বাবা হতে মেনে চলুন ১৩ বিষয়
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২২ ৮:১৬:০২ এএম || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৬ ১:৫৭:৩৬ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : আপনি এবং আপনার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপনারা বাচ্চা নেবেন। এ উদ্দেশ্যে আপনারা নিয়মিত যৌনসহবাসও করতে লাগলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির জন্য কেবলমাত্র যৌনসংগমই যথেষ্ট নয়। এর জন্য স্বামী হিসেবে আপনাকেও কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে।
* আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ফ্লোরিডার ক্লেরমন্টে অবস্থিত পিইউআর ক্লিনিকের সহ-পরিচালক জ্যামিন ব্রাহ্মভাট বলেন, ‘শরীর যত বেশি সুস্থ থাকবে, শুক্রাণু তত বেশি সুস্থ হবে।’ হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক ওজনের পুরুষদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের পুরুষদের সেক্সুয়াল ক্লাইমেক্সের সময় লো স্পার্ম কাউন্ট ছিল ১১ শতাংশ বেশি এবং নো স্পার্ম কাউন্ট ছিল ৩৯ শতাংশ বেশি। স্থূলকায় পুরুষদের জন্য এ গবেষণার ফলাফল আরো খারাপ ছিল, স্বাভাবিক ওজনের পুরুষদের তুলনায় তাদের লো স্পার্ম কাউন্ট ৪২ শতাংশ বেশি ছিল এবং নো স্পার্ম কাউন্ট ৮১ শতাংশ বেশি ছিল।
* সিগারেট ছাড়ুন
ধূমপান শুধুমাত্র আপনার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি আপনার ফার্টিলিটির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সেন্টারস ফর মেইল ফার্টিলিটির পরিচালক এডমুন্ড সাবানেগ বলেন, ‘ধূমপান স্পার্ম কাউন্ট, স্পার্মের গতি এবং স্পার্মের সাধারণ স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি বীর্যে টোবাকো মেটাবোলাইটও পাওয়া যেতে পারে।’ সুসংবাদ হচ্ছে, কেউ ধূমপান ছেড়ে দিলে তার স্পার্মের স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে দ্রুত ফিরে আসে।
* পর্যাপ্ত ঘুমান
যখন আপনারা বাচ্চা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন তখন শুধুমাত্র যৌনসহবাস নয়, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাচ্ছেন কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক এমন ৮০০ দম্পতি অংশগ্রহণ করে। এ গবেষণায় আবিষ্কার হয়, যেসব পুরুষ প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ও নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়েছেন তাদের সঙ্গীদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা, যেসব পুরুষ প্রতিরাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন তাদের সঙ্গীর তুলনায় ৪২ শতাংশ কম ছিল। গবেষকরা ধারণা করছেন যে, প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা কমে যাওয়ার জন্য সম্ভবত হরমোন দায়ী, স্পার্ম উৎপাদনের জন্য টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অধিকাংশই উৎপন্ন হয় পুরুষদের ঘুমের সময়।
* স্পার্ম টেস্ট করুন
নারীরা প্রতিমাসে কনসিভের ভালো সম্ভাবনা জানতে প্রায়ক্ষেত্রে ঘরে তাদের ওভিউলেশন ট্র্যাক করেন। এখন পুরুষরাও তাদের নিজেদের স্পার্ম মনিটর করতে পারেন। ট্র্যাক মেইল ফার্টিলিটি টেস্টিং সিস্টেম হচ্ছে, নতুন হোম-টেস্ট, যেখানে পুরুষরা তাদের স্পার্ম কাউন্ট পরিমাপ করতে পারেন। তারা অনুরূপ একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস (যেমন- খাওয়া, ঘুমানো, ব্যায়াম ইত্যাদি) ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে, দৈনন্দিন অভ্যাস কিভাবে তাদের স্পার্মের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ট্র্যাক মেইল ফার্টিলিটি টেস্টিং সিস্টেমের মানে এই নয় যে, আপনি ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন না। সঠিক পরামর্শের জন্য ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন। স্পার্ম কাউন্টের পরিবর্তন দেখতে প্রয়োজনীয় লাইফস্টাইল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর সাধারণত কমপক্ষে তিনমাস সময় লাগবে।
* ক্যাফেইন সীমিত করুন
যখন আপনি এবং আপনার স্ত্রী বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আপনাদের ক্যাফেইন সীমিত করা উচিত। রিপ্রোডাক্টিভিটি টক্সিকোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব পুরুষ দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন খেয়েছেন (সাধারণত সোডা ও এনার্জি ড্রিংকের মাধ্যমে) তাদের সঙ্গীদের প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা অল্প ক্যাফেইন খাওয়া পুরুষদের সঙ্গীদের তুলনায় কম ছিল। এক ক্যান এনার্জি ড্রিংকে ১০০ মিলিগ্রামেরও বেশি ক্যাফেইন থাকে। এ যোগসূত্র সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে আরো গবেষণা প্রয়োজন হবে।
* তাপ বর্জন করুন
তাপ শুক্রাশয়কে ড্যামেজ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডা. সাবানেগ বলেন, ‘একটি কারণ হচ্ছে, শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় সেখানে তাপমাত্রা সামান্য কম থাকে, কিন্তু তাতেই তাদের কার্যক্রম ভালো হয়।’ তিনি বলেন, ‘হট টাব অথবা এমন কিছু (যেমন- ল্যাপটপ বা হিট প্যাক) বর্জন করুন যা আপনার পেলভিস এরিয়াকে গরম করতে পারে।’
* শাকসবজি খান
বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হলো এমন সময় যখন ফল ও শাকসবজিসহ স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল স্পার্মের সার্বিক স্বাস্থ্যে অবদান রাখে তা নয়, স্প্যানিশ গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্যের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সুস্থ বীর্যের কোয়ালিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
* নিয়মিত ব্যায়াম করুন
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব সুস্থ অল্পবয়স্ক পুরুষ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টারও বেশি টিভি দেখেছেন তাদের স্পার্ম কাউন্ট, টিভি না দেখা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম ছিল। তারা আরো আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব পুরুষ সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা বা তার অধিক সময় ব্যায়াম করেছেন তাদের স্পার্ম কাউন্ট পাঁচ ঘণ্টারও কম সক্রিয় পুরুষদের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি ছিল। ডা. সাবানেগ বলেন, ‘যখন আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করব, আমাদের হরমোন মাত্রা ও টেস্টোস্টেরন মাত্রা অধিকতর ভালো হবে।’ নিয়মিত ব্যায়াম অন্যতম ফার্টিলিটি ফ্যাক্টর, যা স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
* অ্যালকোহল ও ড্রাগ থেকে দূরে থাকুন
ডা. সাবানেগ বলেন, ‘উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন ফার্টিলিটি হ্রাস করতে পারে এবং যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা হরমোনের মাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। মারিজুয়ানা এবং অন্যান্য ড্রাগ যেমন- ওপিয়েটও স্পার্ম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।’
* রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ওপর নজর রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা যৌন অক্ষমতার কারণ হতে পারে, যার মানে হচ্ছে আপনার পক্ষে আপনার স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় স্পার্মের ডোজ দেওয়া সম্ভব হবে না। উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বাতিল করতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো এবং আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব দম্পতির সম্মিলিতভাবে উচ্চ কোলেস্টেরল মাত্রা ছিল তাদের বাচ্চা পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
* টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট পরিহার করুন
যদি আপনি জিমে পেশীবহুল হওয়ার জন্য টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাহলে কনসিভ প্রচেষ্টার সময় প্রাকৃতিক পেশী-গঠন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। ডা. সাবানেগ বলেন, ‘টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কারণে শরীর নিজ থেকে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং স্পার্ম কাউন্ট কমতে কমতে প্রায় শূন্যে নেমে আসে।’ সুখবর হচ্ছে, যদি আপনি টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ছাড়েন, আপনার স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি পাবে।
* ডায়েটে দুগ্ধজাত খাবার রাখুন
কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার আপনার স্বাস্থ্যকর ফার্টিলিটি ডায়েটে ভালো সংযোজন হতে পারে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের ছোট এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব পুরুষ উচ্চ মাত্রায় কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেয়েছিল তাদের স্পার্মের ঘনত্ব ও গতি এ ধরনের খাবার কম খাওয়া পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল।
* রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন
ডা. সাবানেগ বলেন, ‘স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিম্ন ফার্টিলিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, সম্ভবত করটিসলের কারণে, কিন্তু কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না।’ নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং নিউ জার্সিতে অবস্থিত রাটগারস স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব পুরুষ সাইকোলজিক্যাল স্ট্রেসে ভুগেছিলেন তাদের বীর্যে স্পার্মের ঘনত্ব ও গতি কম ছিল এবং স্পার্মের আকৃতি অস্বাভাবিক ছিল বেশি।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২২ ৮:১৬:০২ এএম || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৬ ১:৫৭:৩৬ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : আপনি এবং আপনার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপনারা বাচ্চা নেবেন। এ উদ্দেশ্যে আপনারা নিয়মিত যৌনসহবাসও করতে লাগলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির জন্য কেবলমাত্র যৌনসংগমই যথেষ্ট নয়। এর জন্য স্বামী হিসেবে আপনাকেও কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে।
* আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ফ্লোরিডার ক্লেরমন্টে অবস্থিত পিইউআর ক্লিনিকের সহ-পরিচালক জ্যামিন ব্রাহ্মভাট বলেন, ‘শরীর যত বেশি সুস্থ থাকবে, শুক্রাণু তত বেশি সুস্থ হবে।’ হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক ওজনের পুরুষদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের পুরুষদের সেক্সুয়াল ক্লাইমেক্সের সময় লো স্পার্ম কাউন্ট ছিল ১১ শতাংশ বেশি এবং নো স্পার্ম কাউন্ট ছিল ৩৯ শতাংশ বেশি। স্থূলকায় পুরুষদের জন্য এ গবেষণার ফলাফল আরো খারাপ ছিল, স্বাভাবিক ওজনের পুরুষদের তুলনায় তাদের লো স্পার্ম কাউন্ট ৪২ শতাংশ বেশি ছিল এবং নো স্পার্ম কাউন্ট ৮১ শতাংশ বেশি ছিল।
* সিগারেট ছাড়ুন
ধূমপান শুধুমাত্র আপনার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি আপনার ফার্টিলিটির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সেন্টারস ফর মেইল ফার্টিলিটির পরিচালক এডমুন্ড সাবানেগ বলেন, ‘ধূমপান স্পার্ম কাউন্ট, স্পার্মের গতি এবং স্পার্মের সাধারণ স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি বীর্যে টোবাকো মেটাবোলাইটও পাওয়া যেতে পারে।’ সুসংবাদ হচ্ছে, কেউ ধূমপান ছেড়ে দিলে তার স্পার্মের স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে দ্রুত ফিরে আসে।
* পর্যাপ্ত ঘুমান
যখন আপনারা বাচ্চা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন তখন শুধুমাত্র যৌনসহবাস নয়, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাচ্ছেন কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক এমন ৮০০ দম্পতি অংশগ্রহণ করে। এ গবেষণায় আবিষ্কার হয়, যেসব পুরুষ প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ও নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়েছেন তাদের সঙ্গীদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা, যেসব পুরুষ প্রতিরাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন তাদের সঙ্গীর তুলনায় ৪২ শতাংশ কম ছিল। গবেষকরা ধারণা করছেন যে, প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা কমে যাওয়ার জন্য সম্ভবত হরমোন দায়ী, স্পার্ম উৎপাদনের জন্য টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অধিকাংশই উৎপন্ন হয় পুরুষদের ঘুমের সময়।
* স্পার্ম টেস্ট করুন
নারীরা প্রতিমাসে কনসিভের ভালো সম্ভাবনা জানতে প্রায়ক্ষেত্রে ঘরে তাদের ওভিউলেশন ট্র্যাক করেন। এখন পুরুষরাও তাদের নিজেদের স্পার্ম মনিটর করতে পারেন। ট্র্যাক মেইল ফার্টিলিটি টেস্টিং সিস্টেম হচ্ছে, নতুন হোম-টেস্ট, যেখানে পুরুষরা তাদের স্পার্ম কাউন্ট পরিমাপ করতে পারেন। তারা অনুরূপ একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস (যেমন- খাওয়া, ঘুমানো, ব্যায়াম ইত্যাদি) ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে, দৈনন্দিন অভ্যাস কিভাবে তাদের স্পার্মের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ট্র্যাক মেইল ফার্টিলিটি টেস্টিং সিস্টেমের মানে এই নয় যে, আপনি ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন না। সঠিক পরামর্শের জন্য ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন। স্পার্ম কাউন্টের পরিবর্তন দেখতে প্রয়োজনীয় লাইফস্টাইল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর সাধারণত কমপক্ষে তিনমাস সময় লাগবে।
* ক্যাফেইন সীমিত করুন
যখন আপনি এবং আপনার স্ত্রী বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আপনাদের ক্যাফেইন সীমিত করা উচিত। রিপ্রোডাক্টিভিটি টক্সিকোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব পুরুষ দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন খেয়েছেন (সাধারণত সোডা ও এনার্জি ড্রিংকের মাধ্যমে) তাদের সঙ্গীদের প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা অল্প ক্যাফেইন খাওয়া পুরুষদের সঙ্গীদের তুলনায় কম ছিল। এক ক্যান এনার্জি ড্রিংকে ১০০ মিলিগ্রামেরও বেশি ক্যাফেইন থাকে। এ যোগসূত্র সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে আরো গবেষণা প্রয়োজন হবে।
* তাপ বর্জন করুন
তাপ শুক্রাশয়কে ড্যামেজ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডা. সাবানেগ বলেন, ‘একটি কারণ হচ্ছে, শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় সেখানে তাপমাত্রা সামান্য কম থাকে, কিন্তু তাতেই তাদের কার্যক্রম ভালো হয়।’ তিনি বলেন, ‘হট টাব অথবা এমন কিছু (যেমন- ল্যাপটপ বা হিট প্যাক) বর্জন করুন যা আপনার পেলভিস এরিয়াকে গরম করতে পারে।’
* শাকসবজি খান
বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হলো এমন সময় যখন ফল ও শাকসবজিসহ স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল স্পার্মের সার্বিক স্বাস্থ্যে অবদান রাখে তা নয়, স্প্যানিশ গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্যের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সুস্থ বীর্যের কোয়ালিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
* নিয়মিত ব্যায়াম করুন
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব সুস্থ অল্পবয়স্ক পুরুষ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টারও বেশি টিভি দেখেছেন তাদের স্পার্ম কাউন্ট, টিভি না দেখা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম ছিল। তারা আরো আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব পুরুষ সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা বা তার অধিক সময় ব্যায়াম করেছেন তাদের স্পার্ম কাউন্ট পাঁচ ঘণ্টারও কম সক্রিয় পুরুষদের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি ছিল। ডা. সাবানেগ বলেন, ‘যখন আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করব, আমাদের হরমোন মাত্রা ও টেস্টোস্টেরন মাত্রা অধিকতর ভালো হবে।’ নিয়মিত ব্যায়াম অন্যতম ফার্টিলিটি ফ্যাক্টর, যা স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
* অ্যালকোহল ও ড্রাগ থেকে দূরে থাকুন
ডা. সাবানেগ বলেন, ‘উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন ফার্টিলিটি হ্রাস করতে পারে এবং যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা হরমোনের মাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। মারিজুয়ানা এবং অন্যান্য ড্রাগ যেমন- ওপিয়েটও স্পার্ম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।’
* রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ওপর নজর রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা যৌন অক্ষমতার কারণ হতে পারে, যার মানে হচ্ছে আপনার পক্ষে আপনার স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় স্পার্মের ডোজ দেওয়া সম্ভব হবে না। উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বাতিল করতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো এবং আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব দম্পতির সম্মিলিতভাবে উচ্চ কোলেস্টেরল মাত্রা ছিল তাদের বাচ্চা পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
* টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট পরিহার করুন
যদি আপনি জিমে পেশীবহুল হওয়ার জন্য টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাহলে কনসিভ প্রচেষ্টার সময় প্রাকৃতিক পেশী-গঠন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। ডা. সাবানেগ বলেন, ‘টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কারণে শরীর নিজ থেকে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং স্পার্ম কাউন্ট কমতে কমতে প্রায় শূন্যে নেমে আসে।’ সুখবর হচ্ছে, যদি আপনি টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ছাড়েন, আপনার স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি পাবে।
* ডায়েটে দুগ্ধজাত খাবার রাখুন
কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার আপনার স্বাস্থ্যকর ফার্টিলিটি ডায়েটে ভালো সংযোজন হতে পারে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের ছোট এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব পুরুষ উচ্চ মাত্রায় কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেয়েছিল তাদের স্পার্মের ঘনত্ব ও গতি এ ধরনের খাবার কম খাওয়া পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল।
* রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন
ডা. সাবানেগ বলেন, ‘স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিম্ন ফার্টিলিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, সম্ভবত করটিসলের কারণে, কিন্তু কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না।’ নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং নিউ জার্সিতে অবস্থিত রাটগারস স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব পুরুষ সাইকোলজিক্যাল স্ট্রেসে ভুগেছিলেন তাদের বীর্যে স্পার্মের ঘনত্ব ও গতি কম ছিল এবং স্পার্মের আকৃতি অস্বাভাবিক ছিল বেশি।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ
* আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ফ্লোরিডার ক্লেরমন্টে অবস্থিত পিইউআর ক্লিনিকের সহ-পরিচালক জ্যামিন ব্রাহ্মভাট বলেন, ‘শরীর যত বেশি সুস্থ থাকবে, শুক্রাণু তত বেশি সুস্থ হবে।’ হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক ওজনের পুরুষদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের পুরুষদের সেক্সুয়াল ক্লাইমেক্সের সময় লো স্পার্ম কাউন্ট ছিল ১১ শতাংশ বেশি এবং নো স্পার্ম কাউন্ট ছিল ৩৯ শতাংশ বেশি। স্থূলকায় পুরুষদের জন্য এ গবেষণার ফলাফল আরো খারাপ ছিল, স্বাভাবিক ওজনের পুরুষদের তুলনায় তাদের লো স্পার্ম কাউন্ট ৪২ শতাংশ বেশি ছিল এবং নো স্পার্ম কাউন্ট ৮১ শতাংশ বেশি ছিল।
* সিগারেট ছাড়ুন
ধূমপান শুধুমাত্র আপনার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি আপনার ফার্টিলিটির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সেন্টারস ফর মেইল ফার্টিলিটির পরিচালক এডমুন্ড সাবানেগ বলেন, ‘ধূমপান স্পার্ম কাউন্ট, স্পার্মের গতি এবং স্পার্মের সাধারণ স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি বীর্যে টোবাকো মেটাবোলাইটও পাওয়া যেতে পারে।’ সুসংবাদ হচ্ছে, কেউ ধূমপান ছেড়ে দিলে তার স্পার্মের স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে দ্রুত ফিরে আসে।
* পর্যাপ্ত ঘুমান
যখন আপনারা বাচ্চা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন তখন শুধুমাত্র যৌনসহবাস নয়, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাচ্ছেন কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক এমন ৮০০ দম্পতি অংশগ্রহণ করে। এ গবেষণায় আবিষ্কার হয়, যেসব পুরুষ প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ও নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়েছেন তাদের সঙ্গীদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা, যেসব পুরুষ প্রতিরাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন তাদের সঙ্গীর তুলনায় ৪২ শতাংশ কম ছিল। গবেষকরা ধারণা করছেন যে, প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা কমে যাওয়ার জন্য সম্ভবত হরমোন দায়ী, স্পার্ম উৎপাদনের জন্য টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অধিকাংশই উৎপন্ন হয় পুরুষদের ঘুমের সময়।
* স্পার্ম টেস্ট করুন
নারীরা প্রতিমাসে কনসিভের ভালো সম্ভাবনা জানতে প্রায়ক্ষেত্রে ঘরে তাদের ওভিউলেশন ট্র্যাক করেন। এখন পুরুষরাও তাদের নিজেদের স্পার্ম মনিটর করতে পারেন। ট্র্যাক মেইল ফার্টিলিটি টেস্টিং সিস্টেম হচ্ছে, নতুন হোম-টেস্ট, যেখানে পুরুষরা তাদের স্পার্ম কাউন্ট পরিমাপ করতে পারেন। তারা অনুরূপ একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস (যেমন- খাওয়া, ঘুমানো, ব্যায়াম ইত্যাদি) ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে, দৈনন্দিন অভ্যাস কিভাবে তাদের স্পার্মের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ট্র্যাক মেইল ফার্টিলিটি টেস্টিং সিস্টেমের মানে এই নয় যে, আপনি ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন না। সঠিক পরামর্শের জন্য ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন। স্পার্ম কাউন্টের পরিবর্তন দেখতে প্রয়োজনীয় লাইফস্টাইল অ্যাডজাস্টমেন্টের পর সাধারণত কমপক্ষে তিনমাস সময় লাগবে।
* ক্যাফেইন সীমিত করুন
যখন আপনি এবং আপনার স্ত্রী বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আপনাদের ক্যাফেইন সীমিত করা উচিত। রিপ্রোডাক্টিভিটি টক্সিকোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব পুরুষ দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন খেয়েছেন (সাধারণত সোডা ও এনার্জি ড্রিংকের মাধ্যমে) তাদের সঙ্গীদের প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা অল্প ক্যাফেইন খাওয়া পুরুষদের সঙ্গীদের তুলনায় কম ছিল। এক ক্যান এনার্জি ড্রিংকে ১০০ মিলিগ্রামেরও বেশি ক্যাফেইন থাকে। এ যোগসূত্র সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে আরো গবেষণা প্রয়োজন হবে।
* তাপ বর্জন করুন
তাপ শুক্রাশয়কে ড্যামেজ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডা. সাবানেগ বলেন, ‘একটি কারণ হচ্ছে, শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় সেখানে তাপমাত্রা সামান্য কম থাকে, কিন্তু তাতেই তাদের কার্যক্রম ভালো হয়।’ তিনি বলেন, ‘হট টাব অথবা এমন কিছু (যেমন- ল্যাপটপ বা হিট প্যাক) বর্জন করুন যা আপনার পেলভিস এরিয়াকে গরম করতে পারে।’
* শাকসবজি খান
বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি হলো এমন সময় যখন ফল ও শাকসবজিসহ স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল স্পার্মের সার্বিক স্বাস্থ্যে অবদান রাখে তা নয়, স্প্যানিশ গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্যের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সুস্থ বীর্যের কোয়ালিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
* নিয়মিত ব্যায়াম করুন
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব সুস্থ অল্পবয়স্ক পুরুষ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টারও বেশি টিভি দেখেছেন তাদের স্পার্ম কাউন্ট, টিভি না দেখা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কম ছিল। তারা আরো আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব পুরুষ সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা বা তার অধিক সময় ব্যায়াম করেছেন তাদের স্পার্ম কাউন্ট পাঁচ ঘণ্টারও কম সক্রিয় পুরুষদের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি ছিল। ডা. সাবানেগ বলেন, ‘যখন আমরা নিয়মিত ব্যায়াম করব, আমাদের হরমোন মাত্রা ও টেস্টোস্টেরন মাত্রা অধিকতর ভালো হবে।’ নিয়মিত ব্যায়াম অন্যতম ফার্টিলিটি ফ্যাক্টর, যা স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
* অ্যালকোহল ও ড্রাগ থেকে দূরে থাকুন
ডা. সাবানেগ বলেন, ‘উচ্চ মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন ফার্টিলিটি হ্রাস করতে পারে এবং যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা হরমোনের মাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। মারিজুয়ানা এবং অন্যান্য ড্রাগ যেমন- ওপিয়েটও স্পার্ম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।’
* রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ওপর নজর রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা যৌন অক্ষমতার কারণ হতে পারে, যার মানে হচ্ছে আপনার পক্ষে আপনার স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় স্পার্মের ডোজ দেওয়া সম্ভব হবে না। উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বাতিল করতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো এবং আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব দম্পতির সম্মিলিতভাবে উচ্চ কোলেস্টেরল মাত্রা ছিল তাদের বাচ্চা পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
* টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট পরিহার করুন
যদি আপনি জিমে পেশীবহুল হওয়ার জন্য টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাহলে কনসিভ প্রচেষ্টার সময় প্রাকৃতিক পেশী-গঠন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। ডা. সাবানেগ বলেন, ‘টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কারণে শরীর নিজ থেকে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং স্পার্ম কাউন্ট কমতে কমতে প্রায় শূন্যে নেমে আসে।’ সুখবর হচ্ছে, যদি আপনি টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ছাড়েন, আপনার স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি পাবে।
* ডায়েটে দুগ্ধজাত খাবার রাখুন
কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার আপনার স্বাস্থ্যকর ফার্টিলিটি ডায়েটে ভালো সংযোজন হতে পারে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের ছোট এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব পুরুষ উচ্চ মাত্রায় কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেয়েছিল তাদের স্পার্মের ঘনত্ব ও গতি এ ধরনের খাবার কম খাওয়া পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল।
* রিলাক্স থাকার চেষ্টা করুন
ডা. সাবানেগ বলেন, ‘স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিম্ন ফার্টিলিটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, সম্ভবত করটিসলের কারণে, কিন্তু কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না।’ নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং নিউ জার্সিতে অবস্থিত রাটগারস স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, যেসব পুরুষ সাইকোলজিক্যাল স্ট্রেসে ভুগেছিলেন তাদের বীর্যে স্পার্মের ঘনত্ব ও গতি কম ছিল এবং স্পার্মের আকৃতি অস্বাভাবিক ছিল বেশি।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ
পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২১ ১০:১৯:০০ এএম || আপডেট: ২০১৮-০৩-২১ ১০:২০:৩৮ এএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : কেবলমাত্র নারীদের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স বা ব্লাডার লিকেজ হয় না, পুরুষদেরও হয়। এ সমস্যার ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্রাব ঝরতে থাকে। এ প্রতিবেদনে ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স বা ব্লাডার লিকেজ বা প্রস্রাব ঝরা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
* ব্লাডার লিকেজ একটি বড় সমস্যা
ব্লাডার লিকেজ বা ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স ২৫ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানের জন্য দুর্ভাগ্যজনক সত্য। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভুক্তভোগী এ সম্পর্কে কথা বলে না অথবা মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করে না। আমাদের বাংলাদেশেও এ সমস্যার প্রকোপ উল্লেখ করার মতো।
* পুরুষদেরও ব্লাডার লিকেজ হয়
