Thursday, May 31, 2018

Shakib Al hasan vs Cricket records info

অসাধারণ ডাবলের সামনে সাকিব

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩১ ৪:৪১:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ৪:৫৮:৫৮ পিএম
সাকিব আল হাসান
ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান ও ৫০০ উইকেটের ডাবল ছোঁয়ার অপেক্ষায় সাকিব আল হাসান।

ব্যাট-বল হাতে সমান তালে পারফর্ম করে এরই মধ্যে সাকিব নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন অনেক রেকর্ড। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার যখনই মাঠে নামেন, তখনই নতুন কিছু তার নামের পাশে যোগ হয়। আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজে সেরকমই এক রেকর্ড হাতছানি দিচ্ছে সাকিবকে।



বর্তমানে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সাকিবের রান ১০ হাজার ৭৪ এবং উইকেট ৪৯৮টি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটি উইকেট পেলেই ১০ হাজার রান ও ৫০০ উইকেট নেওয়ার অভিজাত ক্লাবে ঢুকে যাবেন সাকিব। পাশাপাশি সবচেয়ে দ্রুততম এই ডাবল ছোঁয়ার রেকর্ডও গড়বেন বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ৪২০ ম্যাচে এবং পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ৪৭৭ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান ও ৫০০ উইকেটের ডাবল ছুঁয়েছিলেন। সাকিব ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ২৯৯টি।



১০ হাজারের বেশি রানের সঙ্গে ৫০০ উইকেট চাট্টিখানি কথা নয়। আফগানিস্তান সিরিজেই যে সাকিব চমক দেখাতে যাচ্ছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাকিব-ভক্তরা সেই প্রহরের অপেক্ষায়।


সাকিব আল হাসান
টেস্ট
ওয়ানডে
টি-টোয়েন্টি
রান
উইকেট
রান
উইকেট
রান
উইকেট
৩৫৯৪
১৮৮
৫২৪৩
২৩৫
১২৩৭
৭৫

জ্যাক ক্যালিস
টেস্ট
ওয়ানডে
টি-টোয়েন্টি
রান
উইকেট
রান
উইকেট
রান
উইকেট
১৩২৮৯
২৯২
১১৫৭৯
২৭৩
৬৬৬
১২

শহীদ আফ্রিদি
টেস্ট
ওয়ানডে
টি-টোয়েন্টি
রান
উইকেট
রান
উইকেট
রান
উইকেট
১৭১৬
৪৮
৮০৬৪
৩৯৫
২৩৬২
৯৭



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৮/ইয়াসিন/পরাগ

Famous persons famous habits info

বিখ্যাতদের লেখকদের অদ্ভুত অভ্যাস

মোহাম্মদ আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩০ ৯:৪৮:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ৮:৫১:৫০ এএম
ট্রুম্যান ক্যাপোট
মোহাম্মদ আসিফ : ইংরেজ লেখক হলব্রুক জ্যাকসন বলেছিলেন, ‘আপনার অভ্যাসগুলোর ব্যাপারে সাবধান থাকুন।’ আপনার অভ্যাসগুলো যত ভালো হবে আপনার কাজের ক্ষেত্রে তা ততই সহায়ক হবে। জ্যাকসন মূলত মদ্যপান, মাদকাসক্তিসহ অন্যান্য অপকর্মের প্রতি আলোকপাত করেছিলেন। লেখকদের অভ্যাসের ব্যাপারে তিনি সম্ভবত বেশি সতর্ক ছিলেন।

প্রতিটি লেখকই অভ্যাসের একজন দাস। এমনকি ইতিহাসের পাতায় মুদ্রিত বিখ্যাত সব লেখকদেরও নিজস্ব বিশ্বাস, নীতি, আত্মসম্মান, কুসংস্কার সহ নানাবিধ বিষয় রয়েছে যেগুলো মূলত তারা তাদের লেখনীতে প্রকাশ করে থাকেন। কখনো কখনো তাদের এই অভ্যাসগুলো ধীরস্থির ও শান্ত হলেও মাঝে মাঝেই তাদেরকে এই অভ্যাসের কারণে বিপদে পড়তে হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক লেখকের লেখার অভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছে এবং সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আরো দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি কবি, নাট্যকার, ও স্ক্রিন রাইটার এটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে তাদের সেই অভ্যাসগুলো ছাড়া তারা অগ্রসর হতে পারতেন না।

