Wednesday, April 25, 2018

Tourism info

বাইরে বেড়ানোর স্বাস্থ্য উপকারিতা (শেষ পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৫ ১১:০৯:২৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৫ ১২:৫৯:৩৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : বাইরে বেড়ানো স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, বিষণ্নতা প্রতিরোধ এবং রক্তচাপ হ্রাস করতে সাহায্য করে। বাইরে বেশি করে সময় কাটানোর ১২ স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* রক্তচাপ হ্রাস করে
বাইরে সময় কাটানোর অন্যান্য স্বাস্থ্যবর্ধক প্রভাবের কথা চিন্তা করলে এটি যে রক্তচাপ কমাতে পারে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। অনেক গবেষণায় এ উপকারী প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জাপানে ২৮০ জন লোকের ওপর চালানো একটি গবেষণায় আবিষ্কার হয় যে, বনে হাঁটায় গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের স্ট্রেস হরমোন ১৫ শতাংশ কমে যায় এবং সেই সঙ্গে গড়ে তাদের পালস প্রায় ৪% ও রক্তচাপ ২% এর বেশি হ্রাস পায়।

* মনোযোগের সামর্থ্য বৃদ্ধি করে
আমরা জানি যে, প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাস্থ্যবর্ধক এবং এমনকি মনোযোগের সামর্থ্য বাড়ানোর জন্যও আপনি প্রাকৃতিক পরিবেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

মনোযোগ ও বাইরে ভ্রমণ সম্পর্কিত একটি গবেষণায় কিছু লোককে প্রকৃতিতে হাঁটানো হয়, কিছু লোককে শহরে হাঁটানো হয় এবং বাকিদের বিশ্রামে রাখা হয়। যখন সবাই ফিরে আসল দেখা গেল যে, একটি প্রুফরিডিং টাস্কে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা দলটিই সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে।

প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ানোর মনোযোগ বৃদ্ধিকারক প্রভাব এতই প্রবল যে, এটি এমনকি অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডারে ভোগা শিশুদের দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে: এক গবেষণায় পাওয়া যায়, শিশুদের শুধু ২০ মিনিট পার্কে রাখার পর তাদের মনোযোগের ক্ষমতা বেড়েছে।

* সৃজনশীলতার উন্নয়ন ঘটাতে পারে
নেচার থেরাপির উপকারিতা সম্পর্কিত ২০০৮ সালের একটি আর্টিকেলের নাটকীয় প্রারম্ভিকা ছিল এরকম, ‘এমন একটি থেরাপির কথা ভাবুন যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না, যা সহজলভ্য ছিল এবং যা বিনামূল্যে আপনার জ্ঞানীয় কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটিয়েছে।’ হ্যাঁ, নেচার থেরাপি বা প্রাকৃতিক পরিবেশে ভ্রমণ আপনার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে।

একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোক চারদিন ধরে প্রকৃতির মধ্যে ছিল, একটি সৃজনশীল সমস্যা সমাধান পরীক্ষায় তাদের পারফরম্যান্স ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছিল।

* ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে
প্রকৃতিতে ভ্রমণ এবং ক্যানসার প্রতিরোধের যোগসূত্রের ওপর গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কিন্তু প্রাথমিক গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে, প্রকৃতিতে সময় কাটানো (বিশেষ করে গাছপালা বা বনে) অ্যান্টি-ক্যানসার প্রোটিন উৎপাদনে প্ররোচিত করতে পারে।

বনে বেড়ানোর ফলে এসব প্রোটিনের মাত্রার যে বুস্টিং হয় তা ভ্রমণ শেষে সাতদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

জাপানের গবেষণা অনুসারে, যেসব এলাকায় গাছপালার সংখ্যা বেশি সেখানে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর হার কম। জাপানে শিনরিন ইওকু বা ফরেস্ট বাথিংকে প্রতিরোধমূলক মেডিসিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ বিষয়ে অনেক বিভ্রান্তিকর ফ্যাক্টর রয়েছে বলে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে আরো গবেষণার প্রয়োজন হবে।

* ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করতে পারে
বন ভ্রমণের সম্ভাব্য অ্যান্টি-ক্যানসার প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোষীয় কার্যক্রম ইমিউন সিস্টেমের সাধারণ উন্নতির নির্দেশকও হতে পারে। ইমিউন সিস্টেম হচ্ছে কম মারাত্মক অসুস্থতা যেমন- ঠান্ডা, ফ্লু ও অন্যান্য ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শরীরের প্রাকৃতিক ক্ষমতা।

২০১০ সালের গবেষণার একটি রিভিউ অনুসারে, এসব আবিষ্কার দৃঢ়ভাবে সাজেস্ট করছে যে মানব ইমিউন কার্যক্রমের ওপর বনের পরিবেশের উপকারী প্রভাব রয়েছে। কিন্তু গবেষকরা এটাও স্বীকার করেছেন যে, এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন হবে।

* অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করে
শহুরে পরিবেশের অধিবাসীদের জন্য আশেপাশে সবুজ জায়গা থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২৫০,৭৮২ জন লোকের ওপর চালানো একটি ডাচ গবেষণা অনুসারে, সবুজ জায়গা ও স্বাস্থ্যের মধ্যে প্রবল ইতিবাচক সম্পর্ক ছিল। একই গবেষক দলের পরের একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, যেসব লোকেরা সবুজ জায়গার সন্নিকটে বাস করেছিল তাদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব কম ছিল। অন্য একটি গবেষণায় বনের মধ্যে সময় কাটানো এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের অন্যান্য মাপকাঠির মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারস্পেকটিভসে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া যায়, সবুজের মধ্যে বেশি সময় কাটানোর সঙ্গে ১২% অকাল মৃত্যুর হার হ্রাসের সম্পর্ক ছিল। সবচেয়ে বড় উন্নতি ক্যানসার, ফুসফুস রোগ ও কিডনি রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল।

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

পড়ুন : বাইরে বেড়ানোর স্বাস্থ্য উপকারিতা (প্রথম পর্ব)

বাইরে বেড়ানোর স্বাস্থ্য উপকারিতা (প্রথম পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
  
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৪ ১০:৫৫:১০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৪ ১:৫৯:২৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
এস এম গল্প ইকবাল : বাইরে বেড়ানো স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, বিষণ্নতা প্রতিরোধ এবং রক্তচাপ হ্রাস করতে সাহায্য করে। বাইরে বেশি করে সময় কাটানোর ১২ স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে
কয়েকটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রকৃতির মধ্যে হাঁটায় স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারক প্রভাব রয়েছে, যা অন্যান্য হাঁটায় নেই।

একটি গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ছাত্রছাত্রীদের সংক্ষিপ্ত স্মৃতি পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং তারপর তাদেরকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একদলকে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটতে বলা হয় এবং অন্যদলকে শহরের সড়কে। ফিরে আসার পর তাদের থেকে আবারো সংক্ষিপ্ত স্মৃতি পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেখা যায় যে, যারা গাছপালার মধ্যে হেঁটেছে তাদের স্মৃতিশক্তি প্রথমবারের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, যারা শহরে হেঁটেছে তাদের স্মৃতিশক্তির কোনো ধারাবাহিক উন্নতি হয়নি।

বিষণ্ন লোকদের ওপর পরিচালিত অনুরূপ একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা শহুরে পরিবেশের মধ্যে হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।

* মানসিক চাপ হ্রাস করে
এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব ছাত্রদেরকে দুই রাতের জন্য বনে পাঠানো হয়েছিল তাদের করটিসলের মাত্রা ওই সময়ে শহরে থাকা ছাত্রদের তুলনায় কম ছিল। করটিসল হচ্ছে, এমন একটি হরমোন যা প্রায়ক্ষেত্রে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মার্কার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

অন্য একটি গবেষণার গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, যারা শহরে সময় কাটিয়েছে তাদের তুলনায় বনে সময় কাটানো লোকদের হৃদকম্পন ও করটিসলের মাত্রা উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। গবেষকরা সিদ্ধান্তে আসেন যে, মানসিক চাপপূর্ণ অবস্থা বন থেরাপির মাধ্যমে উপশম করা যেতে পারে।

