Thursday, May 31, 2018

Famous persons famous habits info

বিখ্যাতদের লেখকদের অদ্ভুত অভ্যাস

মোহাম্মদ আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩০ ৯:৪৮:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ৮:৫১:৫০ এএম
ট্রুম্যান ক্যাপোট
মোহাম্মদ আসিফ : ইংরেজ লেখক হলব্রুক জ্যাকসন বলেছিলেন, ‘আপনার অভ্যাসগুলোর ব্যাপারে সাবধান থাকুন।’ আপনার অভ্যাসগুলো যত ভালো হবে আপনার কাজের ক্ষেত্রে তা ততই সহায়ক হবে। জ্যাকসন মূলত মদ্যপান, মাদকাসক্তিসহ অন্যান্য অপকর্মের প্রতি আলোকপাত করেছিলেন। লেখকদের অভ্যাসের ব্যাপারে তিনি সম্ভবত বেশি সতর্ক ছিলেন।

প্রতিটি লেখকই অভ্যাসের একজন দাস। এমনকি ইতিহাসের পাতায় মুদ্রিত বিখ্যাত সব লেখকদেরও নিজস্ব বিশ্বাস, নীতি, আত্মসম্মান, কুসংস্কার সহ নানাবিধ বিষয় রয়েছে যেগুলো মূলত তারা তাদের লেখনীতে প্রকাশ করে থাকেন। কখনো কখনো তাদের এই অভ্যাসগুলো ধীরস্থির ও শান্ত হলেও মাঝে মাঝেই তাদেরকে এই অভ্যাসের কারণে বিপদে পড়তে হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক লেখকের লেখার অভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছে এবং সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আরো দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি কবি, নাট্যকার, ও স্ক্রিন রাইটার এটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে তাদের সেই অভ্যাসগুলো ছাড়া তারা অগ্রসর হতে পারতেন না।

বিশ্বের খ্যাতিমান কিছু লেখকের অনিয়মিত লেখার রুটিন এ প্রতিবেদন, যেগুলো আসলে তাদের কাজে গতি আনতে সাহায্য করত। দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* লেখার জন্য মায়া অ্যাঞ্জেলো রুম ভাড়া করতেন
মায়া অ্যাঞ্জেলোর কাজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত। এবং সেই সঙ্গে তার লেখার অভ্যাসও ছিল চমকপ্রদ।

অ্যাঞ্জেলো একটি হোটেলের খালি রুমে বসে লিখতেন। লেখার জন্য তিনি হোটেল রুমের প্রতি মাসের জন্য নির্ধারিত ভাড়া চুকিয়েই নিতেন। তিনি তার রুমের বিছানার চাদর পরিবর্তন করতে দিতেন না। এমনকি রুমে কোনো চিত্রকর্মও রাখতেন না। সব সরিয়ে ফেলতে বলতেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভোর ৬ টায় আমি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যেতাম এবং ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হোটেল রুমে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম। লেখার জন্য আমি বিছানায় শুয়ে পড়তাম। এর ফলে আমার এক হাত পুরোপুরি ভাজ থাকতো। আর সেভাবেই আমি আমার কাজ স্বাছন্দে চালিয়ে যেতাম।’

* মোমবাতির আলোতে লিখতেন জ্যাক কেরুক
জ্যাক কেরুকের মতে ‘সেসকল মানুষই আমার পছন্দ যারা তাদের জীবনাচরণে পাগলামি করতে পারে। যারা বেঁচে থাকার জন্য পাগল, কথা বলার জন্য পাগল, যারা পরিত্রাণ পাবার জন্য পাগল, যারা একইসঙ্গে সবকিছু পাওয়ার চিন্তা করে, যারা কখনো কোনো কাজ করতে যেয়ে হাপিয়ে যায় না কিংবা অভিযোগ করে না কিন্তু রোমান সাম্রাজ্যের হলুদ মোমবাতির মতো জ্বলতে থাকে।’

