তার সঙ্গীর তুলনায় বড় হওয়া বা ভিন্নভাবে ঝুলে থাকা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু যদি আপনি একটি অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক ফোলা বা ফাঁপা লক্ষ্য করেন, তাহলে আপনার চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
* আপনার অণ্ডথলিতে তরল জমেছে
আপনার অণ্ডথলিতে তরল জমা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু যদি এটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় থাকে, তাহলে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে। ডা. কুন্ডু বলেন, ‘হঠাৎ অণ্ডথলিতে তরল জমা হওয়া এমন একটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা অণ্ডকোষের টিউমার নির্দেশ করে।’ হাইড্রোসিল হচ্ছে এমন একটি দশা, যেখানে আপনার অণ্ডথলির চারপাশে তরলের থলি গঠিত হয়, যা সামান্য অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসা ব্যতীত চলে যায়। কিন্তু যদি আপনার অণ্ডথলির তরল কয়েক সপ্তাহ থাকে, তাহলে চিকিৎসক দেখানো বিলম্ব করা উচিত নয়।
* আপনার পিঠ ব্যথা ও কাশি আছে
ক্যানসার মেটাস্ট্যাসাইজ করে যখন এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়াতে শুরু করে। এর মানে হচ্ছে- ক্যানসার অগ্রসর হচ্ছে, রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ছে। ডা. হ্যারিহিল বলেন, ‘অণ্ডকোষের ক্যানসার আছে এমন লোকদের ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে শুরুতে অণ্ডকোষের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন উপসর্গ দেখা দেয়। আপনার ক্যানসার যে লসিকাগ্রন্থির দিকে মেটাস্ট্যাসাইজ হচ্ছে, তার একটি লক্ষণ হতে পারে গলা বা ঘাড়ে লাম্প।’ যেকোনো লাম্প লক্ষ্য করে থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
* আপনার পেটব্যথা হয়
অন্যান্য নীরব উপসর্গের সঙ্গে তলপেটে ব্যথা অগ্রসর পর্যায়ের অণ্ডকোষের ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি অনুসারে, বর্ধিত লসিকাগ্রন্থি এবং যকৃতে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া পেটব্যথা সৃষ্টি করে।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
আরো পড়ুন : * পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
* পুরুষের স্বাস্থ্যের যে উপসর্গ বিপজ্জনক
* পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
* পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* বাবা হতে মেনে চলুন ১৩ বিষয়
* পুরুষের এনলারজড প্রস্টেটের ৭ লক্ষণ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জুলাই ২০১৮/ফিরোজ
পুরুষের গনোরিয়া রোগের ৪ উপসর্গ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৩ ৯:১৭:১৪ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৩ ৯:২৪:১২ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : গনোরিয়া হচ্ছে, একটি যৌনবাহিত রোগ। পুরুষের ক্ষেত্রে এই রোগে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও মূত্রনালি দিয়ে পুজ বের হয়।
সাধারণত মূত্রনালি, পায়ুপথ, মুখগহ্বর এবং চোখ গনোরিয়ার জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই রোগ অণ্ডথলি, প্রোস্টেট, অণ্ডকোষ অথবা বিরলক্ষেত্রে আপনার রক্তে ছড়াতে পারে। এই ইনফেকশন অণ্ডকোষের অংশ এপিডিডাইমিসে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে এবং অনুর্বরতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। গনোরিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি এটি শরীরের অস্থিসন্ধিসমূহ ও হার্টের ভালবকেও আক্রান্ত করতে পারে।
এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপাত্তে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে।
গনোরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিকে চিকিৎসাযোগ্য এবং চিকিৎসা চললে কিছুদিনের মধ্যেই এটি নির্মূল হয়ে যায়, বলেন এনওয়াইইউ ল্যানগোন হেলথের ইনফেকশাস ডিজিজেস অ্যান্ড ইমিউনোলজির ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর গ্যাব্রিয়েল রেবিক। নিয়মিত পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসা গনোরিয়া ছড়ানো থামাতে পারে, তাই কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু গনোরিয়ার পুরুষদের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। যদিও এ রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে- বিশেষ করে এই ইনফেকশন অগ্রসর হতে থাকলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, বলেন ডা. রেবিক। এ প্রতিবেদনে গনোরিয়ারর চারটি উপসর্গ দেওয়া হলো, যা অবশ্যই আপনার জানা থাকা উচিত।
* ডিসচার্জ
ডা. রেবিক বলেন, ‘আমার জানামতে এই ইনফেকশনের সর্বাধিক কমন লক্ষণ হচ্ছে ডিসচার্জ।’ ডিসচার্জ পাতলা হতে পারে অথবা ঘন হতে পারে, এটি পুরুষভেদে নির্ভর করে। সিডিসি অনুসারে, কোনো পুরুষ ইনফেক্টেড হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ডিসচার্জের অভিজ্ঞতা হবে। ডা. রেবিক বলেন, ‘ডিসচার্জের বর্ণ কিংবা পরিমাণ যাই হোক না কেন কিংবা ডিসচার্জ প্রতিনিয়ত হোক বা অনিয়মিত হোক, কোনো ডিসচার্জই স্বাভাবিক নয়। যেকোনো ধরনের ডিসচার্জ হলে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।’