অফিস কর্মীদের ক্ষেত্রে, জানালার বাইরে প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শন মানসিক চাপ হ্রাস এবং কাজে সন্তুষ্টি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

* প্রদাহ হ্রাস করে
যখন প্রদাহ অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তা বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, যেমন- অটোইমিউন ব্যাধি, প্রদাহজনিত অন্ত্র রোগ, বিষণ্নতা ও ক্যানসার। প্রকৃতিতে সময় কাটানো প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হতে পারে।

এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যারা বনে সময় অতিবাহিত করেছে তাদের প্রদাহের মাত্রা শহরে সময় কাটানো লোকদের চেয়ে কম ছিল। অন্য একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব বয়স্ক রোগীদের সপ্তাহব্যাপী বন ভ্রমণে পাঠানো হয়েছিল তাদের মধ্যে প্রদাহ হ্রাসের লক্ষণ ছিল। এসব রোগীদের হাইপারটেনশন লেভেলের ওপর এ বন ভ্রমণের ইতিবাচক প্রভাবের কিছু লক্ষণ পাওয়া যায়।

* অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে
মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে মানসিক বলবর্ধক পরিবেশে যেতে পারেন। এর জন্য আপনাকে বাইরে যেতে হবে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে। একটি গবেষণায় আবিষ্কার হয় যে, কেবলমাত্র প্রকৃতির ছবিতে তাকানোতে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মানসিক শক্তি ফিরে এসেছে (শহরের দৃশ্য সম্বলিত ছবিতে এ ধরনের প্রভাব ছিল না)।

গবেষণায় আরো পাওয়া যায় যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভয়ভীতির অনুভূতি দূর করতে পারে এবং এটি হচ্ছে, মানসিক উন্নতিসাধনের একটি নিশ্চিত উপায়।

* বিষণ্নতা ও উদ্বেগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে
বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটিয়ে উপশম করা যেতে পারে, বিশেষ করে এর সঙ্গে ব্যায়াম সমন্বয় হলে।

একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, বন বা গাছপালার মধ্যে হাঁটা উদ্বেগ ও মেজাজ খারাপ হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল। অন্য একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে, বাইরে হাঁটা বড় ধরনের বিষণ্নতামূলক ব্যাধির চিকিৎসায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘গ্রিন এক্সারসাইজ’ সম্পর্কিত ১০ বছরের গবেষণা বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, প্রত্যেকটি সবুজ পরিবেশ আত্মবিশ্বাস ও মেজাজ উভয়ের উন্নতিসাধন করে। এ রিভিউ আরো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি মানসিকভাবে অসুস্থ লোকদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়ে বড় ধরনের উন্নতিসাধন করতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, প্রাকৃতিক দৃশ্যে পানির উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব আরো বাড়িয়ে দেয়।

* দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারে
অন্ততপক্ষে শিশুদের ক্ষেত্রে, গবেষণায় পাওয়া যায় যে, বাইরের কার্যক্রম চোখের ওপর প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব রাখতে পারে এবং নিকটদৃষ্টি বা মায়োপিয়া বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

২০১২ সালের গবেষণার রিভিউ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মায়োপিয়া বিকাশের ঝুঁকি ও অগ্রগতি কমানোর একটি সাধারণ স্ট্র্যাটেজি হতে পারে বাইরে সময় কাটানো।

তাইওয়ানে দুটি পাশ্ববর্তী স্কুলে গবেষণা করা হয় যেখানে মায়োপিয়া সমানভাবে কমন ছিল। একটি স্কুলকে বিরতির সময় বাইরের কার্যক্রম বাড়াতে বলা হয় এবং অন্য স্কুলকে কন্ট্রোলে রাখা হয়। এক বছর পর, কন্ট্রোল স্কুলে মায়োপিয়া ছিল ১৭.৬৫% এবং বাইরের কার্যক্রম বাড়ানো স্কুলের মায়োপিয়া ছিল ৮.৪১%।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

No comments:

Post a Comment