অনেক পুরুষদের মধ্যে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের সমস্যা দেখা দিলেও এখনো পর্যন্ত এটিকে নারীদের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। বুড়ো মানুষদের রোগ হিসেবে এর খ্যাতি থাকলেও এটি যেকোনো বয়সের পুরুষদের হতে পারে। কন্টিনেক্সের একটি জরিপ অনুসারে, ‘ব্লাডার লিকেজের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া চারজন পুরুষের একজন বলে যে, তারা এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে বিব্রতবোধ করে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর কনটিনেন্স অনুসারে, ‘১২ জন লোকের মধ্যে মাত্র একজন তাদের উপসর্গের জন্য মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করে।’
* সকল ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা একই নয়
চিকিৎসার পূর্বে আপনার কি কারণে ব্লাডার লিকেজ হয়েছে তা নির্ণয় করার প্রয়োজন হবে। টিভি শো দ্য ডক্টরসের কো-হোস্ট, ইউরোলজিস্ট এবং সেক্সুয়াল হেলথ এক্সপার্ট জেনিফার বারম্যান বলেন, ‘ব্লাডার লিকেজ আপনার জীবনে হালকা থেকে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যদি আপনি এর কারণ ধরতে না পারেন এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন না হন।’ ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্রধানত তিন ধরনের, যথা- ১. স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স, ২. আর্জ ইনকনটিনেন্স এবং ৩. ওভারফ্লো ইনকনটিনেন্স।
* স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স
ব্লাডার বা মূত্রাশয়ে চাপ পড়লে স্ট্রেস বা চাপমূলক ইনকনটিনেন্স হয়ে থাকে। লাফানো, গলফ ক্লাবে খেলা, ভারী কোনোকিছু উত্তোলন করা, হাঁচি দেওয়া এবং অন্যান্য ক্রিয়ার কারণে এ ধরনের ব্লাডার লিকেজ হতে পারে। ডা. বারম্যান বলেন, ‘পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতা অথবা দুর্বল ইউরিনারি স্ফিনকটার পেশী কিংবা উভয় কারণে হঠাৎ করে স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স হতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘পুরুষদের মূত্রনালী নারীদের তুলনায় লম্বা বলে তাদের স্ফিনকটার-সম্পর্কিত সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।’ এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রবলবেগে প্রস্রাব নির্গমন হয়ে থাকে এবং ব্লাডার সম্পূর্ণরূপে খালি হয় না।
* আর্জ ইনকনটিনেন্স
আর্জ বা তাড়নামূলক ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে সবসময় প্রস্রাব করার জন্য তাড়না অনুভূত হয়ে থাকে, এমনকি আপনি সবেমাত্র বাথরুমে মূত্রত্যাগ করে আসলেও। ডা. বারম্যান বলেন, ‘এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে ব্লাডারে অনৈচ্ছিক সংকোচন বা স্প্যাজম হয়, যে কারণে প্রস্রাব বের হয়ে আসার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে মূত্রনালী খুলে যায়।’ আর্জ ইনকন্টিনেন্সের রেঞ্জ অতি অল্প পরিমাণে প্রস্রাব নির্গমন থেকে শুরু হয় যা আপনি লক্ষ্য নাও করতে পারেন।
* ওভারফ্লো ইনকনটিনেন্স
ওভারফ্লো বা অতিপ্রবাহমূলক ইনকনটিনেন্স আর্জ ইনকন্টিনেন্সের বিপরীত। এক্ষেত্রে সবসময় মূত্রত্যাগের তাড়না অনুভবের পরিবর্তে আপনি প্রস্রাব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন না। আপনার ব্লাডারকে একটি খোলা ট্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়াটার বেলুন হিসেবে কল্পনা করুন। এ প্রসঙ্গে ডা. বারম্যান বলেন, ‘এটি পূর্ণ হতে থাকে এবং ওভারফ্লো বা অতিপ্রবাহ না হওয়া পর্যন্ত বড় হতে থাকে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ যথেচ্ছভাবে প্রস্রাব বের হয়- কখনো কখনো একটানা ঝরতে থাকে, আবার কখনো কখনো বড় ধরনের প্রবাহ হিসেবে ঝরতে থাকে।’
* প্রোস্টেটের সঙ্গে প্রস্রাবের সম্পর্ক
যখন পুরুষেরা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সে ভুগবে, তখন সাধারণত প্রথমে প্রোস্টেট সমস্যার কথা ধারণা করা হবে। ডা. বারম্যানের মতে, ‘ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের একটি কারণ হতে পারে প্রোস্টেট, যদিও প্রায়ক্ষেত্রে অধিকাংশ পুরুষেরা যেভাবে মনে করে সেভাবে নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘একটি বর্ধিত প্রোস্টেট গ্রন্থি ইনকন্টিনেন্সের পরিবর্তে মূত্রত্যাগ দুরূহ করে বেশি, কিন্তু প্রোস্টেট সার্জারি প্রায়শ ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স ঘটিয়ে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো পদ্ধতির প্রোস্টেট সার্জারি মূত্রাশয়ের স্নায়ু এবং মূত্রনালীর স্ফিনকটার পেশীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা লিকেজের কারণ হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটি সাময়িক, কিন্তু পুরুষ এবং তাদের চিকিৎসকদের এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন হবে এবং আরোগ্যলাভের সময় কিভাবে এর যত্ন নেওয়া হবে তার পরিকল্পনা করতে হবে।’
* সঠিক ওষুধ সেবন
ডা. বারম্যান সতর্ক করেন যে, পুরুষের ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ এ সমস্যাকে আরো খারাপ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো চিকিৎসক কোনো লোককে ব্লাডার স্প্যাজমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন এবং এ লিকেজ কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে রোগীর অবস্থা পূর্বের চেয়ে বেশি খারাপ হবে। ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের অন্যান্য মেডিক্যাল কারণের মধ্যে ব্যাক সার্জারি এবং কিছু ব্লাড প্রেশারের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত আছে।
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সৃষ্টিকারী রোগ
ব্লাডার লিকেজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত রোগের তালিকায় ডায়াবেটিস শীর্ষস্থানে আছে, এটি শরীরের স্নায়ুকে ড্যামেজ করে- এর মধ্যে সেসব স্নায়ুও অন্তর্ভুক্ত আছে যা ব্লাডারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মূত্রাশয়ের ক্যানসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্ট্রোক, মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর, মূত্রাশয়ে পাথর, যৌনবাহিত রোগ অথবা পারকিনসন’সের মতো নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার কিংবা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কারণেও ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হতে পারে।
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্ররোচক জীবনধারা
স্থূলতা দ্বারা প্ররোচিত স্বাস্থ্য সমস্যার তালিকায় ইউরিনারি ইনকনটিনেন্সকে রাখতে পারেন। ডা. বারম্যান বলেন, ‘অতিরিক্ত ওজন ব্লাডারের ওপর চাপ ফেলতে পারে।’ অন্য একটি ফ্যাক্টর হচ্ছে, স্ট্রাডল ইনজুরি যা লোকজন গাড়ি দুর্ঘটনা কিংবা খেলাধুলায় পেয়ে থাকে। ডা. বারম্যান বলেন, ‘মূত্রনালী বা কুঁচকি এলাকায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে যেকোনো ইনজুরি লিকেজের কারণ হতে পারে।’
* ব্লাডার লিকেজ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
ডা. বারম্যান বলেন, ‘পুরুষদের এটা মেনে নিতে হবে যে, ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স এমন কিছু নয় যা নিজে নিজে সেরে ওঠবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু এটি সাধারণত যন্ত্রণাদায়ক নয় এবং প্রায়ক্ষেত্রে অনিয়মিত, তাই পুরুষরা এ সমস্যা দূর করার চেষ্টা নাও করতে পারে।’ কিন্তু এমনটা করবেন না। যদি আপনার দিনের বেলায় কোনো লিকেজ হয়, যদি আপনি চার ঘণ্টার চেয়ে কম সময়ে অধিক মূত্রত্যাগ করেন অথবা যদি লিকেজ যেকোনোভাবে আপনার জীবনধারাকে ব্যাহত করে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ডা. বারম্যান বলেন, ‘এ সমস্যার ক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া সর্বোত্তম, যিনি ইনজুরি থেকে ক্যানসার (এবং আপনার প্রোস্টেট) সবকিছু চেক করতে পারেন।’
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কেজেল
ডা. বারম্যান বলেন, ‘স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কেজেল এক্সারসাইজ বা পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ পুরুষের বেস্ট ফ্রেন্ড।’ নারীরা পেলভিক-ফ্লোর-স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ সম্পর্কে সচেতন থাকলেও পুরুষেরা সম্ভবত এই ‘স্কুইজ অ্যান্ড লিফট’ মেথডে নতুন। সুতরাং কেজেল এক্সারসাইজ সম্পর্কে আপনার নারী সঙ্গী থেকে সাহায্য নিতে পারেন এবং আপনারা একসঙ্গে কেজেল প্র্যাকটিস করতে পারেন।
* কফি ও মসলাযুক্ত ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে চলুন
ডা. বারম্যান বলেন, ‘বিস্ময়করভাবে আপনার ডায়েট বা খাবার ব্লাডার লিকেজকে প্ররোচিত করতে পারে বা আরো অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘সর্বাধিক অনিষ্টকারক হচ্ছে ক্যাফেইন, কিন্তু কার্বোনেটেড বেভারেজ, মসলাযুক্ত খাবার এবং আপনার ব্লাডারে ইরিটেশন সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কিছুও এড়িয়ে চলুন।’
* জীবনধারায় পরিবর্তন আনুন
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন আপনার ব্লাডার লিকেজ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার যা যা করা উচিত তা তা করুন- সুষম খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, স্ট্রেস হ্রাস করুন, অ্যালকোহল সীমিত করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। এতে আপনার ব্লাডার আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। যে এক্সারসাইজ লিকেজের কারণ হয় তা চর্চা করবেন না।
* লিক-প্রুফ অন্তর্বাস ব্যবহার করুন
আপনার ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হলে আপনি অ্যাডাল্ট ডায়াপার ব্যবহার করতে পারেন। আপনি বিশেষ ফ্যাব্রিকের লিক-প্রুফ অন্তর্বাস কনফিটেক্স ব্যবহার করতে পারেন যা স্তুপাকার না হয়েই তরল পদার্থ শোষণ করতে পারে।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
পড়ুন : * পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ক্যানসারের যে সব লক্ষণ অবহেলা করবেন না (শেষ পর্ব)
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২১ ১০:১৯:০০ এএম || আপডেট: ২০১৮-০৩-২১ ১০:২০:৩৮ এএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : কেবলমাত্র নারীদের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স বা ব্লাডার লিকেজ হয় না, পুরুষদেরও হয়। এ সমস্যার ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্রাব ঝরতে থাকে। এ প্রতিবেদনে ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স বা ব্লাডার লিকেজ বা প্রস্রাব ঝরা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
* ব্লাডার লিকেজ একটি বড় সমস্যা
ব্লাডার লিকেজ বা ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স ২৫ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানের জন্য দুর্ভাগ্যজনক সত্য। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভুক্তভোগী এ সম্পর্কে কথা বলে না অথবা মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করে না। আমাদের বাংলাদেশেও এ সমস্যার প্রকোপ উল্লেখ করার মতো।
* পুরুষদেরও ব্লাডার লিকেজ হয়
অনেক পুরুষদের মধ্যে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের সমস্যা দেখা দিলেও এখনো পর্যন্ত এটিকে নারীদের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। বুড়ো মানুষদের রোগ হিসেবে এর খ্যাতি থাকলেও এটি যেকোনো বয়সের পুরুষদের হতে পারে। কন্টিনেক্সের একটি জরিপ অনুসারে, ‘ব্লাডার লিকেজের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া চারজন পুরুষের একজন বলে যে, তারা এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে বিব্রতবোধ করে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর কনটিনেন্স অনুসারে, ‘১২ জন লোকের মধ্যে মাত্র একজন তাদের উপসর্গের জন্য মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করে।’
* সকল ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা একই নয়
চিকিৎসার পূর্বে আপনার কি কারণে ব্লাডার লিকেজ হয়েছে তা নির্ণয় করার প্রয়োজন হবে। টিভি শো দ্য ডক্টরসের কো-হোস্ট, ইউরোলজিস্ট এবং সেক্সুয়াল হেলথ এক্সপার্ট জেনিফার বারম্যান বলেন, ‘ব্লাডার লিকেজ আপনার জীবনে হালকা থেকে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যদি আপনি এর কারণ ধরতে না পারেন এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন না হন।’ ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্রধানত তিন ধরনের, যথা- ১. স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স, ২. আর্জ ইনকনটিনেন্স এবং ৩. ওভারফ্লো ইনকনটিনেন্স।
* স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স
ব্লাডার বা মূত্রাশয়ে চাপ পড়লে স্ট্রেস বা চাপমূলক ইনকনটিনেন্স হয়ে থাকে। লাফানো, গলফ ক্লাবে খেলা, ভারী কোনোকিছু উত্তোলন করা, হাঁচি দেওয়া এবং অন্যান্য ক্রিয়ার কারণে এ ধরনের ব্লাডার লিকেজ হতে পারে। ডা. বারম্যান বলেন, ‘পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতা অথবা দুর্বল ইউরিনারি স্ফিনকটার পেশী কিংবা উভয় কারণে হঠাৎ করে স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স হতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘পুরুষদের মূত্রনালী নারীদের তুলনায় লম্বা বলে তাদের স্ফিনকটার-সম্পর্কিত সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।’ এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রবলবেগে প্রস্রাব নির্গমন হয়ে থাকে এবং ব্লাডার সম্পূর্ণরূপে খালি হয় না।
* আর্জ ইনকনটিনেন্স
আর্জ বা তাড়নামূলক ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে সবসময় প্রস্রাব করার জন্য তাড়না অনুভূত হয়ে থাকে, এমনকি আপনি সবেমাত্র বাথরুমে মূত্রত্যাগ করে আসলেও। ডা. বারম্যান বলেন, ‘এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে ব্লাডারে অনৈচ্ছিক সংকোচন বা স্প্যাজম হয়, যে কারণে প্রস্রাব বের হয়ে আসার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে মূত্রনালী খুলে যায়।’ আর্জ ইনকন্টিনেন্সের রেঞ্জ অতি অল্প পরিমাণে প্রস্রাব নির্গমন থেকে শুরু হয় যা আপনি লক্ষ্য নাও করতে পারেন।
* ওভারফ্লো ইনকনটিনেন্স
ওভারফ্লো বা অতিপ্রবাহমূলক ইনকনটিনেন্স আর্জ ইনকন্টিনেন্সের বিপরীত। এক্ষেত্রে সবসময় মূত্রত্যাগের তাড়না অনুভবের পরিবর্তে আপনি প্রস্রাব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন না। আপনার ব্লাডারকে একটি খোলা ট্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়াটার বেলুন হিসেবে কল্পনা করুন। এ প্রসঙ্গে ডা. বারম্যান বলেন, ‘এটি পূর্ণ হতে থাকে এবং ওভারফ্লো বা অতিপ্রবাহ না হওয়া পর্যন্ত বড় হতে থাকে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ যথেচ্ছভাবে প্রস্রাব বের হয়- কখনো কখনো একটানা ঝরতে থাকে, আবার কখনো কখনো বড় ধরনের প্রবাহ হিসেবে ঝরতে থাকে।’
* প্রোস্টেটের সঙ্গে প্রস্রাবের সম্পর্ক