জ্যাক কেরুক মূলত তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘অন দ্য রোড’ এর জন্য সমাদৃত ও বিখ্যাত। ১৯৫০ এর দশকে বিট জেনারেশন এর উদ্ভাবন এর জন্যও তিনি সমাদৃত। তিনি বন্ধুসুলভ হলেও কিছুটা পাগলাটেও ছিলেন। কেরুক মূলত মোমবাতির আলোতে তার লেখালেখির কাজ করতেন। এবং প্রতিবার লেখার আগে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে তার মন মানসিকতার সুস্থিরতা কামনা করে প্রার্থনাও করতেন।

লেখা শেষ হলে তিনি ফুঁ দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে দিতেন আর এর মাধ্যমে তিনি বাকিদের বুঝাতে চাইতেন যে তার লেখা শেষ।

* ভালো লেখার জন্য ড্যান ব্রাউনের কৌশল
ড্যান ব্রাউন তার দ্য লস্টসিম্বল, দ্য ডা ভিঞ্চি কোড এবং অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডেমনস বইগুলোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ড্যান ব্রাউন যখন কোনো উপন্যাস লিখতে ব্যর্থ হতেন তখন তিনি ছাদ থেকে ঝুলে লেখার চেষ্টা করতেন! বড়ই বিচিত্র কর্মকাণ্ড।

ড্যান অনুভব করতেন উল্টো হওয়ার প্রক্রিয়া তাকে লেখতে সাহায্য করতো। লেখক একজোড়া মাধ্যাকর্ষণ শক্তিযুক্ত বুট পরিধান করতেন যেটি তাকে ওপর থেকে নিচের দিকে ঝুঁকে থাকতে সাহায্য করত এবং তিনি বিশ্বাস করতেন তার এই পদ্ধতিই তাকে তার লেখায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করত।

ড্যান ব্রাউন বলেন, ‘আপনাকে শুধু সুস্থির থাকতে হবে এবং এটিকে তার আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। আপনি যত এটির চর্চা করবেন ততই এটি আপনার আয়ত্ত্বে চলে আসবে। এবং এক সময় আপনি এটাকে উপভোগ করবেন।’

* অভিধান প্রেমী অ্যান্থনি বার্জেস 
অ্যান্থনি বার্জেস ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, কবি, নাট্যকার, সুরকার এবং সেই সঙ্গে একটি আইকনিক বই ‘এ ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ’ এর লেখক। লেখার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করার জন্য তিনি ডিকশনারি বা অভিধানের সাহায্যে লিখতেন।

লিখতে লিখতে যখন বার্জেস কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতেন বা যখন বিরক্তিকর কিংবা কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতেন এবং যেগুলোর ব্যাখ্যা করা দরকার হতো তখন তিনি একটি অভিধান খুলতেন। এবং সেখানে ওই শব্দ বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শব্দ ব্যবহার করে লেখার চেষ্টা করতেন।

অভিধানের প্রতি বার্জেসের এক ধরনের অদ্ভুত মোহ কাজ করত। এমনকি তিনি নিজেও একটি অভিধান তৈরি করেছিলেন, যেটি খারাপ শব্দে পরিপূর্ণ ছিল।

* সোফায় শুয়ে লিখতেন ট্রুম্যান ক্যাপোট
লেখক সমাজে এবং সেলিব্রেটি সমাজে সমাদৃত ও সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক ট্রুম্যান ক্যাপোট তার অধিকাংশ সফল লেখা শুয়ে শুয়েই লিখেছেন! তিনি তার সব লেখার খসড়া তৈরি করতেন চা, কফি খেতে খেতে। এমনকি দিন শেষে তা ককটেল পর্যন্ত গড়াতো। নগ্ন হয়ে লেখার অভ্যাসও তার ছিল। তবে সেটা শুধুমাত্র তার বাসার সোফায়।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ মে ২০১৮/ফিরোজ

No comments:

Post a Comment