ওয়ালটনের তত্ত্বাবধানে আরেকটি গিনেস রেকর্ড
![]() |
ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওয়ালটন গ্রুপ সর্বদাই ট্যালেন্টদের প্রমোট করার চেষ্টা করে। বল মাথায় নিয়ে নানা কসরত দেখানো আবদুল হালিমকে চৌকষ কমিটির তত্ত্বাবধানে ওয়ালটন গ্রুপ পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে তিন-তিনটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়িয়েছে। এরপর আরেক ফুটবল মানব মাসুদ রানাকে দিয়ে গড়িয়েছে আর একটি রেকর্ড। বল মাথায় নিয়ে দ্রুততম সময়ে ৫০ মিটার সাঁতার কেটে মাসুদ রানা গড়েছেন রেকর্ড। দিন কয়েক আগে মাসুদ রানার রেকর্ড পেয়েছে স্বীকৃতি।

এবার সেই রেকর্ডের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরো একজন। নাম তার মাহমুদুল হাসান ফয়সাল। সম্প্রতি তিনি ফুটবল দুই হাত গোল করে তার মধ্যে এক মিনিটে সবচেয়ে বেশিবার (১৩৪ বার) বল ঘুরিয়ে রেকর্ড গড়েছেন (Most football arm rolls in one minute)। ১ মিনিটে ১৩৪ বার দুই হাতের মধ্যে বল ঘুরিয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। ১১ আগস্ট তিনি রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা চালান। সেটার ভিডিও এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দেন। সেগুলো রিভিউ করে ৭ নভেম্বর গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ তার রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয়।

মাগুরার হাজীপুরের এই ফুটবল ফ্রিস্টাইলার রেকর্ড গড়তে পেরে বেজায় খুশি, ‘২০১৪ সাল থেকে আমি এই প্রচেষ্টা শুরু করি। সেটা শুধু ফুটবল নিয়ে নয়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। অবশেষে আমি সফল হলাম। রেকর্ডের স্বীকৃতি পেলাম। ভীষণ ভালো লাগছে। চেষ্টা করব ভবিষ্যতে আরো রেকর্ড গড়তে। ওয়ালটন গ্রুপকে ধন্যবাদ। তারা আমার পাশে ছিল। মাগুরা থেকে আমি প্রথম ঢাকায় ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে আসি। সেখানে গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগের ইকবাল বিন আনোয়ার ডন স্যার আমার রেকর্ডের বিস্তারিত দেখেন। এরপর বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা আমি ওয়ালটনের কাছ থেকে পাই। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

ওয়ালটন গ্রুপ শিগগিরই তাকে রাজধানীতে সংবর্ধনা দিবে। এ বিষয়ে ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর (গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন) বলেন, ‘ ‘আপনারা জানেন আমরা আবদুল হালিমের মতো বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে থাকা প্রতিভাবানদের নিয়মিত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। হালিমের পর মাসুদ রানাকে দিয়ে রেকর্ড গড়িয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় মাহমুদুল হাসান ফয়সালের রেকর্ডের তত্ত্বাবধানেও আমরা ছিলাম। তাকে মাগুরা থেকে ঢাকায় এনে তার রেকর্ডের বিস্তারিত জেনেছিলাম, তার প্রচেষ্টার বিষয়গুলো আমাদের অফিসে দেখেছিলাম। এরপর গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিষয় নিয়ে আলোচনাও করেছিলাম। তখনই আমরা তার রেকর্ডের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম। তাকে আমরা ঢাকায় এনে শিগগিরই সংবর্ধনা দিব। ফয়সাল বয়সে খুবই তরুণ। তাকে দিয়ে অনেক রেকর্ড গড়া ও ভেঙে দেওয়া সম্ভব। আব্দুল হালিম, মাসুদ রানা ও মাহমুদুল হাসান ফয়সালদের মতো এমন আরো ট্যালেন্টদের খোঁজে রয়েছি আমরা। যদি কোনো প্রতিভাবান কেউ থেকে থাকেন- তাহলে তারা আমাদের গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

মাহমুদুল হাসানের জন্ম নড়াইলের কালিয়াতে। পৈতৃক নিবাস মাগুরার হাজীপুর। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। কাটিয়েছেন শৈশব ও কৈশর। বাবা আগে সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাসের পর মাগুরা পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটে ভর্তি হন ফয়সাল। তিনি ফুটবল, বাস্কেটবল দিয়ে বিভিন্ন ধরণের কসরত দেখানোর পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ে পারদর্শী। রেকর্ড ভাঙা ও গড়াটাকে প্যাশন হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ নভেম্বর ২০১৮/আমিনুল

No comments:
Post a Comment