যখন পুরুষেরা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সে ভুগবে, তখন সাধারণত প্রথমে প্রোস্টেট সমস্যার কথা ধারণা করা হবে। ডা. বারম্যানের মতে, ‘ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের একটি কারণ হতে পারে প্রোস্টেট, যদিও প্রায়ক্ষেত্রে অধিকাংশ পুরুষেরা যেভাবে মনে করে সেভাবে নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘একটি বর্ধিত প্রোস্টেট গ্রন্থি ইনকন্টিনেন্সের পরিবর্তে মূত্রত্যাগ দুরূহ করে বেশি, কিন্তু প্রোস্টেট সার্জারি প্রায়শ ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স ঘটিয়ে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো পদ্ধতির প্রোস্টেট সার্জারি মূত্রাশয়ের স্নায়ু এবং মূত্রনালীর স্ফিনকটার পেশীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা লিকেজের কারণ হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটি সাময়িক, কিন্তু পুরুষ এবং তাদের চিকিৎসকদের এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন হবে এবং আরোগ্যলাভের সময় কিভাবে এর যত্ন নেওয়া হবে তার পরিকল্পনা করতে হবে।’
* সঠিক ওষুধ সেবন
ডা. বারম্যান সতর্ক করেন যে, পুরুষের ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ এ সমস্যাকে আরো খারাপ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো চিকিৎসক কোনো লোককে ব্লাডার স্প্যাজমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন এবং এ লিকেজ কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে রোগীর অবস্থা পূর্বের চেয়ে বেশি খারাপ হবে। ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের অন্যান্য মেডিক্যাল কারণের মধ্যে ব্যাক সার্জারি এবং কিছু ব্লাড প্রেশারের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত আছে।
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সৃষ্টিকারী রোগ
ব্লাডার লিকেজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত রোগের তালিকায় ডায়াবেটিস শীর্ষস্থানে আছে, এটি শরীরের স্নায়ুকে ড্যামেজ করে- এর মধ্যে সেসব স্নায়ুও অন্তর্ভুক্ত আছে যা ব্লাডারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মূত্রাশয়ের ক্যানসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্ট্রোক, মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর, মূত্রাশয়ে পাথর, যৌনবাহিত রোগ অথবা পারকিনসন’সের মতো নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার কিংবা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কারণেও ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হতে পারে।
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্ররোচক জীবনধারা
স্থূলতা দ্বারা প্ররোচিত স্বাস্থ্য সমস্যার তালিকায় ইউরিনারি ইনকনটিনেন্সকে রাখতে পারেন। ডা. বারম্যান বলেন, ‘অতিরিক্ত ওজন ব্লাডারের ওপর চাপ ফেলতে পারে।’ অন্য একটি ফ্যাক্টর হচ্ছে, স্ট্রাডল ইনজুরি যা লোকজন গাড়ি দুর্ঘটনা কিংবা খেলাধুলায় পেয়ে থাকে। ডা. বারম্যান বলেন, ‘মূত্রনালী বা কুঁচকি এলাকায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে যেকোনো ইনজুরি লিকেজের কারণ হতে পারে।’
* ব্লাডার লিকেজ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
ডা. বারম্যান বলেন, ‘পুরুষদের এটা মেনে নিতে হবে যে, ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স এমন কিছু নয় যা নিজে নিজে সেরে ওঠবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু এটি সাধারণত যন্ত্রণাদায়ক নয় এবং প্রায়ক্ষেত্রে অনিয়মিত, তাই পুরুষরা এ সমস্যা দূর করার চেষ্টা নাও করতে পারে।’ কিন্তু এমনটা করবেন না। যদি আপনার দিনের বেলায় কোনো লিকেজ হয়, যদি আপনি চার ঘণ্টার চেয়ে কম সময়ে অধিক মূত্রত্যাগ করেন অথবা যদি লিকেজ যেকোনোভাবে আপনার জীবনধারাকে ব্যাহত করে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ডা. বারম্যান বলেন, ‘এ সমস্যার ক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া সর্বোত্তম, যিনি ইনজুরি থেকে ক্যানসার (এবং আপনার প্রোস্টেট) সবকিছু চেক করতে পারেন।’
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কেজেল
ডা. বারম্যান বলেন, ‘স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কেজেল এক্সারসাইজ বা পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ পুরুষের বেস্ট ফ্রেন্ড।’ নারীরা পেলভিক-ফ্লোর-স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ সম্পর্কে সচেতন থাকলেও পুরুষেরা সম্ভবত এই ‘স্কুইজ অ্যান্ড লিফট’ মেথডে নতুন। সুতরাং কেজেল এক্সারসাইজ সম্পর্কে আপনার নারী সঙ্গী থেকে সাহায্য নিতে পারেন এবং আপনারা একসঙ্গে কেজেল প্র্যাকটিস করতে পারেন।
* কফি ও মসলাযুক্ত ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে চলুন
ডা. বারম্যান বলেন, ‘বিস্ময়করভাবে আপনার ডায়েট বা খাবার ব্লাডার লিকেজকে প্ররোচিত করতে পারে বা আরো অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘সর্বাধিক অনিষ্টকারক হচ্ছে ক্যাফেইন, কিন্তু কার্বোনেটেড বেভারেজ, মসলাযুক্ত খাবার এবং আপনার ব্লাডারে ইরিটেশন সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কিছুও এড়িয়ে চলুন।’
* জীবনধারায় পরিবর্তন আনুন
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন আপনার ব্লাডার লিকেজ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার যা যা করা উচিত তা তা করুন- সুষম খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, স্ট্রেস হ্রাস করুন, অ্যালকোহল সীমিত করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। এতে আপনার ব্লাডার আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। যে এক্সারসাইজ লিকেজের কারণ হয় তা চর্চা করবেন না।
* লিক-প্রুফ অন্তর্বাস ব্যবহার করুন
আপনার ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হলে আপনি অ্যাডাল্ট ডায়াপার ব্যবহার করতে পারেন। আপনি বিশেষ ফ্যাব্রিকের লিক-প্রুফ অন্তর্বাস কনফিটেক্স ব্যবহার করতে পারেন যা স্তুপাকার না হয়েই তরল পদার্থ শোষণ করতে পারে।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
পড়ুন : * পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ক্যানসারের যে সব লক্ষণ অবহেলা করবেন না (শেষ পর্ব)
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
* ব্লাডার লিকেজ একটি বড় সমস্যা
ব্লাডার লিকেজ বা ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স ২৫ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানের জন্য দুর্ভাগ্যজনক সত্য। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভুক্তভোগী এ সম্পর্কে কথা বলে না অথবা মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করে না। আমাদের বাংলাদেশেও এ সমস্যার প্রকোপ উল্লেখ করার মতো।
* পুরুষদেরও ব্লাডার লিকেজ হয়
অনেক পুরুষদের মধ্যে ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের সমস্যা দেখা দিলেও এখনো পর্যন্ত এটিকে নারীদের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। বুড়ো মানুষদের রোগ হিসেবে এর খ্যাতি থাকলেও এটি যেকোনো বয়সের পুরুষদের হতে পারে। কন্টিনেক্সের একটি জরিপ অনুসারে, ‘ব্লাডার লিকেজের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া চারজন পুরুষের একজন বলে যে, তারা এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে বিব্রতবোধ করে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর কনটিনেন্স অনুসারে, ‘১২ জন লোকের মধ্যে মাত্র একজন তাদের উপসর্গের জন্য মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধান করে।’
* সকল ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা একই নয়
চিকিৎসার পূর্বে আপনার কি কারণে ব্লাডার লিকেজ হয়েছে তা নির্ণয় করার প্রয়োজন হবে। টিভি শো দ্য ডক্টরসের কো-হোস্ট, ইউরোলজিস্ট এবং সেক্সুয়াল হেলথ এক্সপার্ট জেনিফার বারম্যান বলেন, ‘ব্লাডার লিকেজ আপনার জীবনে হালকা থেকে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যদি আপনি এর কারণ ধরতে না পারেন এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন না হন।’ ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্রধানত তিন ধরনের, যথা- ১. স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স, ২. আর্জ ইনকনটিনেন্স এবং ৩. ওভারফ্লো ইনকনটিনেন্স।
* স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স
ব্লাডার বা মূত্রাশয়ে চাপ পড়লে স্ট্রেস বা চাপমূলক ইনকনটিনেন্স হয়ে থাকে। লাফানো, গলফ ক্লাবে খেলা, ভারী কোনোকিছু উত্তোলন করা, হাঁচি দেওয়া এবং অন্যান্য ক্রিয়ার কারণে এ ধরনের ব্লাডার লিকেজ হতে পারে। ডা. বারম্যান বলেন, ‘পেলভিক ফ্লোরের দুর্বলতা অথবা দুর্বল ইউরিনারি স্ফিনকটার পেশী কিংবা উভয় কারণে হঠাৎ করে স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স হতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘পুরুষদের মূত্রনালী নারীদের তুলনায় লম্বা বলে তাদের স্ফিনকটার-সম্পর্কিত সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।’ এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রবলবেগে প্রস্রাব নির্গমন হয়ে থাকে এবং ব্লাডার সম্পূর্ণরূপে খালি হয় না।
* আর্জ ইনকনটিনেন্স
আর্জ বা তাড়নামূলক ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে সবসময় প্রস্রাব করার জন্য তাড়না অনুভূত হয়ে থাকে, এমনকি আপনি সবেমাত্র বাথরুমে মূত্রত্যাগ করে আসলেও। ডা. বারম্যান বলেন, ‘এ ধরনের ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের ক্ষেত্রে ব্লাডারে অনৈচ্ছিক সংকোচন বা স্প্যাজম হয়, যে কারণে প্রস্রাব বের হয়ে আসার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে মূত্রনালী খুলে যায়।’ আর্জ ইনকন্টিনেন্সের রেঞ্জ অতি অল্প পরিমাণে প্রস্রাব নির্গমন থেকে শুরু হয় যা আপনি লক্ষ্য নাও করতে পারেন।
* ওভারফ্লো ইনকনটিনেন্স
ওভারফ্লো বা অতিপ্রবাহমূলক ইনকনটিনেন্স আর্জ ইনকন্টিনেন্সের বিপরীত। এক্ষেত্রে সবসময় মূত্রত্যাগের তাড়না অনুভবের পরিবর্তে আপনি প্রস্রাব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন না। আপনার ব্লাডারকে একটি খোলা ট্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়াটার বেলুন হিসেবে কল্পনা করুন। এ প্রসঙ্গে ডা. বারম্যান বলেন, ‘এটি পূর্ণ হতে থাকে এবং ওভারফ্লো বা অতিপ্রবাহ না হওয়া পর্যন্ত বড় হতে থাকে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ যথেচ্ছভাবে প্রস্রাব বের হয়- কখনো কখনো একটানা ঝরতে থাকে, আবার কখনো কখনো বড় ধরনের প্রবাহ হিসেবে ঝরতে থাকে।’
* প্রোস্টেটের সঙ্গে প্রস্রাবের সম্পর্ক
যখন পুরুষেরা ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সে ভুগবে, তখন সাধারণত প্রথমে প্রোস্টেট সমস্যার কথা ধারণা করা হবে। ডা. বারম্যানের মতে, ‘ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের একটি কারণ হতে পারে প্রোস্টেট, যদিও প্রায়ক্ষেত্রে অধিকাংশ পুরুষেরা যেভাবে মনে করে সেভাবে নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘একটি বর্ধিত প্রোস্টেট গ্রন্থি ইনকন্টিনেন্সের পরিবর্তে মূত্রত্যাগ দুরূহ করে বেশি, কিন্তু প্রোস্টেট সার্জারি প্রায়শ ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স ঘটিয়ে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো পদ্ধতির প্রোস্টেট সার্জারি মূত্রাশয়ের স্নায়ু এবং মূত্রনালীর স্ফিনকটার পেশীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা লিকেজের কারণ হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটি সাময়িক, কিন্তু পুরুষ এবং তাদের চিকিৎসকদের এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন হবে এবং আরোগ্যলাভের সময় কিভাবে এর যত্ন নেওয়া হবে তার পরিকল্পনা করতে হবে।’
* সঠিক ওষুধ সেবন
ডা. বারম্যান সতর্ক করেন যে, পুরুষের ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ এ সমস্যাকে আরো খারাপ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো চিকিৎসক কোনো লোককে ব্লাডার স্প্যাজমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন এবং এ লিকেজ কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে রোগীর অবস্থা পূর্বের চেয়ে বেশি খারাপ হবে। ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের অন্যান্য মেডিক্যাল কারণের মধ্যে ব্যাক সার্জারি এবং কিছু ব্লাড প্রেশারের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত আছে।
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সৃষ্টিকারী রোগ
ব্লাডার লিকেজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত রোগের তালিকায় ডায়াবেটিস শীর্ষস্থানে আছে, এটি শরীরের স্নায়ুকে ড্যামেজ করে- এর মধ্যে সেসব স্নায়ুও অন্তর্ভুক্ত আছে যা ব্লাডারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মূত্রাশয়ের ক্যানসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্ট্রোক, মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর, মূত্রাশয়ে পাথর, যৌনবাহিত রোগ অথবা পারকিনসন’সের মতো নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার কিংবা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কারণেও ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হতে পারে।
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্ররোচক জীবনধারা
স্থূলতা দ্বারা প্ররোচিত স্বাস্থ্য সমস্যার তালিকায় ইউরিনারি ইনকনটিনেন্সকে রাখতে পারেন। ডা. বারম্যান বলেন, ‘অতিরিক্ত ওজন ব্লাডারের ওপর চাপ ফেলতে পারে।’ অন্য একটি ফ্যাক্টর হচ্ছে, স্ট্রাডল ইনজুরি যা লোকজন গাড়ি দুর্ঘটনা কিংবা খেলাধুলায় পেয়ে থাকে। ডা. বারম্যান বলেন, ‘মূত্রনালী বা কুঁচকি এলাকায় অথবা স্পাইনাল কর্ডে যেকোনো ইনজুরি লিকেজের কারণ হতে পারে।’
* ব্লাডার লিকেজ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
ডা. বারম্যান বলেন, ‘পুরুষদের এটা মেনে নিতে হবে যে, ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স এমন কিছু নয় যা নিজে নিজে সেরে ওঠবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু এটি সাধারণত যন্ত্রণাদায়ক নয় এবং প্রায়ক্ষেত্রে অনিয়মিত, তাই পুরুষরা এ সমস্যা দূর করার চেষ্টা নাও করতে পারে।’ কিন্তু এমনটা করবেন না। যদি আপনার দিনের বেলায় কোনো লিকেজ হয়, যদি আপনি চার ঘণ্টার চেয়ে কম সময়ে অধিক মূত্রত্যাগ করেন অথবা যদি লিকেজ যেকোনোভাবে আপনার জীবনধারাকে ব্যাহত করে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ডা. বারম্যান বলেন, ‘এ সমস্যার ক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া সর্বোত্তম, যিনি ইনজুরি থেকে ক্যানসার (এবং আপনার প্রোস্টেট) সবকিছু চেক করতে পারেন।’
* ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কেজেল
