ইফতারে চমক ‘বড় বাপের পোলায় খায়’
ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩১ ৩:২৬:২৪ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৫-৩১ ৪:৫৯:১২ পিএম
![]() |
ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাজধানীর চকবাজারে ইফতারে থাকে ভোজনবিলাসীদের জন্য অন্য রকম আয়োজন। শাহী পরোটা থেকে শুরু করে গামলা আকারের বিশাল জিলাপি, আস্ত খাসির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, কয়েলের রোস্ট, ডিমের চপসহ নানা ইফতারি আইটেম। বিশেষ ইফতারি আইটেমের মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘বড় বাপের পোলায় খায়’।
এটি চকবাজারের সব আইটেম থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এক ডজনেরও বেশি মশলার সঙ্গে আরো এক ডজন আইটেমের বিভিন্ন মাংস ও কাবাবের সঙ্গে ডাল চিড়া ও ভাজা চিড়ার সমন্বয়ে তৈরি খাবারটি পুরান ঢাকার মানুষের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।
রাজধানীর চকবাজার এলাকায় ‘বাবা মাকুসা‘ নামে তিনটি ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে মোহাম্মদ হোসেন মহাজন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ইফতার আইটেম বিক্রি করেন। হোসেন মহাজন জানান, ‘আমাদের বাপ-দাদারা ইফতারের এ আইটেমটা ‘শেখ চূড়া কি ভর্তা’ নামে বিক্রি করতেন। ডাল চিড়া, ভাজা চিড়া, খাসির কাবাব, খাসির রানের মাংস, খাসির মগজ, খাসির কলিজা, মুরগির মাংস, হাসের মাংস, ডিম, আলুভাজি ও ঘি’র সঙ্গে ১২ প্রকারের মসলা মিশিয়ে এটি তৈরি হতো। ওই সময় খাবারটি কাঁঠাল পাতায় বিক্রি হতো। গরিব-মিসকিনরা এ খাবারের সুঘ্রাণ শুকে একে-অপরকে বলতো, ‘ওই দেখ, বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়’।
বাবুর্চি মোহাম্মদ ইমরান জানান, আগের যুগে রাজা বাদশারা ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ খেতেন। এখন সাধারণ মানুষেরা খায়। এই বিশেষ খাবার একমাত্র চকবাজারেই পাওয়া যায়। প্রতি কেজির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে বৃটিশ আমলে যা এক আনা/দুই আনা দরে বিক্রি হতো বলে জানান ইমরান।
তিন পুরুষ ধরে চকবাজারে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি করেন হাজি শহিদ। তিনি জানান, শুধু বিখ্যাত খাবার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কেনার জন্য প্রতিদিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বহু মানুষ ভিড় করেন চকবাজারে। প্রতিদিন তার দোকানে ২০ হাজার টাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।
পুরান ঢাকার আর্মিটোলা থেকে চকে ইফতার কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী শামীম হোসেন। তিনি আধা কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কিনেছেন। শামীম রাইজিংবিডিকে জানান, এই খাবার আইটেম শুধু রমজানে পাওয়া যায়। খেতে দারুন স্বাদের হওয়ায় তিনি রমজান এলেই সব সময় কিনেন। আধা কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ অনায়াসে পরিবারের চার পাঁচজন খেতে পারবেন।
** যেভাবে এলো বড় বাপের পোলায় খায়
** ঘরেই তৈরি করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৮/ফিরোজ
এটি চকবাজারের সব আইটেম থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এক ডজনেরও বেশি মশলার সঙ্গে আরো এক ডজন আইটেমের বিভিন্ন মাংস ও কাবাবের সঙ্গে ডাল চিড়া ও ভাজা চিড়ার সমন্বয়ে তৈরি খাবারটি পুরান ঢাকার মানুষের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়।