বিশ্বের খ্যাতিমান কিছু লেখকের অনিয়মিত লেখার রুটিন এ প্রতিবেদন, যেগুলো আসলে তাদের কাজে গতি আনতে সাহায্য করত। দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* লেখার জন্য মায়া অ্যাঞ্জেলো রুম ভাড়া করতেন
মায়া অ্যাঞ্জেলোর কাজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত। এবং সেই সঙ্গে তার লেখার অভ্যাসও ছিল চমকপ্রদ।

অ্যাঞ্জেলো একটি হোটেলের খালি রুমে বসে লিখতেন। লেখার জন্য তিনি হোটেল রুমের প্রতি মাসের জন্য নির্ধারিত ভাড়া চুকিয়েই নিতেন। তিনি তার রুমের বিছানার চাদর পরিবর্তন করতে দিতেন না। এমনকি রুমে কোনো চিত্রকর্মও রাখতেন না। সব সরিয়ে ফেলতে বলতেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভোর ৬ টায় আমি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যেতাম এবং ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হোটেল রুমে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম। লেখার জন্য আমি বিছানায় শুয়ে পড়তাম। এর ফলে আমার এক হাত পুরোপুরি ভাজ থাকতো। আর সেভাবেই আমি আমার কাজ স্বাছন্দে চালিয়ে যেতাম।’

* মোমবাতির আলোতে লিখতেন জ্যাক কেরুক
জ্যাক কেরুকের মতে ‘সেসকল মানুষই আমার পছন্দ যারা তাদের জীবনাচরণে পাগলামি করতে পারে। যারা বেঁচে থাকার জন্য পাগল, কথা বলার জন্য পাগল, যারা পরিত্রাণ পাবার জন্য পাগল, যারা একইসঙ্গে সবকিছু পাওয়ার চিন্তা করে, যারা কখনো কোনো কাজ করতে যেয়ে হাপিয়ে যায় না কিংবা অভিযোগ করে না কিন্তু রোমান সাম্রাজ্যের হলুদ মোমবাতির মতো জ্বলতে থাকে।’

জ্যাক কেরুক মূলত তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘অন দ্য রোড’ এর জন্য সমাদৃত ও বিখ্যাত। ১৯৫০ এর দশকে বিট জেনারেশন এর উদ্ভাবন এর জন্যও তিনি সমাদৃত। তিনি বন্ধুসুলভ হলেও কিছুটা পাগলাটেও ছিলেন। কেরুক মূলত মোমবাতির আলোতে তার লেখালেখির কাজ করতেন। এবং প্রতিবার লেখার আগে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে তার মন মানসিকতার সুস্থিরতা কামনা করে প্রার্থনাও করতেন।

লেখা শেষ হলে তিনি ফুঁ দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে দিতেন আর এর মাধ্যমে তিনি বাকিদের বুঝাতে চাইতেন যে তার লেখা শেষ।

* ভালো লেখার জন্য ড্যান ব্রাউনের কৌশল
ড্যান ব্রাউন তার দ্য লস্টসিম্বল, দ্য ডা ভিঞ্চি কোড এবং অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডেমনস বইগুলোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ড্যান ব্রাউন যখন কোনো উপন্যাস লিখতে ব্যর্থ হতেন তখন তিনি ছাদ থেকে ঝুলে লেখার চেষ্টা করতেন! বড়ই বিচিত্র কর্মকাণ্ড।

ড্যান অনুভব করতেন উল্টো হওয়ার প্রক্রিয়া তাকে লেখতে সাহায্য করতো। লেখক একজোড়া মাধ্যাকর্ষণ শক্তিযুক্ত বুট পরিধান করতেন যেটি তাকে ওপর থেকে নিচের দিকে ঝুঁকে থাকতে সাহায্য করত এবং তিনি বিশ্বাস করতেন তার এই পদ্ধতিই তাকে তার লেখায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করত।