ডা. বারম্যান বলেন, ‘স্ট্রেস ইনকনটিনেন্স প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কেজেল এক্সারসাইজ বা পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ পুরুষের বেস্ট ফ্রেন্ড।’ নারীরা পেলভিক-ফ্লোর-স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ সম্পর্কে সচেতন থাকলেও পুরুষেরা সম্ভবত এই ‘স্কুইজ অ্যান্ড লিফট’ মেথডে নতুন। সুতরাং কেজেল এক্সারসাইজ সম্পর্কে আপনার নারী সঙ্গী থেকে সাহায্য নিতে পারেন এবং আপনারা একসঙ্গে কেজেল প্র্যাকটিস করতে পারেন।
* কফি ও মসলাযুক্ত ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে চলুন
ডা. বারম্যান বলেন, ‘বিস্ময়করভাবে আপনার ডায়েট বা খাবার ব্লাডার লিকেজকে প্ররোচিত করতে পারে বা আরো অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘সর্বাধিক অনিষ্টকারক হচ্ছে ক্যাফেইন, কিন্তু কার্বোনেটেড বেভারেজ, মসলাযুক্ত খাবার এবং আপনার ব্লাডারে ইরিটেশন সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কিছুও এড়িয়ে চলুন।’
* জীবনধারায় পরিবর্তন আনুন
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন আপনার ব্লাডার লিকেজ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার যা যা করা উচিত তা তা করুন- সুষম খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, স্ট্রেস হ্রাস করুন, অ্যালকোহল সীমিত করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। এতে আপনার ব্লাডার আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। যে এক্সারসাইজ লিকেজের কারণ হয় তা চর্চা করবেন না।
* লিক-প্রুফ অন্তর্বাস ব্যবহার করুন
আপনার ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স হলে আপনি অ্যাডাল্ট ডায়াপার ব্যবহার করতে পারেন। আপনি বিশেষ ফ্যাব্রিকের লিক-প্রুফ অন্তর্বাস কনফিটেক্স ব্যবহার করতে পারেন যা স্তুপাকার না হয়েই তরল পদার্থ শোষণ করতে পারে।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
পড়ুন : * পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ক্যানসারের যে সব লক্ষণ অবহেলা করবেন না (শেষ পর্ব)
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ
পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১০ ৯:৩৮:১৩ এএম || আপডেট: ২০১৭-১২-২৪ ১০:০৫:৪৫ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : ডায়াবেটিসের এমন ১০টি উপসর্গ আছে যা সম্পর্কে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের অনেকেই জানেন না।
ডায়াবেটিসের কিছু উপসর্গ শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে দেখা যায়। এ প্রতিবেদনে পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ উল্লেখ করা হলো।
১. ত্বকে কালো দাগ হয়
আপনার ভিতরকার স্বাস্থ্যের জানালা হচ্ছে, আপনার ত্বক। ত্বকে প্রকাশিত সব ধরনের লক্ষণের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। ডায়াবেটিসের লক্ষণও ত্বকে প্রকাশ পেতে পারে। আপনার গলার পেছনে, কুঁচকি কিংবা বগল নোংরা দেখাতে পারে, কিন্তু এসব স্থানে ডার্ক প্যাচ বা কালো দাগ বা কালো আবরণ প্রকৃতপক্ষে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের উপসর্গ। একে অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেন্স (এএন) বলে। এন্ডোক্রাইন সোসাইটির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পাবলিক আউটরিচ কোর কমিটির চেয়ারম্যান, নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট জোসেফ’স কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর মারগারেট ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হরমোনও ত্বকের লক্ষণে অবদান রাখে বলে ধারণা করা হয়।’ তিনি যোগ করেন, এটি (অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেন্স) এমন কিছু যা ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে বিকশিত হওয়ার প্রবণতাযুক্ত।’ অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেনসের চিকিৎসা এর মূল কারণ চিহ্নিতকরণের সঙ্গে জড়িত- এক্ষেত্রে রক্ত শর্করার মাত্রার উপর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় অর্জন করতে হবে।
২. পেনিসের অগ্রভাগ লাল ও স্ফীত হয়
আপনার যে টাইপ২ ডায়াবেটিস আছে তা জানান দিতে অনেক সতর্কীকরণ উপসর্গ রয়েছে, যেমন- ইরেক্টাইল ডিসফাংকশন বা লিঙ্গ উত্থিত না হওয়া। যখন আপনার অনিয়ন্ত্রিত রক্ত শর্করা থাকবে, আপনি ব্যালানাইটিসের ঝুঁকিতে থাকবেন। পেনিসের অগ্রচর্ম ও অগ্রভাগ ফুলে যাওয়াকে ব্যালানাইটিস বলে। এর ফলে ব্যথা হতে পারে, অথবা ডিসচার্জ হতে পারে। আপনার প্রস্রাবের রক্ত শর্করা ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট জন্মানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। আপনার ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন, যিনি আপনাকে এ জায়গা পরিষ্কার রাখার সর্বোত্তম উপায় বলে দিবেন এবং চিকিৎসা হিসেবে কোন অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম রিকমেন্ড করতে পারেন।
৩. শেভিং ক্ষত দ্রুত সারে না
আপনার মুখে শেভিং করার সময় সৃষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষত সেরে ওঠতে দেরি হলে তা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘আপনার শর্করা ক্ষতস্থানে আসার ফলে ক্ষত সেরে ওঠতে বিলম্ব হয়।’ আপনার দাড়ির গ্রন্থিকোষের জায়গায় আপনি শেভিং বাম্প এবং হোয়াইট হেডও লক্ষ্য করতে পারেন। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘যখন আপনার টাইপ২ ডায়াবেটিস থাকবে, আপনার মুখের তৈল গ্রন্থিও লো-গ্রেড ইনফেকশনের কারণ হবে।’
৪. হাত ও পায়ে ব্যথা ও অসাড়তা হয়
টাইপ২ ডায়াবেটিসের অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে নার্ভ ড্যামেজ, যাকে পেরিফেরাল ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ‘আপনি রণন অনুভব করতে পারেন, অথবা পায়ে পিন ও সুঁচ বিদ্ধ হওয়ার মত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারেন, কিংবা ব্যথা, অসাড়তা ও দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন।’ এসব অনুভূতি প্রথমদিকে পায়ে হলেও পরবর্তীতে হাতেও হতে পারে। ব্যথা এবং অসাড়তা হ্রাস করতে রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৫. খুব তৃষ্ণা পায়
টাইপ২ ডায়াবেটিসের কমন উপসর্গ হচ্ছে তৃষ্ণা পাওয়া, প্রকৃতপক্ষে এটি অন্তত ৮টি মেডিক্যাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে পানি খাওয়ার পরও আপনার তৃষ্ণা নিবারণ হচ্ছে না। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির কারণে এরকম হচ্ছে, যা অতিরিক্ত শর্করা বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে চাপ প্রদানের মাধ্যমে অধিক প্রস্রাব উৎপাদনের ফল।’ অধিক প্রস্রাব উৎপাদন হলে আপনি বেশি করে মূত্রত্যাগ করবেন, যা আপনাকে ডিহাইড্রেশনের দিকে ধাবিত করবে এবং আপনি বেশি করে পানি পান করতে চাবেন। যদি আপনি ঘনঘন প্রস্রাব করেন কিংবা অধিক তৃষ্ণা অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
৬. চোখে ভাসন্ত কালো বিন্দু দেখা যায়
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস চোখের ক্ষতি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের মতে, ‘উচ্চ রক্ত শর্করা রেটিনায় রক্তনালীর ক্ষতি করে রক্তপাত ঘটায় এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির দিকে ধাবিত করে।’ আপনার দৃষ্টির সামনে ব্ল্যাক ফ্লোটিং স্পট বা ভাসন্ত কালো বিন্দু লক্ষ্য করতে পারেন এবং আপনার দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। আপনার মধ্যে টাইপ২ ডায়াবেটিসের এসব লক্ষণ দেখা দিলে সম্পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে যান। চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আপনার প্রতিবছর অন্তত একবার চক্ষু পরীক্ষা করা প্রয়োজন হবে।
৭. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়
আপনার ব্যাখ্যাতীত খুব ক্ষুধা পেলে তা হতে পারে টাইপ২ ডায়াবেটিসের উপসর্গ। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মানে হচ্ছে শরীরের কোষে শর্করা পৌঁছানো কঠিনতর হয়ে যাওয়া, যেখানে এটি শক্তি উৎপাদন করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার শরীর অধিক ইনসুলিন উৎপাদন করে এবং এটি আপনার ক্ষুধা জোরদার করে ও আপনার মধ্যে খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে উদ্দীপিত করে। ইকার্ট-নরটনের মতে, এভাবেও ওজন বৃদ্ধি পায়। তিনি যোগ করেন, কিছু রোগী ডেস্কে ক্যান্ডি বার রাখে, যখন তারা নিম্ন রক্ত শর্করা অনুভব করে তখন তারা ক্ষুধা নিবারণে তা খায়। সমস্যা হচ্ছে তারা অত্যধিক খাওয়া এবং অনুপযুক্ত ধরনের খাবারের (যেমন- ক্যান্ডি বার) দিকে ঝুঁকে যা শরীরের জন্য ভালো নয়।
৮. মেজাজ খারাপ হয়
নিম্ন রক্ত শর্করা দ্বারা উদ্দীপিত সমস্যাসমূহের মধ্যে বেশ পরিচিত একটি সমস্যা হচ্ছে, মুড ডিসঅর্ডার বা মেজাজ খারাপ হওয়া। ২০১২ সালে ডায়াবেটোলজি অ্যান্ড মেটাবলিক সিন্ড্রোমে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব পুরুষের টাইপ২ ডায়াবেটিস ছিল তাদের মেজাজ সুস্থ পুরুষদের চেয়ে বেশি বিষণ্ন ছিল। খোশমেজাজ বজায় রাখার জন্য রক্ত শর্করার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন ভারসাম্যের পতন হয়, নিম্ন রক্ত শর্করা মেজাজকে খিটখিটে বা খারাপ করতে অবদান রাখতে পারে।
৯. মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে
মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির শীর্ষে থাকার একটি কারণের কথা হয়তো আপনি শুনে থাকবেন, এটি হচ্ছে- মাড়ির সমস্যা আপনাকে হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিতে রাখতে পারে। আপনার দাঁত আপনার শরীরের অনেক সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের একটি হচ্ছে ডায়াবেটিস। মাড়ির রোগ হচ্ছে পুরুষদের ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ। যেসব লোকদের ডায়াবেটিস আছে তাদের মধ্যে পিরিয়ডোনাইটিস (একটি ইনফেকশন যা মাড়ির ক্ষতি ও দাঁত ক্ষয়ের কারণ) বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ডায়াবেটিস না থাকা লোকদের তুলনায় তিনগুণের বেশি। মাড়ি লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া হচ্ছে পিরিয়ডোনাইটিসের কয়েকটি লক্ষণ। এরকম হলে ডেন্টিস্টকে দেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একে নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। এই ইনফেকশন অন্যভাবেও কাজ করতে পারে এবং রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
১০. মাথা ঝিমঝিম করে বা মাথা ঘোরে
যখন আপনি ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য উপসর্গের কথা চিন্তা করবেন, আপনার মনে মাথা ঝিমঝিম করা বা মাথা ঘোরার বিষয়টি নাও আসতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ এবং কমপক্ষে ৮টি মেডিক্যাল কারণে আপনার মাথা ঝিমঝিম করতে পারে বা মাথা ঘুরতে পারে। আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিনের ২০০৯ সালের এক গবেষণামতে, ‘ইনার ইয়ার ডিসঅর্ডার (যা মাথা ঝিমঝিম করা বা ঘোরা ও মাথার ভারসাম্যহীনতা হিসেবে দেখা দিতে পারে) টাইপ২ ডায়াবেটিস না থাকা লোকদের তুলনায় টাইপ২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ বেশি ছিল।’ ডায়াবেটিস ক্ষুদ্র রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যে কারণে কানের ভিতরের স্ট্রাকচারে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১০ ৯:৩৮:১৩ এএম || আপডেট: ২০১৭-১২-২৪ ১০:০৫:৪৫ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : ডায়াবেটিসের এমন ১০টি উপসর্গ আছে যা সম্পর্কে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের অনেকেই জানেন না।
ডায়াবেটিসের কিছু উপসর্গ শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে দেখা যায়। এ প্রতিবেদনে পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ উল্লেখ করা হলো।
১. ত্বকে কালো দাগ হয়
আপনার ভিতরকার স্বাস্থ্যের জানালা হচ্ছে, আপনার ত্বক। ত্বকে প্রকাশিত সব ধরনের লক্ষণের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। ডায়াবেটিসের লক্ষণও ত্বকে প্রকাশ পেতে পারে। আপনার গলার পেছনে, কুঁচকি কিংবা বগল নোংরা দেখাতে পারে, কিন্তু এসব স্থানে ডার্ক প্যাচ বা কালো দাগ বা কালো আবরণ প্রকৃতপক্ষে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের উপসর্গ। একে অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেন্স (এএন) বলে। এন্ডোক্রাইন সোসাইটির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পাবলিক আউটরিচ কোর কমিটির চেয়ারম্যান, নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট জোসেফ’স কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর মারগারেট ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হরমোনও ত্বকের লক্ষণে অবদান রাখে বলে ধারণা করা হয়।’ তিনি যোগ করেন, এটি (অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেন্স) এমন কিছু যা ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে বিকশিত হওয়ার প্রবণতাযুক্ত।’ অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেনসের চিকিৎসা এর মূল কারণ চিহ্নিতকরণের সঙ্গে জড়িত- এক্ষেত্রে রক্ত শর্করার মাত্রার উপর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় অর্জন করতে হবে।
২. পেনিসের অগ্রভাগ লাল ও স্ফীত হয়
আপনার যে টাইপ২ ডায়াবেটিস আছে তা জানান দিতে অনেক সতর্কীকরণ উপসর্গ রয়েছে, যেমন- ইরেক্টাইল ডিসফাংকশন বা লিঙ্গ উত্থিত না হওয়া। যখন আপনার অনিয়ন্ত্রিত রক্ত শর্করা থাকবে, আপনি ব্যালানাইটিসের ঝুঁকিতে থাকবেন। পেনিসের অগ্রচর্ম ও অগ্রভাগ ফুলে যাওয়াকে ব্যালানাইটিস বলে। এর ফলে ব্যথা হতে পারে, অথবা ডিসচার্জ হতে পারে। আপনার প্রস্রাবের রক্ত শর্করা ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট জন্মানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। আপনার ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন, যিনি আপনাকে এ জায়গা পরিষ্কার রাখার সর্বোত্তম উপায় বলে দিবেন এবং চিকিৎসা হিসেবে কোন অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম রিকমেন্ড করতে পারেন।
৩. শেভিং ক্ষত দ্রুত সারে না
আপনার মুখে শেভিং করার সময় সৃষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষত সেরে ওঠতে দেরি হলে তা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘আপনার শর্করা ক্ষতস্থানে আসার ফলে ক্ষত সেরে ওঠতে বিলম্ব হয়।’ আপনার দাড়ির গ্রন্থিকোষের জায়গায় আপনি শেভিং বাম্প এবং হোয়াইট হেডও লক্ষ্য করতে পারেন। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘যখন আপনার টাইপ২ ডায়াবেটিস থাকবে, আপনার মুখের তৈল গ্রন্থিও লো-গ্রেড ইনফেকশনের কারণ হবে।’
৪. হাত ও পায়ে ব্যথা ও অসাড়তা হয়