রাজধানীর চকবাজার এলাকায় ‘বাবা মাকুসা‘ নামে তিনটি ভ্রাম্যমাণ দোকান দিয়ে মোহাম্মদ হোসেন মহাজন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ইফতার আইটেম বিক্রি করেন। হোসেন মহাজন জানান, ‘আমাদের বাপ-দাদারা ইফতারের এ আইটেমটা ‘শেখ চূড়া কি ভর্তা’ নামে বিক্রি করতেন। ডাল চিড়া, ভাজা চিড়া, খাসির কাবাব, খাসির রানের মাংস, খাসির মগজ, খাসির কলিজা, মুরগির মাংস, হাসের মাংস, ডিম, আলুভাজি ও ঘি’র সঙ্গে ১২ প্রকারের মসলা মিশিয়ে এটি তৈরি হতো। ওই সময় খাবারটি কাঁঠাল পাতায় বিক্রি হতো। গরিব-মিসকিনরা এ খাবারের সুঘ্রাণ শুকে একে-অপরকে বলতো, ‘ওই দেখ, বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়’।
বাবুর্চি মোহাম্মদ ইমরান জানান, আগের যুগে রাজা বাদশারা ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ খেতেন। এখন সাধারণ মানুষেরা খায়। এই বিশেষ খাবার একমাত্র চকবাজারেই পাওয়া যায়। প্রতি কেজির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে বৃটিশ আমলে যা এক আনা/দুই আনা দরে বিক্রি হতো বলে জানান ইমরান।
তিন পুরুষ ধরে চকবাজারে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি করেন হাজি শহিদ। তিনি জানান, শুধু বিখ্যাত খাবার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কেনার জন্য প্রতিদিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বহু মানুষ ভিড় করেন চকবাজারে। প্রতিদিন তার দোকানে ২০ হাজার টাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।
পুরান ঢাকার আর্মিটোলা থেকে চকে ইফতার কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী শামীম হোসেন। তিনি আধা কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ কিনেছেন। শামীম রাইজিংবিডিকে জানান, এই খাবার আইটেম শুধু রমজানে পাওয়া যায়। খেতে দারুন স্বাদের হওয়ায় তিনি রমজান এলেই সব সময় কিনেন। আধা কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ অনায়াসে পরিবারের চার পাঁচজন খেতে পারবেন।
** যেভাবে এলো বড় বাপের পোলায় খায়
** ঘরেই তৈরি করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৮/ফিরোজ
ঘরেই তৈরি করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’
হোসাইন মোহাম্মদ সাগর : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৩ ১:০৮:২৮ পিএম || আপডেট: ২০১৭-০৬-২৪ ৩:০৪:৪৩ পিএম
![]() |
হোসাইন মোহাম্মদ সাগর: বাঙালির ইফতারে প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্য পুরনো ঢাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। ১৫ রকমের পদ আর ১৬ রকমের মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার ছাড়া যেন ইফতার জমে না পুরনো ঢাকার বাসিন্দাদের। শুধু এই এলাকা নয়, খাবারটির প্রতি আগ্রহ রয়েছে দেশবাসীর। মিডিয়ার কল্যাণে খাবারটির নাম অনেকেই জেনেছেন। তবে এই খাবার তৈরির রেসিপি মুষ্টিমেয় কয়েকজন খাদ্য ব্যবসায়ী ছাড়া তেমন কেউ জানেন না। এই প্রতিনিধির সঙ্গে যাদের কথা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। কিন্তু আমরা চাচ্ছিলাম, রাইজিংবিডির পাঠকদের কাছে মজাদার এই খাবার তৈরির রেসিপি তুলে ধরতে। নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে সেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তুলে ধরা হলো ঘরোয়া পরিবেশে জনপ্রিয় এই খাবার তৈরির প্রক্রিয়া।
