কথিত ‘অ্যালিয়েন’ এর রহস্য উন্মোচন
মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৭ ২:৩৯:৪৮ পিএম || আপডেট: ২০১৮-০৩-২৭ ২:৫৯:২১ পিএম
![]() |
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : ভীনগ্রহের প্রাণী অর্থাৎ অ্যালিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। এ ধরনের একটি বড় গুঞ্জন হচ্ছে, ২০০৩ সালে চিলির আতাকামা মরুভূমিতে পাওয়া ৬ ইঞ্চির একটি মানবসাদৃশ্য কঙ্কাল।
কঙ্কালটিতে মানুষের বৈশিষ্ট্য থাকলেও কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। যেমন মাথার খুলি দেহের অনুপাতে বেশ বড় এবং সূচালো, স্বাভাবিকের তুলনায় চোখের কোটর বড় এবং পাজরের হাড় ১২টির পরিবর্তে মাত্র ১০টি। এসব বৈশিষ্ট্য ইঙ্গিত দেয় যে, এটি অন্য কোনো প্রাণীর কিংবা অ্যালিয়েনের কঙ্কাল। প্রায় দুই দশক ধরে এই কঙ্কালটিকে ভীনগ্রহের প্রাণীর কঙ্কাল হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত। গবেষকরা অদ্ভুত এই কঙ্কালটির নাম দেন ‘অ্যাটা’।
২০১৩ সালে কঙ্কালটি উন্মুক্ত করা হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী ছয় মাস ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় অ্যাটার উপর। স্ট্যামফোর্ডের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হোন, কঙ্কালটি বানর বা শিম্পাঞ্জির নয় বরঞ্চ মানুষেরই এবং কোনো না কোনো ভাবে তা মমিতে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়, এটি অপরিণত গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া মানব শিশু বা ফিটাসের কঙ্কাল। কিন্তু কঙ্কালটির এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী, সেটি কোনো ফিটাসের কঙ্কাল হতে পারে না। কঙ্কালটির অস্থি এবং অস্থিসন্ধি সম্পূর্ণ ভাবে সুগঠিত এবং পরিপক্ক। গর্ভাবস্থায় একটা মানব শিশুর হাঁটু থাকে তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬-৭ বছর পর এই তরুণাস্থি শক্ত অস্থিতে পরিণত হয়। এক্স-রে’তে দেখা অ্যাটার হাঠুর গঠন মিলে যায় ৬ বছর বয়সি মানুষের হাঠুর গঠনের সঙ্গে। তার মানে অ্যাটা ফিটাস (গর্ভের শিশু) নয়? ৬ বছর বয়সি কোনো মানুষ? কিন্তু ৬ বছর বয়সি কোনো মানুষের উচ্চতা মাত্র ৬ ইঞ্চি হতে পারে না। তাহলে কি ‘অ্যাটা’ কোনো অ্যালিয়েনেরই কঙ্কাল? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গবেষণা অব্যবহত ছিল।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, তারা কঙ্কালটির রহস্য অবশেষে উন্মোচন করতে পেরেছেন এবং তা অ্যালিয়েনের পরিবর্তে জেনেটিক্স দিকগুলোই প্রকাশ করেছে।
‘অ্যালিয়েন’ খ্যাত কঙ্কালটির ডিএনএ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছেন স্ট্যানফোর্ড এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা গেছে, ‘অ্যাটা’ নামক কঙ্কালটি একজন মেয়ের এবং সে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষকরা অ্যাটা’র জিনোম পুননির্মাণের পর দেখতে পেয়েছেন, সে সম্ভবত ৫০০ বছরের কম সময়ের আগে পৃথিবীতে ছিল এবং কিছুটা ইউরোপীয় বংশধরদের বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি রয়েছে অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকা উপনিবেশিত হওয়ার পর অস্তিত্ব ছিল।
জিনোম রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত নতুন এই গবেষণাপত্রে সঞ্চিতা ভট্টাচার্য, গ্যারি নোলাল এবং অতুল বাটের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, অ্যাটার হাড় ৬ বছর বয়সি মানুষের মতো গড়ে ওঠে, যদিও সে ফিটাস ছিল।
অ্যাটা’র ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যে, সে জন্মগত জেনেটিক মিউটেশন সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিল কিন্তু বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট রোগটি শণাক্ত করতে পারেননি। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, অ্যাটা সম্ভবত মৃত হিসেবেই জন্মগ্রহণ করেছিল কিন্তু তার হাড় শরীরের অন্যান্য অংশে ভালোভাবে গঠন হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা অ্যাটার মধ্যে ৫৪টি মিউটেশন শনাক্ত করেছেন, যা তার কঙ্কালটিকে অদ্ভুত গঠনে পরিণত করতে প্রভাবিত করতে পারে। এই মিউটেশনগুলো হাড়ের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে যেমন স্কেলেটাল ডিসপ্লেসিয়া, রিব অ্যানোমেলিস এবং ডোয়ারফিজম।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে সঞ্চিতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছি যে, জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট থেকে কতকিছুই না বলা যেতে পারে।’