টাইপ২ ডায়াবেটিসের অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে নার্ভ ড্যামেজ, যাকে পেরিফেরাল ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ‘আপনি রণন অনুভব করতে পারেন, অথবা পায়ে পিন ও সুঁচ বিদ্ধ হওয়ার মত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারেন, কিংবা ব্যথা, অসাড়তা ও দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন।’ এসব অনুভূতি প্রথমদিকে পায়ে হলেও পরবর্তীতে হাতেও হতে পারে। ব্যথা এবং অসাড়তা হ্রাস করতে রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৫. খুব তৃষ্ণা পায়
টাইপ২ ডায়াবেটিসের কমন উপসর্গ হচ্ছে তৃষ্ণা পাওয়া, প্রকৃতপক্ষে এটি অন্তত ৮টি মেডিক্যাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে পানি খাওয়ার পরও আপনার তৃষ্ণা নিবারণ হচ্ছে না। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির কারণে এরকম হচ্ছে, যা অতিরিক্ত শর্করা বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে চাপ প্রদানের মাধ্যমে অধিক প্রস্রাব উৎপাদনের ফল।’ অধিক প্রস্রাব উৎপাদন হলে আপনি বেশি করে মূত্রত্যাগ করবেন, যা আপনাকে ডিহাইড্রেশনের দিকে ধাবিত করবে এবং আপনি বেশি করে পানি পান করতে চাবেন। যদি আপনি ঘনঘন প্রস্রাব করেন কিংবা অধিক তৃষ্ণা অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
৬. চোখে ভাসন্ত কালো বিন্দু দেখা যায়
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস চোখের ক্ষতি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের মতে, ‘উচ্চ রক্ত শর্করা রেটিনায় রক্তনালীর ক্ষতি করে রক্তপাত ঘটায় এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির দিকে ধাবিত করে।’ আপনার দৃষ্টির সামনে ব্ল্যাক ফ্লোটিং স্পট বা ভাসন্ত কালো বিন্দু লক্ষ্য করতে পারেন এবং আপনার দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। আপনার মধ্যে টাইপ২ ডায়াবেটিসের এসব লক্ষণ দেখা দিলে সম্পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে যান। চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আপনার প্রতিবছর অন্তত একবার চক্ষু পরীক্ষা করা প্রয়োজন হবে।
৭. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়
আপনার ব্যাখ্যাতীত খুব ক্ষুধা পেলে তা হতে পারে টাইপ২ ডায়াবেটিসের উপসর্গ। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মানে হচ্ছে শরীরের কোষে শর্করা পৌঁছানো কঠিনতর হয়ে যাওয়া, যেখানে এটি শক্তি উৎপাদন করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার শরীর অধিক ইনসুলিন উৎপাদন করে এবং এটি আপনার ক্ষুধা জোরদার করে ও আপনার মধ্যে খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে উদ্দীপিত করে। ইকার্ট-নরটনের মতে, এভাবেও ওজন বৃদ্ধি পায়। তিনি যোগ করেন, কিছু রোগী ডেস্কে ক্যান্ডি বার রাখে, যখন তারা নিম্ন রক্ত শর্করা অনুভব করে তখন তারা ক্ষুধা নিবারণে তা খায়। সমস্যা হচ্ছে তারা অত্যধিক খাওয়া এবং অনুপযুক্ত ধরনের খাবারের (যেমন- ক্যান্ডি বার) দিকে ঝুঁকে যা শরীরের জন্য ভালো নয়।
৮. মেজাজ খারাপ হয়
নিম্ন রক্ত শর্করা দ্বারা উদ্দীপিত সমস্যাসমূহের মধ্যে বেশ পরিচিত একটি সমস্যা হচ্ছে, মুড ডিসঅর্ডার বা মেজাজ খারাপ হওয়া। ২০১২ সালে ডায়াবেটোলজি অ্যান্ড মেটাবলিক সিন্ড্রোমে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব পুরুষের টাইপ২ ডায়াবেটিস ছিল তাদের মেজাজ সুস্থ পুরুষদের চেয়ে বেশি বিষণ্ন ছিল। খোশমেজাজ বজায় রাখার জন্য রক্ত শর্করার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন ভারসাম্যের পতন হয়, নিম্ন রক্ত শর্করা মেজাজকে খিটখিটে বা খারাপ করতে অবদান রাখতে পারে।
৯. মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে
মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির শীর্ষে থাকার একটি কারণের কথা হয়তো আপনি শুনে থাকবেন, এটি হচ্ছে- মাড়ির সমস্যা আপনাকে হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিতে রাখতে পারে। আপনার দাঁত আপনার শরীরের অনেক সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের একটি হচ্ছে ডায়াবেটিস। মাড়ির রোগ হচ্ছে পুরুষদের ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ। যেসব লোকদের ডায়াবেটিস আছে তাদের মধ্যে পিরিয়ডোনাইটিস (একটি ইনফেকশন যা মাড়ির ক্ষতি ও দাঁত ক্ষয়ের কারণ) বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ডায়াবেটিস না থাকা লোকদের তুলনায় তিনগুণের বেশি। মাড়ি লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া হচ্ছে পিরিয়ডোনাইটিসের কয়েকটি লক্ষণ। এরকম হলে ডেন্টিস্টকে দেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একে নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। এই ইনফেকশন অন্যভাবেও কাজ করতে পারে এবং রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
১০. মাথা ঝিমঝিম করে বা মাথা ঘোরে
যখন আপনি ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য উপসর্গের কথা চিন্তা করবেন, আপনার মনে মাথা ঝিমঝিম করা বা মাথা ঘোরার বিষয়টি নাও আসতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ এবং কমপক্ষে ৮টি মেডিক্যাল কারণে আপনার মাথা ঝিমঝিম করতে পারে বা মাথা ঘুরতে পারে। আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিনের ২০০৯ সালের এক গবেষণামতে, ‘ইনার ইয়ার ডিসঅর্ডার (যা মাথা ঝিমঝিম করা বা ঘোরা ও মাথার ভারসাম্যহীনতা হিসেবে দেখা দিতে পারে) টাইপ২ ডায়াবেটিস না থাকা লোকদের তুলনায় টাইপ২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ বেশি ছিল।’ ডায়াবেটিস ক্ষুদ্র রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যে কারণে কানের ভিতরের স্ট্রাকচারে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ
ডায়াবেটিসের কিছু উপসর্গ শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে দেখা যায়। এ প্রতিবেদনে পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ উল্লেখ করা হলো।
১. ত্বকে কালো দাগ হয়
আপনার ভিতরকার স্বাস্থ্যের জানালা হচ্ছে, আপনার ত্বক। ত্বকে প্রকাশিত সব ধরনের লক্ষণের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। ডায়াবেটিসের লক্ষণও ত্বকে প্রকাশ পেতে পারে। আপনার গলার পেছনে, কুঁচকি কিংবা বগল নোংরা দেখাতে পারে, কিন্তু এসব স্থানে ডার্ক প্যাচ বা কালো দাগ বা কালো আবরণ প্রকৃতপক্ষে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের উপসর্গ। একে অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেন্স (এএন) বলে। এন্ডোক্রাইন সোসাইটির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পাবলিক আউটরিচ কোর কমিটির চেয়ারম্যান, নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট জোসেফ’স কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং সার্টিফায়েড ডায়াবেটিস এডুকেটর মারগারেট ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হরমোনও ত্বকের লক্ষণে অবদান রাখে বলে ধারণা করা হয়।’ তিনি যোগ করেন, এটি (অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেন্স) এমন কিছু যা ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে বিকশিত হওয়ার প্রবণতাযুক্ত।’ অ্যাকেনথোসিস নিগ্রিকেনসের চিকিৎসা এর মূল কারণ চিহ্নিতকরণের সঙ্গে জড়িত- এক্ষেত্রে রক্ত শর্করার মাত্রার উপর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় অর্জন করতে হবে।
২. পেনিসের অগ্রভাগ লাল ও স্ফীত হয়
আপনার যে টাইপ২ ডায়াবেটিস আছে তা জানান দিতে অনেক সতর্কীকরণ উপসর্গ রয়েছে, যেমন- ইরেক্টাইল ডিসফাংকশন বা লিঙ্গ উত্থিত না হওয়া। যখন আপনার অনিয়ন্ত্রিত রক্ত শর্করা থাকবে, আপনি ব্যালানাইটিসের ঝুঁকিতে থাকবেন। পেনিসের অগ্রচর্ম ও অগ্রভাগ ফুলে যাওয়াকে ব্যালানাইটিস বলে। এর ফলে ব্যথা হতে পারে, অথবা ডিসচার্জ হতে পারে। আপনার প্রস্রাবের রক্ত শর্করা ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট জন্মানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। আপনার ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন, যিনি আপনাকে এ জায়গা পরিষ্কার রাখার সর্বোত্তম উপায় বলে দিবেন এবং চিকিৎসা হিসেবে কোন অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম রিকমেন্ড করতে পারেন।
৩. শেভিং ক্ষত দ্রুত সারে না
আপনার মুখে শেভিং করার সময় সৃষ্ট ক্ষুদ্র ক্ষত সেরে ওঠতে দেরি হলে তা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘আপনার শর্করা ক্ষতস্থানে আসার ফলে ক্ষত সেরে ওঠতে বিলম্ব হয়।’ আপনার দাড়ির গ্রন্থিকোষের জায়গায় আপনি শেভিং বাম্প এবং হোয়াইট হেডও লক্ষ্য করতে পারেন। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘যখন আপনার টাইপ২ ডায়াবেটিস থাকবে, আপনার মুখের তৈল গ্রন্থিও লো-গ্রেড ইনফেকশনের কারণ হবে।’
৪. হাত ও পায়ে ব্যথা ও অসাড়তা হয়
টাইপ২ ডায়াবেটিসের অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে নার্ভ ড্যামেজ, যাকে পেরিফেরাল ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি বলে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ‘আপনি রণন অনুভব করতে পারেন, অথবা পায়ে পিন ও সুঁচ বিদ্ধ হওয়ার মত যন্ত্রণা অনুভব করতে পারেন, কিংবা ব্যথা, অসাড়তা ও দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন।’ এসব অনুভূতি প্রথমদিকে পায়ে হলেও পরবর্তীতে হাতেও হতে পারে। ব্যথা এবং অসাড়তা হ্রাস করতে রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৫. খুব তৃষ্ণা পায়
টাইপ২ ডায়াবেটিসের কমন উপসর্গ হচ্ছে তৃষ্ণা পাওয়া, প্রকৃতপক্ষে এটি অন্তত ৮টি মেডিক্যাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে পানি খাওয়ার পরও আপনার তৃষ্ণা নিবারণ হচ্ছে না। ইকার্ট-নরটন বলেন, ‘রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির কারণে এরকম হচ্ছে, যা অতিরিক্ত শর্করা বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিকে চাপ প্রদানের মাধ্যমে অধিক প্রস্রাব উৎপাদনের ফল।’ অধিক প্রস্রাব উৎপাদন হলে আপনি বেশি করে মূত্রত্যাগ করবেন, যা আপনাকে ডিহাইড্রেশনের দিকে ধাবিত করবে এবং আপনি বেশি করে পানি পান করতে চাবেন। যদি আপনি ঘনঘন প্রস্রাব করেন কিংবা অধিক তৃষ্ণা অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
৬. চোখে ভাসন্ত কালো বিন্দু দেখা যায়
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস চোখের ক্ষতি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের মতে, ‘উচ্চ রক্ত শর্করা রেটিনায় রক্তনালীর ক্ষতি করে রক্তপাত ঘটায় এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির দিকে ধাবিত করে।’ আপনার দৃষ্টির সামনে ব্ল্যাক ফ্লোটিং স্পট বা ভাসন্ত কালো বিন্দু লক্ষ্য করতে পারেন এবং আপনার দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। আপনার মধ্যে টাইপ২ ডায়াবেটিসের এসব লক্ষণ দেখা দিলে সম্পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে যান। চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আপনার প্রতিবছর অন্তত একবার চক্ষু পরীক্ষা করা প্রয়োজন হবে।
৭. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়
আপনার ব্যাখ্যাতীত খুব ক্ষুধা পেলে তা হতে পারে টাইপ২ ডায়াবেটিসের উপসর্গ। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মানে হচ্ছে শরীরের কোষে শর্করা পৌঁছানো কঠিনতর হয়ে যাওয়া, যেখানে এটি শক্তি উৎপাদন করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আপনার শরীর অধিক ইনসুলিন উৎপাদন করে এবং এটি আপনার ক্ষুধা জোরদার করে ও আপনার মধ্যে খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে উদ্দীপিত করে। ইকার্ট-নরটনের মতে, এভাবেও ওজন বৃদ্ধি পায়। তিনি যোগ করেন, কিছু রোগী ডেস্কে ক্যান্ডি বার রাখে, যখন তারা নিম্ন রক্ত শর্করা অনুভব করে তখন তারা ক্ষুধা নিবারণে তা খায়। সমস্যা হচ্ছে তারা অত্যধিক খাওয়া এবং অনুপযুক্ত ধরনের খাবারের (যেমন- ক্যান্ডি বার) দিকে ঝুঁকে যা শরীরের জন্য ভালো নয়।
৮. মেজাজ খারাপ হয়
নিম্ন রক্ত শর্করা দ্বারা উদ্দীপিত সমস্যাসমূহের মধ্যে বেশ পরিচিত একটি সমস্যা হচ্ছে, মুড ডিসঅর্ডার বা মেজাজ খারাপ হওয়া। ২০১২ সালে ডায়াবেটোলজি অ্যান্ড মেটাবলিক সিন্ড্রোমে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব পুরুষের টাইপ২ ডায়াবেটিস ছিল তাদের মেজাজ সুস্থ পুরুষদের চেয়ে বেশি বিষণ্ন ছিল। খোশমেজাজ বজায় রাখার জন্য রক্ত শর্করার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন ভারসাম্যের পতন হয়, নিম্ন রক্ত শর্করা মেজাজকে খিটখিটে বা খারাপ করতে অবদান রাখতে পারে।
৯. মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে
মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির শীর্ষে থাকার একটি কারণের কথা হয়তো আপনি শুনে থাকবেন, এটি হচ্ছে- মাড়ির সমস্যা আপনাকে হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিতে রাখতে পারে। আপনার দাঁত আপনার শরীরের অনেক সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের একটি হচ্ছে ডায়াবেটিস। মাড়ির রোগ হচ্ছে পুরুষদের ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ। যেসব লোকদের ডায়াবেটিস আছে তাদের মধ্যে পিরিয়ডোনাইটিস (একটি ইনফেকশন যা মাড়ির ক্ষতি ও দাঁত ক্ষয়ের কারণ) বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ডায়াবেটিস না থাকা লোকদের তুলনায় তিনগুণের বেশি। মাড়ি লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া হচ্ছে পিরিয়ডোনাইটিসের কয়েকটি লক্ষণ। এরকম হলে ডেন্টিস্টকে দেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একে নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। এই ইনফেকশন অন্যভাবেও কাজ করতে পারে এবং রক্ত শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
১০. মাথা ঝিমঝিম করে বা মাথা ঘোরে
যখন আপনি ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য উপসর্গের কথা চিন্তা করবেন, আপনার মনে মাথা ঝিমঝিম করা বা মাথা ঘোরার বিষয়টি নাও আসতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ এবং কমপক্ষে ৮টি মেডিক্যাল কারণে আপনার মাথা ঝিমঝিম করতে পারে বা মাথা ঘুরতে পারে। আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিনের ২০০৯ সালের এক গবেষণামতে, ‘ইনার ইয়ার ডিসঅর্ডার (যা মাথা ঝিমঝিম করা বা ঘোরা ও মাথার ভারসাম্যহীনতা হিসেবে দেখা দিতে পারে) টাইপ২ ডায়াবেটিস না থাকা লোকদের তুলনায় টাইপ২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ বেশি ছিল।’ ডায়াবেটিস ক্ষুদ্র রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যে কারণে কানের ভিতরের স্ট্রাকচারে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ
পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৬ ১২:০১:০৪ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:১৭:০৭ পিএম