ব্যবসার স্বার্থে কিছু পদ এবং মসলা এখানে উহ্য রাখা হয়েছে। খাবারটির মূল স্বাদ গ্রহণ করতে হলে আপনাকে তাই যেতে হবে পুরনো ঢাকার চকবাজার। তবে ঘরোয়া পরিবেশে উল্লেখিত উপকরণগুলোই যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন চকবাজারের ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ তৈরির কারিগরেরা।
উপকরণ: বুটের ডাল সিদ্ধ ২০০ গ্রাম, খেসারীর ডাল সিদ্ধ ১৫০ গ্রাম, ডিম সিদ্ধ ২টি, গরুর মগজ ভাজি ১০০/১৫০ গ্রাম, আলু সিদ্ধ মাঝারি সাইজের দুইটি, গরুর কলিজা ভুনা ১০০/১৫০ গ্রাম, ছোট সাইজের ১টি মুরগির রোস্টের মাংসের কুচি, মুরগির গিলা কলিজা ৭০/১২০ গ্রাম, সুতি কাবাব ২টি, মাংসের কিমা মাঝারি সাইজের ২টি, চিড়া ভাজা ১০০ গ্রাম, ডাবলি পরিমাণ মতো, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া কুচি এক কাপ, মিহির দানা পরিমাণ মতো।
মসলা: কাঁচা মরিচ কুচি আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, শুকনো মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, শুকনা আদা কুচি এক টেবিল চামচ, পেঁয়াজ (বেরেশতা) পরিমাণ মতো, লবঙ্গ গুঁড়া আধা চা-চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, দারুচিনি পরিমাণ মতো, জয়ফল ১টি, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, কালি জিরা বড় টেবিল চামচের এক চা-চামচ, ঘি আধা কাপ, সরিষার তেল আধা কাপ।
প্রণালি: প্রথমে ডিম সিদ্ধ, আলু, গরুর মগজ, কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা ভালোভাবে একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এরপর ডাল, রোস্টের মাংস কুচি, চিড়া ভাজা, ডাবলি এবং মিষ্টি কুমড়ারর কুচিগুলো একত্রিত করে আগের মিশ্রণটির সঙ্গে যুক্ত করুণ। সবগুলো মসলা পরিমাণ মতো দিয়ে দু’হাতে ভালো করে মাখিয়ে নিন সবগুলো উপকরণ। ব্যাস, ইফতারের প্লেটে এবার পরিবেশন করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। তবে হ্যাঁ, আপনি কতটুকু তৈরি করবেন তার ওপর উপকরণ এবং মসলার পরিমাণ নির্ভর করবে।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জুন ২০১৭/তারা
ব্যবসার স্বার্থে কিছু পদ এবং মসলা এখানে উহ্য রাখা হয়েছে। খাবারটির মূল স্বাদ গ্রহণ করতে হলে আপনাকে তাই যেতে হবে পুরনো ঢাকার চকবাজার। তবে ঘরোয়া পরিবেশে উল্লেখিত উপকরণগুলোই যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন চকবাজারের ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ তৈরির কারিগরেরা।
উপকরণ: বুটের ডাল সিদ্ধ ২০০ গ্রাম, খেসারীর ডাল সিদ্ধ ১৫০ গ্রাম, ডিম সিদ্ধ ২টি, গরুর মগজ ভাজি ১০০/১৫০ গ্রাম, আলু সিদ্ধ মাঝারি সাইজের দুইটি, গরুর কলিজা ভুনা ১০০/১৫০ গ্রাম, ছোট সাইজের ১টি মুরগির রোস্টের মাংসের কুচি, মুরগির গিলা কলিজা ৭০/১২০ গ্রাম, সুতি কাবাব ২টি, মাংসের কিমা মাঝারি সাইজের ২টি, চিড়া ভাজা ১০০ গ্রাম, ডাবলি পরিমাণ মতো, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া কুচি এক কাপ, মিহির দানা পরিমাণ মতো।
মসলা: কাঁচা মরিচ কুচি আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, শুকনো মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, শুকনা আদা কুচি এক টেবিল চামচ, পেঁয়াজ (বেরেশতা) পরিমাণ মতো, লবঙ্গ গুঁড়া আধা চা-চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, দারুচিনি পরিমাণ মতো, জয়ফল ১টি, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, কালি জিরা বড় টেবিল চামচের এক চা-চামচ, ঘি আধা কাপ, সরিষার তেল আধা কাপ।