তবে অ্যাটা’র এই শারীরিক বিকৃতির কারণ খুঁজে বের করার জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন হবে।
তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ
কঙ্কালটিতে মানুষের বৈশিষ্ট্য থাকলেও কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। যেমন মাথার খুলি দেহের অনুপাতে বেশ বড় এবং সূচালো, স্বাভাবিকের তুলনায় চোখের কোটর বড় এবং পাজরের হাড় ১২টির পরিবর্তে মাত্র ১০টি। এসব বৈশিষ্ট্য ইঙ্গিত দেয় যে, এটি অন্য কোনো প্রাণীর কিংবা অ্যালিয়েনের কঙ্কাল। প্রায় দুই দশক ধরে এই কঙ্কালটিকে ভীনগ্রহের প্রাণীর কঙ্কাল হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত। গবেষকরা অদ্ভুত এই কঙ্কালটির নাম দেন ‘অ্যাটা’।
২০১৩ সালে কঙ্কালটি উন্মুক্ত করা হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী ছয় মাস ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় অ্যাটার উপর। স্ট্যামফোর্ডের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হোন, কঙ্কালটি বানর বা শিম্পাঞ্জির নয় বরঞ্চ মানুষেরই এবং কোনো না কোনো ভাবে তা মমিতে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়, এটি অপরিণত গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া মানব শিশু বা ফিটাসের কঙ্কাল। কিন্তু কঙ্কালটির এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী, সেটি কোনো ফিটাসের কঙ্কাল হতে পারে না। কঙ্কালটির অস্থি এবং অস্থিসন্ধি সম্পূর্ণ ভাবে সুগঠিত এবং পরিপক্ক। গর্ভাবস্থায় একটা মানব শিশুর হাঁটু থাকে তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬-৭ বছর পর এই তরুণাস্থি শক্ত অস্থিতে পরিণত হয়। এক্স-রে’তে দেখা অ্যাটার হাঠুর গঠন মিলে যায় ৬ বছর বয়সি মানুষের হাঠুর গঠনের সঙ্গে। তার মানে অ্যাটা ফিটাস (গর্ভের শিশু) নয়? ৬ বছর বয়সি কোনো মানুষ? কিন্তু ৬ বছর বয়সি কোনো মানুষের উচ্চতা মাত্র ৬ ইঞ্চি হতে পারে না। তাহলে কি ‘অ্যাটা’ কোনো অ্যালিয়েনেরই কঙ্কাল? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে গবেষণা অব্যবহত ছিল।
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, তারা কঙ্কালটির রহস্য অবশেষে উন্মোচন করতে পেরেছেন এবং তা অ্যালিয়েনের পরিবর্তে জেনেটিক্স দিকগুলোই প্রকাশ করেছে।
‘অ্যালিয়েন’ খ্যাত কঙ্কালটির ডিএনএ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছেন স্ট্যানফোর্ড এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা গেছে, ‘অ্যাটা’ নামক কঙ্কালটি একজন মেয়ের এবং সে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষকরা অ্যাটা’র জিনোম পুননির্মাণের পর দেখতে পেয়েছেন, সে সম্ভবত ৫০০ বছরের কম সময়ের আগে পৃথিবীতে ছিল এবং কিছুটা ইউরোপীয় বংশধরদের বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি রয়েছে অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকা উপনিবেশিত হওয়ার পর অস্তিত্ব ছিল।
জিনোম রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত নতুন এই গবেষণাপত্রে সঞ্চিতা ভট্টাচার্য, গ্যারি নোলাল এবং অতুল বাটের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, অ্যাটার হাড় ৬ বছর বয়সি মানুষের মতো গড়ে ওঠে, যদিও সে ফিটাস ছিল।
অ্যাটা’র ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যে, সে জন্মগত জেনেটিক মিউটেশন সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিল কিন্তু বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট রোগটি শণাক্ত করতে পারেননি। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, অ্যাটা সম্ভবত মৃত হিসেবেই জন্মগ্রহণ করেছিল কিন্তু তার হাড় শরীরের অন্যান্য অংশে ভালোভাবে গঠন হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা অ্যাটার মধ্যে ৫৪টি মিউটেশন শনাক্ত করেছেন, যা তার কঙ্কালটিকে অদ্ভুত গঠনে পরিণত করতে প্রভাবিত করতে পারে। এই মিউটেশনগুলো হাড়ের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে যেমন স্কেলেটাল ডিসপ্লেসিয়া, রিব অ্যানোমেলিস এবং ডোয়ারফিজম।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে সঞ্চিতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছি যে, জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট থেকে কতকিছুই না বলা যেতে পারে।’
তবে অ্যাটা’র এই শারীরিক বিকৃতির কারণ খুঁজে বের করার জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন হবে।
তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ

No comments:
Post a Comment