ড্যান ব্রাউন বলেন, ‘আপনাকে শুধু সুস্থির থাকতে হবে এবং এটিকে তার আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। আপনি যত এটির চর্চা করবেন ততই এটি আপনার আয়ত্ত্বে চলে আসবে। এবং এক সময় আপনি এটাকে উপভোগ করবেন।’

* অভিধান প্রেমী অ্যান্থনি বার্জেস 
অ্যান্থনি বার্জেস ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, কবি, নাট্যকার, সুরকার এবং সেই সঙ্গে একটি আইকনিক বই ‘এ ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ’ এর লেখক। লেখার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করার জন্য তিনি ডিকশনারি বা অভিধানের সাহায্যে লিখতেন।

লিখতে লিখতে যখন বার্জেস কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতেন বা যখন বিরক্তিকর কিংবা কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতেন এবং যেগুলোর ব্যাখ্যা করা দরকার হতো তখন তিনি একটি অভিধান খুলতেন। এবং সেখানে ওই শব্দ বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শব্দ ব্যবহার করে লেখার চেষ্টা করতেন।

অভিধানের প্রতি বার্জেসের এক ধরনের অদ্ভুত মোহ কাজ করত। এমনকি তিনি নিজেও একটি অভিধান তৈরি করেছিলেন, যেটি খারাপ শব্দে পরিপূর্ণ ছিল।

* সোফায় শুয়ে লিখতেন ট্রুম্যান ক্যাপোট
লেখক সমাজে এবং সেলিব্রেটি সমাজে সমাদৃত ও সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক ট্রুম্যান ক্যাপোট তার অধিকাংশ সফল লেখা শুয়ে শুয়েই লিখেছেন! তিনি তার সব লেখার খসড়া তৈরি করতেন চা, কফি খেতে খেতে। এমনকি দিন শেষে তা ককটেল পর্যন্ত গড়াতো। নগ্ন হয়ে লেখার অভ্যাসও তার ছিল। তবে সেটা শুধুমাত্র তার বাসার সোফায়।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ মে ২০১৮/ফিরোজ

10 reason to relations development

যে ১০ অভ্যাস সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে

মোহাম্মদ আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৯ ১২:১৮:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ৩:৩৮:৫০ পিএম
প্রতীকী ছবি
মোহাম্মদ আসিফ : সব সম্পর্কের শুরুটা থাকে তীব্র। ভালোবাসা, যত্ন, একজনের প্রতি আরেকজনের দায়িত্ববোধ, সবকিছুই থাকে চাওয়ার থেকে বেশি। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পরে সেই তীব্রতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ভালোবাসা ফ্যাঁকাসে হয়ে যায়। কথায় আছে বয়স হলে প্রেমিকের নীল চোখও ঘোলা হয়ে যায়। কিন্তু বয়স বাড়লেই সম্পর্কের শক্তি কমে যাবে বা সুতোয় টান পড়বে তেমনটা আসলে ঠিক নয়।

বিখ্যাত অনেক বইয়ের লেখক ড. মার্ক গউলস্টন সম্পর্কের আবেগ আকর্ষণ ধরে রাখার কিছু উপায়ের কথা জানিয়েছেন। এসব অভ্যাস আপনার পরিবারকে সাধারণ থেকে আদর্শে পরিণত করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

* একসঙ্গে ঘুমোতে যাওয়া : সম্পর্কের শুরুতে কি আপনার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, যখন আপনি আপনার সঙ্গিনীকে ছাড়া ঘুমোতে যেতে পারতেন না? কিংবা সেই দীর্ঘ প্রতিক্ষা ভালোবাসার মানুষটা কখন কাছে এসে ধরা দিবে? সুখী দম্পতিরা বিয়ের কয়েক বছর পরেও একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাসটিকে ধরে রাখেন। দু’জনের কারো যদি সকালে আগে ঘুম ভেঙ্গেও যায় তারপরেও তারা এই নিয়মে অটল থাকেন।