প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : অনেক পুরুষের ক্যানসারের লক্ষণ অন্যান্য রোগ বা শারীরিক সমস্যার উপসর্গকে অনুকরণ করতে পারে এবং অনেক পুরুষ শরীরে উপসর্গ খুঁজে পেলেও ডাক্তার দেখাতে দেরি করে ফেলেন।
এভাবে হয়তো আপনি ক্যানসারের উপসর্গকে উপেক্ষা করছেন। তাই শরীরকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষদের সম্ভাব্য ক্যানসারের ১৩ লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্বে ৬টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো। শরীরে এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করলে অথবা এসবের যেকোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ ধরতে পারলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
১. মূত্রত্যাগে সমস্যা
আপনি যদি ধারাবাহিকভাবে মূত্রত্যাগে কাঠিন্যতার সম্মুখীন হন অথবা যদি আপনার প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হয় অথবা আপনার যদি আনেক্সপ্লেনড ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা থাকে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এসব প্রস্টেট ক্যানসার বা মূত্রথলি ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. মোশে শাইক বলেন, দুর্ভাগ্যবশত চরম পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত প্রস্টেট ক্যানসারের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ডা. শাইক এমন রোগীদের দেখেন যারা মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধানের আগে ছয়মাস পর্যন্ত এসব উপসর্গ উপেক্ষা করেন। কিন্তু আপনি যত দ্রুত এসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবেন, আপনার জন্য তত ভালো হবে।
২. অণ্ডকোষে পরিবর্তন
নারীদের যেমন তাদের স্তনের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত, ঠিক তেমনি পুরুষদের উচিত হবে তাদের টেস্টিকল বা অণ্ডকোষের প্রতি লক্ষ্য রাখা। ক্যানসার ট্রিটমেন্ট সেন্টার অব আমেরিকার অনকোলজিস্ট বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. মৌরি মার্কম্যানের মতে, ‘একটি বা উভয় অণ্ডকোষের আকারের পরিবর্তন, অণ্ডকোষ স্ফীত হওয়া বা ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ভারী মনে হওয়া অথবা অণ্ডকোষে লাম্প বা পিণ্ড হওয়া- হতে পারে টেস্টিকিউলার ক্যানসার বা অণ্ডকোষ ক্যানসারের উপসর্গ।’ টেস্টিকিউলার ক্যানসার তরুণ এবং মধ্যবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে খুব কমন।
৩. ত্বকে লক্ষণীয় পরিবর্তন
স্কিন ক্যানসার ফাউন্ডেশনের মতে, ‘স্কিন ক্যানসার বা ত্বক ক্যানসারের বিকাশ এবং এ ক্যানসারে মৃত্যু নারীদের চেয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে থাকে। ম্যালানোমা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ হচ্ছে তরুণবয়স্ক এবং ম্যালানোমা জনিত মৃত্যুর ৬০ শতাংশ হয় তরুণবয়স্কদের। কেন? ন্যাশনাল সান প্রোটেকশন অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় পাওয়া যায়, পুরুষরা সূর্যের আলোতে নারীদের তুলনায় বেশি সময় কাটায় এবং তারা সানস্ক্রিন কম ব্যবহার করে; পুরুষদের স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক ও কান ঢাকার জন্য কম চুল থাকে এবং তাদের এই দুই অংশ ক্যানসার হওয়ার প্রবণতাযুক্ত। এছাড়াও গতানুগতিকভাবে পুরুষরা সাধারণত ডাক্তারের কাছে নারীদের চেয়ে কম যায়। তাই তাদের ক্যানসার শুরুতেই ধরা পড়ে না। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির চিফ ক্যানসার কন্ট্রোল অফিসার ডা. রিচ ওয়েন্ডার বলেন, স্কিন ক্যানসারের প্রারম্ভিক সতর্কীকরণ উপসর্গসমূহ খুব সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক লোক ছুলি, আঁচিল বা তিল এবং ডার্কার এজ স্পটকে (বয়সজনিত বা সূর্যালোকজনিত কালো দাগ) স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়।’
আপনি যদি দেখতে পান যে কোনো আঁচিল বা তিল কালো হচ্ছে বা বড় হচ্ছে বা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাহলে তা পরীক্ষা করুন। ডা. ওয়েন্ডার বলেন, মেলানোমার ক্ষেত্রে দাগ অস্বাভাবিক আকৃতির হয়, বিশেষ করে কালো রঙয়ের হয়- এমনকি একই দাগে দুই রকম রঙও হতে পারে। তিনি আরো বলেন, মেলানোমা অন্যান্য স্কিন ক্যানসারের তুলনায় কম কমন, কিন্তু প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি যোগ করেন, অনেক ম্যালানোমা দীর্ঘসময় ধরে থাকে যা আক্রমণাত্মক নয় এবং যত দ্রুত সম্ভব নির্ণয় করতে পারলে সহজে প্রতিরোধ করা যায়।
৪. মুখে ফোঁড়া বা ব্যথা
সেরে যায় প্রকৃতির ফোঁড়া বা ফোস্কা কিংবা ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার পর যে দাঁত ব্যথা সেরে যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদি আপনি ব্যথাযুক্ত ও সেরে যাচ্ছে না এমন ফোঁড়া, মাড়ি বা জিহ্বায় সাদা বা লাল দাগ, চোয়ালের অসাড়তা ও স্ফীতি লক্ষ্য করে থাকেন, তাহলে বুঝবেন যে এসব উপসর্গ সম্ভবত মুখ ক্যানসারের ইঙ্গিত করছে। ডা. মার্কম্যান বলেন, যেসব পুরুষেরা ধূমপান করে বা চুয়িং টোবাকো ব্যবহার করে তাদের মধ্যে মুখ ক্যানসারের বিকাশের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষ নারীদের চেয়ে বেশি ধূমপান করে। ধূমপায়ী এবং চুয়িং টোবাকো ব্যবহারকারীদের দ্রুত সেরে যায় না জাতীয় মুখের ফোঁড়া নিয়ে অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি চিন্তা করা উচিত।’
৫. দীর্ঘস্থায়ী কাশি
যে কাশি অন্যান্য উপসর্গ (যেমন- ঠান্ডা বা অ্যালার্জি) ছাড়া তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লেগে থাকে তা ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। লিউকেমিয়ার কারণেও ব্রংকাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডা. মার্কম্যান বলেন, যদি কাশি আপনার স্বাভাবিক কাশির চেয়ে ভিন্ন হয় এবং তা যদি লেগেই থাকে অথবা কাশির সঙ্গে রক্ত আসলে তা ফুসফুস ক্যানসারের নির্দেশক হতে পারে। ফুসফুস ক্যানসারের কিছু রোগী বুকের ব্যথা কাঁধ বা বাহুর নিচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।
৬. মলে রক্ত
হেমোরয়েড বা অর্শ অথবা বিনাইন বা বিপজ্জনক নয় এমন কোনো সমস্যার কারণে মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে, কিন্তু এটি কোলন ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে। সাধারণত ৫০ বছর বয়স থেকে রুটিন স্ক্রিনিং শুরু হয়, কিন্তু এ রোগ বর্তমানে অল্প বয়স্কদের ক্ষেত্রেও বেশ কমন- যে কারণে সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ডা. ওয়েন্ডার বলেন, অর্শ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে রক্ত পড়া বন্ধ করা যায় এবং এ সমস্যা আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক লোক (বিশেষ করে অল্পবয়সীরা) নিজেদের আশ্বস্ত করে যে ত্রুটিপূর্ণ কিছু হচ্ছে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগের সময় রক্ত বের হওয়া কখনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, তাই ডাক্তারি পরীক্ষা করুন।
তথ্যসূত্র : রিডার্স জাইজেস্ট
* পড়ুন : পুরুষের ক্যানসারের যে সব লক্ষণ অবহেলা করবেন না (শেষ পর্ব)
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৬ ১২:০১:০৪ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:১৭:০৭ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : অনেক পুরুষের ক্যানসারের লক্ষণ অন্যান্য রোগ বা শারীরিক সমস্যার উপসর্গকে অনুকরণ করতে পারে এবং অনেক পুরুষ শরীরে উপসর্গ খুঁজে পেলেও ডাক্তার দেখাতে দেরি করে ফেলেন।
এভাবে হয়তো আপনি ক্যানসারের উপসর্গকে উপেক্ষা করছেন। তাই শরীরকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষদের সম্ভাব্য ক্যানসারের ১৩ লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্বে ৬টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো। শরীরে এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করলে অথবা এসবের যেকোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ ধরতে পারলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
১. মূত্রত্যাগে সমস্যা
আপনি যদি ধারাবাহিকভাবে মূত্রত্যাগে কাঠিন্যতার সম্মুখীন হন অথবা যদি আপনার প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হয় অথবা আপনার যদি আনেক্সপ্লেনড ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা থাকে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এসব প্রস্টেট ক্যানসার বা মূত্রথলি ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. মোশে শাইক বলেন, দুর্ভাগ্যবশত চরম পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত প্রস্টেট ক্যানসারের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ডা. শাইক এমন রোগীদের দেখেন যারা মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধানের আগে ছয়মাস পর্যন্ত এসব উপসর্গ উপেক্ষা করেন। কিন্তু আপনি যত দ্রুত এসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবেন, আপনার জন্য তত ভালো হবে।
২. অণ্ডকোষে পরিবর্তন
নারীদের যেমন তাদের স্তনের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত, ঠিক তেমনি পুরুষদের উচিত হবে তাদের টেস্টিকল বা অণ্ডকোষের প্রতি লক্ষ্য রাখা। ক্যানসার ট্রিটমেন্ট সেন্টার অব আমেরিকার অনকোলজিস্ট বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. মৌরি মার্কম্যানের মতে, ‘একটি বা উভয় অণ্ডকোষের আকারের পরিবর্তন, অণ্ডকোষ স্ফীত হওয়া বা ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ভারী মনে হওয়া অথবা অণ্ডকোষে লাম্প বা পিণ্ড হওয়া- হতে পারে টেস্টিকিউলার ক্যানসার বা অণ্ডকোষ ক্যানসারের উপসর্গ।’ টেস্টিকিউলার ক্যানসার তরুণ এবং মধ্যবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে খুব কমন।
৩. ত্বকে লক্ষণীয় পরিবর্তন
স্কিন ক্যানসার ফাউন্ডেশনের মতে, ‘স্কিন ক্যানসার বা ত্বক ক্যানসারের বিকাশ এবং এ ক্যানসারে মৃত্যু নারীদের চেয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে থাকে। ম্যালানোমা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ হচ্ছে তরুণবয়স্ক এবং ম্যালানোমা জনিত মৃত্যুর ৬০ শতাংশ হয় তরুণবয়স্কদের। কেন? ন্যাশনাল সান প্রোটেকশন অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় পাওয়া যায়, পুরুষরা সূর্যের আলোতে নারীদের তুলনায় বেশি সময় কাটায় এবং তারা সানস্ক্রিন কম ব্যবহার করে; পুরুষদের স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক ও কান ঢাকার জন্য কম চুল থাকে এবং তাদের এই দুই অংশ ক্যানসার হওয়ার প্রবণতাযুক্ত। এছাড়াও গতানুগতিকভাবে পুরুষরা সাধারণত ডাক্তারের কাছে নারীদের চেয়ে কম যায়। তাই তাদের ক্যানসার শুরুতেই ধরা পড়ে না। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির চিফ ক্যানসার কন্ট্রোল অফিসার ডা. রিচ ওয়েন্ডার বলেন, স্কিন ক্যানসারের প্রারম্ভিক সতর্কীকরণ উপসর্গসমূহ খুব সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক লোক ছুলি, আঁচিল বা তিল এবং ডার্কার এজ স্পটকে (বয়সজনিত বা সূর্যালোকজনিত কালো দাগ) স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়।’
আপনি যদি দেখতে পান যে কোনো আঁচিল বা তিল কালো হচ্ছে বা বড় হচ্ছে বা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাহলে তা পরীক্ষা করুন। ডা. ওয়েন্ডার বলেন, মেলানোমার ক্ষেত্রে দাগ অস্বাভাবিক আকৃতির হয়, বিশেষ করে কালো রঙয়ের হয়- এমনকি একই দাগে দুই রকম রঙও হতে পারে। তিনি আরো বলেন, মেলানোমা অন্যান্য স্কিন ক্যানসারের তুলনায় কম কমন, কিন্তু প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি যোগ করেন, অনেক ম্যালানোমা দীর্ঘসময় ধরে থাকে যা আক্রমণাত্মক নয় এবং যত দ্রুত সম্ভব নির্ণয় করতে পারলে সহজে প্রতিরোধ করা যায়।
৪. মুখে ফোঁড়া বা ব্যথা
সেরে যায় প্রকৃতির ফোঁড়া বা ফোস্কা কিংবা ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার পর যে দাঁত ব্যথা সেরে যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদি আপনি ব্যথাযুক্ত ও সেরে যাচ্ছে না এমন ফোঁড়া, মাড়ি বা জিহ্বায় সাদা বা লাল দাগ, চোয়ালের অসাড়তা ও স্ফীতি লক্ষ্য করে থাকেন, তাহলে বুঝবেন যে এসব উপসর্গ সম্ভবত মুখ ক্যানসারের ইঙ্গিত করছে। ডা. মার্কম্যান বলেন, যেসব পুরুষেরা ধূমপান করে বা চুয়িং টোবাকো ব্যবহার করে তাদের মধ্যে মুখ ক্যানসারের বিকাশের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষ নারীদের চেয়ে বেশি ধূমপান করে। ধূমপায়ী এবং চুয়িং টোবাকো ব্যবহারকারীদের দ্রুত সেরে যায় না জাতীয় মুখের ফোঁড়া নিয়ে অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি চিন্তা করা উচিত।’
৫. দীর্ঘস্থায়ী কাশি
যে কাশি অন্যান্য উপসর্গ (যেমন- ঠান্ডা বা অ্যালার্জি) ছাড়া তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লেগে থাকে তা ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। লিউকেমিয়ার কারণেও ব্রংকাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডা. মার্কম্যান বলেন, যদি কাশি আপনার স্বাভাবিক কাশির চেয়ে ভিন্ন হয় এবং তা যদি লেগেই থাকে অথবা কাশির সঙ্গে রক্ত আসলে তা ফুসফুস ক্যানসারের নির্দেশক হতে পারে। ফুসফুস ক্যানসারের কিছু রোগী বুকের ব্যথা কাঁধ বা বাহুর নিচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।
৬. মলে রক্ত
হেমোরয়েড বা অর্শ অথবা বিনাইন বা বিপজ্জনক নয় এমন কোনো সমস্যার কারণে মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে, কিন্তু এটি কোলন ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে। সাধারণত ৫০ বছর বয়স থেকে রুটিন স্ক্রিনিং শুরু হয়, কিন্তু এ রোগ বর্তমানে অল্প বয়স্কদের ক্ষেত্রেও বেশ কমন- যে কারণে সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ডা. ওয়েন্ডার বলেন, অর্শ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে রক্ত পড়া বন্ধ করা যায় এবং এ সমস্যা আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক লোক (বিশেষ করে অল্পবয়সীরা) নিজেদের আশ্বস্ত করে যে ত্রুটিপূর্ণ কিছু হচ্ছে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগের সময় রক্ত বের হওয়া কখনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, তাই ডাক্তারি পরীক্ষা করুন।
তথ্যসূত্র : রিডার্স জাইজেস্ট
* পড়ুন : পুরুষের ক্যানসারের যে সব লক্ষণ অবহেলা করবেন না (শেষ পর্ব)
এভাবে হয়তো আপনি ক্যানসারের উপসর্গকে উপেক্ষা করছেন। তাই শরীরকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষদের সম্ভাব্য ক্যানসারের ১৩ লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্বে ৬টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো। শরীরে এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করলে অথবা এসবের যেকোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ ধরতে পারলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
১. মূত্রত্যাগে সমস্যা