* নিতম্বে চুলকানি
মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, গনোরিয়া মলদ্বারকেও আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে মলদ্বারীয় চুলকানি ও ডিসচার্জ বা রক্তপাত হতে পারে। ডা. রেবিক বলেন, কিছু লোকের ডায়রিয়া হতে পারে এবং প্রাকৃতিক কর্ম সারার সময় ব্যথা অনুভব হতে পারে।
* গলা ব্যথা
ডা. রেবিক বলেন, ‘এটি জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ওরাল সেক্স থেকেও গনোরিয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘গলায় গনোরিয়া ডেভেলপ হওয়া অনেক লোকের উপসর্গ দেখা দেয় না।’ মায়ো ক্লিনিকের মতে, কারো কারো গলাব্যথা হতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।
* ব্যথা অথবা ফোলা
ডা. রেবিক বলেন, ‘কিছু লোক গনোরিয়ার সংস্পর্শে আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ প্রকাশ নাও পেতে পারে।’ মায়ো ক্লিনিকের মতে, গনোরিয়া ইনফেকশন পার্শ্ববর্তী স্থানে, যেমন- অণ্ডথলি ও অণ্ডকোষ, ছড়ানো শুরু করলে এপিডিডাইমিসে প্রদাহ হতে পারে, যার সঙ্গে থাকতে পারে কুঁচকি ব্যথা।
তথ্যসূত্র : ম্যান’স হেলথ
পড়ুন : পুরুষের মারাত্মক একটি ক্যানসারের ৮ লক্ষণ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* পুরুষের এনলারজড প্রস্টেটের ৭ লক্ষণ
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের ৪ উপসর্গ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ
সাধারণত মূত্রনালি, পায়ুপথ, মুখগহ্বর এবং চোখ গনোরিয়ার জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই রোগ অণ্ডথলি, প্রোস্টেট, অণ্ডকোষ অথবা বিরলক্ষেত্রে আপনার রক্তে ছড়াতে পারে। এই ইনফেকশন অণ্ডকোষের অংশ এপিডিডাইমিসে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে এবং অনুর্বরতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। গনোরিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি এটি শরীরের অস্থিসন্ধিসমূহ ও হার্টের ভালবকেও আক্রান্ত করতে পারে।
এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপাত্তে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে।
গনোরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিকে চিকিৎসাযোগ্য এবং চিকিৎসা চললে কিছুদিনের মধ্যেই এটি নির্মূল হয়ে যায়, বলেন এনওয়াইইউ ল্যানগোন হেলথের ইনফেকশাস ডিজিজেস অ্যান্ড ইমিউনোলজির ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর গ্যাব্রিয়েল রেবিক। নিয়মিত পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসা গনোরিয়া ছড়ানো থামাতে পারে, তাই কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু গনোরিয়ার পুরুষদের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। যদিও এ রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে- বিশেষ করে এই ইনফেকশন অগ্রসর হতে থাকলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, বলেন ডা. রেবিক। এ প্রতিবেদনে গনোরিয়ারর চারটি উপসর্গ দেওয়া হলো, যা অবশ্যই আপনার জানা থাকা উচিত।
* ডিসচার্জ
ডা. রেবিক বলেন, ‘আমার জানামতে এই ইনফেকশনের সর্বাধিক কমন লক্ষণ হচ্ছে ডিসচার্জ।’ ডিসচার্জ পাতলা হতে পারে অথবা ঘন হতে পারে, এটি পুরুষভেদে নির্ভর করে। সিডিসি অনুসারে, কোনো পুরুষ ইনফেক্টেড হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ডিসচার্জের অভিজ্ঞতা হবে। ডা. রেবিক বলেন, ‘ডিসচার্জের বর্ণ কিংবা পরিমাণ যাই হোক না কেন কিংবা ডিসচার্জ প্রতিনিয়ত হোক বা অনিয়মিত হোক, কোনো ডিসচার্জই স্বাভাবিক নয়। যেকোনো ধরনের ডিসচার্জ হলে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।’
* নিতম্বে চুলকানি
মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, গনোরিয়া মলদ্বারকেও আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে মলদ্বারীয় চুলকানি ও ডিসচার্জ বা রক্তপাত হতে পারে। ডা. রেবিক বলেন, কিছু লোকের ডায়রিয়া হতে পারে এবং প্রাকৃতিক কর্ম সারার সময় ব্যথা অনুভব হতে পারে।
* গলা ব্যথা
ডা. রেবিক বলেন, ‘এটি জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ওরাল সেক্স থেকেও গনোরিয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘গলায় গনোরিয়া ডেভেলপ হওয়া অনেক লোকের উপসর্গ দেখা দেয় না।’ মায়ো ক্লিনিকের মতে, কারো কারো গলাব্যথা হতে পারে এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।
* ব্যথা অথবা ফোলা
ডা. রেবিক বলেন, ‘কিছু লোক গনোরিয়ার সংস্পর্শে আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ প্রকাশ নাও পেতে পারে।’ মায়ো ক্লিনিকের মতে, গনোরিয়া ইনফেকশন পার্শ্ববর্তী স্থানে, যেমন- অণ্ডথলি ও অণ্ডকোষ, ছড়ানো শুরু করলে এপিডিডাইমিসে প্রদাহ হতে পারে, যার সঙ্গে থাকতে পারে কুঁচকি ব্যথা।
তথ্যসূত্র : ম্যান’স হেলথ
পড়ুন : পুরুষের মারাত্মক একটি ক্যানসারের ৮ লক্ষণ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* পুরুষের এনলারজড প্রস্টেটের ৭ লক্ষণ
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের ৪ উপসর্গ
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

No comments:
Post a Comment