সাধারণ আগ্রহের বিকাশ : ভালোবাসার সম্পর্ক যখন ফিকে হয়ে আসতে শুরু করে তখন অনেক দম্পতিই ভাবেন তাদের চিন্তা ধারার মধ্যে বা তাদের আগ্রহের মধ্যে মিল খুবই কম। কিন্তু আমাদের কখনই প্রিয়মানুষের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে অবহেলা করা উচিত না। দম্পতিদের মধ্যে সাধারণ আগ্রহ গুরুত্ব পেলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এর পরিমাণ বাড়তে থাকে। এছাড়া, প্রিয়জনের ব্যক্তিগত পছন্দকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। আর এই অভ্যাস আপনাকে আপনার সঙ্গীর কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে।

* সঙ্গীর হাত ধরা : পাশাপাশি হাঁটার সময় সঙ্গীর হাত ধরার সুযোগ কখনোই হারাবেন না। যদি আপনি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকেন বা হাত খালি না থাকে তাহলে আপনার সঙ্গীর পাশাপাশি হাঁটুন। সঙ্গীকে পেছনে রেখে বা তাকে ওভারটেক করে হাঁটলে সঙ্গীর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

* সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং ক্ষমা করার শক্তি বৃদ্ধি করুন : সুখী দম্পতিরা তাদের মধ্যে ঝগড়ার পর কে সত্য বলেছে বা কে মিথ্যা বলেছে সে চিন্তায় না যেয়ে দুজন দুজনকে ক্ষমা করে দেন এবং ঝগড়ার বিষয় ভুলে যান। অবিশ্বাস আর বিরক্তি জন্মালেই সে সম্পর্কে টান পড়বে।

* সঙ্গীর ইতিবাচক গুণাবলীকে প্রাধান্য দিন : আপনি সবসময় দোষ খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু একই সময়ে আপনি সবসময় প্রশংসাজনক কিছুও খুঁজে পেতে পারেন। এটা নির্ভর করে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। সুখী দম্পত্তিরা ইতিবাচক মুহূর্ত দেখতে পছন্দ করেন

* সাক্ষাতে জড়িয়ে ধরুন : ত্বকেরও স্মৃতি থাকে। যখন ভালোবাসার মানুষ একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে তখন ত্বক সেই সংস্পর্শকে ইতিবাচক হিসেবে মনে রাখে, যেটা ত্বকের জীবনীশক্তিকে বৃদ্ধি করে এবং সম্পর্ককে আরো মজবুত করে।

* প্রায়ই ভালোবাসার কথা প্রকাশ করুন : সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, ট্রাফিক জ্যাম, কাজের চাপ সহ্য করার মতো শক্তি ভালোবাসার মধ্যেই রয়েছে। ব্যস্ততার মাঝেও ভালোবাসার মানুষটির কথা ভাবুন অথবা সময় হলে তাকে একটি কল দিয়ে কথা বলুন মন ভালো হয়ে যাবে।

* একে অপরকে শুভরাত্রি জানান : বিশাল ঝগড়ার পরেও একে অপরকে শুভরাত্রি জানান। ঝগড়ার পরেও যদি আপনার সঙ্গী আপনার সঙ্গে রাতে ঘুমাতে চায় তবে বুঝতে হবে দুজনের ভালোবাসার মাঝে এই ঝগড়ার কোনো জায়গা নেই।

* সঙ্গীর দিন কেমন যাচ্ছে সেটা জানুন : আপনার সঙ্গীর দিন কেমন যাচ্ছে সেটা জানার চেষ্টা করুন। সকালে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পর তাকে কল দিয়ে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করুন। উদাহরণস্বরুপ: যদি সে তার কর্মক্ষেত্রে কঠিন সময় পার করে থাকে তাহলে তার বিকেলের মন মানসিকতা কেমন হবে সেটা আপনি বুঝতে পারবেন। সে অবশ্যই বিকেলে আপনার নতুন কেনা জামার ব্যাপারে আগ্রহী থাকবে না।

* সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন : সুখী দম্পতিরা তাদের সাক্ষাতে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে কোনো সংকোচ করেন না। সঙ্গীর হাত ধরা, তার কাঁধে হাত রাখা, সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরা এ কাজে সুখী দম্পতিরা আশেপাশে কারো কথা ভাবেন না। বরং দুজন একসঙ্গে কতটা পরিপূর্ণ সেটাই প্রকাশ করতে ভালোবাসেন।

তথ্যসূত্র : লিফটার




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ মে ২০১৮/ফিরোজ  

Ifter Old Dhaka

ইফতারে চমক ‘বড় বাপের পোলায় খায়’

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩১ ৩:২৬:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ৪:৫৯:১২ পিএম
ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাজধানীর চকবাজারে ইফতারে থাকে ভোজনবিলাসীদের জন্য অন্য রকম আয়োজন। শাহী পরোটা থেকে শুরু করে গামলা আকারের বিশাল জিলাপি, আস্ত খাসির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, কয়েলের রোস্ট, ডিমের চপসহ নানা ইফতারি আইটেম। বিশেষ ইফতারি আইটেমের মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘বড় বাপের পোলায় খায়’।

এটি চকবাজারের সব আইটেম থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এক ডজনেরও বেশি মশলার সঙ্গে আরো এক ডজন আইটেমের বিভিন্ন মাংস ও কাবাবের সঙ্গে ডাল চিড়া ও ভাজা চিড়ার সমন্বয়ে তৈরি খাবারটি পুরান ঢাকার মানুষের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।

রাজধানীর চকবাজার এলাকায় ‘বাবা মাকুসা‘ নামে তিনটি ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে মোহাম্মদ হোসেন মহাজন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ইফতার আইটেম বিক্রি করেন। হোসেন মহাজন জানান, ‘আমাদের বাপ-দাদারা ইফতারের এ আইটেমটা ‘শেখ চূড়া কি ভর্তা’ নামে বিক্রি করতেন। ডাল চিড়া, ভাজা চিড়া, খাসির কাবাব, খাসির রানের মাংস, খাসির মগজ, খাসির কলিজা, মুরগির মাংস, হাসের মাংস, ডিম, আলুভাজি ও ঘি’র সঙ্গে ১২ প্রকারের মসলা মিশিয়ে এটি তৈরি হতো। ওই সময় খাবারটি কাঁঠাল পাতায় বিক্রি হতো। গরিব-মিসকিনরা এ খাবারের সুঘ্রাণ শুকে একে-অপরকে বলতো, ‘ওই দেখ, বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়’।

বাবুর্চি মোহাম্মদ ইমরান জানান, আগের যুগে রাজা বাদশারা ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ খেতেন। এখন সাধারণ মানুষেরা খায়। এই বিশেষ খাবার একমাত্র চকবাজারেই পাওয়া যায়। প্রতি কেজির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে বৃটিশ আমলে যা এক আনা/দুই আনা দরে বিক্রি হতো বলে জানান ইমরান।

তিন পুরুষ ধরে চকবাজারে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি করেন হাজি শহিদ। তিনি জানান, শুধু বিখ্যাত খাবার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কেনার জন্য প্রতিদিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বহু মানুষ ভিড় করেন চকবাজারে। প্রতিদিন তার দোকানে ২০ হাজার টাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।

পুরান ঢাকার আর্মিটোলা থেকে চকে ইফতার কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী শামীম হোসেন। তিনি আধা কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কিনেছেন। শামীম রাইজিংবিডিকে জানান, এই খাবার আইটেম শুধু রমজানে পাওয়া যায়। খেতে দারুন স্বাদের হওয়ায় তিনি রমজান এলেই সব সময় কিনেন। আধা কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ অনায়াসে পরিবারের চার পাঁচজন খেতে পারবেন।