আপনি যদি ধারাবাহিকভাবে মূত্রত্যাগে কাঠিন্যতার সম্মুখীন হন অথবা যদি আপনার প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হয় অথবা আপনার যদি আনেক্সপ্লেনড ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা থাকে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এসব প্রস্টেট ক্যানসার বা মূত্রথলি ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. মোশে শাইক বলেন, দুর্ভাগ্যবশত চরম পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত প্রস্টেট ক্যানসারের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ডা. শাইক এমন রোগীদের দেখেন যারা মেডিক্যাল সেবা অনুসন্ধানের আগে ছয়মাস পর্যন্ত এসব উপসর্গ উপেক্ষা করেন। কিন্তু আপনি যত দ্রুত এসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবেন, আপনার জন্য তত ভালো হবে।
২. অণ্ডকোষে পরিবর্তন
নারীদের যেমন তাদের স্তনের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত, ঠিক তেমনি পুরুষদের উচিত হবে তাদের টেস্টিকল বা অণ্ডকোষের প্রতি লক্ষ্য রাখা। ক্যানসার ট্রিটমেন্ট সেন্টার অব আমেরিকার অনকোলজিস্ট বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. মৌরি মার্কম্যানের মতে, ‘একটি বা উভয় অণ্ডকোষের আকারের পরিবর্তন, অণ্ডকোষ স্ফীত হওয়া বা ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ভারী মনে হওয়া অথবা অণ্ডকোষে লাম্প বা পিণ্ড হওয়া- হতে পারে টেস্টিকিউলার ক্যানসার বা অণ্ডকোষ ক্যানসারের উপসর্গ।’ টেস্টিকিউলার ক্যানসার তরুণ এবং মধ্যবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে খুব কমন।
৩. ত্বকে লক্ষণীয় পরিবর্তন
স্কিন ক্যানসার ফাউন্ডেশনের মতে, ‘স্কিন ক্যানসার বা ত্বক ক্যানসারের বিকাশ এবং এ ক্যানসারে মৃত্যু নারীদের চেয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে থাকে। ম্যালানোমা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ হচ্ছে তরুণবয়স্ক এবং ম্যালানোমা জনিত মৃত্যুর ৬০ শতাংশ হয় তরুণবয়স্কদের। কেন? ন্যাশনাল সান প্রোটেকশন অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় পাওয়া যায়, পুরুষরা সূর্যের আলোতে নারীদের তুলনায় বেশি সময় কাটায় এবং তারা সানস্ক্রিন কম ব্যবহার করে; পুরুষদের স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক ও কান ঢাকার জন্য কম চুল থাকে এবং তাদের এই দুই অংশ ক্যানসার হওয়ার প্রবণতাযুক্ত। এছাড়াও গতানুগতিকভাবে পুরুষরা সাধারণত ডাক্তারের কাছে নারীদের চেয়ে কম যায়। তাই তাদের ক্যানসার শুরুতেই ধরা পড়ে না। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির চিফ ক্যানসার কন্ট্রোল অফিসার ডা. রিচ ওয়েন্ডার বলেন, স্কিন ক্যানসারের প্রারম্ভিক সতর্কীকরণ উপসর্গসমূহ খুব সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক লোক ছুলি, আঁচিল বা তিল এবং ডার্কার এজ স্পটকে (বয়সজনিত বা সূর্যালোকজনিত কালো দাগ) স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়।’
আপনি যদি দেখতে পান যে কোনো আঁচিল বা তিল কালো হচ্ছে বা বড় হচ্ছে বা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাহলে তা পরীক্ষা করুন। ডা. ওয়েন্ডার বলেন, মেলানোমার ক্ষেত্রে দাগ অস্বাভাবিক আকৃতির হয়, বিশেষ করে কালো রঙয়ের হয়- এমনকি একই দাগে দুই রকম রঙও হতে পারে। তিনি আরো বলেন, মেলানোমা অন্যান্য স্কিন ক্যানসারের তুলনায় কম কমন, কিন্তু প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি যোগ করেন, অনেক ম্যালানোমা দীর্ঘসময় ধরে থাকে যা আক্রমণাত্মক নয় এবং যত দ্রুত সম্ভব নির্ণয় করতে পারলে সহজে প্রতিরোধ করা যায়।
৪. মুখে ফোঁড়া বা ব্যথা
সেরে যায় প্রকৃতির ফোঁড়া বা ফোস্কা কিংবা ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার পর যে দাঁত ব্যথা সেরে যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদি আপনি ব্যথাযুক্ত ও সেরে যাচ্ছে না এমন ফোঁড়া, মাড়ি বা জিহ্বায় সাদা বা লাল দাগ, চোয়ালের অসাড়তা ও স্ফীতি লক্ষ্য করে থাকেন, তাহলে বুঝবেন যে এসব উপসর্গ সম্ভবত মুখ ক্যানসারের ইঙ্গিত করছে। ডা. মার্কম্যান বলেন, যেসব পুরুষেরা ধূমপান করে বা চুয়িং টোবাকো ব্যবহার করে তাদের মধ্যে মুখ ক্যানসারের বিকাশের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষ নারীদের চেয়ে বেশি ধূমপান করে। ধূমপায়ী এবং চুয়িং টোবাকো ব্যবহারকারীদের দ্রুত সেরে যায় না জাতীয় মুখের ফোঁড়া নিয়ে অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি চিন্তা করা উচিত।’
৫. দীর্ঘস্থায়ী কাশি
যে কাশি অন্যান্য উপসর্গ (যেমন- ঠান্ডা বা অ্যালার্জি) ছাড়া তিন সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লেগে থাকে তা ফুসফুস ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। লিউকেমিয়ার কারণেও ব্রংকাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডা. মার্কম্যান বলেন, যদি কাশি আপনার স্বাভাবিক কাশির চেয়ে ভিন্ন হয় এবং তা যদি লেগেই থাকে অথবা কাশির সঙ্গে রক্ত আসলে তা ফুসফুস ক্যানসারের নির্দেশক হতে পারে। ফুসফুস ক্যানসারের কিছু রোগী বুকের ব্যথা কাঁধ বা বাহুর নিচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।
৬. মলে রক্ত
হেমোরয়েড বা অর্শ অথবা বিনাইন বা বিপজ্জনক নয় এমন কোনো সমস্যার কারণে মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে, কিন্তু এটি কোলন ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে। সাধারণত ৫০ বছর বয়স থেকে রুটিন স্ক্রিনিং শুরু হয়, কিন্তু এ রোগ বর্তমানে অল্প বয়স্কদের ক্ষেত্রেও বেশ কমন- যে কারণে সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ডা. ওয়েন্ডার বলেন, অর্শ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে রক্ত পড়া বন্ধ করা যায় এবং এ সমস্যা আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক লোক (বিশেষ করে অল্পবয়সীরা) নিজেদের আশ্বস্ত করে যে ত্রুটিপূর্ণ কিছু হচ্ছে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগের সময় রক্ত বের হওয়া কখনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, তাই ডাক্তারি পরীক্ষা করুন।
তথ্যসূত্র : রিডার্স জাইজেস্ট
* পড়ুন : পুরুষের ক্যানসারের যে সব লক্ষণ অবহেলা করবেন না (শেষ পর্ব)
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ অক্টোবর ২০১৭/ফিরোজ
পুরুষের স্বাস্থ্যের যে উপসর্গ বিপজ্জনক
এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৮ ১২:৪৭:৫৯ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৫ ১০:২১:৪৯ পিএম
![]() |
এস এম গল্প ইকবাল : জুন হচ্ছে পুরুষ স্বাস্থ্য সচেতনতার মাস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক পুরুষ সেসব মারাত্মক উপসর্গ উপেক্ষা করেন যা উচিত নয়। বিপজ্জনক হতে পারে- পুরুষের স্বাস্থ্যের এমন কিছু উপসর্গ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।
অনবরত চুলকানি: যদি আপনি বেশি চুলকানিপ্রবণ হন, তাহলে তা সম্ভবত ক্ষতিকর কিছু নয় এবং শুষ্ক ত্বক বা কন্টাক্ট ডার্মাইটিস হিসেবে এর চিকিৎসা সহজেই করা যায়। ডা. জাম্পেলা বলেন, বেশি চুলকানি আবার মারাত্মক কোনোকিছুর লক্ষণও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনবরত চুলকানি লিম্ফোমা, মাল্টিপল মায়েলোমা ও এমনকি ডায়াবেটিসেরও লক্ষণ হতে পারে এবং প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।’
মূত্রত্যাগে সমস্যা: যদি আপনার মূত্রত্যাগের সমস্যা লেগে থাকে অথবা প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত আসে কিংবা অপ্রত্যাশিত ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকে, তাহলে জেনে রাখুন এসব প্রোস্টেট ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। কি হয়েছে বা হচ্ছে নির্ণয় করতে চিকিৎসকের কাছে যান।
অণ্ডকোষে লাম্প: ইউরোলজি কেয়ার ফাউন্ডেশন অনুসারে, অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে, অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প বা পিণ্ড- অণ্ডকোষীয় ক্যানসারের সর্বাধিক কমন লক্ষণ। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অণ্ডথলিতে অতিরিক্ত ওজন অনুভব করা, অণ্ডকোষে ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীন ফোলা হওয়া এবং অণ্ডকোষ, অণ্ডথলি বা কুঁচকিতে ব্যথা বা নিস্তেজ ব্যথা হওয়া অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে অপেক্ষা করবেন না, কারণ তাড়াতাড়ি ডায়াগনোসিস সাপেক্ষে অণ্ডকোষীয় ক্যানসার হচ্ছে সর্বাধিক চিকিৎসাযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য ক্যানসার।
অত্যধিক কালশিটে দাগ: যদি আপনি খেয়াল করেন যে সবসময় কালশিটে দাগ উঠছে, বিশেষ করে সেসব স্থানে যেখানে সাধারণত তা ওঠে না, যেমন- আপনার হাত বা আঙুল, তাহলে চিকিৎসক দেখান। অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ লিউকোমিয়ার উপসর্গ হতে পারে। এটি ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ যা পুরুষদের অবহেলা করা উচিত নয়।
এইচপিভি: ডা. জাম্পেলা বলেন, ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) পেনাইল ক্যানসার বা শিশ্ন ক্যানসার ও জেনিটাল ওয়ার্ট সৃষ্টি করতে পারে।’ উপসর্গের মধ্যে জেনিটাল বা এর আশেপাশের ত্বকে ওয়ার্ট ওঠা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, এইচপিভি আছে এমন লোকদের ৫০ শতাংশই এটি সম্পর্কে জানে না, যা তাদের যৌনসঙ্গীকে ঝুঁকিতে রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের টিকা রয়েছে।’
জন্ডিস: ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও মিউকাস মেমব্রেন হলদেটে হলে বোঝা যায় যে জন্ডিস হয়েছে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি হয়ে থাকে। একটি সুস্থ যকৃত রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা হ্রাস করতে বিলিরুবিন বিপাক করে। জন্ডিসের অনেক সম্ভাব্য কারণ রয়েছে, কিন্তু একটি ভীতিপ্রদ খবর হচ্ছে, এটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে, যা আপনার উপেক্ষা করা উচিত নয়।
চোয়ালে ব্যথা: ডা. আপেলবাউম বলেন, ‘বুকে ব্যথা ও চাপ হৃদরোগের সাধারণ উপসর্গ। কিন্তু চোয়াল ও ঘাড় ব্যথা, বাহুর অসাড়তা, মূর্ছা যাওয়ার অনুভূতি ও শ্বাসকষ্ট- বিশেষ করে কাজ করার সময় এসব উপসর্গ দেখা দিলে ও বিশ্রাম নিলে চলে গেলে, তাহলে তাও পুরুষদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।’ হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণও জেনে রাখুন, যাতে হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে কিনা তা বুঝতে পারেন।
পড়ুন : পুরুষের স্বাস্থ্যের যে উপসর্গ বিপজ্জনক (শেষ পর্ব)
আরো পড়ুন :
* পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
* পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
অনবরত চুলকানি: যদি আপনি বেশি চুলকানিপ্রবণ হন, তাহলে তা সম্ভবত ক্ষতিকর কিছু নয় এবং শুষ্ক ত্বক বা কন্টাক্ট ডার্মাইটিস হিসেবে এর চিকিৎসা সহজেই করা যায়। ডা. জাম্পেলা বলেন, বেশি চুলকানি আবার মারাত্মক কোনোকিছুর লক্ষণও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনবরত চুলকানি লিম্ফোমা, মাল্টিপল মায়েলোমা ও এমনকি ডায়াবেটিসেরও লক্ষণ হতে পারে এবং প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।’
মূত্রত্যাগে সমস্যা: যদি আপনার মূত্রত্যাগের সমস্যা লেগে থাকে অথবা প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত আসে কিংবা অপ্রত্যাশিত ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকে, তাহলে জেনে রাখুন এসব প্রোস্টেট ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে। কি হয়েছে বা হচ্ছে নির্ণয় করতে চিকিৎসকের কাছে যান।
অণ্ডকোষে লাম্প: ইউরোলজি কেয়ার ফাউন্ডেশন অনুসারে, অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে, অণ্ডকোষে ব্যথাহীন লাম্প বা পিণ্ড- অণ্ডকোষীয় ক্যানসারের সর্বাধিক কমন লক্ষণ। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অণ্ডথলিতে অতিরিক্ত ওজন অনুভব করা, অণ্ডকোষে ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীন ফোলা হওয়া এবং অণ্ডকোষ, অণ্ডথলি বা কুঁচকিতে ব্যথা বা নিস্তেজ ব্যথা হওয়া অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে অপেক্ষা করবেন না, কারণ তাড়াতাড়ি ডায়াগনোসিস সাপেক্ষে অণ্ডকোষীয় ক্যানসার হচ্ছে সর্বাধিক চিকিৎসাযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য ক্যানসার।
অত্যধিক কালশিটে দাগ: যদি আপনি খেয়াল করেন যে সবসময় কালশিটে দাগ উঠছে, বিশেষ করে সেসব স্থানে যেখানে সাধারণত তা ওঠে না, যেমন- আপনার হাত বা আঙুল, তাহলে চিকিৎসক দেখান। অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ লিউকোমিয়ার উপসর্গ হতে পারে। এটি ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ যা পুরুষদের অবহেলা করা উচিত নয়।
এইচপিভি: ডা. জাম্পেলা বলেন, ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) পেনাইল ক্যানসার বা শিশ্ন ক্যানসার ও জেনিটাল ওয়ার্ট সৃষ্টি করতে পারে।’ উপসর্গের মধ্যে জেনিটাল বা এর আশেপাশের ত্বকে ওয়ার্ট ওঠা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, এইচপিভি আছে এমন লোকদের ৫০ শতাংশই এটি সম্পর্কে জানে না, যা তাদের যৌনসঙ্গীকে ঝুঁকিতে রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের টিকা রয়েছে।’
জন্ডিস: ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও মিউকাস মেমব্রেন হলদেটে হলে বোঝা যায় যে জন্ডিস হয়েছে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি হয়ে থাকে। একটি সুস্থ যকৃত রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা হ্রাস করতে বিলিরুবিন বিপাক করে। জন্ডিসের অনেক সম্ভাব্য কারণ রয়েছে, কিন্তু একটি ভীতিপ্রদ খবর হচ্ছে, এটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে, যা আপনার উপেক্ষা করা উচিত নয়।
চোয়ালে ব্যথা: ডা. আপেলবাউম বলেন, ‘বুকে ব্যথা ও চাপ হৃদরোগের সাধারণ উপসর্গ। কিন্তু চোয়াল ও ঘাড় ব্যথা, বাহুর অসাড়তা, মূর্ছা যাওয়ার অনুভূতি ও শ্বাসকষ্ট- বিশেষ করে কাজ করার সময় এসব উপসর্গ দেখা দিলে ও বিশ্রাম নিলে চলে গেলে, তাহলে তাও পুরুষদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।’ হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণও জেনে রাখুন, যাতে হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে কিনা তা বুঝতে পারেন।
পড়ুন : পুরুষের স্বাস্থ্যের যে উপসর্গ বিপজ্জনক (শেষ পর্ব)
আরো পড়ুন :
* পুরুষের ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
* পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ
* পুরুষ হরমোন সম্পর্কে ৯টি প্রশ্নের উত্তর
* পুরুষের ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স সমস্যা
* পুরুষের স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ জুন ২০১৮/ফিরোজ/তারা

No comments:
Post a Comment