প্রণালি: প্রথমে ডিম সিদ্ধ, আলু, গরুর মগজ, কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা ভালোভাবে একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এরপর ডাল, রোস্টের মাংস কুচি, চিড়া ভাজা, ডাবলি এবং মিষ্টি কুমড়ারর কুচিগুলো একত্রিত করে আগের মিশ্রণটির সঙ্গে যুক্ত করুণ। সবগুলো মসলা পরিমাণ মতো দিয়ে দু’হাতে ভালো করে মাখিয়ে নিন সবগুলো উপকরণ। ব্যাস, ইফতারের প্লেটে এবার পরিবেশন করুন ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। তবে হ্যাঁ, আপনি কতটুকু তৈরি করবেন তার ওপর উপকরণ এবং মসলার পরিমাণ নির্ভর করবে।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জুন ২০১৭/তারা
যেভাবে এলো বড় বাপের পোলায় খায়
হোসাইন মোহাম্মদ সাগর : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-৩১ ২:০২:৪৮ পিএম || আপডেট: ২০১৭-০৬-২৫ ১১:৪৭:২৬ এএম
![]() |
হোসাইন মোহাম্মদ সাগর: পুরান ঢাকার চকবাজার। বিকেল তিনটা থেকে শুরু করে ইফতারের সময় পর্যন্ত এখানকার ইফতার-বাজারে সবচেয়ে বেশি যে বাক্যটি শোনা যায় তা হলো: বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়। ইতিমধ্যে অনেকেই জেনে গেছেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী একটি খাবারের নাম। ইফতারে এই খাবার বেশ জনপ্রিয়।
রোস্ট, ডাবলি, মিহির দানাসহ ১৫ রকমের পদ আর ১৬ রকমের মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি ছাড়া ইফতার জমে না পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের। খাবারের বাহারি আয়োজন দেখলেই যেন জিহ্বায় পানি আসে। আর ঘ্রাণ? সে তো অর্ধেক ভোজনের সমান। তাই তো ঢাকাবাসীর কাছে পুরান ঢাকার চকবাজারের এই ইফতারের চাহিদা অন্যরকম।
বড় বাপ, দাদা, বাবা থেকে চার পুরুষ ধরে রমজানে চকবাজারে ইফতার বিক্রি করছেন মোহাম্মদ হোসেন। তিনি জানান, পাকিস্তান আমলে তার বাপ-দাদা বিক্রি করতেন ঐতিহ্যবাহী ইফতারি শেখ চুরা ভর্তা। ধীরে ধীরে খাবারটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই খাবারের নাম বদলে যায়। যদিও এর কারণ এখন আর জানা যায় না। এরপর খাবারটির নতুন নাম হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এখানেই নামটি সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় বিক্রেতাদের মুখে মুখে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বাক্য: ‘ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’। চকবাজারে গেলে বিক্রেতাদের এই কোরাস আপনাকে মুগ্ধ করবে!
রোস্ট, ডাবলি, মিহির দানাসহ ১৫ রকমের পদ আর ১৬ রকমের মসলার সমন্বয়ে তৈরি এই খাবারটি ছাড়া ইফতার জমে না পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের। খাবারের বাহারি আয়োজন দেখলেই যেন জিহ্বায় পানি আসে। আর ঘ্রাণ? সে তো অর্ধেক ভোজনের সমান। তাই তো ঢাকাবাসীর কাছে পুরান ঢাকার চকবাজারের এই ইফতারের চাহিদা অন্যরকম।
বড় বাপ, দাদা, বাবা থেকে চার পুরুষ ধরে রমজানে চকবাজারে ইফতার বিক্রি করছেন মোহাম্মদ হোসেন। তিনি জানান, পাকিস্তান আমলে তার বাপ-দাদা বিক্রি করতেন ঐতিহ্যবাহী ইফতারি শেখ চুরা ভর্তা। ধীরে ধীরে খাবারটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই খাবারের নাম বদলে যায়। যদিও এর কারণ এখন আর জানা যায় না। এরপর খাবারটির নতুন নাম হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। এখানেই নামটি সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় বিক্রেতাদের মুখে মুখে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বাক্য: ‘ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’। চকবাজারে গেলে বিক্রেতাদের এই কোরাস আপনাকে মুগ্ধ করবে!