** যেভাবে এলো বড় বাপের পোলায় খায়
** ঘরেই তৈরি করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’





রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৮/ফিরোজ

ঘরেই তৈরি করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৩ ১:০৮:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৪ ৩:০৪:৪৩ পিএম
হোসাইন মোহাম্মদ সাগর: বাঙালির ইফতারে প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্য পুরনো ঢাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। ১৫ রকমের পদ আর ১৬ রকমের মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার ছাড়া যেন ইফতার জমে না পুরনো ঢাকার বাসিন্দাদের। শুধু এই এলাকা নয়, খাবারটির প্রতি আগ্রহ রয়েছে দেশবাসীর। মিডিয়ার কল্যাণে খাবারটির নাম অনেকেই জেনেছেন। তবে এই খাবার তৈরির রেসিপি মুষ্টিমেয় কয়েকজন খাদ্য ব্যবসায়ী ছাড়া তেমন কেউ জানেন না। এই প্রতিনিধির সঙ্গে যাদের কথা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। কিন্তু আমরা চাচ্ছিলাম, রাইজিংবিডির পাঠকদের কাছে মজাদার এই খাবার তৈরির রেসিপি তুলে ধরতে। নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে সেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তুলে ধরা হলো ঘরোয়া পরিবেশে জনপ্রিয় এই খাবার তৈরির প্রক্রিয়া।

ব্যবসার স্বার্থে কিছু পদ এবং মসলা এখানে উহ্য রাখা হয়েছে। খাবারটির মূল স্বাদ গ্রহণ করতে হলে আপনাকে তাই যেতে হবে পুরনো ঢাকার চকবাজার। তবে ঘরোয়া পরিবেশে উল্লেখিত উপকরণগুলোই যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন চকবাজারের ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ তৈরির কারিগরেরা। 

উপকরণ: বুটের ডাল সিদ্ধ ২০০ গ্রাম, খেসারীর ডাল সিদ্ধ ১৫০ গ্রাম, ডিম সিদ্ধ ২টি, গরুর মগজ ভাজি ১০০/১৫০ গ্রাম, আলু সিদ্ধ মাঝারি সাইজের দুইটি, গরুর কলিজা ভুনা ১০০/১৫০ গ্রাম, ছোট সাইজের ১টি মুরগির রোস্টের মাংসের কুচি, মুরগির গিলা কলিজা ৭০/১২০ গ্রাম, সুতি কাবাব ২টি, মাংসের কিমা মাঝারি সাইজের ২টি, চিড়া ভাজা ১০০ গ্রাম, ডাবলি পরিমাণ মতো, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া কুচি এক কাপ, মিহির দানা পরিমাণ মতো।

মসলা: কাঁচা মরিচ কুচি আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, শুকনো মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, শুকনা আদা কুচি এক টেবিল চামচ, পেঁয়াজ (বেরেশতা) পরিমাণ মতো, লবঙ্গ গুঁড়া আধা চা-চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, দারুচিনি পরিমাণ মতো, জয়ফল ১টি, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, কালি জিরা বড় টেবিল চামচের এক চা-চামচ, ঘি আধা কাপ, সরিষার তেল আধা কাপ।

প্রণালি: প্রথমে ডিম সিদ্ধ, আলু, গরুর মগজ, কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা ভালোভাবে একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এরপর ডাল, রোস্টের মাংস কুচি, চিড়া ভাজা, ডাবলি এবং মিষ্টি কুমড়ারর কুচিগুলো একত্রিত করে আগের মিশ্রণটির সঙ্গে যুক্ত করুণ। সবগুলো মসলা পরিমাণ মতো দিয়ে দু’হাতে ভালো করে মাখিয়ে নিন সবগুলো উপকরণ। ব্যাস, ইফতারের প্লেটে এবার পরিবেশন করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। তবে হ্যাঁ, আপনি কতটুকু তৈরি করবেন তার ওপর উপকরণ এবং মসলার পরিমাণ নির্ভর করবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জুন ২০১৭/তারা

যেভাবে এলো বড় বাপের পোলায় খায়

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-৩১ ২:০২:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৫ ১১:৪৭:২৬ এএম
হোসাইন মোহাম্মদ সাগর: পুরান ঢাকার চকবাজার। বিকেল তিনটা থেকে শুরু করে ইফতারের সময় পর্যন্ত এখানকার ইফতার-বাজারে সবচেয়ে বেশি যে বাক্যটি শোনা যায় তা হলো: বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়। ইতিমধ্যে অনেকেই জেনে গেছেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি খাবারের নাম। ইফতারে এই খাবার বেশ জনপ্রিয়।

রোস্ট, ডাবলি, মিহির দানাসহ ১৫ রকমের পদ আর ১৬ রকমের মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি ছাড়া ইফতার জমে না পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের। খাবারের বাহারি আয়োজন দেখলেই যেন জিহ্বায় পানি আসে। আর ঘ্রাণ? সে তো অর্ধেক ভোজনের সমান।  তাই তো ঢাকাবাসীর কাছে পুরান ঢাকার চকবাজারের এই ইফতারের চাহিদা অন্যরকম।

বড় বাপ, দাদা, বাবা থেকে চার পুরুষ ধরে রমজানে চকবাজারে ইফতার বিক্রি করছেন মোহাম্মদ হোসেন। তিনি জানান, পাকিস্তান আমলে তার বাপ-দাদা বিক্রি করতেন ঐতিহ্যবাহী ইফতারি শেখ চুরা ভর্তা। ধীরে ধীরে খাবারটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই খাবারের নাম বদলে যায়। যদিও এর কারণ এখন আর জানা যায় না। এরপর খাবারটির নতুন নাম হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এখানেই নামটি সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় বিক্রেতাদের মুখে মুখে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বাক্য: ‘ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’। চকবাজারে গেলে বিক্রেতাদের এই কোরাস আপনাকে মুগ্ধ করবে!  
 

অপর ব্যবসায়ী মুনছুর আলী জানান, যার হাত দিয়ে এই খাবারের উৎপত্তি, তিনি হলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা দাতা মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ। তিনি বরাবরই ভোজনরসিক ছিলেন। নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করতে জানতেন। এই খাবারটিও তারই সৃষ্টি। প্রায় ৮০ বছর আগে তিনিই প্রথম এই খাবার তৈরি করে চকবাজারে বিক্রি শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান।

ইতিহাস যাই হোক না কেন, মোগল আমলের ঐতিহ্যের ছাপ ও ছোঁয়ার এসব ইফতারি কালক্রমে ঢাকার সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও এখনো পুরান ঢাকার ইফতারের ঐতিহ্য কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। শুধু ঐতিহ্য নয়, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাহারি আয়োজন। ফলে খানদানি ইফতারি মানেই পুরান ঢাকার ইফতার সামগ্রী। সুদূর উত্তরা থেকে চকবাজারে ইফতার কিনতে এসেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীমুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছরই রমজানে এখানে ইফতার নিতে আসি। পুরান ঢাকার এই ইফতারে আলাদা একটা মজা আছে। আজ এসেছি মূলত ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নেওয়ার জন্য।

চকবাজারে এই আইটেম ছাড়াও রয়েছে আরো শত রকমের ইফতার সামগ্রী। এর মধ্যে বেগুনি, সবজি, পিঁয়াজু, পাকোড়া, আলুর চপ ৫ টাকা করে এবং ডিমের চপ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির রোস্টের দাম ছোট-বড় ২২০ থেকে ৩০০ টাকা। কবুতরের রোস্ট ১৫০, কোয়েলের রোস্ট ৬০ টাকা, গরুর কাবাব ৬০০-৭০০, খাসির কাবাব ৮০০-৯০০ এবং সুতি কাবাব ৪০০-৫০০ টাকা। এর বাইরে সবজির কাঠি কাবাব প্রতিটি ২০ থেকে ৩০, গরুর কাঠি কাবাব ৪০ থেকে ৫০ এবং মুরগির কাঠি কাবাব ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির পায়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