অপর ব্যবসায়ী মুনছুর আলী জানান, যার হাত দিয়ে এই খাবারের উৎপত্তি, তিনি হলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা দাতা মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ। তিনি বরাবরই ভোজনরসিক ছিলেন। নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করতে জানতেন। এই খাবারটিও তারই সৃষ্টি। প্রায় ৮০ বছর আগে তিনিই প্রথম এই খাবার তৈরি করে চকবাজারে বিক্রি শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান।
ইতিহাস যাই হোক না কেন, মোগল আমলের ঐতিহ্যের ছাপ ও ছোঁয়ার এসব ইফতারি কালক্রমে ঢাকার সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও এখনো পুরান ঢাকার ইফতারের ঐতিহ্য কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। শুধু ঐতিহ্য নয়, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাহারি আয়োজন। ফলে খানদানি ইফতারি মানেই পুরান ঢাকার ইফতার সামগ্রী। সুদূর উত্তরা থেকে চকবাজারে ইফতার কিনতে এসেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীমুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছরই রমজানে এখানে ইফতার নিতে আসি। পুরান ঢাকার এই ইফতারে আলাদা একটা মজা আছে। আজ এসেছি মূলত ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নেওয়ার জন্য।
চকবাজারে এই আইটেম ছাড়াও রয়েছে আরো শত রকমের ইফতার সামগ্রী। এর মধ্যে বেগুনি, সবজি, পিঁয়াজু, পাকোড়া, আলুর চপ ৫ টাকা করে এবং ডিমের চপ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির রোস্টের দাম ছোট-বড় ২২০ থেকে ৩০০ টাকা। কবুতরের রোস্ট ১৫০, কোয়েলের রোস্ট ৬০ টাকা, গরুর কাবাব ৬০০-৭০০, খাসির কাবাব ৮০০-৯০০ এবং সুতি কাবাব ৪০০-৫০০ টাকা। এর বাইরে সবজির কাঠি কাবাব প্রতিটি ২০ থেকে ৩০, গরুর কাঠি কাবাব ৪০ থেকে ৫০ এবং মুরগির কাঠি কাবাব ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির পায়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।
চকবাজারের শাহী পরোটাও উল্লেখ করার মতো। সাধারণ শাহী পরোটা প্রতিটি ২৫ টাকা, ঝাল শাহী পরোটা ৩০, মুরগির মাংসের শাহী পরোটা ৪০, গরুর মাংসের শাহী পরোটা ৫০ ও খাসির পরোটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

রসালো খাবারের মধ্যে প্রতি কেজি দইবড়া ১০০ টাকা, দুধের পনির ৫০০, বোরহানি ১০০, পেস্তা শরবত ২০০ এবং মাঠা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়। রয়েছে আচারের হরেক বাহার। প্রতি ১০০ গ্রাম প্যাকেটের আম, চালতা ও ত্রি-ফলার মোরব্বা ২০ এবং একই ওজনের বরই, তেঁতুল, জলপাইয়ের আচারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শাহী জিলাপি ১৬০ থেকে ২৫০ ও খেজুর ৪০০ টাকা।
মুরগির মাংস ভাজা বড় টুকরো ৮০, মাঝারি ৬০, ছোট টুকরো ৪০ টাকায় এবং গরুর মাংস ভাজা বড় ৬০ ও ছোট টুকরা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফালুদা বড় ২০০ ও ছোট ১০০ টাকা, ফিন্নি বড় ১০০ ও ছোট কাপ ৫০ টাকা। লাবাং বড় ও ছোট বোতল ২০০ ও ১০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ও পদের ইফতারি এবং ফলমূলের পসরাও রয়েছে চকবাজারের ইফতার বাজারে।
সত্যি বলতে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ পুরান ঢাকার ইফতারে ব্যতিক্রম এক আয়োজন। এর স্বাদ নিতে আপনাকে চকবাজারে আসতে হবে। নিশ্চিত করে বলছি, আপনার পয়সা বিফলে যাবে না। ৮০ বছরের ঐতিহ্য এমনি তো আর নয়!
রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মে ২০১৭/তারা



No comments:
Post a Comment