চকবাজারের শাহী পরোটাও উল্লেখ করার মতো। সাধারণ শাহী পরোটা প্রতিটি ২৫ টাকা, ঝাল শাহী পরোটা ৩০, মুরগির মাংসের শাহী পরোটা ৪০, গরুর মাংসের শাহী পরোটা ৫০ ও খাসির পরোটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
 

রসালো খাবারের মধ্যে প্রতি কেজি দইবড়া ১০০ টাকা, দুধের পনির ৫০০, বোরহানি ১০০, পেস্তা শরবত ২০০ এবং মাঠা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়। রয়েছে আচারের হরেক বাহার। প্রতি ১০০ গ্রাম প্যাকেটের আম, চালতা ও ত্রি-ফলার মোরব্বা ২০ এবং একই ওজনের বরই, তেঁতুল, জলপাইয়ের আচারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শাহী জিলাপি ১৬০ থেকে ২৫০ ও খেজুর ৪০০ টাকা।

মুরগির মাংস ভাজা বড় টুকরো ৮০, মাঝারি ৬০, ছোট টুকরো ৪০ টাকায় এবং গরুর মাংস ভাজা বড় ৬০ ও ছোট টুকরা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফালুদা বড় ২০০ ও ছোট ১০০ টাকা, ফিন্নি বড় ১০০ ও ছোট কাপ ৫০ টাকা। লাবাং বড় ও ছোট বোতল ২০০ ও ১০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ও পদের ইফতারি এবং ফলমূলের পসরাও রয়েছে চকবাজারের ইফতার বাজারে।

সত্যি বলতে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ পুরান ঢাকার ইফতারে ব্যতিক্রম এক আয়োজন। এর স্বাদ নিতে আপনাকে চকবাজারে আসতে হবে। নিশ্চিত করে বলছি, আপনার পয়সা বিফলে যাবে না। ৮০ বছরের ঐতিহ্য এমনি তো আর নয়!




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৭/তারা

Stay will moon tourism destination info

চাঁদে উপনিবেশ গড়তে যাচ্ছেন জেফ বেজোস

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩১ ২:৫৮:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ২:৫৮:১৪ পিএম
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, প্রযুক্তি দুনিয়ার দুই মহারথীর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলছে। কারণ একদিকে স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৪ সালের মধ্যেই তারা মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে। আর অন্যদিকে এবার অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজোস ঘোষণা দিয়েছেন, চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসের স্পেস ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সে গিকওয়ার এর অ্যালান বয়েলের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বেজোস।

বেজোসের একটি বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এই পরিকল্পনার পিছনে যে, ভবিষ্যতে আমাদের কেন স্থায়ী বসতি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে। তার মতে, ভারী শিল্পের জন্য পৃথিবী খুব একটা ভালো জায়গা নয়।

তিনি বলেন, ‘এটি (পৃথিবীতে ভারী শিল্প স্থাপন) বর্তমানে আমাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও, দূরবর্তী ভবিষ্যতে, কয়েক দশক পর, হয়তো ১০০ বছর পর- চাঁদে এটি করা আরো সহজ হবে যেমনটা আমরা বর্তমানে এই পৃথিবীতে করছি।’

বেজোসের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই সৌরজগতের সোলার সিস্টেমের বাইরে সোলার-চালিত স্পেস আউটপোস্টগুলোতে লাখ লাখ লোক বসবাস করবে এবং কাজ করবে। এই পৃথিবীর বাইরে বসবাসের স্থান হিসেবে চাঁদকে বেছে নেওয়ার পিছনে তার যুক্তি হলো এটি আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং এতে প্রচুর সূর্যালোক রয়েছে এবং বরফের আস্তরণ রয়েছে।

চাঁদে মানুষ পাঠাতে, বেজোস নাসার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্লু মুন লুনার ল্যাণ্ডার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বেজোস জানান, এমনকি নাসা যদি অংশীদারিত্বে আসতে রাজি নাও হয় বেজোসের ব্লু অরিজিন সংস্থাটি স্পেসএক্স বা ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির মতো অন্য কোনো এজেন্সিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।

তথ্যসূত্র : ম্যাশঅ্যাবল




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৮/ফিরোজ